দিনযাপন । ০৬০২২০১৭

অনেকদিন দিনযাপন লিখি না … নিজের কাছ থেকেই যেন নিজে পালিয়ে বেড়াচ্ছি … হতাশা আর বিষণ্ণতা দিনের পর দিন কেবল বেড়েই চলেছে … মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই … পাগলই হয়ে যাচ্ছি বোধহয় …

কিন্তু দিনযাপন লেখাটাই আমার জন্য ভালো … অন্তত দিনযাপনে কি লিখবো চিন্তা করেও আমি অনেকসময় অনেক আচরণ করি না, অনেক কথা বলি না … এই যে দিনযাপন না লিখে নিজের কাছ থেকে নিজে পালিয়ে বেড়াচ্ছি, তাতে করে অনেককিছুই কেমন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে … আচরণ, কথাবার্তা, চিন্তা-ভাবনা, কাজ-কর্ম … সবকিছুই …

মনের কথা মনের মধ্যে চেপে রাখতে গেলে সবকিছু কেমন জানি জট পাকিয়ে যায় …

দুইদিন ধরে খুব ডিভাস্টেটেড অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি … সবকিছু ভেঙ্গে-চুড়ে ফেলি টাইপ অবস্থা মনের … কেঁদেকেটে অস্থির হয়ে দিন কাটাচ্ছি … সোহেল-এর চেহারা দেখলেই কেন জানি সব ওলট-পালট হয়ে যায় … গতকালকে দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে কেন সোহেলের চেহারা দেখতে হলো এটা ভেবে যেমন নিয়ন্ত্রণহীন মেজাজ খারাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি … এদিকে সেই মেজাজ খারাপের আফটার ইফেক্ট হিসেবে আরিফিন স্যারের সাথে একটা যাচ্ছেতাই টাইপ আচরণ কেন করলাম সেটা নিয়ে প্রচণ্ড অপরাধবোধে ভুগছি! … কি যে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা!

ঘটনা কিন্তু সবমিলিয়ে খুব সিম্পল … কিন্তু কীভাবে কীভাবে সবকিছু যে প্রচণ্ড জটিল বানিয়ে ফেললাম তাই ভেবেই মেজাজ খারাপ, মন খারাপ, অস্থিরতা, হতাশা, বিষণ্ণতা, মানে যাবতীয় নেগেটিভ অনুভূতিগুলা বেড়েই চলছে … আর ফলাফলগুলো হচ্ছে ভয়ঙ্কর … একে তো আমার কাজে কোনো মনোযোগ নাই … তারওপর ক্রমাগত সেলফ-পানিশিং বিহেভিওর করেই যাচ্ছি … গতকালকে এন্টি-কাটার নিয়ে কাগজ কাটছিলাম, জিদের চোটে নিজের হাতেই কাটাকাটি করেছি! … একবার মনে হলো টেবিলের ওপর যে অ্যালাট্রলের পুরো একটা পাতা পড়ে আছে সেটা পুরোটাই একেবারে খালি করে দেই! … তারপর যা হয় হবে! … হয় প্রচণ্ড রকমের ঘুমাবো … আর নইলে, অ্যালাট্রল খেয়ে যদি কেউ মরেই, তো মরেই যাবো …

তবুও এই মেজাজ খারাপ অবস্থা আমার সহ্য হচ্ছে না …

16473717_1829218627317826_5501213504608203795_n

কাহিনী আসলে কি হয়েছে? গতকালকে স্কুল শেষে বের হবার পাঁয়তারা করছি, এমন সময় অ্যানুয়াল স্পোর্টস-এর জন্য মাঠ বরাদ্দের অ্যাপ্লিকেশন প্রিন্ট করা নিয়ে আরিফিন স্যার দৌড়াচ্ছে … তো মাদলেন আপা-কে উনি যখন ড্রাফট দেখাচ্ছেন তখন আমিও পাশে দাঁড়িয়ে অতি উৎসাহী হয়ে দেখতে গিয়ে কয়েকটা ভুল-ও পেয়ে গেলাম … তারপর নিজেই স্বভাবসুল্ভভাবে সম্পাদক-এর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিলাম যে ভুল্গুলা সংশোধন করে কারেক্ট প্রিন্ট আউট বের করে দেই … তো কাজ শেষ করে নিচে নামতে নামতে আরিফিন স্যার বের হবার জন্য রেডি দেখে আমি নর্মালিই বললাম যে স্যার দাঁড়ান, একসাথেই বের হই, ব্যাগটা নিয়ে আসছি … এরকমটা তো আর কোনো মেয়ে কলিগ থাকলেও বলতাম … তো ব্যাগ নিয়ে বের হতে হতেই দেখি যে এর মধ্যে স্যার চলে গেছে … দাঁড়াতে বললাম, দাঁড়ালোনা টাইপ কিছুটা মন খারাপের অনুভূতি হইলেও আমি ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিকভাবেই সামলে নিয়ে বের হয়ে গেলাম … এর মধ্যে যেই সিএনজি পেলাম, সে কালকে মিরপুর রোড দিয়ে না গিয়ে পান্থপথ হয়ে ফার্মগেট দিয়ে বের হবার রাস্তা দিয়ে মিরপুর রওনা হলো … আর আমারও এমনই কপাল যে পান্থপথের সিগন্যালে এসে সিএনজি থামলো, আর আমাকে দেখতে হলো যে সোহেল পান্থপথের মোড়ে দাঁড়িয়ে রিকশা ঠিক করছে … মাথার মধ্যে কেমন জানি বোমা বিস্ফোরণের মতো হলো সোহেল-কে দেখার সাথে সাথে … আর তারপরেই কথা নাই বার্তা নাই সব রাগ গিয়ে পড়লো ওই একটু আগে যে আরিফিন স্যারকে দাঁড়াতে বললাম, দাঁড়ালো না, ওই ঘটনার ওপর! মনে হলো যেন আরিফিন স্যারের সাথে কথা বলতে বলতে বের হলে ঘটনাটা অন্যরকম হতো, হয়তো আমি সিএনজি নেয়ার জন্য মডার্নের সামনে পর্যন্ত যেতাম, কিংবা সিএনজি পেয়ে গেলে তাকে বলতাম মিরপুর রোড দিয়ে যান … বাসায় ফিরে আরিফিন স্যারকে নক করলাম যে চলে গেলো কেন, দাঁড়াতে বলার পরও … বললো যে ফ্রেন্ড দাঁড়ায় ছিলো … এদিকে আমি সিএনজিতে যাওয়ার সময় উনাকে জুনিয়র বিল্ডিং-এর সামনে বাইকে বসে মোবাইল ঘাঁটতে দেখেছি, আর তাই যদি হয়, তাহলে কখন বন্ধু আসলো, কখন গেলো, আর উনিও এর মধ্যে জুনিয়র বিল্ডিং-এ গিয়ে বাইক বের করে ফেললো … আমি যাবতীয় হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হয়ে আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম যে এই এই ঘটনা যদি হয় তাইলে ফ্রেন্ডটা আসলো কখন, গেলো কখন … বললো কথা বলে চলে গেছে … ওই মুহুর্তে চরম মেজাজ খারাপের মাথায় কেন জানি কথাগুলোর ওপর আস্থা রাখতে পারলাম … মাথার মধ্যে হাইপোথেসিস কাজ করতে শুরু করলো যে স্যার আসলে আমাকে অ্যাভয়েড করেই গেছে … আমি না হয়ে এখানে আর কেউ হইলেও স্যার দাঁড়াতো … আমি বলসি বলেই স্যার থাকে নাই … এবং সেটা যখনই মনে হলো তখনই স্যারের ওপরেও মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো … মনে হইলো যে এই অ্যাভয়েডটুকু না করলেই তো আজকে ব্যাপারগুলা অন্যরকম হইতো আর উল্টা রাস্তায় গিয়ে আমার সোহেলের চেহারা দেখতে হইতো না … আর আমিও তখন মেজাজ খারাপ করে ঠিক এই যে মাত্র লিখলাম, এই কথাগুলোই উনাকেও লিখসি … এরপরে উনিও আর কিছু রিপ্লাই দেয় নাই, আমিও আর নক করি নাই … এক সোহেলের চেহারা কেন দেখলাম-এর সঙ্গে প্যাচ-গোছ করে আসা হাজার রকমের চিন্তা আর স্মৃতির মাঝখানে আমার আর আরিফিন স্যারকে কি বলসি না বলসি সেটা নিয়ে কিছু মাথাতেই কাজ করে নাই … সোহেলের চেহারা কেন দেখলাম এই জিদেই কালকে সারা সন্ধ্যা, অনেক রাত অবধি কান্নাকাটি করসি …

আজকে সারাদিনে ভাবতেসিলাম যে কীভাবে আরিফিন স্যারের সাথে ব্যাপারটা মিট্মাট করে নেয়া যায় … আমার যে কালকে রাগের মাথায় উনাকে এইরকম কথাগুলো বলা ঠিক হয়নাই, সেটার জন্য কীভাবে সরি বলা যেতে পারে সেটা নিয়ে ভাবছিলাম … কাশফিয়া আপুর সাথেও স্কুলে বসে শেয়ার করছিলাম যে এই এই ঘটনা, এখন কীভাবে কি করা যায় …তো বাসায় এসে অনেক ভেবেচিন্তে একটা মেসেজ আমি পাঠালাম, কিন্তু এই যে এখন রাত ১২টার বেশি বাজে এখন পর্যন্ত ওই মেসেজ স্যার ওপেনই করে নাই … বিষয়টা রীতিমতো সিরিয়াস বিরক্তির এক্সপ্রেশন মনে হচ্ছে আমার কাছে … কারণ ক্রমাগতই দেখছি যে স্যার মেসেঞ্জারে অ্যাক্টিভ, এবং সবসময়ই এটাই দেখি যে উনি সারাদিনই যখনই মোবাইল হাতে থাকে মেসেঞ্জারে ব্যস্ত থাকেন … তো সেই মানুষই যখন মেসেজ দেখছেই না, তখন এত রকম মন-মেজাজ খারাপের মধ্যে নতুন করে যোগ হলো অপরাধবোধ … মানে, আমি কি এতই অফেন্সিভ আচরণ করলাম যে স্যার আমার ওপর চরম বিরক্তই হয়ে গেলো? … আরিফিন স্যার আমার বন্ধু বা প্রেমিক জাতীয় কিছুই না, এমনকি আমি নিজেও ওভাবে কোনোকিছু চিন্তা করি না … হ্যাঁ, এটা ভাবি যে স্যার যেরকম মানুষ তাকে নিয়ে এরকম ভাবা যায়, কিন্তু যেহেতু আমার এইসব প্রেম-ভালোবাসা সংক্রান্ত চিন্তা-ভাবনা, মানসিকতা এখন খুবই নেগেটিভ, ফলে ওইটুকুতেই ভাবনারা জেনারালাইজড হয়ে থাকে … কিন্তু সে একজন খুবই ফ্রেন্ডলি কলিগ … এমনিতে স্যার সবার সাথেই খুব হাসিঠাট্টা মজা করেন, কিন্তু এমন অনেক আচরণ আছে যা স্যার অন্যদের সাথে করে, আবার আমার সাথে করে না … অপরদিকে এমন অনেক বিষয়ই আছে, যেগুলা স্যার আমাকে খুব ফ্র্যাঙ্কলি বলতেসে কিন্তু অন্যদের সামনে সেভাবে বলে না … তো এই জায়গায় স্যারের সাথে আমার একটা বেশ ভালোই ফ্রেন্ডলিনেস আছে বলেই আমি ভাবতাম … আবার অনেক অনেক জায়গায় কেমন জানি খাপছাড়াও ! … এক কাপকেক আর চকোলেট কেক খেতে চেয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলসি, ভুল করে একবার চকোলেট কেক-এর জায়গায় রেড ভেলভেট কেক ডেলিভারি দিয়েছিলো, সেটার কম্পেনসেশন হিসেবে নিজেই বললো যে একটা চকোলেট খাওয়াবে গিফট হিসেবে, আমিও সেটা সিরিয়াসলি নিয়েই এক্সপেক্ট করতে থাকলাম কবে চকোলেট কেক আসবে, কিন্তু সেটা আর আসে না! … কয়েকবার প্রসঙ্গ তুলেছিলাম, কিন্তু সেগুলাও বিভিন্ন অজুহাতে প্রসঙ্গই ঘুরে গেলো … এর মধ্যে একদিন শম্পা আপা’র বাসায় গিয়েছিলাম আমরা কয়েকজন বারবিকিউ পার্টিতে, সেখান থেকে বের হতে হতে, আবার সিএনজি পেতেও রাত হলো, আমি একা একা যাওয়া নিয়ে টেনশন করছিলাম, তারপর এক সিএনজি পাওয়ার পর হুট করে নিজেও সেই সিএনজিতে উঠে আমাকে বাসা পর্যন্তই নামায় দিয়ে গেলো … আবার তার সাথেই দুই দিনের মাথায় এইরকম আচরণ, আর তার এরকম রেসপন্স! …

ডিসেম্বরের পুরো সময়টা স্যারের সাথে বসতে বসতে অনেক ফ্রি হয়ে গিয়েছিলাম … কিন্তু সেটা কি আদৌ এমন ছিলো কি না যে এটাকে উনি নিজেই বা আর কেউ অন্যভাবে দেখে সেটা নিয়েও ভাবতাম। একদিন বৃতা খালি কথায় কথায় জিজ্ঞেস করে ফেলেছিলো যে আরিফিন স্যারের সাথে তোমার কিছু হইসে নাকি, তারপর থেকে না আমি বৃতার সাথে ভালোভাবে কথা বলি, না আরিফিন স্যারের সাথে সেই ফ্রি-নেসটা দেখাই স্কুলে … কেন জানি খালি মাথার মধ্যে এটা ঘুরছে যে স্কুলে কেউ কেউ হয়তো ভাবে যে দেয়ার ইজ সাম্থিং ফিশি বিটুইন আস! … স্যারও কি এরকম কোনো জায়গা থেকে আমার আচরণের ব্যাখ্যা করছে কি না সেটাও ভাবছি … সমস্যা হচ্ছে যে এইসব ভাবনা মানুষজন নিজের ভেতরেই রেখে দেয়, কখনো যাকে নিয়ে ভাবছে তার কাছে খোলাসা হতে চায় না! …

কেন যে এইসব হচ্ছে ! … ভাবছিলাম যে স্কুলটা একটা শান্তির জায়গা তৈরি হয়েছে। এখানে নিজের কাজটাই নিজে ঠিকমতো করবো, ব্যাস! এখানেই এরকম একটা ক্যাচালে কেন আমাকে পড়তে হবে? … মনে হচ্ছে যেন অদ্ভুত কোনো একটা শক্তি সবসময়ই সবজায়গায় একটা না একটা গিট্টূ লাগিয়ে দেয় … সে যেকোনোরকমের গিট্টুই হোক না কেন … কোথাও গিয়ে শান্তি পাবো না টাইপের গিট্টু … যেই মানুষ, বা যেই সিচুয়েশন নিয়ে গিট্টু না লাগুক চাইবো, সেইটা নিয়েই গিট্টু লাগবে, এটা যেন ইনএভিটেবল হয়ে যাচ্ছে …

যাই হোক, ছবিমেলা চলছে … আর আমি সেখানে যাচ্ছি না … ছবিমেলা কেন, পাঠশালার ত্রিসীমানাতেও আমি যাই না এখন … সোহেল তো বটেই, মুগ্ধ, হিমেল, রূপা কারো সাথেই দেখা হোক সেটা চাই না … ছবিমেলাতে গেলে তো কোথাও না কোথাও সোহেলের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়ে যাবে … কি করবো তখন? … খুনাখুনিও হয়ে যেতে পারে! …

গতকালকে ৫ ফেব্রুয়ারি সোহেলের সাথে আমার একটা স্মৃতির ডেটলাইন ছিলো … যেসব ঘটনাগুলো না ঘটলেই এর পরেরগুলো ঘটতো না, সেরকম একটা ডেটলাইন … ওইদিনটায় সানিডেলের কলিগ মেহনাজ -এর বিয়েতে যাওয়ার আগে সোহেলের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম … ধানমন্ডি ৪-এ আড্ডা-য় বসেছিলাম আমরা … আর বের হবার সময় ও হঠাৎ করে আমাকে চুমু খেয়েছিলো … ওই ঘটনাটা না ঘটলে হয়তো এর পরের তিনদিন ঢাকা আর্ট বিনাল দেখার ছুতায় ওর সাথে ঘোরাঘুরি হতো না … আর ফিজিক্যাল ইন্টারঅ্যাকশনের ইন্টেনসিটিও বাড়তো না …

খুব হতাশ লাগে সবকিছু নিয়ে … কেন সবকিছু এত নেগেটিভ? … একের পর এক কিসের শাস্তি যে পেয়েই যাচ্ছি আমি! … হয়তো সোহেলের সাথে যাবতীয় ঘটনাও কোনো একটা কিছুর শাস্তি ছিলো! … কিন্তু সেটা কিসের? জানি না! বুঝি না! … খালি হতাশা বেড়েই চলে … বিষণ্ণতা বেড়েই চলে …

মরে যে কেন যাই না, দুনিয়া থেকে আপদ বিদায় হয়েছে টাইপের শান্তিও পায়না মানুষ … বেঁচে আছি আর বিবিধ রকমের যন্ত্রণা দিয়েই যাচ্ছি মানুষকে …     

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s