দিনযাপন । ০৮১২২০১৬

সারাটা দিন আজকে ঘুমিয়েই কাটালাম … সকালে সাড়ে ৯টার দিকে উঠলাম, আবার সাড়ে ১১টার দিকে ঘুমিয়ে গেছি … সেই ঘুমে দুপুর পার করে উঠলাম পৌনে চারটার দিকে! … ভাত খেয়ে গোসল করে বসতে বসতে সন্ধ্যা ৬টা … এর মধ্যে আবার প্রমা আর লালাম আসলো … থাকবে আজকে রাতে … আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি, এবং দিন দিন এটার প্রুফ পেয়েই যাচ্ছি যে প্রমারা বাসায় আসলে, কিংবা আমি প্রমাদের বাসায় গেলেও আমার খুব ঘুম পেতে থাকে। আজকেও তার যথারীতি হলো … সন্ধ্যা ৭টা বাজতে না বাজতেই আমি আবার ঘুম … সোয়া ১০টার দিকে ইমন ভাইয়ের ফোনে ঘুম ভাংলো … নইলে হয়তো আরো ঘুমাতাম …

ভেবেছিলাম আজকে সারাদিনের অর্ধেকটা সময় ঘরের কাপড়-চোপড় গুছাবো, আর বাকি সময়টা ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাসের প্রজেক্ট-এর কাজ করবো , আর পরশুদিনের পরীক্ষার জন্য পড়বো। কিছুই হলো না … পড়ালেখাটা না হয় নিজের মতো করে করা যাবে … কিন্তু কালকের প্রজেক্টের কাজটা নিয়ে ঢিলামি হয়ে গেলো বেশি … গত একটা সপ্তাহ এমনিতেই আমার কোনো কাজই করতে ইচ্ছে করে নাই … তাও একদিন খুব আলসেমি করে বসে প্রজেক্ট-এর স্ক্রিপ্টটা রেডি করেছি … কিন্তু গ্রুপের যে বাকি দুইজন, নায়ীমী আর সোমা, এদের সাথে তো আর আলোচনা বা বসাও হয়নাই … নায়ীমীর সাথে গত পরশুদিন তাও একবার বসেছিলাম স্কুলে, কিন্তু সোমার সাথে কোনো আলোচনাই হয়নাই। সোমা আবার এমনিতেও প্রচন্ড ব্যস্ত এই সপ্তাহে … কালকে নাকি প্রজেক্টের প্রেজেন্টেশনেই কীভাবে টাইম ম্যানেজ করে আসবে তার ঠিক নাই … এদিকে আগামীকালকেই দুপুরবেলা শিল্পকলা একাডেমি যাওয়া লাগবে আমার … গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের কি একটা মিটিং হবে, নারী থিয়েটার কর্মীদের নিয়ে, ওইখানে নাকি গ্রুপ থেকে আমার নাম দেয়া হয়েছে, ওখানে কালকে যাওয়ার জন্য ইমন ভাই ফোন দিয়েছিলো … কালকের এত রকমের কাহিনী তো আর ইমন ভাইকে বলে আমার লাভ হতো না, খালি খালি ইম্প্রেশনটা খারাপই হতো … কালকে ওখানে গিয়ে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করতে হবে আর কি … অন্তত সাড়ে ৩টার মধ্যে তো কালকে আলিয়ঁস ফ্রঁসেস থাকতে পারলে একটু নায়ীমী আর সোমার সাথে প্রজেক্টটা নিয়ে বসা যাবে …

দেখা যাক, কি হয়! …

14729385_1778513375721685_3725860158314881138_n

আজকে কাপড়-চোপড় গুছানোর কাজটা করতে পারলে খুব ভালো হতো … শীতকাল আসি আসি করছে, এখন সকালবেলাটা অন্তত ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে গরম-কাপড় পড়ে বের হতেই হয় … ভাবছিলাম যে শীতের উপযোগী কাপড়গুলো গুছিয়ে একসাথে রাখবো, আর আগামী গরমের আগে যেই কাপড়গুলো আর পরাই হবে না, সেগুলো আলমারিতে তুলে রাখবো … এদিকে ফুলস্লিভ গেঞ্জি আর টি-শার্টগুলো সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এই ড্রয়ারে, ওই ড্রয়ারে, ওগুলো ভেবেছিলাম যে একসাথে এক জায়গায় করে ফেলবো … এইসময়টাতে তো স্কুলের বাইরে অন্য কোথাও গেলে জিন্স-টিশার্টই পরা হয় … আজকে যেহেতু আর কাপড়গুলো গোছানো হলো না, তারমানে আবার আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে … এই সপ্তাহে তো আর সময় পাবো না … স্কুল থেকে ফিরে এসে তো অন্তত কাপড়-চোপড় নিয়ে বসতে ইচ্ছা করে না …

অনেকদিন ধরেই ভাবছি একটা কেবিনেট করা দরকার শাড়িগুলা গুছিয়ে রাখার জন্য … এত এত শাড়ি হয়েছে আমার যে এখন আর নিজেই মনে করতে পারি না কি কি শাড়ি আছে আমার! … মা এখন নিজে শাড়ি কিনলেই আমার জন্যও একটা কিনে আনে, নিজেও তো কম শাড়ি কিনি না … এখন মনে হচ্ছে শুধু শাড়ী রাখার জন্য আমার একটা আলাদা কেবিনেট দরকার … তাহলে আলমারির যে অংশটায় শাড়ি রাখি, সেখানে অন্যন্য কাপড়-চোপড় রাখতে পারতাম … আমার কাছে মনেই হয় যে কাপড় থাকবে আলমারির ভেতরে, আর আমি আলমারি খুলে কাপড় বের করে পরবো … ঘরের ভেতর চোখের সামনে স্তুপ করে কাপড় রাখা ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে না … কিন্তু আগে সেন্ট্রাল রোডের বাসায় জায়গার ওভাবে এমন্টাই ছিলো … আর এখানে মিরপুরে এসে অনেকদিনই এটা মেইন্টেইন করেছি যে বাইরে কাপড় স্তুপ করে রাখি নাই … কিন্তু ইদানীং আবার সেটা শুরু হয়েছে … এই বিষয়টা যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করতে হবে …

স্কুলটা ছুটি হোক … সেসময় শাড়ির কেবিনেট এর প্রজেক্টে নামতে হবে … মিরপুর থেকে ধানমন্ডিতে যাতায়াতের নিজস্ব ট্র্যান্সপোর্ট সুবিধা থাকলে হয়তো মাঝে মাঝেই শাড়ি পরে স্কুলে যেতে পারতাম … এত শাড়ি, শুধুমাত্র অকেশনালি পরে পরে তো অর্ধেক শাড়িই কখনো পরাই হয়নাই! … একেবারেই আনটাচড … এর মধ্যেই নতুন নতুন শাড়ী জুটেই যাচ্ছে … শাড়িগুলো স্কুলে রেগুলার পরে পরে গেলে তাও একটু পরা হয় আর কি! …

আজকে আর কি-ই বা লিখবো? … সারাদিন যেহেতু ঘুমিয়েই কাটিয়েছি লেখার মতো তো কিছুই ঘটেনাই … ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কি জানি স্বপ্ন দেখছিলাম … সেটাও খুব স্পষ্ট মনে নাই … স্কুলের কিছু একটা মনে হয় দেখলাম একবার না কি জানি … কয়েকদিন আগে একটা স্বপ্ন দেখে মনে হয়েছিলো যে সেটার কথা লিখবো … কিন্তু তখন আর দিনযাপন লেখার জন্য বসা হয়নাই … কি কি জানি দেখেছিলাম … এখন খুব ভালো মনেও নাই … খালি মনে আছে যে আমেরিকা ঘুরতে যাবো, এরকম কোনো একটা ব্যাপার ছিলো … ৫/৬ মাস থাকবো সেখানে … জিনিসপত্র গুছাচ্ছিলাম … এর মধ্যে গোপী বাসায় এসেছিলো … আমি যেই কয়েকমাস থাকবো না, ওই কয়েকমাস আমার কম্পিউটার নিয়ে ইউজ করবে সেজন্য … এইসব হাবিজাবি কি কি দেখতে দেখতে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো … গোপীর সাথে অনেকদিন যোগাযোগ নাই … ও মনে হয় এখন গ্রুপেও আসে না … গ্রুপের কোনো অ্যাকটিভিটির ছবিতে ওকে দেখি না … ওর মা অসুস্থ ছিলো শুনেছিলাম … তখনও ওর বা ওর মা’র কোনো খোঁজখবর নেয়া হয়নাই … ওই স্বপ্নটায় ওকে দেখে তখন মনে হয়েছিলো যে ওই স্বপ্নের ছুতায় ওকে নক করি যে কি খবর ওর, কেমন আছে … কিন্তু সেটাও আর করা হয়নাই …

আজকে আর কিছু লেখার নাই … দুপুরে -বিকালে দেখা স্বপ্নগুলোর কথা মনে থাকলে হয়তো সেগুলোর বর্ণনা করতাম … আজকে তাইলে অফ যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s