দিনযাপন । ০৮০১২০১৭

আজকে বেলা ১২টা সময় বিছানা থেকে উঠবার পরেও এক হিসেবে দিনটা সফল যে আজকে অনুবাদের কাজের পেছনে অনেকটুকু সময় দিয়েছি। বলা যায় যে আজকে সারাদিনে যেটুকু সময় কাজ করেছি তা ওই অনুবাদ নিয়েই। একটা চ্যাপ্টারের মোটামুটি ৮০ ভাগ কাজ শেষ করে ফেলেছি। কালকে সারাদিনে ওইটা নিয়ে কাজ করলে হয়তো পুরোটাই শেষ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ৫টা চ্যাপ্টারের একটা তো মুনির ভাইকে দিয়েই দিয়েছি, একটা চ্যাপ্টার অলরেডি শেষ, কিন্তু আব্বুকে দেখার জন্য প্রিন্ট করে দেয়া হচ্ছে না। কালকে যদি আরেকটা চ্যাপ্টার শেষ হয় তাহলে আগামী শুক্রবার ফ্রেঞ্চ ক্লাসে যখন যাবো তখন দুইটা চ্যাপ্টারই একসাথে প্রিন্ট করে নেয়া যাবে। আর দুইটা চ্যাপ্টারই হাফ ডান অবস্থায় আছে … এই জানুয়ারি মাস পুরোটাই খুব লেগে থেকে কাজ করলে আশা করি বইয়ের বেসিক অনুবাদের কাজ শেষ করে ফেলতে পারবো … তারপর আব্বু দেখে দিতে যতটুকু সময় নেয় …

যে কোনো কারণেই মুনির ভাই আমার ওপর হাল ছেড়ে দেয় না … সেই ২০১৪ সালের জুন জুলাই মাসের দিকে উনি আমাকে বইটা দিয়েছিলেন … আর আমিও লেখকের অর্ধেক কথাই প্রথমবার পড়ে বুঝতে পারছিলাম না বলে কেমন আত্মবিশ্বাসের ওভাবে কাজটাও আগাতে পারছিলাম না … একবার নিজের মধ্যে কোনো কাজ নিয়ে আত্মবিশ্বাস আর ভালোলাগা তৈরি হয়ে গেলে যেমন ওই কাজটা নিয়েই দিনরাত পড়ে থাকি, এই বইটার ক্ষেত্রে তেমনটা মোটেই হচ্ছিলো না। গত বছর যখন আবার অনেকদিন পরে বইটা নিয়ে কাজ করতে বসেছি, তখন আবার কেমন মনে হতে লাগলো যে একটু একটু যেন ধরতে পারছি লেখকের কথা … উনি একটু বেশিই পেঁচিয়ে লিখেছেন এই যা … কিন্তু কিছু বাক্য আবার এতই জটিল হয়ে গেছে যে একটা একটা করে বাক্যাংশ অনুবাদ করে তারপর সেটাকে জোড়া লাগিয়ে বুঝতে হয় যে উনি আসলে কি বলতে চাইলেন … তো প্রথম চ্যাপ্টারটা বেশ উৎসাহের সাথে অনুবাদ করে শেষ করেছি। কয়েকজনকে পড়তে দিয়ে ফিডব্যাকও নিয়েছি। কিন্তু তারপরে আবার যখন আব্বুকে দিলাম দেখে দেয়ার জন্য, আব্বু অনেক অনেক জায়গায় পুরো বাক্যই কেটে নতুন করে লিখে দিলো … আবার দমে গেলাম … তাইলে কি আমি কিছুই বুঝলাম না? … কয়েকদিন পরে আবার আব্বুর কারেকশনগুলা পড়তে গিয়ে মনে হলো যে আব্বু আসলে অনুবাদ ভুল হয়েছে বলে কাটে নাই, বাক্যের গঠনবিন্যাস চেঞ্জ করেছে বেশিরভাগ জায়গায়। আবারো একটু উৎসাহ পেলাম … তারপর থেকেই আসলে সিরিয়াসলি কাজ শুরু করেছি। মাঝখানে স্কুলের কাজের চাপ, ভার্সিটির প্রেশার সব মিলিয়ে বসাই হয় নাই … এই ছুটিটাকেই এখন কাজে লাগানোর মোক্ষম সুযোগ হিসেবে নিচ্ছি … অন্তত ১২ তারিখ পর্যন্ত তো আমি স্কুলের কোনো কাজ ধরবো না … ওয়ার্কশিট, লেসন প্ল্যান, এক মাসের অ্যাডভান্স কাজ যা-ই করার ১২/১৩ এই দুইদিনে বসে করবো … সো, এর আগ পর্যন্ত যতটুকু পারা যায় এই বইয়ের কাজটা শেষ করি …

আজকে একটা জিনিস খেয়াল করলাম … হাতে লিখে আমার কাজ যতটুকু আগায়, কম্পিউটারে টাইপ করতে গেলে তার অর্ধেকও ওই সময়ের মধ্যে আগায় না! … আজকে ঘুম থেকে উঠে যখন কাজ করতে বসেছি, দেড় ঘণ্টার মধ্যেই আমি হাতে লিখে দুইপাতার একটা চ্যাপ্টার-এর বেসিক অনুবাদটা শেষ করে ফেলেছি, আর সেটা যদি টাইপ করে করতে যেতাম, তাহলে দেখা যেতো ৩/৪ প্যারা কাজ করার পরেই আর ধৈর্য্য কাজ করছে না। এই যে সন্ধ্যা সময় বসলাম ওই হাতে লেখা অনুবাদটাই ঘষে-মেজে ঠিকঠাক করতে করতে টাইপ করতে, সাড়ে সাতটার দিকে বসলাম, আর রাত ১০টা পর্যন্ত ওইটা নিয়েই গুতাগুতি করলাম … তাও আবার দেখে দেখেই টাইপ করছিলাম …

হাতে লেখার সময় কি মাথা বেশি কাজ করে? কি জানি! …

14915619_1788504744722548_2597978667321760620_n

ইদানীং ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখি খুব বেশি … কাহিনীর আগামাথা নাই টাইপের স্বপ্ন … স্বপ্ন দেখতে দেখতেই নিজেই অবাক হই যে এরকম কেন দেখছি! … যেমন আজকে দুপুরে ঘুমাচ্ছিলাম, তখন হাবিজাবি কি কি সব দেখছিলাম … ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নানু বাসার সেই পুরানো চেহারা, যখন আমি থাকতাম … ওইখানে আবার নোবেল ভাই, আলামিন ভাই, সুমন ভাই এদের দেখলাম … আবার আরেকবার দেখলাম কই জানি শ্যুটিং-এ গেছি ওদের সাথেই … সুমন ভাই আবার কি কথায় কাকে জানি বলছিলো যে ‘প্রজ্ঞা এরকমই … নিজের কোনোকিছু শেয়ার করতে চায় না … বুঝে না যে শেয়ার করলে আমরাও হেল্প করতে পারি … ‘ এর মধ্যেই আবার দেখছিলাম যে একটা কাক প্রতিদিন কাগজে লিখে লিখে কি কি মেসেজ পাঠায়, ক্ষুধা লাগলে খাবার চায় … আমাদের স্কুলে টিচার্স রুমে প্রায় প্রতিদিনই সকালে একটা কাক এসে কা-কা করে, জিনাত আপা, ফৌজিয়া আপা আবার তাকে খাবার দেয়, তার সাথে কথা বলে, সম্ভবত সেটার রেফারেন্সেই এমনটা দেখছিলাম … তো আমিও কাগজে লিখে লিখে কাকের মেসেজের জবাব দেই … একপর্যায়ে দেখি কাকটাই মানুষের মতো কথা বলে! … আমি আবার ভাবছিলাম যে এইটা কি ফেয়ারি টেল-এর গল্পের মতো নাকি যে এইটা আসলে মানুষ, কাক হয়ে গেছে ডাইনির জাদুমন্ত্রে! … এর মধ্যেই দেখলাম বিবি আসছে … যেই বাসাটা দেখছিলাম, সেটাও আবার কোনো পরিচিত ইন্টেরিওর না! … বেশ বড়সড় পুরানো দিনের বাসা টাইপ … কিন্তু কখনো এরকম কোনো বাসায় গিয়েছি বলে মনে করতে পারলাম না … যাই হোক, দেখলাম যে বিবি আসছে, বেশ টেন্সড … আব্বুকে বলতে লাগলো যে সে নাকি ঘুমের ঘোরে কি স্বপ্ন দেখছিলো যে তাকে কে মারতে আসছে, আর সেই মুহুর্তেই কে নাকি তাকে ডাকতে আসছে, আর আধো ঘুমে তাকে দেখে বিবি ভেবেছে সত্যি সত্যি তাকে বুঝি মারতে এসেছে, আর সে নাকি এমন জোরে ধাক্কা মেরেছে যে দেয়ালে বাড়ি খেয়ে মেয়েটার শরীর থেকে নাকি মাথাই আলাদা হয়ে গেছে! … আব্বু আবার জিজ্ঞেস করছে যে ‘মরে গেছে কি না কীভাবে শিওর হলেন!’ … বিবি আবার বলছে যে ‘আরে জিহ্বা বের হয়ে গেছে তো … ‘ কি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখছি ভাবতে ভাবতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো মনে হয় …

গতকালকে রাতেও কি কি জানি দেখছিলাম … এইটুকু মনে আছে যে একপর্যায়ে শুয়ে ছিলাম, পাশে এসে একজন শুলো … কে শুয়েছে সেটা আর দিনযাপনে লিখবো না … এইটুকু না হয় নিজের জন্যই রাখি … ঘুমের মধ্যেই তার হাতের সাথে আমার হাত লাগছিলো, আমি চট করে হাত সরিয়ে নিলাম … কারণ সোহেল এগজাক্টলি এরকমই হাতে হাত ছোঁয়া লাগার অভিনয় করে আমার সাথে সবকিছুর শুরু করেছিলো … তো আমি স্বপ্নের মধ্যেও ভাবছিলাম যে যেই ছেলেটাকে দেখছিলাম সে কেন আমার পাশে শুয়ে আছে? তার সাথে কি আমার কোনো সম্পর্ক আছে? নাকি বলা নেই কওয়া নেই এসে খালি জায়গা পেয়ে শুয়ে গেছে? … এগুলা ভাবতে ভাবতেই ছেলেটা উঠে এসে আমাকে চুমু খেলো … কি হলো, কেনই বা এমন হচ্ছে ভাবতে ভাবতে আবার বোধহয় অন্য কিছু দেখতে শুরু করেছিলাম, নাকি ঘুম হাল্কা ভেঙ্গে গিয়েছিলো মনে নাই … পুরো স্বপ্নের মধ্যে এইটুকু অংশই মনে আছে … হয়তো বা এরকম একটা ঘটনা, কিংবা ঘটনার ব্যক্তিটার কারণে …

এই একই ব্যক্তিকে নিয়ে কয়েকদিন আগেও একটা রোম্যান্টিক ডেটিং-এ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছি! এইজন্যই মনের মধ্যে কেমন খচ্‌খচানি ভাব লাগছে … একজন ব্যক্তিকে নিয়েই কেন বার বার রোমান্টিক টাইপের স্বপ্ন দেখছি, সেটাও বেশ ভাবাচ্ছে … মানুষ হিসেবে সেই ব্যক্তি বেশ ভালো তাতে সন্দেহ নাই … কিন্তু না আমি তাকে নিয়ে কিছু ভাবি, না আমি আদৌ এখন কাউকে নিয়ে এরকম কিছু ভাববার মানসিক অবস্থায় আছি! … আর এরকম মানসিক অবস্থায় কাউকে নিয়ে একের পর এক এরকম স্বপ্ন দেখতে থাকাটা খুব অস্বস্তিকর … তার সাথে সামনাসামনি দেখা হলে কীভাবে এই স্বপ্ন দেখার বিষয়গুলো মাথা থেকে সরিয়ে রাখবো সেটাই ভাবছি …

যাই হোক, গতকালকে যেহেতু দিনযাপন লিখিনাই, গতকালকের কথাও একটু বলি … কালকে থেকে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের ক্লাস শুরু হলো … কালকে ফ্রেঞ্চ ক্লাসে যাওয়ার আগে ধানমন্ডি ১০/এ তে ‘শীত শীত লাগে’ বলে একটা মেলায় একটু ঘুরলাম … কাপড়-চোপড়, গয়নাগাটি, হ্যান্ডি-ক্রাফটস, আর্টপিস এইসব অনেককিছুর মেলা আর কি … তো ঘুরলাম, দেখলাম, একটা দুইটা জিনিস পছন্দ হলো, কিনলাম … ১১ তারিখ থেকে এইটার সেকন্ড সেশনে ভালো ভালো স্টল বসবে দেখলাম … মুনির ভাইদের নোকতা পাবলিকেশন্স-এরও স্টল বসবে … আমি ভেবেছিলাম গতকালকেই গিয়ে নোকতার স্টল পাবো … উনাদেরই অনুবাদের কাজ করছি, একবার ঢুঁ মেরে আসা তো নিজের দায়িত্বেই বর্তায়! … তো দেখলাম যে এইটা সেকন্ড সেশনে … ১১ তারিখ থেকে শুরু … তখন আরেকবার যাবো …

ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাসে এবার কোর্স টিচার একজন ফ্রেঞ্চ মহিলা, কাতেরিনা নাম। আমি এতে ব্যাপকই খুশি হলাম … একে তো উনাকে দেখেই মনে হলো যতই হাসিখুশি হোক, কাজের ক্ষেত্রে খুব স্ট্রিক্ট, তার ওপরে ফ্রেঞ্চ টিচারের কাছ থেকে শিখলে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজটা বুঝবোও ভালো … আর প্রধানত উনি যে বেশ স্ট্রিক্ট একারণেই আরো ভালো লাগলো … গত কোর্সের যে আনিকা মিস ছিলেন, উনি এমনিতে বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়াতেন, কিন্তু কোনোদিক দিয়েই স্ট্রিক্ট ছিলেন না, ফলে অনেককিছুই আসলে বেশ ছাড় দিয়ে যেতেন বাধ্য হয়ে … কালকে যেমন নাজিফা আর রাদ দেরি করে ক্লাসে ঢুকল, দেরি মানে বেশ ভালোই দেরি, ক্লাস শুরু হবারও প্রায় আধাঘন্টা-পয়তাল্লিশ মিনিট পরে এলো … তো টিচারের এক্সপ্রেশন দেখেই বোঝা গেলো যে উনি ব্যাপারটা মোটেই পছন্দ করেন নাই … এইসব টিচাররা মুখে কিছু বলেন না, কিন্তু এক্সপ্রেশনে অনেককিছু বুঝিয়ে দেন, আর সেকারণেই এদের আমার বেশ ভালো লাগে …

যাই হোক, আর কিছু লিখবো না আজকে … এমনিতেই অনেক রাত হয়েছে, ঘুম ঘুম লাগছে, তারওপর ল্যাপটপেরও চার্জ প্রায় শেষ … অলরেডি লো ব্যাটারি সিগন্যাল দিয়ে দিয়েছে …

অতএব, আজকের মতো শেষ করি …   

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s