দিনযাপন । ২৭১২২০১৬

গতকালকে বহুদিন পরে গ্রুপে গিয়েছিলাম … এমনিতেই মনে মনে ভাবছিলাম গ্রুপের দিকে যাবো … তার মধ্যে অমিত দুপুরবেলা বাসায় আসলো … ও-ও আবার গ্রুপের দিকেই যাবে … তো আমিও ওর সাথে রওয়ানা দিলাম … গ্রুপে তেমন কিছু হয়না … মহাবিদ্যা’র শো আছে আগামীকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, ওইটার রিহার্সালের জন্য কয়েকজন এসেছে … বিপু ভাই তার আগে স্কুলের নাটকের রিহার্সাল করাচ্ছিলো … তো গ্রুপ থেকে বের হতে হতে আমাদের ১০টা বাজলো … অমিত, সাদি, শর্মী, শাফায়াৎ আর আমি … চা খেতে গিয়ে গল্প-গুজবে প্রায় ১১টা বেজে গেলো … সিএনজি নিয়ে ১১টা সময় রওয়ানা দিলে অবশ্য সাড়ে ১১টা, পৌনে ১২টার মধ্যেই পৌঁছায় যাওয়া যায় বাসায় …

তো কাঁটাবন মোড় থেকে সিএনজি পেলাম একটা … সিএনজিতে উঠে বাটা সিগন্যাল আসতে না আসতে এক কাহিনীর মধ্যে পড়ে গেলাম … হঠাৎ দেখলাম বাম দিক থেকে এক প্রাইভেট কার ক্রমাগত ডান দিকে আমার সিএনজির গায়ের ওপর প্রায় চাপায় দিচ্ছে … আমি সিএনজিতে না থেকে রিকশায় থাকলে শিওর ধরে নিতাম যে এখনই গাড়ি থেকে হাত বাড়ায় ব্যাগ টান দিবে বা কিছু … যদিও গাড়ির সবগুলো কাচই তোলা ছিলো …আমি সিএনজিওয়ালাকে খালি বললাম যে আপনি গাড়িটাকে যেতে দেন, আগে যাওয়ার তাড়া যেহেতু চলে যাক, নইলে তো গাড়ির সাথে লাগবে … বলতে না বলতেই সেই গাড়ি নিজেই সিএনজির সাথে লাগিয়ে দিলো! তারপর সেই গাড়ি ওভারটেক করে একটু সামনে গিয়ে সায়েন্স ল্যাবের মোড়ে সিএনজিকে ক্রস করে আটকালো। আমি ভাবছিলাম গাড়ি থেকে হয়তো ফাচুকি টাইপের ড্রাইভার বের হয়ে এখন একটু পার্ট নেয়ার চেষ্টা করবে … দেখলাম যে ড্রাইভার না, এক ভদ্রলোক বের হইলো, হাতে ওয়্যারলেস ফোন, পুলিশের যেরকম থাকে। ধারণা করলাম সে হয়তো সাদা পোশাকের পুলিশ বা অফ ডিউটিতে থাকা অফিসার গোছের কেউ হবে … সিএনজিওয়ালার সাথে সে কোনো কথা বললো না, ওয়্যারলেস-এ কাউকে ফোন করলো … আমি সিএনজির ভেতর থেকে ক্রমাগত সেই লোকের সাথে কথা বলে যাচ্ছি, কিন্তু সেই লোক রেসপন্স করছে না … আবার গাড়িও এমনভাবে চাপিয়েছে যে সিএনজির দরজা খুলে বের হওয়াও যাচ্ছে না … আমি অমিতকে ফোন করতে শুরু করলাম … এদিকে অমিতও ফোন ধরে না … এমন মেজাজ খারাপ লাগতে শুরু করলো … মাত্র তো পাঁচ মিনিট হইলো আমাকে সিএনজিতে তুলে দিলো, এখনই ফোন ধরছে না কেন! অর সাথে সাদি ছিলো, সাদিও ফোন ধরছে না … ইতিমধ্যে তিন ট্র্যাফিক পুলিশ চলে এলো … ওই ভদ্রলোক বললেন সিএনজি নিউমার্কেট থানায় নিয়ে যাও, আমি এসে দেখতেসি ব্যাপারটা, আর ভেতরে প্যাসেঞ্জার থাকলে তাকে আরেকটা গাড়ি করে দাও! … কি আজিব! নিজে গাড়িটা চাপায় দিয়ে এখন আবার নিজেই সিএনজিকে ফাঁসায় দিচ্ছে! … আমি নামলাম না … আমি বললাম যে আমি আগে থানা পর্যন্ত যাবো, তারপর দেখা যাবে … থানা পর্যন্ত যেতে যেতে অমিতকে আর সাদিকে ফোন দিয়েই যাচ্ছি কেউ ফোন ধরে না … শেষে বাধ্য হয়ে মা’কে ফোন দিলাম … মা তো আরেক ড্রামা কুইন … কি হইসে না বুঝেই ফোনের মধ্যে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো … যাই হোক, এর মধ্যে অমিতকে পাওয়া গেলো … বললাম যে নিউমার্কেট থানায় আছি, যেন আসে …

তো আমি নিউমার্কেট থানায় নেমে খুব চিল্লাপাল্লা করলাম … খুব মেজাজ খারাপ লাগছিলো আমার … এভাবে একজন অফিসার নিজেই গাড়ি চাপায় দিয়ে নিজের গাড়িতে স্ক্র্যাচ ফেলে আবার সিএনজিওয়ালাকেই ফাঁসায় দেবে! চোখের সামনে একজন এরকম অন্যায় করবে, দুর্নীতি করবে আর আমি সেটা চুপচাপ দেখে যাবো সেটা অন্তত আমার চরিত্রে নাই … আমার খুব জিদ চেপে গেলো … ওই অফিসারের সাথে আমি কথা বলবোই … যা হয় হবে … আমাকে কথা বলতেই হবে … আমি রাগের চোটে ওই অফিসারকে বাইনচোত, মাদারচোত বলে গালিও দিলাম একবার … আমার চিল্লাপাল্লার চোটে আশেপাশে লোকজন ভিড় জমায় দিলো … কে জানি আবার বলেও উঠলো বাঘের বাচ্চা … এদিকে পুলিশরা আবার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বললো সিএনজি নিয়ে আমাকে চলে যেতে … কিন্তু আমার তখন জিদ যে আমি ওই অফিসারের সাথে কথা বলবোই … চোখের সামনে এভাবে একজনের দুর্নীতি তো আমি চুপচাপ মেনে নিয়ে বাসায় চলে যাবো না …

আমাকে এরপর ওখানকার এক ডিউটি অফিসার ওসির রুমে নিয়ে বসালো … আমি ভাবলাম যে ওসি হয়তো আসবে কথা বলতে, আবার এটাও ভাবছিলাম যে যেই অফিসার এই কাহিনীটা করলো সে কি এই থানার ওসিই কিনা … তো ওসি নাকি ছুটিতে … সো ওসির সাথে তো আর কথা হবে না … এর মধ্যেই আমি আবার অনীক ভাইকে ফোন দিলাম … উনি আমাদের প্রাচ্যনাটের মেম্বার, রমনা থানায় আছেন … তবে উনি ডিএমপি না, ট্র্যাফিক -এর সাথে রিলেটেড … উনিও ছুটিতে … আর পুলিশ অফিসার নিয়েই কাহিনী বলেই সম্ভবত উনি বেশি গরজ দেখালেন না … তো এর মধ্যে অমিত আর সাদিও চলে আসলো … আমরা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর দুই পুলিশ এসে কথা বললেন … ম্যাডাম বলেন তো আসলে কাহিনীটা কি? তো আমি বললাম কি কি হয়েছে … যেহেতু পুলিশ নিজেই এখানে অন্যায় করেছে, সো ওই দুই পুলিশও খুব রিলাক্টেন্টলি এইটাকে বিভিন্নদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করতে শুরু করলো … আমি একপর্যায়ে বললাম যে যেহেতু আপনাদের দুইজনের কেউই ওইখানে ছিলেন না, ঘটনা জানেন না, সো কিছু বলতেও পারবেন না বলছেন তাইলে ওই অফিসারের ফোন নাম্বার দিলেই তো হয়, আমি নিজ দায়িত্বে কথা বলে নিচ্ছি … উনাকে যেহেতু আনতে পারছেন না, সিএনজিকে ফাঁসায় দিয়ে উনি উনার বাড়িই চলে গেছেন, তো উনার সাথে আমি ফোনে কথা বলবো … দোষ উনি করেছে, সো স্যরি বলবে উনি, আর তারপর সিএনজিকেও রিলিজ করে দিতে হবে … কিন্তু ওই দুই পুলিশের অবশ্য তাতে কোনো গরজ দেখলাম না …

এরপর আরো অনেকক্ষণ বসে থাকার পর খুব দায়সারাভাবে ওই পুলিশ জানালো যে উনি নাকি আমাকে পরেরদিন নাম্বার জোগাড় করে দেবে ওই অফিসারে! কি হাস্যকর কথা! কোন থানার কোন অফিসার এই সিএনজিকে এখানে পাঠিয়েছে সেটা এই থানায় নাকি কেউ বলতে পারছে না! আর ওই অফিসার নাকি এই থানার না … মানে কথাগুলোর মধ্যে কোনো যুক্তি পাওয়া গেলো না আর কি তাদের … বোঝাই গেলো যে চোখ পাল্টি দিয়ে মিথ্যা বলছে, আর আমিও জিদ ধরেই বসে রইলাম যে ওই অফিসারের সাথে কথা না বলে আমি যাবো না … হয়তো আজাইরাই জিদ করছিলাম, কিন্তু জিদ ধরে বসেই রইলাম …

শেষমেশ ওই পুলিশ বললো যে সিএনজিকে রিলিজ করে দিলে যদি আমি খুশি হই তো উনি সেটাই করবে … তাও যদি আমি চলে যাই সেটাই ভাবছিলো হয়তো … সিএনজিকে যে সত্যি সত্যি রিলিজ দিয়ে দেবে সেটা অবশ্য আমার বিশ্বাস হলো না … সিএনজির কাগজপত্রের কপি করে রেখেছে ওরা, সো চাইলেই আবারও তাকে যেকোনো ইস্যুতেই ধরতে পারবে … আমাকে দেখানোর জন্য রিলিজ করে দেয়ার নাটক করলো বলেই ধরে নিলাম … তো সে যাই হোক, সেই সিএনজিওয়ালাকে নিয়েই বাসায় ফিরলাম … অমিত আর সাদি সাথে আসলো বাসা পর্যন্ত, আবার ওই সিএনজিতেই ফিরে গেলো … সিএনজিওয়ালাকে নাকি আমি ভেতরে যাওয়ার পর পুলিশরা চড়-থাপ্পড় মেরেছে, আমি কেন মুখ খারাপ করে গালি দিলাম সেটা নিয়ে নাকি আমার সম্পর্কে আরো মুখ খারাপ করে মন্তব্যও করেছে … সাদা কাগজে নাকি সিএনজিওয়ালার নাম সই করিয়েও রেখেছে … আমার নাম, কি করি এইসবও কথায় কথায় ওই দুই পুলিশ জিজ্ঞেস করেছিলো, পরে দেখলাম সেগুলো কাগজেও লিখে রেখেছে … আমাকে যা-ই জিজ্ঞেস করেছে পারসোনাল ইনফরমেশন আমি কোনোটাই লুকাই নাই … এক্সেল অ্যাকাডেমিতে চাকরি করি, প্রাচ্যনাটে কাজ করি সবই বলেছি … খালি ফোন নাম্বার দেই নাই … তখন আবার অমিতের ফোন নাম্বার রেখে দিলো …

15697940_1810956712477351_5966870365947757275_n

আমার বাসায় ফিরতে ফিরতে খুব হতাশ লাগছিলো! … কি একটা দেশে বাস করি আমরা? যে অন্যায় করে সে-ই আবার ক্ষমতার বলে যার সাথে অন্যায় করলো তাকেই ফাঁসায় দেয়! … আইন না সবার জন্যই সমান? সেখানে আইনের লোকের দুর্নীতিই সবচেয়ে বেশি! … এতদিন বিভিন্ন জায়গায় পড়েছি, শুনেছি, আর এবার নিজেই একেবারে চোখের সামনেই দেখলাম ! … হতাশ হয়ে ভাবতেসিলাম যে মোর‍্যাল এথিকস হাই হইলেই এই দেশে টিকে থাকা অসম্ভব … আজকে যদি আমি আর দশটা নীতিহীন মানুষের মতো হইতাম তাইলে ওই সায়েন্স ল্যাবের মোড়েই সিএনজি থেকে নেমে আরেক সিএনজিতে উঠে বাসায় চলে আসতাম আর হয়তো পরে কথায় কথায় গল্প করতাম যে এইরকম হইসে … কিন্তু প্রতিবাদ করতাম না, নিজে গরজ করে থানা পর্যন্ত গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বসে থেকে রাত ১টার পরে থানা থেকে বের হইতাম না … এমনকি সিএনজিওয়ালার কি হইলো না হইলো জানারই প্রয়োজন মনে করতাম না … কিন্তু সেরকম মেন্টালিটি কখনোই গ্রো করে নাই নিজের মধ্যে … এমনকি অনেকেরই মতোই ‘কথা বলে কি হবে? কে শুনবে? কি সমাধান হবে’ টাইপ চিন্তা করে স্কেপটিকও হয়ে যেতে পারি নাই … অমিতই যেমন ! আমি সিএনজিতে উঠেও খুব উষ্মা প্রকাশ করতেসিলাম সবকিছু নিয়ে … ও খুব বিরক্ত হয়ে আমাকে থামায় দিলো … ওর যুক্তি হইলো যে যেই অফিসার এই কাহিনি করসে তার সাথে না চিল্লায় অন্য সবার সাথে রাগ দেখায় লাভটা কি? … আর আমার যুক্তি হইলো, আমি কেন ভোকাল হবো না? যে অন্যায় করসে তাকে খালি আমি কেন কথা শুনাবো? আমি অন্যায় মানি না, আমার সামনে অন্যায়টা হয়েছে, আমি সেটা সবাইকে জানাতে তো কোনো সমস্যা নাই … অন্তত মানুষ এইটা বুঝবে যে আমি ছেড়ে দেয়ার মানুষ না … ওই লোককে সামনে পেলে ওই লোককেও আমি একই কথাই বলতাম যেসব কথা আমি উনাকে নিয়ে থানার যাবতীয় পুলিশের সামনে বলেছি! ওইটুকু দুঃসাহস তো আমার আছে! চোখের সামনে অন্যায় দেখে চুপ করে তো থাকি নাই!

ওই মতলুবর রহমান আমাকে তার কার্ড দিয়ে বলেছিলো আজকে নাকি ফোন করলে উনি আমাকে ওই অফিসারের নাম্বার জানাবে … আমি ফোন দেই নাই … এই ঘটনা আর আগানোর ইচ্ছা আমার নাই … সিএনজিওয়ালার নাম্বার আর সিএনজির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারও রেখে দিয়েছিলাম, কিন্তু সিএনজিওয়ালাকেও ফোন করি নাই … অমিত করেছে কি না কে জানে! ও-ও নাম্বার রেখেছিলো সিএনজিওয়ালার। এদিকে আমি এটাও ভাবছিলাম যে সিএনজিওয়ালাকেও বাসা পর্যন্ত নিয়ে আসাটা আদৌ ঠিক হলো কি না … পরে আবার ভাবলাম যা হয় হবে! অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি, অন্যায় তো কিছু করিনি!

বাসায় মা-ও দেখলাম খুব সিনেমাটিক ডায়ালগ দেয়ার চেষ্টা করতেসিলো … ফোনেই একবার বললো, বাসায় চলে আসো, নইলে আমার মরা মুখ দেখবা এই সেই … সারাদিন যে সিরিয়ালগুলো দেখে স্টার জলসা আর জি বাংলায় ওখান থেকে সম্ভবত শিখেছে যে এই টাইপের কোনো সিচুয়েশন হইলে এমন ডায়ালগ দিতে হয় … আমি পাত্তা টাত্তা দিলাম না এইসব ইমোশনাল ডায়ালগের … বাসায় আসার পরেও তেমন কোনো কথা বলি নাই … নইলে দেখা যেতো যে মা-ও জ্ঞান দেয়া শুরু করতো যে এইসব করার কি দরকার, চুপ থাকলেই তো হয়!

সবাই এরকম চুপ করেই থাকতে চায় কেন জানি! চোখের সামনে অন্যায় হইলেও আমি চুপ করে থাকবো? কি আজিব! চুপ করে থাকতে থাকতেই তো দেশে এখন অন্যায় করার লোকের সংখ্যাই বেশি, আর যারা প্রতিবাদ করে তারা হয় পাগল! আমি শিওর আমাকে নিয়ে পুলিশগুলা পরে হাসাহাসি করে রাখেনাই … বলসে হয়তো যে এহ! আসছে আইন শিখাইতে! বাল-ছাল! খানকি-মাগি এইসব হয়তো বলসে! … এখনকার মানুষের মেন্টালিটিই এমন যে কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করা মানে সে পাগল, নয়তো আজাইরাই নিজেকে শো-অফ করতে চাইছে! অদ্ভুত মেন্টালিটি মানুষের! নিজের সারভাইভালের জন্য নাকি সব চুপ করে মেনে নিতে হবে!

সে যাই হোক, আশা করি পুলিশ আর এইটা নিয়ে আমার সাথে ডিলিং-এ আসবে না … তবে সিএনজিওয়ালাকে হয়তো কোনো না কোনোভাবে আরেকবার ধরবে, বা ডেকে নিয়েই হ্যারাস করবে, নইলে টাকা খাবে … ওই অফিসারেরও হয়তো আসলে টাকা খাওয়ারই ধান্দা ছিলো, মাঝখানে আমি ঢুকে পড়বো সেইটা হয়তো ভাবেই নাই …

আচ্ছা, সে যাই হোক … আজকে আর লিখবো না … অনেকক্ষণ ধরে ল্যাপটপে কাজ করছি … তাও বিছানায় বসে … পিঠ-কোমর ব্যথা হয়ে গেছে … খাওয়া-দাওয়া করে একটু লম্বা হয়ে শুয়ে থাকবো … একদমই আরাম পাচ্ছি না বসে থাকতে …

আজকের মতো শেষ করি না হয় …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s