দিনযাপন । ০৭০২২০১৭

একগাদা ওয়ার্কশিট তৈরির কাজ মাথায় নিয়ে বাসায় ফিরেছি আজকে … তারপর সন্ধ্যা থেকে সব কাজ কর্ম বাদ দিয়ে নতুন কেনা শেলফ গুছিয়েছি … আর এখন বসেছি দিনযাপন দেখতে … কখন করবো আমি ওয়ার্কশিটের কাজ? … কালকে রেডি করে না নিয়ে গেলে প্রিন্ট করায় ফটোকপিতে দিতে পারবো না … পরশুদিনই লাগবে ওয়ার্কশিটগুলা … কিন্তু মনে হচ্ছে যে আগে দিনযাপন লিখি, তারপর কি হয় দেখা যাবে …

গতকালকে একটা শেলফ কিনেছি … রিগ্যাল ফার্নিচার থেকে … কয়েকদিন আগে বাসার উল্টা পাশের মেইন রাস্তার ওপরে রিগ্যাল ফার্নিচারের যেই শো-রুমটা আছে সেখানে গিয়েছিলাম … উদ্দেশ্য ছিলো কেবিনেট দেখবো, গিয়ে এই শেলফ দেখে মনে হলো যে এরকম একটা শেলফই তো দরকার … তো কালকে বেতন পেয়ে সাথে সাথে ওই দোকানে গিয়ে শেলফ কিনে তারপরে বাসায় ফিরেছি … এখন আর আমাকে টেবিলের ওপর দুনিয়ার জিনিসপত্র রেখে কাজ করতে হবে না … আর স্কুলের জিনিসপত্র, জাপানিজ স্টাডিজের জিনিসপত্র আর ফ্রেঞ্চ ক্লাসের জিনিসপত্রও আর বিভিন্ন জায়গায় ছড়ায় ছিটায় থাকবে না … তো, সেই শেলফ গুছাতে বসে অনেকটা সময় চলে গেলো … যদিও জিনিসপত্র অর্ধেকও গুছাইনাই …

15319280_948447218624448_7510205024019363872_n

যাই হোক, এখন দিনযাপন লিখে শেষ করে যত দ্রুত পারা যায় অন্তত একটা ওয়ার্কশিট হলেও শেষ করতে হবে … ক্লাস সেভেনের টেস্টের ওয়ার্কশিট না হয় কালকে বানিয়ে পরে বাইরে থেকে প্রিন্ট নিয়ে নিলাম … কিন্তু ক্লাস ফাইভের যেই হ্যান্ডআউটটা যাবে সেটা বানাতেও তো একটু সময় লাগবে … ম্যাপ যাবে, এক্সট্রা ইনফরমেশন যাবে … কিন্তু একই সাথে আমার ঘুমও আসতেসে প্রচণ্ড … আজকে ৫টা পর্যন্ত তো স্কুলে বসেই কাজ করসি … স্কুলে বেশিক্ষ্ণ থাকবো না ছুটির পরে এরকমটাই ঠিক করসিলাম এইবার সেশনের শুরুতে, কিন্তু সেটা হচ্ছেই না … আর ২টা পর্যন্ত স্কুল করে তারপর আবার ৫টা ণাগাড কাজ করার ব্যাপারটা শরীরকে অনেক বেশি কাবু করে ফেলে …

আজকের দিনটা তবু কালকের চেয়ে কিছুটা ভালো গেলো … আমার খালি মনে হচ্ছিলো স্কুলে গিয়ে আরিফিন স্যারের সাথে না কথায় কথায় এক প্রস্থ ঝগড়াঝাঁটি করে ফেলি বা আবার মেজাজ দেখায় ফেলি … গতকালকে দেখলাম রাতে দেড়টার দিকে উনি মেসেজ দেখেছে, কিন্তু রিপ্লাই বা কোনোধরনের রেসপন্স করেনাই … আজকে সারাদিনে কাজের প্রসঙ্গেই টুকটাক কথাবার্তা হয়েছে কিন্তু খুব আরামদায়ক লাগেনাই আমার কাছে কনভারসেশনগুলা … আমি নিজেই প্রচণ্ড অস্বস্তি নিয়ে কথা বলছিলাম, আর আরিফিন স্যার আদৌ কি নর্মালিই কথা বলছিলো নাকি ভেতরে বিরক্তি নিয়ে বাইরে নর্মাল অ্যাক্ট করছিলো সেটা আমি স্বভাবসুল্ভভাবেই বুঝতে পারি নাই…আরিফিন হয়তো মেজাজ খারাপ থাকলেও সেটা প্রকাশ না করে থাকতে পারে … তাকে আমার যেধরণের মানুষ বলে মনে হয় তাতে করে তারপক্ষে এটা সম্ভব যে মনে মনে হয়তো একজনকে সে খুবই অপছন্দ করবে কিন্তু তার সাথেও খুব নর্মালিই কথা চালায় যেতে পারবে … আমি সেটা পারি না … আমার কোনো টাইপের আবেগই আমি লুকিয়ে রাখতে পারি না … আমার চেহারায় সেটা ধরা পড়েই যায় … দুইদিন ধরে কান্নাকাটি করতে করতে চেহারার যেই অবস্থা হয়েছে, আজকে স্কুলে প্রত্যেকেই চেহারা দেখে জিজ্ঞেস করছিলো কি হয়েছে, অসুস্থ কি না … এখানেও আমি স্বভাবসুলভ ভাবে বলে চললাম যে ‘শরীর, মন, মেজাজ, মাথা সবই খারাপ’ … স্কুলের কলিগদের মধ্যে কেউ দিনযাপন পড়ে বলে মনে হয়না … ফলে তারা মনে হয় জানেও না যে গতকালকের দিনযাপনে আমার দুইদিনের মানসিক অবস্থা নিয়ে আমি কি লিখেছি … ইভেন আরিফিন স্যারের কথাও তো কিছু বাদ রাখি নাই …

সে যাই হোক, আজকে সারাদিনে অন্তত সোহেলেড় চেহারা কেন দেখতে হল সেটা নিয়ে খুব একটা মেজাজ খারাপ হয়নাই … প্রথমদিকের ক্লাসগুলা খুব দায়সারাভাবে নিয়েছি … সেভেন্থ পিরিয়ডে ক্লাস এইটের সাথে ক্লাস নিতে গিয়ে হঠাৎ মন কিছুটা ভালো হয়ে গেলো … ক্লাসের শেষের দিকে বেশ একটু হাসাহাসি আর মজা হলো … ক্লাস থেকে বের হয়ে হঠাৎ মনে হলো মুড চেঞ্জ হয়ে গেছে কিছুটা … থম মেরে ছিলাম যে সারাদিন সেই ভাবটা মনে হলো কেটে গেছে …

আচ্ছা, আমার না আসলে খুব ঘুমই পাচ্ছে … আর মনে হচ্ছে যে ঘুমিয়ে যাওয়াটাই ভালো … জেগে থাকলেই আবার মনের মধ্যে কি খচখচ করতে থাকে … এর চেয়ে ঘুমিয়ে থাকি, সকালে উঠে স্কুলে চলে যাবো, তাই-ই ভালো … কালকে অনেকটা সময় ফ্রি আছি, না হয় তখন বসে ওয়ার্কশিটগুলা রেডি করে ফেলবো …  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s