দিনযাপন । ২১১২২০১৬

অতিরিক্ত আলসেমির কারণে গত কয়েকদিন যাবৎ দিনযাপন লিখতে বসা হয়নাই …

শনিবারে তো সারাদিন স্কুলের বাচ্চাদের মার্কশিট বানানোর কাজই করলাম … পরে রাতে এমন মাথাব্যথা করছিল যে ঘুমায় গেছি … রবিবারে সারা সন্ধ্যা সিনেমা দেখলাম । একটা হিন্দি সিনেমা। নাম – পিঙ্ক । ওই সিনেমা দেখে নিজের সাথে অনেক কিছু রিলেটেড পাওয়ার সূত্রে এমনই মন খারাপ হলো যে কান্নাকাটি করে ঘুমায় গেলাম … পরদিন আজাইরাই ইউটিউবে এইটা-ওইটা শর্ট ফিল্ম, ট্রেলার এসব দেখে সময় পার করলাম … তারপর খুব আলসেমি লাগলো দিনযাপন লেখার জন্য … আর গতকালকে সন্ধ্যায় শিল্পকলা অ্যাকাডেমি গিয়েছিলাম নাটক দেখতে। সাধনার প্রযোজনা। নাম ‘কালচৌতিশা’। বাসায় ফিরতে ফিরতেই রাত ১১টা পার … তারপর ঘুম এসে গেলো …

তো যাই হোক, আজকে মোটামুটি একটা প্রচন্ড অলস সন্ধ্যা পার করে অবশেষে দিনযাপন লিখতে বসছি। দুপুরে বাসায় ফিরে ঘুমিয়েছি বেশ কিছুক্ষণ … সাড়ে ৬টার দিকে উঠে চা খেলাম, কতক্ষ্ণ ফেসবুক ঘাটাঘাটি করলাম, ইউটিউবে এক-দুইটা গান শুনলাম, তারপর গোসল করে এসে এখন ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম …

আজকে সারাদিনের তেমন কোনো কিচ্ছা কাহিনী নাই … স্কুলে গেছি … মোটামুটি পুরোটা সময় রিপোর্ট কার্ড লেখা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম, ফলে স্কুলের বিভিন্ন গল্প-গুজব, আড্ডাবাজির মধ্যে আজকে থাকা হয়নাই … এমনিতেও আমি অবশ্য খুব থাকি তা-ও না … আর একগাদা মহিলা টিচার একসাথে হয়ে যখন শাড়ি-কাপর-গয়না-গাটি কিংবা অমুক এটা করেছে, তমুক এটা করেছে এসব গল্প-গুজব করতে থাকে, আমি ওইগুলার মধ্যে ইন্টেরেস্টিং কিছু পাই না, ফলে এসব আড্ডায় আমার ইনভল্ভড-ও হওয়া হয়না … লাইক মাইন্ডেড টিচার তো আর সবাই না … দেখা যায় ঘুরে ফিরে ওই কাশফিয়া আপু, অরুণদ্যুতি আপু, আরিফিন স্যার এদের সাথেই গল্পগুজব হয় … অন্তত কথা বলার টপিক তো কমন পড়ে! ইদানীং দেখা যায় আমার অরুণদ্যুতি আপু, আরিফিন স্যার এদের সাথেই বসা হচ্ছে … আগে যেই রুমে বসতাম ওইখানে এক-দুইজন টিচার আছেন যারা একে তো প্রায় চিল্লায় চিল্লায় কথা বলে, আবার তাও ননস্টপ! … পরীক্ষার খাতা দেখা যখন শুরু হয়েছে তখন এই হাউ-কাউ এর চোটে বিরক্ত হয়ে রুম চেঞ্জ করে ফেলেছি! … লাউড লোকজন কেন জানি আমার ভালোই লাগে না! বিভিন্ন স্কুলে যে টিচার’স রুমে বড় করে লেখা থাকে ‘সাইলেন্স শুড প্রিভেইল ইন দ্য টিচার্স রুম’ ওইটাই ভালো … ভাগ্যিস ফোন অ্যালাও করে না টিচার্স রুমে, অফিসে জমা দিয়ে আসতে হয়, নইলে যে এরা একেকজন সারাদিন কি করতো ফোন আসলে! …

আজকে আমি রিপোর্ট কার্ড লিখবো বলে একটা ক্লাস্রুমে ঢুকে দরজা-টরজা বন্ধ করে বসলাম যাতে বাইরের কোনো শব্দ না আসে … দেখে দেখে তুলতে গেলে ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে বেশি, তাই আরিফিন স্যারকে সাথে নিয়ে নিলাম যে স্যার ডিকটেট করবে আর আমি লিখবো … একেকবার একেকজন এসে দরজা-টরজা ধাক্কায় অস্থির অবস্থা! একবার এক বুয়া দুই প্লেট নুডলস নিয়ে ঢুকে গেলো … বৃতা রান্না করে এনেছে সবার জন্য … সেই নুডলস-এর প্লেট পারলে রিপোর্ট কার্ডের ওপর রেখে যায় … আরেকবার আরেকজন টিচার নক করে অস্থির করে ফেললো … তো খুলে বললাম যে দরজা বন্ধ করে কেউ কাজ করা মানে নিশ্চয়ই জরুরি কাজ করছে কেউ …তো উনি বলে যে উনিও নাকি খুব জরুরি একটা নোটিশ নিয়েই আসছেন। কি নোটিশ? আগামীকাল সকালে নাকি স্টারে নাস্তা করার একটা প্ল্যান করা হয়েছে, যাবো কি না! এই প্রশ্ন করার জন্য এভাবে দরজা ধাক্কাধাক্কি করতে হয়? আমি বিরক্ত হয়ে প্রায় উনার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলাম … কিছু মনে করলে আমার কিছু করার নাই … উনার ক্লাসের রিপোর্ট কার্ড লেখার সময় উনি যদি কোনোকারণে ডিস্টার্বড ফিল করতেন তাইলে আমার ধারণা সরাসরি শিলু আপা’র কাছে গিয়ে কমপ্লেইন করতেন!    

যাই হোক, পরশু দিন রিপোর্ট কার্ড ডে। আজকে সব রিপোর্ট কার্ড লিখে শেষ করতে পারিনাই। আরো ৮টা বাকি আছে। কালকে ওগুলা শেষ করে তারপর ক্লাস্রুম গোছানো, এক্সাম কপি গোছানো এসব কাজ করতে হবে … ২৩ তারিখ যেহেতু শুক্রবার, কালকেই সব গুছায় আসতে হবে ২৪ তারিখের জন্য …

11377153_1605821409657550_4400568985803567977_n

আজকে মা-আব্বুর বিবাহবার্ষিকী … ৩২ বছর হলো বোধহয় … এখন অবশ্য আমি আর এগুলো নিয়ে কোনো উৎসাহ বা আগ্রহ দেখাই না … এমন কি মনে আছে কি নাই সেটাও ভাব প্রকাশের কোনো আগ্রহ কাজ করে না … না কারো অ্যানিভার্সারি … না কারো জন্মদিন … এই যেমন কালকে লালামের জন্মদিন … আজকে থেকে তিন/চার বছর আগের মতো সবকিছু থাকলেও আমি দেখা যেতো আরিফিন স্যারকে বলে কেকোলজি থেকে একটা কেক অর্ডার দিয়ে সারপ্রাইজ ডেলিভারি দিয়ে দিতাম লালামের বাসায় … কিন্তু এখন আমার এইসবের যাবতীয় উৎসাহই মরে গেছে … নিজের জন্মদিন নিয়েও বিন্দুমাত্র উচ্ছ্বাস তো কাজ করেই না, বরং ‘উফ! আরেকটা বছর শেষ করলাম … মৃত্যুর দিকে এক বছর আগালাম’ চিন্তা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলি …

কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি … মনে হচ্ছে এখনও যদি কেউ এসে বলে চলো ঘুরতে যাই, মনে হয় সব কাজ বাদ দিয়ে ব্যাগ কাঁধে দৌড় দিবো! … কতদিন কোথাও ঘুরতে যাই না! … একদমই দম বন্ধ লাগছে … স্কুলে বসে বসে প্রতিদিন এটা সেটা প্ল্যান হয়, তারপর এ পারবে না, ও পারবে না, এর এই সমস্যা, ওর ওই সমস্যা এইসব করে করে সব প্ল্যান বাদ হয়ে যায় … স্কুল থেকে অফিশিয়ালি একটা ট্রিপের প্ল্যান হলো কয়েকদিন আগে … একটা ডে-লং ট্রিপ হবে ঢাকার কাছেই কোনো একটা রিসোর্টে … তো সেখানে নানা মুনির নানা মত হইতে হইতে ওই প্ল্যান বাদ … তারপর আমরা কয়েকজন ঠিক করলাম আনঅফিশিয়ালিই যাবো …সেটাতে সবাই হ্যাঁ হ্যাঁ করা পর্যন্তই … প্ল্যান প্রোগ্রাম কিন্তু কিছুই হয়নাই! ২৪ তারিখ স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পর দেখা যাবে আবার একেকজন একেক পোগ্রামে ফেঁসে গেছে, নইলে ফ্যামিলিকে টাইম দিচ্ছে, নইলে ফ্যামিলির সাথেই কোথাও ঘুরতে চলে গেছে! …

মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে একদম হুট করে নেপাল নইলে ভুটানের টিকিট কেটে চলে যাই! একজন দুইজনকে ওপেন কল দেবো … গেলে যাবে, নইলে একদম একাই চলে যাবো! …

২০১৪ সালে এরকম সময়েই তো নেপাল গিয়েছিলাম … পুরাই স্বপ্নের মতো একটা ট্রিপ ছিলো … দেশে ফেরার পর একেকটা ঘটনার ঘনঘটায় মনে হচ্ছিলো যে ওই স্বপ্নের রেশই বোধহয় আর কাটবে না … সোহেলের সাথে কানেকশনটাকেও আমি সেই স্বপ্নের রেশ বলেই ভুল করেছিলাম … আর সেই ভুল এর থেকে এমন একটা ঘোরে চলে গিয়েছিলাম যে ঘোর ভেঙ্গে দেখেছি সব ধ্বংস! … আবারো যদি আমি এখন নেপাল যাই, তাহলে কি ওই নেপালে যে আসল রেশটা ফেলে এসেছিলাম, সেটা আবার ফিরে পাবো? … ওই সময়টাতে আমি সত্যি সত্যি অনুভব করতে শুরু করেছিলাম যে আমার জীবন যেমন চলছে তা নিয়েই আমি খুব হ্যাপি, আর আমার জীবনে হতাশামূলক কিছু ঘটার কোনো সম্ভাবনা নাই … সেই হ্যাপিনেসের ফিলিং মনে হয় নেপালেই ফেলে এসেছি, আর নিয়ে এসেছিলাম যত হতাশার, বিষন্নতার বীজ … সেই বীজ ফুলে ফেপে এখন এমন এক গাছ হয়ে জন্মেছে যে দিন রাত তার মূল দিয়ে আমাকে আষ্টে-পৃষ্টে ধরে রাখে …

খুব অসহায় লাগে আমার … মনে হয় একা একা এভাবে আমি আর খুব বেশিদিন চলতে পারবো না … নিজের উপর থেকে যাবতীয় আত্মবিশ্বাস নেই হয়ে গেছে আমার … খালি মনে হয় যে জীবনযাপনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যও এখন আমার কারো হেল্প লাগবে! … নিজে নিজে আর কোনোকিছুর সিদ্ধান্ত নিতে পারি না … সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস পাই না! …

যাই হোক, আজকে আর লিখবো না … ক্ষুধা লেগেছে … এখন খেতে যাই … তারপর ঘুমায় থাকবো …  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s