দিনযাপন ।০৭১২২০১৬

আজকে দিনের একটা অংশ বেশ হাহা-হিহি করে কাটলো … দম বন্ধ হয়ে থাকা দিনযাপনের মধ্যে কিছুটা রিলিফ …

মূল প্ল্যান ছিল বসুন্ধরা সিটি গিয়ে সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখবো … ‘মোআনা’ … অ্যানিমেশন ফিল্ম … টিকিট গতকাল্কেই কাটা হয়েছিলো … ৩ জন … অরুন্দ্যুতি আপু, কাশফিয়া আপু আর আমি …তো সকালে স্কুলে গিয়েছিলাম, যদিও আজকে টিচারদের জন্য আনঅফিশিয়ালি স্কুল ছুটি দিয়ে দিয়েছিলো গতকালকেই … আজকে শুধু ক্লাস এইট-এর একটাই সাবজেক্ট-এর পরীক্ষা ছিল … অন্য টিচারদের কারো তো আর কোন কাজ নেই, তাই সবাই রিকোয়েস্ট করে ছুটি নিলো যে তাহলে এই টাইমটা স্কুলে না এসে বাসায় বসে খাতা দেখতে পারে … আজকের পরীক্ষার ডিউটির জন্য জাবিন আপা আমাকে আগেই বলে রেখেছিলেন, আর যেহেতু সিনেমা দেখতে যাবো বলে ধান্মন্ডি এলাকায় যাওয়াই হবে, সো আমার স্কুলে যাওয়ার একটা অবলিগেশন ছিলো … তো গেলাম … এর মধ্যে অবশ্য ইশরাত আপা আসলো … উনার বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে এসেছেন, আবার স্কুল শেষে নিয়ে বাসায় যাবেন, এর ফাঁকে খাতা দেখে নিতে পারবেন … আরিফিন স্যারের সাবজেক্টের পরীক্ষা, তাই আরিফন স্যারকে তো আসতেই হয়েছে … কাশফিয়া আপুও যেহেতু বসুন্ধরা সিটি যাবেই, তার আগে স্কুলে এসে কিছু কাজ গুছিয়ে নিবে বলে চলে আসলো …

১২টার দিকে বের হয়ে আমি আর কাশফিয়া আপু বসুন্ধরা সিটি গেলাম … আর অরুণদ্যুতি আপুও এর মধ্যে বাসা থেকে রওনা দিলো … তো অরুণদ্যুতি আপু আসতে আসতে আমি আর কাশফিয়া আপু অ্যাপেক্সের দোকানে ঢুকলাম … এইবারের শীতের জন্য শু কেনা হয়নাই এখনো, তাই ভাবলাম যে বসুন্ধরা সিটি যখন এসেছিই আজকেই কিনে নিবো … তো ঘটনা হচ্ছে যে আমার কাছে টাকাপয়সা কম … এই মাসের বেতন এসেছে ব্যাংকে, আর আমিও ডেবিট কার্ড সংক্রান্ত জ্ঞান কম থাকার সুবাদে কার্ডের অ্যাক্টিভেশনের ব্যাপারে সকাল সকাল এক ধরা খেলাম আজকে … ফলে মনে মনে যে প্ল্যান ছিলো যে কার্ড থেকেই পে-মেন্ট করে ফেলতে পারবো, সেটা তো আর হলো না … তখন ভাবলাম যে জুতা দেখতে থাকি, এর মধ্যে যদি অরুণদ্যুতি আপু আসে তো উনার কাছ থেকে লোন নিয়ে দিয়ে দেয়া যাবে … তো জুতা দেখতে গিয়ে একটার জায়গায় ২টা জুতা পছন্দ হয়ে গেলো, কি আছে জীবনে বলে দুইটাই নিয়ে নিলাম … একটা আবার আমি আর কাশফিয়া আপু দুইজনই একই জুতা নিলাম … একটা জুতার টাকা দিয়ে আরেকটা জুতা কাউন্টারে জমা রেখে পরে সিনেমা-টিনেমা দেখে ফেরার পথে অরুন্দ্যুতি আপুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেই জুতা নেয়া হলো …

 

ভাবছি যে পড়ালেখাটা বোধহয় ছেড়েই দেয়া উচিৎ আমার … জীবন থেকে যত স্ট্রেস কমানো যায় ততই বোধহয় ভালো … খালি স্কুল চাকরিটাই থাকুক … আর ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের ক্লাস করছি, সেটাও থাকুক সপ্তাহে দুইদিন … জাপান স্টাডিজ সেন্টার থেকে মন উঠে গেছে অনেকদিন আগেই, বিগত কয়েকটা জাপান যাওয়া সংক্রান্ত প্রোগ্রামের সিলেকশন প্রসেস দেখে আরো বিরক্তি ধরে গেছে … এখন কেবল এই অনুভূতি নিয়েই ক্লাস করতে যাই যে এইখানে রেজাল্ট ভালো হইলো কি না হইলো সেটা কেউ দেখবে না, দেখবে যে আসলে কে টিচারদের গুডবুকে থাকতে পারে … কাইন্ড অভ ইন্ডিরেক্ট তেলবাজিই চলে এখানে … যেটা আমাকে দিয়ে কখনোই হবে না … আমি ওই পড়ালেখাটাই করতে পারি, ফার্স্ট সেমিস্টারের রেজাল্টও সেটাই প্রমাণ করেছে … কিন্তু যখনই কোনো প্রোগ্রামের সিলেকশনের ইস্যু এসেছে তখন আগের রেজাল্ট, ডিপার্টমেন্টে সময় দেয়া না দেয়া, নির্দিষ্ট স্যার বা ম্যাডামের গুডবুকে থাকা এগুলাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে … কয়েকদিন আগে লোপা ম্যাম কি কি জানি বুঝালো জাপানে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাবার ক্রাইটেরিয়া সম্পর্কে … দেখা গেলো যে প্রতীতি যেই প্রোগ্রামে জাপান যাচ্ছে, কিংবা আরো তিনজন স্টুডেন্ট যেই প্রোগ্রামে জাপানের আরেক ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছে জানুয়ারিতে, সেখানেই আসলে আমার যেতে পারার একমাত্র অপশন ছিল … বাকি যা যা প্রোগ্রাম আছে আগামী এক বছরের মধ্যে, সেগুলোতে আমার যাওয়ার সম্ভাবনাই নাই … হয় সাবজেক্টেই মিলে না, নয়তো কোয়ালিফিকেশনে … লোপা ম্যাম তখন বুদ্ধি দিলেন যে তুমি নিজে নিজেই জাপানের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে খোঁজখবর নিতে থাকো … আমি নিজেই যদি খোঁজ নিয়ে কোথাও যেতে হয়, তাইলে আর আমার একটা ইন্সটিটিউটে ভালো রেজাল্ট করা স্টুডেন্ট হিসেবে থাকার কি মানে? …

এর চেয়ে পড়ালেখা ছেড়ে দেই, তাই-ই ভালো … সময়ও বাঁচবে, মানসিক অশান্তিও কমবে … যেখানে কোনো সাকসেসই আসছে না, সেখানে নিতান্ত নিরুৎসাহ নিয়ে তো আমার পড়ালেখারই মনোযোগ আসে না আর! … আর তারচেয়ে বড় কথা, আমার চূড়ান্ত রাগ উঠেছে সেদিনই যেদিন লোপা ম্যাম বললেন যে মামুন স্যার মাইন্ড করে আছেন, উনার কাছে গিয়ে মাফ-টাফ চাইলে নাকি আমার জাপানের প্রোগ্রামগুলোতে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে … তারমানে স্যার কাকে পছন্দ করলেন না করলেন সেটাই যদি মুখ্য হয়, আর রেজাল্ট,পড়ালেখা এসবের যদি কোনো গুরুত্ব না থাকে, তাইলে ওইটা আমার জায়গা না …

এরকম তো পাঠশালাও ছিলো … পাঠশালার মতোই সেম এনভায়রনমেণ্টই লাগে এখানে … পাঠশালার ওই পলিটিক্সের জায়গাগুলো কখনোই ভালো লাগে নাই… জাপান স্টাডিজ সেন্টারেও সেই একই ভালো না লাগা অনুভূতি নিয়ে থাকবো কেন? …

আমি মনের শান্তিকে এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছি … প্রাচ্যনাটের পরিবেশ যখন হাঁসফাঁস লাগার মতো মনে হয়েছে, তখন থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছি … এখন মাঝে মাঝে অমিতের কাছে গ্রুপের যা যা গল্প শুনি তাতে মনে হয় যে আমি ওইখানে সরাসরি নাই তা অনেক ভালো … জাপান স্টাডিজ সেন্টারের সাথে ইনভ্লভমেন্ট-টা এখন একটা হাঁসফাঁসের জায়গায় পরিণত হয়েছে … এটাও মনে হয় ছেড়েই দেয়া উচিৎ … তবুও হাঁসফাঁস করতে চাই না … জীবনটাই তো একটা হাঁসফাঁস-এর জায়গা হয়ে আছে, এর মধ্যে নতুন করে একটা একটা অশান্তি কেন ঢুকাবো?

আজকে কথায় কথায় আরিফিন স্যার বলছিলো ‘আপনি তো দেখা যাচ্ছে সমস্যার কারখানা! আপনার প্রজাপতিতে সমস্যা … মুভমেন্টে সমস্যা … নারিকেলের তেলের গন্ধে সমস্যা … এই খাবারে সমস্যা … ওই খাবারে সমস্যা … বিয়েশাদি হইলে বাচ্চার নাম রাইখেন সমস্যা’ … মুড ভালো থাকলে হয়তো কথাগুলো হেসে উড়ায় দিতাম, আর নইলে এক্সট্রিম ফাইজলামির মুডে থাকলে হয়তো স্যারকেই পালটা বলতাম যে আপনাকে মনে হচ্ছে সমাধানের কারখানা! এক কাজ করি, আমার যাবতীয় সমস্যাগুলা আপনার কাছে পাঠায় দেই, আপনি সমাধান করে দেন … কিন্তু কেন জানি কোনো কিছুই বলতে ইচ্ছে হলো না … আমার বিয়ে-বাচ্চাকাচ্চা সংক্রান্ত যেকোনো কথা আমাকে প্রচণ্ড সেনসিটিভ করে দেয় ইদানীং … আমার মনে মনে এই উত্তরটাও তৈরি হয়ে গিয়েছিলো যে ‘আমাকে তো কেউ বিয়ে করবে না, আর বিয়ে হলেও বাচ্চা-কাচ্চা হবার সম্ভাবনা আমার নাই … সো কোনো সমস্যার জন্মানোরও কোনো সম্ভাবনা নাই’ … উত্তরটা মুখের আগায় এনেও গিলে ফেললাম … কিন্তু কথাটা তো মাথা থেকে বের হল না … ‘সমস্যার কারখানা’ … এই কথাটাই বারবার মাথায় ঘুরছে … কি জানি! আমার নিজের যাবতীয় সমস্যার শেকড় হয়তো আমি নিজেই গাড়ছি … আসলে আমি নিজেই হয়তো নিজের সমস্যাগুলো তৈরি করছি …

ইদানীং মাঝে মাঝেই ভাবি, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং নেয়া শুরু করা উচিৎ বোধহয় আমার … নিজেকে আর সামলে রাখতে পারছি না নিজে …

কাশফিয়া আপু কয়েকদিন খুব বলছিলো যে অন্তত তার কাছে ওপেন আপ হতে … সে নাকি ট্রাই করবে আমাকে যতটা সম্ভব হেল্প করতে … কিন্তু কেন জানি আমার সাহস হয় না … আমার যাবতীয় কাহিনী, স্পেশালি সোহেল সংক্রান্ত কাহিনী শুনে আমার ব্যাপারে তার হয়তো ইম্প্রেশনটাই খারাপ হবে! … কোনোকিছুর পজিটিভ আউটপুট তো আমি এখন কিছুতেই পাই না … এখানেও হয়তো তাই-ই হবে … এখন কাশফিয়া আপুর সাথে যেই ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট, সেই জায়গাটা হয়তো নড়ে যাবে … আর তার সাথে সাথে অন্যান্য কলিগদের সাথেও … তারপর স্কুলের চাকরির ওপর থেকে মন উঠে গেলে আর কি করবো? …

ভালোই লাগে না এখন আর কিছু ভাবতে … মরে যাওয়া ব্যাপারটা এত কঠিন কেন? … সুইসাইডের সাহস আমার নাই … শালার টিউমারটাও ক্যান্সারে টার্ন নেয় না … ভালো কিছু যখন হচ্ছেই না জীবনে, তখন প্রচণ্ড খারাপ কিছু হোক … মরে-টরে যাই … তাইলেও তো শান্তি! …

ধুর! অফ যাই আজকে …  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s