দিনযাপন । ১১১২২০১৬

আজকে না জানি কতদিন পর বাসায় ফিরে মনে হচ্ছে কোনো কাজ নাই, কোনো ব্যস্ততা নাই, কোনোকিছু কাজ শেষ করার ডেডলাইন নাই … একেবারে অফুরন্ত অবসর! … এই খুশিতে অরুণদ্যুতি আপু আর আরিফিন স্যারের সাথে গ্রুপ চ্যাটে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক কথাও বলে ফেললাম হাবিজাবি বিষয় নিয়ে! … তাও দেখি সময়ই যায় না!

শেষ কবে এমন দিন আসছিলো এই বছর? ভুলেও গেছি! …

কাজ যে নাই তা না … খাতা দেখা, নাম্বার হিসাব করা … অনেক কাজই আছে … কিন্তু সেগুলো স্কুলে বসে করলেও ক্ষতি নাই … বাসায় কয়েকটা খাতা নিয়ে আসলে হয়তো একবসায় দেখা হয়ে যেতো, কিন্তু ১৫ তারিখ পর্যন্ত যেহেতু সময় আছে, তাই খাতা শেষ করা নিয়ে তাড়াহুড়াও নাই … গোটা ১৫ খাতা বাকি আছে আর … কালকে আর পরশু মিলায় দেখে ফেলা যাবে … পরশু সম্ভবত স্কুল বন্ধ থাকবে … ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর … সো ওইদিন বাসায় বসে নাম্বারের ক্যাল্কুলেশন করে ফেলা যাবে … সবকিছু তো ল্যাপটপেই হিসাবনিকাশ …

গত দুইদিনে লেখার মতো টুকটাক বেশকিছু ইনটেরেস্টিং বিষয় ছিলো, কিন্তু সময় এবং ক্লান্তির কারণে আসলে লিখতে বসা হয় নাই …

যেমন, গতপরশু দিন যে শিল্পকলায় গেলাম, ইমন ভাই যে আগের দিন ফোন করে বলেছিলো যাওয়ার জন্য … আমি ধরেই নিয়েছিলাম এইটা কোনো সেমিনার-টেমিনার কিছু একটা হবে, যেখানে মেয়ে থিয়েটার কর্মীদের ডাকা হয়েছে স্পেশালি … ওইখানে গিয়ে বুঝলাম যে বিষয়টা আসলে আমি যা ভেবেছি তা তো না-ই, তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল! এইটা নাকি গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের যে কেন্দ্রীয় কমিটি আছে, সেইখানে এইবার ঠিক করা হয়েছে যে দেশের প্রতি বিভাগ থেকে অন্তত একজন করে নারী প্রতিনিধি রাখা হবে … সেটার নাকি একটা মনোনয়ন টাইপের কিছু হয়েছে যে কোন বিভাগে কোন কোন দল থেকে প্রতিনিধি নেয়া হবে বা এরকম কিছু … তো ঢাকা মহানগর থেকে যে ৩ জন মেয়েকে নেয়া হয়েছে তার মধ্যে নাকি আমি একজন! লে হালুয়া! গ্রুপেই যাই না ঠিকমতো, গ্রুপে কাজ করা নিয়েও কত কথা, আর সেখানে কথা নাই বার্তা নাই একেবারে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির মেম্বার! … নিজের যোগ্যতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে গেলাম কি না সেটাই বুঝতে পারছি না! … ওইখানে গিয়েও আবিষ্কার করলাম যে সবার মধ্যে আমি নিতান্তই ছোটো … আর দেখেও তো বুঝা যায় না আমাকে যে বয়স ৩০ পার হয়ে গেছে … তার মধ্যে গেছি জিন্স-টি-শার্ট পরে … ঝুনা চৌধুরী তো গ্রুপ ছবি তোলার সময় ডেকেই বসলো, এই পুচকি, এইদিকে আয়! এইদিকে দাঁড়া! তোকে তো দেখাই যাবে না!’ …

ওইদিন শিল্পকলায় গিয়ে লিটেরেলি আমার অনুভব হচ্ছিলো যে ‘আমার বলার কিছু ছিলো না … ‘

একটা লিস্ট এক্সপেক্টেড দায়িত্বের ভার কাঁধে চেপে গেলো! … এখন এইটার অবলিগেশন একটাই … গ্রুপে রেগুলার হইতে হবে! …

ভার্সিটির এবারের সেমিস্টারটা মনে হচ্ছে ড্রপই দেবো … ১৪ ব্যাচের সাথে আবার শুরু করবো সেকন্ড সেমিস্টার … প্রায় দেড় মাসের মতো তো ক্লাসই করি নাই … ক্লাস না করে পড়া তো কিছুই বুঝবো না … অলরেডিই নিজেকে প্রচন্ড ট্র্যাকলেস মনে হচ্ছে … এখন যদি পড়া ধরিও, কিছুই মনে হয় গুছাতে পারবো না … মাঝখান দিয়ে স্ট্রেস অ্যাটাক হবে আবার … তারপর মাথার মধ্যে দুনিয়ার তাবৎ হতাশাগুলো একে একে আবার জড়ো হতে থাকবে … এর চেয়ে ভালো যে একটা ব্রেক নেই … তারপর আবার শুরু করি ঠিক-ঠাকমতো …

11351435_1603063166600041_2041951779603399662_n

এদিকে গতকালকে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের পরীক্ষা হলো … চারটা পার্ট ছিলো পরীক্ষার … আইএলটিএস-এর মতোই … শুনে লিখতে হবে … পড়ে বুঝে লিখতে হবে … নিজে থেকে বানিয়ে লিখতে হবে … তারপর বলতে হবে মুখে … পড়ে বুঝে কিংবা নিজে বানিয়ে লেখার পার্টে ভালোভাবেই উৎরায় গেছি … প্যাঁচ লাগলো লিসনিং আর স্পোকেনে গিয়েই … লিসনিং তো যা-তা অবস্থা! … ওইখানে যে ২৫ নাম্বার থাকে তাতে নাকি ৫ পেতে হয় অন্তত … ৫ পাবো কি না তাই নিয়েই সন্দেহ! …

অবশ্য এক-দুইজন বাদে ক্লাসে আমাদের সবারই প্রায় একই অবস্থা … ওই দুইজনের একজন আবার আগে ফ্রেঞ্চ কোর্স করেছে, কানাডাতেও ছিল বেশ কিছুদিন … সো এমনিতেই অনেককিছু পারে … ওর কাজিনও বেশ ভালোই পারে ফ্রেঞ্চ … আর আমরা যারা একেবারেই নবিশ আমাদের অবস্থা খারাপ আর কি … আমাদের টিচার আবার খুব স্বান্ত্বনা দিলো যে আরে ব্যাপার না, প্রথম প্রথম লিসনিং আর স্পোকেনের অবস্থা সবারই খারাপ থাকে … আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে … সবাই পাশ করে যাবেন …

এখন দেখা যাক কি হয়! …

আজকে স্কুলের শেষে আবার খাওয়া-দাওয়া প্রোগ্রাম ছিলো … সব টিচাররা মিলে বস্‌দের পিৎজা ট্রিট দেবে এইরকম এক কাহিনী … তো গেলাম … ভালোই খাওয়াদাওয়া, আড্ডাবাজি হলো … সামনে বোধহয় একদিন সকালে নাস্তা খাওয়ারও একটা প্ল্যান হবে … আবার দুই টিচারের ফেয়ারওয়েলেরও প্ল্যান-প্রোগ্রাম হচ্ছে … একদিকে রিপোর্ট কার্ডের কাজ চলছে, আরেকদিকে খাওয়া-দাওয়া-ফূর্তি … পরীক্ষা শেষের এই সময়গুলাতে স্টুডেন্টরা থাকে না, ফলে ভালোই ক্যাজুয়াল থাকে সবকিছু …

এর মধ্যে একদিন একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম … বৃহস্পতিবারেই, নাকি শুক্রবারে মনে নাই … ভেবেছিলাম যে স্বপ্নটা মনে রাখবো, আর দিনযাপন লিখতে বসলে সেটা নিয়ে লিখবো … কিন্তু স্বপ্নটার অনেককিছুই ভুলে গেছি … খালি মনে আছে যে মূল ঘটনাস্থল ছিলো স্কুল, যদিও সেটা মোটেই আমাদের স্কুল বিল্ডিং ছিলো না … কিন্তু সেটাকেই এক্সেল একাডেমি বলেই স্বপ্নে কোডিং হচ্ছিলো … সেখানে আবার গেম অভ থ্রন্স, গ্রিম এইসব সিরিজের কয়েকজন ক্যারেক্টারকে দেখলাম … তাদের আমি আবার রিকগনাইজ করছিলাম প্যারেন্টস হিসেবে … কি কি সব হাবিজাবি ব্যাপার!

আগামীকাল থেকে পুরোদমে মুনির ভাইয়ের জন্য অনুবাদের কাজ নিয়ে বসবো … এই মাসের মধ্যে উনাকে অন্তত ৩টা চ্যাপ্টারের অনুবাদ দেবোই … সেকন্ড চ্যাপ্টার হাফ-ডান … থার্ড চ্যাপ্টার করা শেষ … আব্বুকে এই সপ্তাহের শেষেই কারেকশনের জন্য দিয়ে দিতে পারবো … আব্বু একটু লম্বা সময় নেবে এই হচ্ছে সমস্যা … আমি এর মধ্যে পুরা বইয়েরই বেসিক অনুবাদ শেষ করে ফেলতে পারবো … মুনির ভাইয়ের টার্গেট ছবিমেলা … তো এর মধ্যে যেভাবে হোক তাকে দিতে চাই আমি … প্রায় তো ৩ বছর হতে চললো বইটা নিয়ে উনাকে ঘুরাচ্ছি! … এইসব ঘুরানোর অভ্যাস বাদ দেয়াটাই আমার ২০১৭ সালের রেজুলেশন বানানো উচিৎ … আগামী বছর থেকে মুখের ওপর ‘না’ বলতে পারার অভ্যাস করতে পারতে হবে, আর সেই সাথে এই যে নিজের মুডের কারণে মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরাই, এই অভ্যাস পাল্টাতে হবে …

আজকে আর বিশেষ কিছু লেখার পাচ্ছি না …

অতএব অফ যাই …

ক্ষুধা লেগেছে … ভাত খেতে যাই বরং …

আজকে গোসল করি না … রাতে মাথাব্যথা অবধারিত … সকালেও শীতের মধ্যে গোসল করে বের হওয়ার দুঃসাহস মোটেই করবো না … অতএব … এই মাথাব্যথা কালকে সারাদিন থাকবে …

কি আর করার! … সে মা ভি! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s