দিনযাপন । ১৬১২২০১৬

গতকালকে রাতে বাসাতেই ফিরেছি সোয়া ১টা বাজে । সেকারণে আর দিনযাপন লেখা হয়নাই। তবে আজকের দিনযাপনে গতকালকের গল্পই বেশি থাকবে …

কারণ, গতকালকে অনেক অনেকদিন পর মনে হলো যে একটা মনের মতো দিন কাটিয়েছি! …

খুব আহামরি কিছু যে কালকে সারাদিন ঘটেছে এমন না … কিন্তু কালকে দিনের শেষে খুব শ্রান্তির একটা অনুভূতি নিয়ে ঘুমাতে গেছি …

গতকালকে অনেকদিন পর … অ্যাকচুয়ালি অনেকবছর পর ভলিবল খেললাম … নুসরাত আপা’র সাথে এর আগের দিনই কথা হচ্ছিলো ভলিবল খেলা নিয়ে … তো গতকালকে খেলতে নামা হলো … নুসরাত আপু, আমি আর আরিফিন স্যার … প্রথমে বাস্কেটবল খেলার চিন্তা-ভাবনা হচ্ছিলো, কিন্তু বলে পাম্প নাই, ফলে ওই বল বাউন্স-ও করা যাচ্ছে না … তো বাস্কেটবল খেলার প্ল্যান বাদ হয়ে ভলিবল খেলা শুরু হলো … বাস্কেটবলের শক্ত বল দিয়ে কি আর ভলিবল খেলা যায়? … হাত লাল হয়ে গেলো ৩/৪ স্ট্রোকেই … পরে প্রায় ফাটা একটা ফুটবল পাওয়া গেলো, ওইটা দিয়ে আরামসে ভলিবল খেললাম … খেলতে খেলতে স্কুলের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিলো … বেসবল, ভলিবল এগুলা খেলতাম নিয়মিত … স্কুলের পরে তো আর খেলাই হয়নাই … কালকে সেই স্কুলের সময়কার উত্তেজনা পাচ্ছিলাম … মাত্র ৩ জন এমনিই আধা-খ্যাচড়াভাবে খেলেছি, তাতেই প্রচন্ড নস্টালজিক হয়ে গেলাম … পুরা দলবল নিয়ে খেলা হলে কি মজা হতো! … খেলতে খেলতেই কালকে বলছিলাম যে হলিক্রসে গিয়ে চাকরি করতে শুরু করি, অন্তত খেলার চান্স পাবো! বেসবল খেলবো! সেই স্কুলের সময়গুলার মতো!

এমনিতেও আমার হলিক্রসে গিয়ে চাকরি নিতে ইচ্ছা করে মাঝে মাঝেই … ওইখানে তো আর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের মতো টিচারদের ওপর খবরদারি করবে না কেউ … কাজ করে আরাম পাবো … আর যাই হোক ওখানে কেউ তো আর নিজের ঢোল নিজেই পেটাবে না ! …

যাই হোক, খেলাধুলা করে হঠাৎ মনে হলো যেন মুডটাই চেঞ্জ হয়ে গেলো … নিজেকে বেশ এনার্জেটিক ফিল করতে শুরু করলাম … মনে হলো শরীরের মধ্যে একসাথে অনেকগুলা হরমোন যেন ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জেগে উঠেছে! কেমন একটা ‘ফিলিং গুড’ ভাবসাব চলে আসলো মনের মধ্যে …

15541433_957618371040666_4606170930690093789_n

গতকালকে সকাল থেকেই ভাবছিলাম, আর দুপুরে সিদ্ধান্ত নিলাম যে টিএসসি-তে যাবো সন্ধ্যায় … প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর যে ফানুস ওড়ায় আর আতশবাজি হয়, এইটা মিস করতে ইচ্ছা করে না … গতবছর যাইনাই মিরপুরে রাতের বেলা ফিরবো কীভাবে চিন্তা করে … গতকাল মনে হলো যে যাই-ই হোক, যাবো … ফেরার কথা পরে ভাবা যাবে … তো দুপুরে বাসায় ফিরে, খেয়ে-দেয়ে, গোসল করে তারপর সন্ধ্যায় বের হলাম … রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম ছিলো … সংসদ ভবনের সাথে প্রোগ্রাম, পুরা মানিক মিয়া এভিন্যুর একপাশ বন্ধ … সম্ভবত সেজন্যই … প্রায় ঘণ্টা দুয়েক লেগে গেলো পৌঁছাতে …

এদিকে, বিকাল থেকেই এক জ্বালা শুরু হয়েছিলো, টিএসসি পৌঁছানো পর্যন্ত আরো একটু বেশিই জ্বালা সহ্য করতে হলো … গতকালকে যে দৌড়ায়-ঝাপায় খেলেছি সেকারণেই কি না জানি না, কিন্তু দেখলাম যে দুপুরবেলা বাসায় ফেরার সময় থেকেই ব্লাডারে বেশ প্রেশার পড়ছে … প্রতি আধাঘণ্টা পর পরই ব্লাডার খালি করছি, আবার একটু পর ফুল হয়ে যাচ্ছে … তো সন্ধ্যায় যখন বের হলাম, তখনও পর্যন্ত একই অবস্থা … কোথায় জানি পড়েছিলাম যে এইরকম অবস্থায় হাতের তালুতে আঙ্গুল দিয়ে ঘষলে নাকি কাজ হয় … তো সিএনজি-তে বসে তাই-ই করতে থাকলাম … পরে টিএসসি গিয়ে ওয়াশরুমে গেলাম … তারপর অবশ্য আর সমস্যা হয়নাই …

কালকে টিএসসি গিয়ে কিছুটা সময় বেশ বোরিং কাটলো … ডিইউএফএস-এর নতুনদের তো চিনিই না … নিজের ব্যাচের বা বড়রা যারা আছে তাদের সাথে কথা হয় কালেভদ্রে … ফলে খুব বেশিক্ষণ কথাও জমেনা … এর মধ্যেই প্রাচ্যনাটের শুভ’র সাথে দেখা হয়ে গেলো … তো ওর সাথে অনেকটা সময় কথা বলে, ঘুরাঘুরি করে সময় কেটে গেলো … নাবিল-এর সাথে কথা হয়েছিলো যে ও আসবে সন্ধ্যার দিকে … একটা ভরসার জায়গা ছিলো যে নাবিল বলছিলো ও বাসার দিকে ফিরবে, কারণ ওর বাসা খালি … তো ভাবছিলাম যে ওর সাথে বাসায় ফিরে আসা যাবে। ও গেলো না … বাসায় ফেরাটা একটু অনিশ্চিত হয়ে যাওয়াতে মাঝখানে কিঞ্চিৎ টেনশনে পড়ে গেলাম … এর মধ্যে অমিত গ্রুপ থেকে বের হয়ে টিএসসি আসলো … পরে ১২টা সময় আতশবাজি শেষ হবার পর অমিতকে নিয়ে বাসা পর্যন্ত আসলাম … অমিত আবার ওই সিএনজিতেই বুয়েট ফিরে গেলো … অমিত না গেলে কালকে হয়তো একটা প্যারা খেতে হতো বাসায় ফেরা নিয়ে …

আজকে আমি সারাদিন বাসায় … একে তো শুক্রবার … তারওপর ১৬ ডিসেম্বর … রাস্তাঘাটের কি অবস্থা হয় চিন্তা করে আর কোথাও যাওয়ারই চিন্তাভাবনা করি নাই … ঘুম থেকেই উঠলাম ১টার দিকে … তারপর স্কুলের কাজ নিয়ে বসলাম … অ্যাটেন্ডেন্স-এর হিসাব-নিকাশ … পারসোনাল রেজিস্টারে মার্কস উঠানো এইসব হাবিজাবি কাজ … কালকে সারাদিন ধরে বসে মোক রিপোর্ট কার্ড তৈরি করতে হবে ক্লাস সিক্স-এর … রবিবারে ভাইস প্রিন্সিপাল দেখবে … আগামী সপ্তাহটা স্কুলে বেশ ব্যস্ত সময় কাটবে … রিপোর্ট কার্ড -এর কাজ … ২৪ তারিখ রিপোর্ট কার্ড ডে … তার আগে রিপোর্ট কার্ড তৈরি, খাতা গুছানো, ক্লাস রুম গোছানো অনেকগুলা কাজ করতে হবে …

আজকে আর লিখবো না … লেখার মতো বিশেষ কিছু পাচ্ছি না … আর ক্ষুধাও লেগেছে … ভাত খেতে যাবো … দুপুরে পাবদা মাছের তরকারি দিয়ে খুব মজা করে ভাত খেয়েছিলাম … এখন কি তরকারি কে জানে! … ইদানীং বাসায় রান্নার লোক আসে, রান্না-বান্না করে যায় … কিন্তু কেউই সপ্তাহখানেকের বেশি টেকে না … মা’র অনেককিছু নিয়েই প্রচন্ড শুচিবায়ু, আর সেইগুলা নিয়ে রান্নার লোকের সাথে এমন করতে থাকে যে এরা মনে হয় তাতেই ইরিটেটেড হয়ে চলে যায় … তারপর অসুস্থ শরীর নিয়ে মা নিজেই রাঁধতে শুরু করে! … আজকে রান্নার লোক এসেছিলো অবশ্য … কি রেঁধে গেছে দেখা যাক …

বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে কয়েকদিন যাবৎ … পুরা ঘরটাই জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে মনে হয় মাঝে মাঝে …  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s