দিনযাপন । ০১১২২০১৬

ডিসেম্বর মাসটাও চলে আসলো! বছরের শেষ কয়েকটা দিন দেখতে দেখতেই চলে যাবে!

গত দুইদিন ধরেই স্কুলের পরীক্ষার খাতা নিয়ে ব্যস্ত, ফলে দিনযাপন নিয়ে আর বসা হয়নাই। লেখার মতো কিছু তেমন ছিলোও না গত দুইদিনে। সারাদিনের কাজ এখন তো খালি স্কুলে গিয়ে পরীক্ষার ডিউটি দেয়া, দুপুরে বাসায় ফিরে খাওয়া-দাওয়া করে একটু রেস্ট নিয়ে তারপর খাতা নিয়ে বসা … ৫ দিনের পরীক্ষার ৫ দিনই আমার এক সেট করে খাতা আসবে। অলরেডি ক্লাস সিক্স আর সেভেন চলে এসেছে … ওহ! আজকে তো ক্লাস এইট-এর খাতাও চলে এসেছে … শনিবারে ফাইভ আসবে, রবিবারে ফোর … তো, সব বাদ দিয়ে এখন খাতা দেখাই চলছে আর কি!

পরীক্ষার খাতা দেখার ব্যাপারটা কেমন জানি একটা মজার খেলার মতো লাগে আমার কাছে! যেদিনই পরীক্ষা হয় সেদিনই বাসায় ফিরে কখন খাতা দেখা শুরু করবো সেটার একটা মৃদু এক্সাইটমেন্ট থাকে … কে কত পেলো সেটা দেখার প্রবল উৎসাহ! … ফলে দেখা যাচ্ছে গত দুইদিন ধরে ফ্রেঞ্চ ক্লাসের প্রজেক্ট-এর কাজ বাদ দিয়ে খালি খাতাই দেখছি!

আজকে অবশ্য স্কুল থেকে ফিরে খাতা দেখি নাই … খাতা নিয়ে বসেছি ঠিকই, কিন্তু মাত্র দুইটা খাতা দেখে শেষ করতে পেরেছি … পুরোটা সন্ধ্যা কানে হেডফোন লাগিয়ে ইউ টিউবে গান শুনলাম … গান শুনেও যখন পোষাচ্ছে না তখন কোর্‌স-এর ফুল মিউজিক্যাল কালেকশন ছেড়ে দিয়ে শুনতে থাকলাম … উদ্দেশ্য একটাই … মনকে ডাইভার্ট করা …

আজকে বাসায় ফিরেছি প্রচন্ড আপসেট একটা মন নিয়ে … সিএনজিতে বসে বসেই অনেকটা পথ কাঁদছিলাম … সিএনজিওয়ালারা আমার এইসব কান্নাকাটি দেখে কি ভাবে কে জানে! দুপুরে স্কুল থেকে বের হয়ে জেবু আপা আর কাশফিয়া আপুর সাথে স্টার কাবাবে গেলাম … জেবু আপার ইয়োগা ক্লাসে যাওয়ার আগে টাইম কাটানো দরকার, কাশফিয়া আপুর’ও কি কি কাজ আছে, আবার ক্ষুধাও লেগেছে আজকে … তো ঠিক হলো স্টারে গিয়ে কাচ্চি খাবো … খেতে খেতেই এই প্রসঙ্গ ওই প্রসঙ্গে একেকজনের পার্সোনাল লাইফ, বিয়ে-শাদি এইসব এইসব প্রসঙ্গে কথা শুরু হলো একটা দুইটা কথার জের ধরে … তো আমার কথাও আমি বলছিলাম … আমার বাসায় বিভিন্ন সময় যে ডিরেক্টলি-ইন্ডিরেক্টলি আমার বিয়ে নিয়ে পোক করা হচ্ছে, এবং কেন আমি আসলে বিয়ে করার ব্যাপারে কোনোভাবেই মেন্টালি রেডি না, সেটল্‌ ম্যারেজ তো না-ই … আর এই মুহুর্তে আমার যেই মানসিক অবস্থা, আমি আদৌ কারো সাথে কোনো সম্পর্কেও জড়াতে পারবো না … একমাত্র যদি না কেউ নিজে থেকে আমার সাথে ইনভল্ভড হতে চায়, এবং আমার বিশেষ করে সোহেল সংক্রান্ত যাবতীয় কাহিনীকে সে সহজভাবে মেনে নেয়, তখনই আমার পক্ষে আসলে ইনভল্ভমেন্ট-এর কথা ভাবা সম্ভব … এইসব বলতে বলতে নিজের ভেতরকার হতাশাগুলোই কেমন জোট পাকিয়ে আমাকে আরো বেশি ইমোশনাল করে দিচ্ছিলো … এইটা সেটা কথায় সোহেলের প্রসঙ্গ আসলো … ওর ব্যাপারে বলতে গিয়ে মনের ভেতরে ওকে নিয়ে যত রাগ আছে সব হঠাৎ একসাথে যেন বলগ দিয়ে উঠলো! কাশফিয়া আপু কথায় কথায় বলছিলো যে নিজের মধ্যে কষ্ট চেপে না রেখে সেটাকে উগড়ে দেয়াটাই ভালো … সেটা যে আমি পারি না, আবার চেপে রাখতেও নিজের অনেক কষ্ট হয় এগুলো নিয়ে ভাবনাও মনকে খুব বিষণ্ণ করে ফেললো …

ইদানীং এই অনুভূতিটা আমাকে অনেক বেশি গ্রাস করে রাখছে যে আমার জীবনে ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবরের পর থেকে যা কিছু হয়েছে এবং হচ্ছে এগুলো সবই আসলে শাস্তি! এই যে আমার ইউটেরাসে টিউমার, আর সেটার কারণে যে দিন দিন শারীরিক জটিলতাগুলো বেড়েই যাচ্ছে, এটা আসলে একটা শাস্তি! রিসেন্টলি যে আমি ভার্সিটিতেও যাচ্ছি না, এই যে এটার পেছনে প্রজাপতির ভয় কাজ করছে এগুলাও মনে হচ্ছে শাস্তিরই অংশ! যেন আমি যাতে ভার্সিটিতে গিয়ে পড়ালেখা করে, পরীক্ষা-টরীক্ষা দিয়ে একটা ‘রিকাভারড’ লাইফের দিকে আগাতে না পারি তারই জন্য এইবারের এই মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ প্রজাপতি বেড়ে যাওয়াটাও শাস্তিরই অংশ! … এই যে স্কুলে নিজের মতো কাজ করার স্বাধীনতা নাই, কিছুতেই সেখানে হ্যাপি মুডে থাকা যায় না, বাচ্চা-কাচ্চাদের মধ্যে থাকলেও মনে হয় না যে ‘এত বাচ্চা-কাচ্চার হাউকাউ-এর মধ্যে থাকলে জীবনে আর কি লাগে!’ এটাও মনে হয় যে শাস্তিরই অংশ! … এই যে আমি রিসেন্টলি খুব ফিল করি বা মনে মনে আসলে চাই-ই যে আমার একটা সঙ্গী থাকাটা খুব দরকার, যার ওপর আস্থা রাখতে রাখতে আমি আসলে জীবন-যাপন-সম্পর্ক-ভালোবাসা সবকিছুর ওপরে আবারো বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবো, এবং তারপর যে আমার সাথে সাথেই মনে হয় যে আমি আসলে এখন এমন মানসিক অবস্থায় আছি যে কাউকে যদি আমার মনে মনে পছন্দও হয়, কিংবা যদি মনে হয় যে কারো আসলে আমার প্রতি সামান্য ইন্টেরেস্টও আছে, আমি আসলে তার সাথে এমন একটা বিহেভ করি যে সে আদৌ আমার সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেও কখনো আগ্রহী হবে না … এটাও আমার শাস্তির অংশই বলে মনে হয় …

একটা জীবন শুরু হবার আগেই সেই জীবনটাকে ধ্বংস করে ফেলেছি, তার শাস্তি কি কম কিছু হবে?

15170759_938409552961548_8607725866611175443_n

দিন দিন বোধহয় সিজোফ্রেনিক হয়ে যাচ্ছি! এখন হয়তো প্যারানয়া পর্যায়ে আছি, কয়েকদিন পর হয়তো হেলুসিনেসিটক পর্যায়ে চলে যাবো, এটা-সেটা দেখতে থাকবো, হয়তো এমনও হতে পারে যে একজন সঙ্গী চাই ভাবতে ভাবতে একজন ইমাজিনারি সঙ্গীই বানায় ফেললাম, যাকে খালি আমি ছাড়া আর কেউই দেখবে না!

অনেক আগে একবার একজন আমার হাত দেখে বলেছিলো আমি নাকি এইসব প্রেম- ভালবাসা-সম্পর্কজনিত কারণে একসময় পাগল হয়ে যাবো! এই কথা আমার মনে এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিলো যে কখনোই সজ্ঞানে সচেতনভাবে কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে চাই নাই, চেষ্টাও করি নাই … এমন কি মনে মনে একটা চ্যালেঞ্জও ছিলো যে এই কথা যে মিথ্যা সেটা আমি প্রমাণ করে ছাড়বো! … সোহেলের প্রতি আমার ভালোবাসা জাতীয় কোনো অনুভূতি ছিলো না, এমনকি ওর প্রতি ভালো লাগার সামান্য অনুভূতিটুকু থিতু হবার আগেই ওর প্রতি আমার এমনই কিছু নেগেটিভ ইম্প্রেশন তৈরি হয়েছিল যে এর পরে আসলে সম্পর্কের প্রায় পুরোটুকু জুড়েই শেষ দেখার একটা জিদ ছিলো … জানি না, ওই লোকের কথাই এখন ফলছে কি না …

তারও আগে মন্নু দাদু নাকি আমার জন্ম তিথি ইত্যাদি ইত্যাদি কি কি সব নিউমারোলজিক হিসাব-নিকাশ করে বলেছিলো ‘ত্বিষা’ নামটা নাকি আমার জন্য সুটেবল না, বরং ‘মিশু’ রাখা উচিৎ। সেইটা আব্বু শুনে নাই। ‘ত্বিষা’ তার পছন্দের নাম ছিলো,তাই সেটাই রাখা হলো … মন্নু দাদু বলেছিলো এই নাম নাকি আমাকে সাফল্য আসার পথে বাধা দেবে, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমস্যাই লেগে থাকবে …

এইসব নিয়েও এখন আমি ভাবতে শুরু করেছি যে আদৌ এসব কথার কোনো ভিত্তি আছে কি না! হতাশা মানুষকে কোথায় কোথায় নিয়ে যায়!

এই জীবনে নিজেকে সবসময় একটা গিনিপিগই মনে করে আসলাম … কার গবেষণার যে আমি গিনিপিগ, সেই প্রশ্নের উত্তরের কোনো ক্লু আর পেলাম না!

এই হচ্ছে জীবন … হতাশা … বিষণ্ণতা আর চোখের পানিতে ভরা জীবন …

আজকে সোহেলের কথা বলতে বলতে মনে হচ্ছিলো যে আমি এখনো খুব ঠান্ডা মাথায় ওকে খুব করতে পারবো! এমনকি কোনোদিন যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি যে ও সুইসাইড করে নিজেই মরে গেছে, তখন হয়তো খুব স্যাডিস্টের মতো ‘ফিলিং রিলিভড’ টাইপের কিছু একটা ফেসবুক স্ট্যাটাসও দিয়ে দেবো! আই সো ওয়ান্ট হিম ডেড! … স্টিল, আই ফিল দ্যা সেম রেজ টুআর্ডস হিম, দ্যাট আই হ্যাড টু ইয়ার্স ব্যাক …

যাই হোক, আজকে আর লিখবো না … ভালো লাগছে না …  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s