দিনযাপন । ০৬০১২০১৭

গতকালকে অনেকদিন পরে রাতে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠলাম … অনেককিছু দেখছিলাম ছাড়াছাড়া ভাবে … কোথাও একটা গেছি … সাথে স্কুলের কলিগরা … তার মধ্যে আবার নুসরাত আপু, কাশফিয়া আপু আর আরিফিন স্যারকে রিকগনাইজ করতে পারলাম … আরিফিন স্যার আবার প্রথম থেকে ছিলোও না … দেখছিলাম জ্বর জ্বর লাগছে, তখন বলা নেই কওয়া নেই আরিফিন স্যার এসে কপালে হাত রেখে জ্বর আছে কি না দেখে চলে গেলো … নুসরাত আপুর মেয়ে সাথে ছিলো বলে দেখছিলাম, কিন্তু স্বপ্নে সে আরো ছোটো ছিলো … তো দেখলাম যে বাইরে খেলতে খেলতে হঠাৎ একটা প্যারালাল ইউনিভার্সের অদৃশ্য লেয়ার ক্রস করে ফেলেছ সে … আমরা ওকে দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু ও আমাদের দেখছে না, আবার ও যখন আমাদের দেখছে আমরা ওকে দেখছি না টাইপ ব্যাপার স্যাপার … এর মধ্যেই পুরা স্বপ্নের দৃশ্যপট পাল্টে গেলো … আমি রাতের বেলা কোনো এক জায়গায় চলে এলাম, যেখানে গ্রুপের কয়েকজনের সাথে আমার খেতে যাওয়ার কথা বা এরকম কিছু … তো আমি দেখলাম যে ওদের আগেই পৌঁছে গেছি। তখন আমি ভাবলাম যে ওরা আসতে আসতে আমি কাছেই আরেকটা কাজ সেরে আসি। এদিকে আমি ওখানে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই ওরা জানালো যে পৌঁছে গেছে। তো আমি আবার আরেকটা রিকশা নিয়ে ওদের কাছেই রওয়ানা দিলাম … রিকশায় ওঠার পর থেকেই দেখি রিকশা খুব জোরে টানছে … প্রথমে আমি কিছু বললাম না, ভাবলাম যে তাড়াতাড়ি টেনে যেতে পারলে তো ভালোই, তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবো। এদিকে রিকশার গতি বাড়তেই থাকলো, আর তখন আমার একটু একটু ভয় ভয় লাগতে শুরু করলো …আমি রিকশাকে থেমে যেতে বললাম … ভাবলাম যে বাকি যেটুকু পথ আছে আমি হেঁটেই চলে যাবো, তবু এই রিকশায় যাওয়ার দরকার নাই … রিকশাওয়ালা যেন আমার কথা শুনতেই পেলো না … এর মধ্যেই দেখলাম গ্রুপের ওরাও দাঁড়িয়ে আছে … আমি ক্রমাগত থামেন থামেন বলেই যাচ্ছি আর রিকশাওয়ালা স্পিড বাড়িয়েই যাচ্ছে … আমি প্রচণ্ড আতঙ্কে থামেন থামেন বলে চিৎকার করতেই থাকলাম … এর মধ্যেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো … আবিষ্কার করলাম যে আমি ঘুমের মধ্যেই জোরে জোরে থামেন থামেন বলে চিৎকার করছিলাম … বোবায় ধরা বলে যাকে … হাত-পা কেমন অবশ হয়ে ছিলো … বেশ কিছুক্ষণ লাগলো আমার স্বাভাবিক হতে … 

কেমন জানি হয়ে আছি! … বাসায় থাকা সময়গুলো অসহ্য লাগছে … আবার বাইরে বের হবার মতো উপযুক্ত কাজও নাই … শুধু গ্রুপে যাওয়ার জন্য বের হওয়াটাও একটা হ্যাসেল … এদিকে রাত হয়ে গেলে ফেরাটাও এখন একটা ইস্যু … তার মধ্যে গত দুই-তিন যাবৎ মা আবার অসুস্থ … ক্রমাগত বমি করে যাচ্ছে, যা খাচ্ছে তাই-ই বমি হয়ে যাচ্ছে, বিছানা থেকেই উঠতে পারছে না … একারণে মোটামুটি বাসাতেই থাকছি, কারণ যেহেতু সে ডাক্তার দেখানোর ব্যাপারে,এমনকি ডাক্তারের কনসালটেশন নিতেও বেশ রিলাকটেন্ট অবস্থা তার অবনতিই হচ্ছে … এদিকে আবার লালামও এসে সময় দিতে পারছে না বাসায় … ফলে এই চিন্তা করে বাসায় থাকতে হচ্ছে যে এখন যদি আবার তাকে হাসপাতাল নিতে হয় তাইলে আব্বু একা কাকে খোঁজ খবর দেবে? … এইটাও একটা মানসিক চাপের বিষয় …

গতকালকে স্কুলে গিয়েছিলাম অবশ্য সকালবেলা … খাতায় সিল মেরে, ফাইনাল টার্ম লিখে রেখে আসলাম … আমি আর কাশফিয়া আপু … কালকে আবার তিন্নি আপুর সাথে একটা প্ল্যান হচ্ছিলো যে বিকালে সিনেমা দেখতে যাবো … ‘সিং’ নামে একটা অ্যানিমেশন মুভি আসছে, সেইটা …তিন্নি আপু সন্ধ্যার শো-এর কথা সাজেস্ট করেছিলো, কিন্তু সন্ধ্যায় সাড়ে সাতটার শো দেখে বের হতে হতে রাত ৯টা … সেই সময়টায় বাসায় যাবার জন্য বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকে সিএনজি পাওয়াটা একটা ক্যাচাল হয়ে যায় … আর আমার আবার একটা মৃদু ইচ্ছাও ছিলো যে কালকে গ্রুপের দিকে যাবো সিনেমা শেষ করে … কালকে আবার গ্রুপে একটা সাউন্ড অ্যান্ড মিউজিক ওয়ার্কশপ ছিলো … নিউজিল্যান্ড থেকে এক মিউজিশিয়ান এসেছে, উনি করিয়েছেন … তো স্কুল থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্যাংকে গিয়ে আলিয়াস ফ্রসেস-এর টাকা জমা দিলাম … তারপর বসুন্ধরা সিটি গিয়ে তিন্নি আপুকে ফোন করলাম যে টিকিট কি দুইজনেরটাই কাটবো নাকি আর কেউ আসবে … মানে প্ল্যান ছিলো এরকম আর কি যে আমি গিয়ে টিকিট কাটবো, আর তিন্নি আপু অফিস থেকে আসবে … তো তিন্নি আপু তখন জানালো যে সে নাকি একটু আগেই জানতে পেরেছে যে তাকে ইউনিভার্সিটি যেতে হবে কোনো একটা মিটিং অ্যাটেন্ড করতে, তো সেখান থেকে আসতে আসতে তার দেরি হয়ে যাবে। সো, এক হতে পারে আমি ৪ঃ২০ এর শো-এর টিকিট কেটে ঢুকে যেতে পারি, আর সে ইন্টারভালের পরে এসে জয়েন করবে … আর নইলে সন্ধ্যার শো দেখতে পারি … আমার খুব মেজাজ খারাপ লাগলো … তিন্নি আপুর এই পিছলা স্বভাবটা মাঝে মাঝে এত বিরক্তিকর হয়ে যায়! … এমনিতেই যে আমি আড়াইটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত সময় একাই ঘুরবো বসুন্ধরা সিটিতে সেই আইডিয়াটাই আমার পছন্দ হচ্ছিলো না … আর যদি সন্ধ্যার শো দেখতেই হয়, তাইলেই বা আমি অতক্ষ্ণ কি করবো? সিনেমা দেখার প্ল্যান ক্যান্সেল করে আমি কতক্ষণ মোস্তফা মার্টে ঘুরে এটা ওটা জিনিস কিনে বের হয়ে গেলাম … সিএনজি পাওয়ার জন্য আগাতে আগাতে পান্থপথের দিকে আসলাম … অ্যাডভেঞ্চার শপ খোলা পেয়ে সেখানে ঢুকে দুই হাজার টাকা দিয়ে একটা ব্যাগ কিনে ফেললাম … তারপর দেখলাম যে ওইটুকু সময় মেজাজ খারাপ হবার কারণে প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে … পরে বাসার দিকেই চলে আসলাম … গ্রুপেও আর যাওয়া হলো না …

আজকেও সারাদিনই বাসায় …

12195884_1650757758497248_202832534155953672_n

গতকালকে রাত থেকেই খুব মন-মেজাজ খারাপ করে কান্নাকাটি করছি … কেন যে করছি জানি না … হঠাৎ হঠাৎ -ই আমার হতাশা-বিষাদ সবকিছু উগড়ে উঠে … আর এর মধ্যে আবার গত কয়েকদিন ধরেই সোহেল সংক্রান্ত ঘটনাগুলো নিয়ে এত কথাবার্তা হচ্ছে এর তার সাথে যে মাথার ভেতর সেগুলোই আরো স্পষ্ট হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে … সোহেলের যেই বড়ভাই ডক্টর আনোয়ারার খোঁজ দিয়েছিলো সেই বড়ভাইকে এতদিন পর্যন্তও ফেসবুক থেকে রিমুভ করা হয়নাই … কেন জানি খালি মনে হইতো উনাকে একদিন ইচ্ছামতো সব বলবো … না জেনেই উনি কি অবস্থায় এনে ফেলেছেন আমার জীবনকে সেই কথাগুলো বলবো … তো সেটা আমার কখনোই করা হয় নাই … জন্মদিনের দিন দেখলাম উনি উইশ করেছেন … খুব হাস্যকর লাগলো ব্যাপারটা … আমাকে উনি চিনতেন না … আমিই যে সোহেলের সেই বান্ধবী ( বা সোহেল আসলে কি বলে আমার পরিচয় দিয়েছিলো জানি না) সেটা তো আর উনি জানতেন না … কিন্তু আমার মনে হলো এটাই একটা সুযোগ হতে পারে উনাকে সবকিছু বলার … তো বললাম … উনিও আবার প্রত্যুত্তরে অনেক কথাবার্তা বললেন … দেখাও করতে চাইলেন … কিন্তু আমি দেখা করে বিষয়টাকে বেশি মাখাতে চাইলাম না … এক পর্যায়ে বলেও দিলাম যে আমি আর এই ব্যাপারে উনার সাথে কোনো কথা বলতেও চাই না … তারপর আর উনার সাথে কোনো কথা হয়নাই, কিন্তু মাথায় তো কথাগুলোও ক্রমাগত ঘুরছে … আর বেশিরভাগ সময় বাসায় বসে আছি বলেই হয়তো মাথা থেকে খুব সহজে চিন্তাগুলো বেরও হচ্ছে না … কালকে খুব মন খারাপ করে ফেসবুকে লিখেছিলাম মরে-টরে যেতে চাই এইসব কথা … তো একজন নক করলো, জানতে চাইলো কেন আমার ইদানীং এত মন খারাপ থাকে … আমারও মনে হচ্ছিলো কারো সাথে কথা বলতে পারাটা হয়তো মনকে হাল্কাই করবে … তো আমিও আস্তে আস্তে তার সাথে এইসব যাবতীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম …

বিষণ্ণতা যেন সবকিছু মিলিয়ে একদম রক্তের সাথেই মিশে গেছে … একদমই কিছুই করতে ভালো লাগে না টাইপের বিষণ্ণতা … মাঝে মাঝে তো এমনও হয় যে রাহাতের সাথে কথা বলি, নয়তো আরিফিন স্যারকে নক করে হুদাই ফাজলামি করি, তাতে যেটা হয় অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে বলতে মন থেকে এই প্রসঙ্গগুলো একটু হলেও দূর হয়ে যায় … কিন্তু সেটাও করতে ইচ্ছা করছে না দুইদিন হলো … না রাহাতকে নক করেছি, না আরিফিন স্যারকে … মাঝে মাঝে ইউ টিউবে গান শুনি, ভিডিও দেখি, কিন্তু সেটাও করতে ইচ্ছা করছে না… মুনির ভাইয়ের অনুবাদের কাজ নিয়ে প্রতিদিন বসছি, কিন্তু দুই/তিন প্যারা কাজ করার পরেই মনোযোগ ছুটে যাচ্ছে … ফরহাদ ভাই উনার কাজের আপডেট চেয়েছিলেন, বলেছিলেন যে একদিন বসবো কি না উনার সাথে … উনার কাজটা নিয়ে আমার বসাই হয় না … ওইটাও এইসব বাচ্চা-কাচ্চা হাবিজাবি নিয়ে কাহিনী, কাজটা করতে গিয়ে আরো মন মেজাজ খারাপ হবে চিন্তা করে আর কাজটা নিয়ে ভাবিই না … স্কুলের কাজও কিছু ধরি নাই … এক মাসের অ্যাডভান্স কাজ! কি ছাতার কাজটাই করবো, আর কি ফিডব্যাকটাই বা পাবো? … ঘুম থেকে অনেক দেরই করে উঠি, তারপর সারাদিন উদ্দেশ্যহীন ভাবে বসেই থাকি, আর এইসব হতাশা-বিষাদের চিন্তা করি …

কালকে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের ক্লাস আছে … কালকে তাও কিছুটা সময় বেশ ভালোই কেটে যাবে … পরশু থেকে আবার কি করবো জানি না …

আজকে বেশ শীত পড়েছে মনে হচ্ছে … বেশ ঠান্ডা লাগছে … হাত-পাও কেমন ঠান্ডা হয়ে আছে … নাকি জ্বরই আসছে কে জানে! … মনে হচ্ছে খুব ভারি ভারি জামাকাপড় গায়ে দিয়ে শুয়ে থাকি …

আজকে ফেসবুকে অনিকের ছোটো ভাইয়ের প্রোফাইলে দেখলাম অনিকের বিয়ে … আজকেই হলো বোধহয় … কাকে বিয়ে করছে কে জানে! … কিন্তু ও এভাবে পাঞ্জাবি-টুপি পরে টিপিক্যাল সোস্যাল বিয়িং-এর মতো বিয়ে করছে এই দৃশ্যটা অন্তত আমি যেই অনিক-কে চিনতাম তার জন্য বেমানান … হয়তো অনিক আর সেই আগের স্বপ্নবিলাসী অনিক নাই, এখন হয়তো ও- ও  আর দশটা সাধারণ স্বাভাবিক ছেলের মতোই হয়ে গেছে … কিংবা, আসলে হয়তো এরা সবাই ভেতরে ভেতরে এরকমই হয়, বাইরের স্বপ্নবিলাসী সত্তাটাকে প্রয়োজনের সময় খুলে রেখে দেয়! … অথচ এই অনিকের সাথে বন্ধুত্বের খাতিরেই আমি জীবনকে অনেক অন্যভাবে দেখা শিখেছি, নিজের ভেতরের সৃষ্টিশীলতাগুলোকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি … কে জানে! হয়তো একটু বেশিই সিরিয়াস ছিলাম … ভেবেছিলাম যে এইটাই একজন মানুষের ভেতর-বাহির হবে … ভেতরে যে টিপিক্যাল সত্তাটাকেও প্রয়োজনের জন্য তুলে রাখতে হবে সেটাই হয়তো বুঝিই নাই! … আমার খুব ইচ্ছা করছিলো অনিককে একটা মেসেজ পাঠাই … ওর বিয়ের ব্যাপারে ওকে জিজ্ঞেস করি … কিন্তু পরে মনে হলো যে কেন সেটা করবো? … পরে দেখলাম ইচ্ছাটাও চলে গেছে …

মাঝে মাঝেই মনে হয়, কবে জানি কোথাও না কোথাও, কারো না কারো প্রোফাইল মারফৎ দেখবো যে সোহেলও বেশ হাসিমুখে বিয়ে করছে … মুগ্ধ, হিমেল, পূর্ণা, রূপা, মানসুরা … পাঠশালা সার্কেলের প্রায় সবাইকেই রিমুভ করে দিয়েছি অনেক আগেই … কারোরই হোয়্যারঅ্যাবাউটস জানার আগ্রহ হয় না… সোহেলের সাথে যাদেরই নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ হয় কারোরই  না … কি জানি! হয়তো সোহেল বিয়ে করে ফেললেও সেটা আমি ততক্ষ্ণাৎ জানবো না …

যাই হোক, আর লিখবো না আজকে … বেশ ক্ষুধা পেয়েছে … খাওয়া-দাওয়া করে নেই … ঘুম কতক্ষ্ণে আসবে জানি না … শুয়ে থাকবো … শুয়ে শুয়ে হয়তো সিলিঙয়ের দিকে তাকিয়ে থাকবো … রাতে ঘুমের মধ্যে একসময় আমার নিয়মিত স্লিপ প্যারালাইজের ঘটনা ঘটতো … সেসময়টাতেও আমি অনেক বিষণ্ণ ছিলাম … এখনো বিষয়টা নিয়মিতই শুরু হয় নাকি কে জানে! …

কাউকে পাশে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর ইচ্ছাটা ইদানীং খুব প্রবল হয়ে উঠছে … ঘুম ভেঙ্গে পাশে একগাদা বালিশের স্তুপ দেখতে আর ভালো লাগে না … রক্তমাংসের মানুষ দেখতে ইচ্ছা করে …

কিন্তু সেটার অধিকারও বোধহয় আমি হারিয়েছি নিজের দোষেই …   

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s