দিনযাপন। ১৩১২২০১৬

শীতকালে গোসল করাটা একটা বিশাল মহাযজ্ঞ! … আর সেই মহাযজ্ঞের প্রস্তুতির জন্য যেই আলসেমিটা লাগে, তাতে দেখা যায় প্রতিদিনই গোসল করতে করতে রাত ৯টা/১০টা বেজে যায় … তারপর চুল শুকায় না … সেই ভেজা চুল নিয়েই রাতে ঘুম দেই … আল্টিমেট রেজাল্ট – মাথাব্যথা!

আজকেই যেমন … স্কুল ছুটি ছিল … সারাদিন বাসায় ছিলাম … কিন্তু গোসল করলাম এই একটু আগে … রাত ১০টা সময়! …

গতকালকে ঘুমের মধ্যে কি কি জানি আজিব আজিব বিষয়আশয় দেখলাম … কি দেখেছি খুব গুছিয়ে মনেও করতে পারলাম না ঘুম ভাঙ্গার পর … একবার মনে হলো যে যা যা মনে আছে তখনই দিনযাপনে ড্রাফট করে রাখি … পরে মনে হলো এত কষ্ট কে করে! যা মনে আছে তাই-ই …

কি কি জানি দেখলাম … একবার দেখলাম কোন একটা অফিসে গেছি, খুব ভোরবেলা … ঢুকতে ঢুকতেই ভাবছি যে এখানে তো ইথার ভাই চাকরি করে … নিশ্চয়ই দেখবো ঢুলুঢুলু চোখে অফিসে বসে আছে … দেখলাম যে আসলেই ইথার ভাই তার ডেস্কে বসে ঝিমাচ্ছে … আরেকবার দেখলাম মনে হয় কিনু কাহারের শো … আমিও গেছি … অনেকদিন পর গ্রুপের শো-তে গেছি, নিজের মধ্যেই অস্বস্তি … এর মধ্যে সাদি’র সাথে দেখা হলো … কি একটা জানি বললো আমার অনেকদিন পর গ্রুপে যাওয়া নিয়েই … এর মধ্যে টুটুলকেও দেখলাম খুব মনোযোগ দিয়ে কি জানি করছে … স্কুল রিলেটেড কি একটা জানি দেখেছিলাম … এখন আর কিছুতেই মনে করতে পারছি না … এমনকি স্বপ্নের সবচেয়ে ইন্টেরেস্টিং যেই পার্টটা মনে রাখতে চেয়েছিলাম, সেটাই ভুলে গেছি …

11203173_1602171833355841_3079691134828836226_n

আজকে স্কুল বন্ধ থাকবার ছুতায় বেশ অলস একটা দিন গেলো … সকালবেলা ৯টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বসে বসে বিউটি ইন ফটোগ্রাফি বইটার অনুবাদ নিয়ে কিছুটা সময় কাটালাম, কিন্তু সারাদিনে আর কিছুই তেমন করা হলো না … দুপুরে তো খেয়ে দেয়ে এক ঘুম দিলাম, উঠলাম ৮টার দিকে! … এই আরেক বাজে অভ্যাস হয়েছে আমার ইদানীং … দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পর খেয়ে-দেয়ে দেখা যায় সাড়ে চারটা কি ৫টার দিকে ঘুমাই, আর উঠি রাতে ৯টার দিকে! তারপর তো আর ঘুম আসে না ! … আবার কিছু করার মতোও থাকে না … ফলে বিছানায় শুয়েই এপাশ-অপাশ করি! …

আজকে কিনু কাহারের থেটারের শো ছিলো, দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। একবার ইচ্ছা হচ্ছিলো যে যাবো … কিন্তু বাসা থেকে অতদূর যাওয়ার বিষয়টা কীভাবে কি হবে চিন্তা করেই পিছিয়ে গেলাম… আর হুট করে কার সাথেই বা যোগাযোগ করবো যাওয়ার ব্যাপারে? সেটাও চিন্তা করলাম … স্কুল খোলা থাকলে হয়তো স্কুল শেষে গ্রুপের সেটের টিমের সাথে চলে যাওয়া যেতো … তারপর অমিত যেহেতু আছেই, আসার একটা ব্যবস্থাও হয়ে যেতো …

আজকে হঠাৎ ফেসবুকের নিউজফিডে সোহেলের ছবি দেখলাম … ওর প্রায় সব বন্ধু-বান্ধব কানেকশনকেই আমি ফেসবুক থেকে আনফ্রেন্ড করে দিয়েছি … এমনকি মুগ্ধ-হিমেল ওদেরকেও … একজন-দুইজন মনের ভুলেই হয়তো রয়ে গেছে … সেরকমই একজনের পোস্টে দেখলাম যে সোহেল তার ওই ফ্রেন্ড আর আরেকজনের সাথে কোথাও খেতে গিয়েছে তার সেলফি দিয়েছে …

ইদানীং সোহেলের কথা মনে হলেই ওকে খুন করার যে প্রবল জিঘাংসা আমার মধ্যে আছে সেটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে … এতদিন পরে হঠাৎ করেই কেন আবার এই ইচ্ছাটা প্রবল হয়ে উঠছে জানি না … কিন্তু কেবলই মনে হয় যে একদিন হয়তো কথা নেই বার্তা নেই ওকে আমি খুন করে ফেলবো … ওর সাথে দেখা হতে পারে এরকম কোনো জায়গাতেই আমি পারতপক্ষে যাই না … কিন্তু তারপরও পান্থপথ এলাকার আশেপাশে গেলেই খালি মনে হতে থাকে যে এখনই যদি ওর সাথে দেখা হয়ে যায়! … ওইদিন বসুন্ধরা সিটি যে গেলাম মোআনা দেখতে, তখনও খালি মনে হচ্ছিলো এখনই বোধহয় দেখবো সোহেলও কাউকে নিয়ে মুভি দেখতে আসছে … পরে অবশ্য এটা বলেও নিজেকে স্বান্ত্বনা দিচ্ছিলাম যে ভিআইপি হলে মুভি দেখার মতো হ্যাটম অন্তত সোহেলের নাই … অবশ্য যদি আবারো কারো টাকাপয়সায় দিন চালানোর ধান্দায় ও থাকে, তাহলে হয়তো আসতেও পারে … তবে এটাও ঠিক যে, আমার মতো ভোদাই কি আর সব মেয়ে হবে ?

মাঝে মাঝেই মনে হয় যে কোনদিন যদি সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে শুনি যে সোহেল মরে টরে গেছে, তাহলে বোধহয় খুব পৈশাচিক একটা আনন্দ হবে আমার। হয়তো খুব প্রশান্তি নিয়ে সেদিন দিনের প্রথম চায়ে চুমুক দেবো আমি … পৃথিবীতে এই একটা মানুষের মৃত্যুকামনা করি আমি প্রতিদিন … ওয়াহিদ রাহমান সোহেল নামের এই মানুষটা পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন হয়তো হাজার ভালো কিছুর মধ্যে থাকলেও আমি কোনদিন কিছুই ভুলে থাকতে পারবো না … কি জানি! হয়তো ও মরে গেলেও পারবো না … সবকিছু এমনভাবে প্রাত্যহিক রুটিনের সাথে জড়িয়ে গেছে যে কোনোভাবেই ভুলে থাকতে পারি না …

যেই পরিমাণ ঘৃণা আমি সোহেলের জন্য নিয়ে ঘুরি, সেই সমপরিমাণ ভালোবাসা যদি কেউ দিতে পারে তাহলে হয়তো একদিন দেখা যাবে সোহেল সংক্রান্ত যাবতীয় স্মৃতি, আমার যাবতীয় অনুশোচনা সবকিছুই আমি ভুলে গিয়ে নতুন করে ভালো থাকার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি … কিন্তু সেটা আসলে সিনেমায় হয় … বাস্তবে না … আমি মনে মনে কাউকে নিয়ে ভাবতে পারি যে ‘অমুকের সাথে এখন কিছু একটা হলে ভালো হতো’ বা ইত্যাদি ইত্যাদি … কিন্তু সত্যিকার অর্থে সেইসব ভাবনাও কর্পূরের মতো উবে যায় যখন ভাবি যে ভবিষ্যতে কি হবে, কি হতে পারে সবকিছু নিয়েই আমার মধ্যে প্রচণ্ড অনিশ্চয়তা …

যাই হোক, আজকে আর লিখবো না … ভালো লাগছে না আর লিখতে … আপাতত শুয়ে পড়ি গিয়ে … কালকে আবার স্কুল আছে … স্কুলে কালকে কাজও অনেক … খাতা দেখা শেষ, এখন খাতার নাম্বার নিয়ে হিসাব-নিকাশ আর দৌড়াদৌড়ির শুরু … যেহেতু ক্লাস টিচার, নাম্বার জমা দিয়ে তো আর শান্তি নাই, আমার কাছেও তো সব সাব্জেক্টের নাম্বার আসতে থাকবে … রিপোর্ট কার্ড তৈরির কাজটা তো আরেক মহাযজ্ঞ ! …

যাই হোক, গেলাম …    

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s