দিনযাপন । ৩১১২২০১৬

রাতে বাসায় ফেরার সময় সিএনজি-তে বীরবিক্রমের মতো মাথায় বাতাস লাগাতে লাগাতে এসেছি … ব্যাগ থেকে বের করে টুপিটা পরতে কেমন আলসেমি লাগছিলো … ফলাফল হলো বাসায় ঢুকতে না ঢুকতেই প্রচন্ড মাথাব্যথা … তবু মাথাব্যথা নিয়েই আজকে দিনযাপন লিখবো … বছরের শেষ দিনযাপন বলে কথা ! …

গতকালকে কি কারণে জানি আর দিনযাপন লিখতে বসা হলো না … তেমন কিছু হয়ও নাই … এক্সেপ্ট ফর জিপি হাউজে কিনু কাহারের থেটার -এর শো … ওইখানেও আর তেমন কি-ই বা হলো? … আমি গিয়েছিলাম মূলত মেক-আপের রেফারেন্সের জন্য ছবি তুলে রাখবো বলে। কিন্তু গিয়ে নিজের কাছেও মনে হলো, পারফর্মাররাও নিজেরাই বললো যে প্রপার মেক-আপ যেহেতু হচ্ছে না সুতরাং এই ছবি আসলে খুব একটা কাজে দেবে না … এরপরে কিনু কাহারের থেটারের স্টেজ শো হলে তুলতে হবে আর কি …

আজকে সারাদিনে বেশ একটু ঘুরলাম … চারুকলায় জয়নুল মেলায় গেছি, শিল্পকলার চিত্রশালায় এশিয়ান আর্ট বিনাল ঘুরেছি, তারপর নাট্যশালায় গিয়ে প্রেমা আপু’র নৃত্যনাট্য ‘শকুন্তলা’ দেখেছি … বেশ একটা শিল্পচর্চাময় দিন! …

14915346_1788504668055889_1837235651268303581_n

জয়নুল মেলায় জাস্ট এক চক্কর ঘোরা হয়েছে … গতবার গিয়ে বেশ ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা হয়েছিলো, সাথে নায়ীমী আর জেবাও ছিলো … এবার পুরা মেলা একপাক ঘুরেই বের হয়ে আসলাম … শিল্পকলায় গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরা হলো … প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় … যদিও এত বড় এক্সিবিশন দেখার জন্য দেড় ঘণ্টা প্রায় কিছুই না, তবুও একা একা ঘোরার জন্য যথেষ্ট! সাথে কেউ থাকলে হয়তো একেকটা কাজের পেছনেই কথাবার্তায় অনেকটা সময় পার হয়ে যেতো … একা থাকায় তেমনটা হলো না আর কি! ভিডিও আর্টগুলা বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখলাম … ইন্সটলেশনগুলা দেখলাম … পেইন্টিংগুলাতে খুব একটা মনোযোগ দিলাম না, যেগুলো বেশি আকর্ষণ করলো সেগুলোই একটু সময় নিয়ে দেখলাম …তবে, একটা জিনিস বেশ বিরক্ত লাগছিলো যে ওইখানে যারাই ঘুরতেসিলো প্রায় ৯০ শতাংশই ইন ফ্যাক্ট এক্সিবিশন দেখতে আসে নাই, ঘুরতে আসছে! … কেউ আসছে স্রোতে গা ভাসিয়ে, কেউ আবার হয়তো শিল্পকলার মাঠে বসে একটু সময় কাটাবে বলে আসছে, দেখসে এক্সিবিশন হচ্ছে, দেখতে আসছে … একেকজন পেইন্টিং-এর গায়ে হেলান দিয়ে, ইন্সটলেশনগুলার গায়ে হাত দিয়ে, ভর দিয়ে খুব ছবি তুলতে থাকলো, সেলফি তুললো! … বুঝুক না বুঝুক ভিডিও আর্টগুলা সব মোবাইলে রেকর্ড করে নিয়ে গেলো … আর হাহা-হিহি করে গল্পে মাতোয়ারা হয়ে পুরা গ্যালারি ভরপুর করে ফেললো! … আর্ট এক্সিবিশন দেখা এবং দেখেই আর্ট বুঝে ফেলা কি এতই সহজ? …

যাই হোক, এর মধ্যে আবার আরেক কাহিনী … একটা গ্যালারিতে কাজ দেখতে দেখতে হঠাৎ পেছনে ফিরে দেখি রফিক ভাই পাশেই খুব মনোযোগ দিয়ে একটা পেইন্টিং-এর দিকে তাকায় আছে … আমি দেখেও না দেখার ভান করে সরে যাচ্ছিলাম, উনি পেছন থেকে ডাক দিলো, ‘প্রজ্ঞা, ভালো আছেন?’ … আমি চোখ-মুখ শক্ত করে ‘ভালো’ বলে গটগট করে হেঁটে বের হয়ে উপরের ফ্লোরে চলে গেলাম … এই লোকের কি সমস্যা আমি বুঝি না! সে যেসব কাহিনী আমার সাথে করেছে এবং কথাবার্তা বলেছে, তাতে করে আমি যে পারতপক্ষে তার সাথে কথাই বলি না, এমন কি কাজের কথা হলেও অন্য কাউকে দিয়ে বলাই এটা না বোঝার মতো ভোদাই তো তাকে আমার মনে হয় না … সেক্ষেত্রে উনি ইচ্ছা করে এইসব করে নতুন নতুন কাহিনীর ইস্যু তৈরি করতে চায় কি না সেটাও আমি বুঝি না! …

উপরের ফ্লোরে ঘুরতে ঘুরতেই কাশফিয়া আপু ফোন করলো যে চলে এসেছে শিল্পকলায় … তো আমিও নেমে গেলাম … প্রেমা আপু’র শকুন্তলা আগেই দেখেছি একবার, আজকে আবার দেখতে গেলাম মূলত কাশফিয়া আপুকে সঙ্গ দেয়ার জন্য … এমনিতে থিয়েট্রিকাল পারফর্মেন্স একবারের বেশি দেখতে তো আমার সমস্যা নাই … কারণ এগুলো যত দেখা হয় ততই নতুন নতুন জিনিস চোখে পড়ে … আগের দিন যেমন নাচের মুদ্রার দিকেই মনোযোগ ছিলো, আর গতকালকে কাহিনী আর সংলাপের দিকে মনোযোগ দিয়েছি … আর কাশফিয়া আপু গতবার দেখতে যায়নি, কি জানি কাজ ছিলো। তো একা একা যাবে, আবার ফিরতে গেলেও ঝামেলা, তো আমি সানন্দে তার সঙ্গী হয়ে গেলাম …

আগামীকালকে বকুল ভাইয়ের ডিরেকশনের নাটক দেখতে যাবো, ‘লেটার টু আ চাইল্ড নেভার বর্ন’ … নিজের কাছেই এটা খুব বড় একটা চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে …নিজে যেচে পড়ে আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছি টাইপের চ্যালেঞ্জ … এদিকে নাটক দেখতে যাবো শুনে বকুল ভাই আবার বলে দিয়েছে যেন আগে আগে চলে যাই, উনার সাথেই থাকি! জেনে-বুঝে বললো, না এম্নেই বললো জানি না! কারণ এটা অন্তত শিওর যে একা একা বসে নাটকটা দেখতে গেলে আমি কোনোভাবেই নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবো না … ওরিয়ানা ফালাচ্চির এই গল্পের প্রতিটা লাইন একটা সময় নিজেই আওড়াতাম … নিজেও একটা ডাইরি লেখা শুরু করেছিলাম, ওইসময়টায় … নিজের কথা লিখতাম, সোহেলের কথা লিখতাম, নিজের অনুতাপ, ঘৃণা, ক্ষোভ, কষ্ট সবকিছুই লিখতাম ওখানে … পরে আবার একসময় ডাইরির পাতাগুলো ছিঁড়েও ফেলেছি … জানি না কি হবে কালকে … সরাসরি নিজেকে একটা যুদ্ধক্ষেত্রে একেবারে কামানের গোলার সামনেই যেন দাঁড় করিয়ে দিচ্ছি … ভেঙ্গে পড়ার দিকে আরেক ধাপ এগিয়েই যাবো হয়তো কেবল …

আর কিছু লিখবো না আজকে … বছর শেষ নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত না আমি … আশেপাশে মানুষজন বারোটা বাজার সাথে সাথেই খুব আতশবাজি, পটকা ফুটালো … আমার পর্দা সরিয়ে দেখতেও ইচ্ছা করলো না … আমাদের ছাদেও মনে হয় কেউ কেউ উঠেছিলো … চাইলেই ছাদে যাওয়া যেতো … সেটাও করলাম না … এইসব এখন আর আমাকে কেন জানি টানে না … জীবন চলে যাচ্ছে টেনে-হিচড়ে … বছর আসলেই কি, আর গেলেই কি! এভরিথিং উইল বি দ্য সেম … দ্য সেম ওল্ড স্যাড স্টোরিজ …  

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s