দিনযাপন । ০৩০১২০১৭

পরশুদিন দিনযাপন লিখতে বসে ঘাড়ের রগে টান পড়ার কথা লিখেছিলাম … গতকালকে ভোররাত থেকেই সেই রগে টান পড়া ঘাড় পুরাই লক হয়ে গেলো একদিকে … ডানদিকে তা-ও একটু ঘাড় ঘোরাতে পারছিলাম, বাম দিকে একদমই না … ঘুমের সময় আমি বাম কাত হয়ে শুয়েছিলাম, সম্ভবত সে কারণেই অবস্থার এই শোচনীয় পরিণতি হয়েছে … তো ভোরবেলা যখন মা উঠলো তখন থেকে মুভ স্প্রে, ভিক্স মালিশ এইসব শুরু হলো … তাতে করে অসহ্য ব্যথাটা একটু কমলো, কিছুটা আরাম করে শুতেও পারলাম … অনেকটা কষ্ট করেই সকালে ১১টা পর্যন্ত একটা ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে থাকলাম … ব্যথার কারণেই মনে হয় পুরোপুরি ঘুম আসলো না … তো ১১টার দিকে উঠে নাস্তা করে নাপা খেলাম দুইটা … তারপর একটা পাতলা ফোমের কুশনে কিছুক্ষণ মাথা রেখে আবার একটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা পার করে মনে হলো যে কিছুটা উন্নতি হয়েছে ঘাড়ের ফ্রোজেন অবস্থার … গোসল করলাম গরম পানি দিয়ে, তাতে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসলো ঘাড়ের অবস্থা …

যেহেতু জন্মদিন, তাই সকাল থেকেই ফেসবুকে, মোবাইলে সারাদিনই বিভিন্ন উইশ আসতেই থাকলো … ফেসবুকের ওয়াল অনেকদিন ধরেই ক্লোজ করা, ফলে যারাই উইশ করলো তাদের ইনবক্সে মেসেজ করতে হলো … এর মধ্যে তৃষা ফোন দিলো, দেখা করবো কি না … এটা-ওটা আলাপ করে পরে ঠিক হলো যে বিকালে বের হবো … মিরপুর ২ নাম্বারের মাথায় পিৎজা ইন-এর একটা আউটলেট খুলেছে, ওইখানে বসে দুইজনে কতক্ষণ গল্প-গুজব করলাম, তারপর আড়ং-এ ঘুরলাম, তারপর তৃষা আবার আড়ং-এর নিচেই একটা সুপার শপ আছে, জি-মার্ট, ওখান থেকে কিছু কেনাকাটা করলো … এর মধ্যে যোহা ভাই-ও চলে আসলো … তিনজনে রাস্তায় মোড়ে দাঁড়ায় চা খেতে খেতে আবার গল্প করা হলো কিছুক্ষণ … মোটের ওপর একটা ভালো সময়ই কেটে গেলো …

আজকে সারাদিন বেশ একটা ব্যস্ত দিন কাটলো … সকালে স্কুলে গেলাম … কাশফিয়া আপু, আমার আর তাসলিমা আপার আগে থেকেই প্ল্যান ছিলো যে আমরা আজকে স্কুলে যাবো, খাতায় ‘এন্ড অভ ফার্স্ট টার্ম’ সিল দিবো, ফাইনাল টার্ম লিখবো … এই কাজগুলো ১৪ তারিখে গিয়ে করতে গেলে অনেক হুড়োহুড়ি লেগে যাবে … তখন এমনিতেই সবাই মিলে সিল নিয়ে টানাটানি পড়বে, আবার অন্যান্য কাজও থাকবে … তো আজকে গিয়ে কিছু কাজ আগিয়ে রাখলাম, আবার হয়তো পরশুদিন যাবো …

15390696_954603658008804_6382375631151772012_n

স্কুল থেকে বের হয়ে আমি আর কাশফিয়া আপু কতক্ষণ ২৭ নাম্বারে গিয়ে ক্রিমসন কাপ-এ বসে কথাবার্তা বললাম … এর মধ্যে আবার ভূমিকম্পও হইলো … আমরা কেউই টের পাই নাই … কাশফিয়া আপুর ফোন আসলো, তখন উনি শুনলেন যে ভূমিকম্প নাকি হইসে! … তাও নাকি আবার কাপাকাপি টাইপের ভূমিকম্প ! … পরে দেখলাম যে ইন্ডিয়াতে ত্রিপুরার আম্বাসা নামের কোনো একটা জায়গায় সেন্টার ছিলো … সেকারণেই ঝাঁকির ইফেক্টটা বেশি ছিলো … সিলেটের নাকি বেশ খারাপ অবস্থা … একদম কাছেই তো! …

গতবছরও ৩ জানুয়ারি রাতে, না ৪ জানুয়ারি রাতে ভূমিকম্প হয়েছিলো … ঐটাও ইন্ডিয়াতেই সেন্টার ছিলো … বেশ কাঁপাকাঁপি টাইপের ভূমিকম্প … গতকাল্কেই রাতের বেলা ভাবছিলাম যে আবার যদি ওইরকম ভূমিকম্প হয় … আমি আবার ব্যাগটাও কালকে মাথার কাছে নিয়েই ঘুমিয়েছি যে যদি রাস্তায় নামতেই হয় তাইলে যাতে এবার প্রস্তুত হয়েই নামতে পারি! তো ভূমিকম্প ঠিকই হলো আজকে দুপুরে!

যাই হোক, ক্রিমসন কাপ থেকে বের হয়ে ফৌজিয়া আপার বাসায় গেলাম। উনি অসুস্থ। ঠাণ্ডা লেগেছে, ব্রঙ্কাইটিস সম্ভবতঃ … তো ফৌজিয়া আপার সাথে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডাবাজি হলো। পৌনে ৬টার দিকে বের হলাম। এদিকে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার আলিয়াস ফ্রঁসেস-এ যেতে হবে। আরেকটু হলে বাসাতেই চলে আসতাম … হঠাৎ মনে পড়ে গেলো যে ওখানে তো যাওয়া লাগবে। তো গেলাম। গিয়ে শুনি অ্যাডমিশন নাকি অলরেডি ক্লোজড। অথচ আমরা তো রেজাল্ট-ই জানলাম গতকাল। তো এগুলা বলে টলে অনেক কিছু বোঝানোর পর অ্যাডমিশন নিলো। পরশুর মধ্যে টাকা জমা দিতে হবে। সম্ভবত এই শুক্রবার থেকেই ক্লাস শুরু। পরীক্ষার রেজাল্টটাও এই ফাঁকে বলে রাখি। ৮৪% নাম্বার পেয়েছি। সেকন্ড হায়েস্ট। ইন ফ্যাক্ট, হায়েস্ট পেয়েছে যে নাজিফা, ও তো আগেও ওর ভার্সিটিতে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের কোর্স করেছে, কানাডাতেও ছিলো বেশ অনেকদিন, ফলে ওর জন্য এইগুলা অনেক সহজই ছিলো … তো সেভাবে দেখলে বিগিনারদের মধ্যে আমিই হায়েস্ট।

এইসব হায়েস্ট পাওয়া, ভালো রেজাল্ট করা বিষয়গুলো এখন আর জীবনের প্রতি উপহাস ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। এমন না যে এই ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজে আমি খুব আহামরি পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিয়েছি, অথচ প্রায় বিনা কষ্টেই আমি ৮৪% মার্কস পেয়ে বসে আছি। এইটার মানে আসলে কি? অন্যেরা এতই খারাপ যে আমার চেয়ে ভালো করতে পারে নাই? নাকি আমি এতই এক্সট্রাঅর্ডিনারি মেধাবী যে যেখানেই যাবো হেসে-খেলে পরীক্ষা দিলেও ফার্স্ট-সেকন্ড টাইপ হয়ে যাবো! … পুরাই উপহাস এগুলা …

যাই হোক, পরশুদিন স্কুলের দিকে যাবো আবার। তখন টাকাও দিয়ে আসতে হবে ফ্রেঞ্চ কোর্সের। নায়ীমী নাকি কালকে ভর্তি হতে যেতে পারবে না, কি প্রোগ্রাম আছে ফ্যামিলির। এখন পরশু যদি দুপুরে একদম অফিস খোলার সময় গিয়ে ভর্তি হয়ে টাকা জমা দিতে পারে তো ভালো। নইলে তো আমি আবার একা হয়ে যাবো! …

বাই দ্য ওয়ে, এই দিনযাপন লিখতে লিখতেই আরেক দফা ভূমিকম্প হয়ে গেলো … ১২টা ৫৪ বাজে মনে হয় তখন … এবারেরটার সোর্স মায়ানমার … কেমন জানি একটা ঝাঁকুনির মতো লাগলো হঠাৎ … বোঝার চেষ্টা করলাম আসলেই কি একটা ওয়েভের মতো কিছু যাচ্ছে, নাকি আমার কাছে মনে হচ্ছে? … পরে দেখলাম যে আসলেই ভূমিকম্প হয়েছে … দুপুরেরটার রিখটার স্কেল আর এইবারেরটাও প্রায় একই … ৫ এর ওপরে! … রাতে আবার অন্য কোথাও ভূমিকম্প হয় কি না কে জানে! …

যাই হোক   … আজকে আর লিখবো না … একটা বিষয় নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম … কিন্তু সেটা অনেকটা সময় নিয়ে নেবে … আর আমার এখন খুব ঘুম পাচ্ছে … গতকালকে সারারাত ঘুম হয়নি … আজকেও সারাদিন বাইরে বাইরেই থেকেছি … ফলে এখন মনে হচ্ছে না ঘুমালে মরেই যাবো …

আজকের মতো অফ যাই তাইলে … একটা ছোটো-খাটো বোম ফুটতো হয়তো আজকে … কিন্তু সেটা না হয় একটুর জন্য পিছিয়ে গেলো … এখন ঘুমাতে যাই … কালকে দেখা যাবে না হয় কীভাবে বোমাটা ফোটানো যায় …  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s