দিনযাপন । ১৬০২২০১৭

সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলে থেকে কাজ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ৮টা বাজায় ফেললাম … তারপর ভাবলাম যে একটু গোসল করে এসে কাজে বসবো … কিসের কি! গিজার চালিয়ে দিয়ে পানি গরম হবার ফাঁকে চা খেতে বসে ফেসবুকে ঢুকলাম, দেখি সর্বনাম লাইভ-এ যাচ্ছে … মানে নোবেল ভাইয়ের বাসাতেই প্র্যাকটিস চলছিলো, এর মধ্য থেকেই ফেসবুকে লাইভ হয়েছে আর কি ওরা … তো এদের গান-বাজনা দেখতে দেখতে মোটামুটি ঘণ্টাখানেক কাটিয়ে দিলাম … তো তারপর গোসল করে আসতে আসতে মোটামুটি ১০টাই বাজিয়ে দিলাম … কাজ আর আজকে কিছু ধরাই হলো না … তার মধ্যেই আজকে আবার দিনযাপন লিখতে বসে গেছি!

আসলে, গত কয়েকদিনও দিনযাপন লিখবো বলেই ভেবেছিলাম, কিন্তু ক্লান্তিজনিত কারণে আর লেখার সুযোগ হয়ে ওঠে নাই … যেমন গতকালকে বিকালবেলা সাড়ে ৫টার দিকে আলিয়ঁস ফ্রসেঁ থেকে বাসার দিকে রওয়ানা দিয়ে পৌঁছেছি রাতে প্রায় সাড়ে ৮টা না পৌনে ৯টায় … এর আগের দিন স্কুল থেকে কলিগদের সাথে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে প্রায় ৯টার বেশি বাজলো … তারপর সারাদিনের ক্লান্তির কারণে সাড়ে ১০টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লাম … স্কুলের পরে থেকে কাজ করার কারণেই কি না জানি না, বিকালের দিক থেকেই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করতে থাকে … মনে হয় যেন মাথা আর কাজ করছে না … বাসায় ফেরার পথে সিএনজি-তে বসে ঝিমাই … ঘুমিয়ে যাতে না পড়ি সেজন্য কানে হেডফোন গুজে রেডিও শুনতে থাকি … আর বাসায় ফিরে গোসলটা করার সাথে সাথেই যেন শরীরটা ছেড়ে দেয় আর তারপর মনে হয় সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে ঘুমায় থাকি …

গতকালকে খুব উদ্যম নিয়ে দিনযাপন লিখতে বসে এইটুকু লিখেই এত ঘুম আসতে শুরু করলো যে আর লেখার অবস্থা না পেয়ে ঘুমিয়েই পড়লাম … আজকে আবার বসেছি দিনযাপন লিখতে … আজকে বৃহস্পতিবার, বাসাতেও ফিরেছি তাড়াতাড়ি, তারপর আবার পুরাটা বিকাল আর সন্ধ্যা বসে বসে স্কুলের স্পোর্টস ডে-র পারটিসিপেন্ট লিস্ট বানালাম … মানে, ৬ তারিখে হিট হয়েছিল, সেখান থেকে যারা সিলেক্টেড তাদের নাম-রোল-ক্লাস এইগুলা ফাইনালাইজ করে ইভেন্ট অনুযায়ী সাজানো আর কি … ঢেঁকি যেমন স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, আমিও তেমনি এক্সেল অ্যাকাডেমিতে এসেও খালি ক্লাসই নিচ্ছি না, নিজের ‘সব কাজের কাজি’ চেহারাটা দেখিয়ে বেড়াচ্ছি … ২৩ তারিখে স্কুলের স্পোর্টস ডে … আরো ভালো করে বলা উচিৎ যে এইটা এক্সেল অ্যাকাডেমির প্রথম স্পোর্টস, ফলে এক্সাইট্মেন্ট-এর জায়গাটা স্টুডেন্ট-দের চেয়ে যেন টিচার আর অফিসিয়ালদের মধ্যেই বেশি! … আর সেই স্পোর্টস-এর আয়োজনের কামলা বাহিনীতে যথারীতি আমি আছি … এমনিতে একদমই নিজের আগ্রহে যেই দায়িত্বটা ঘাড়ে নিয়েছি সেটা হচ্ছে মার্চ পাস্টের সময় ড্রাম বাজানো … সেই সাথে মোটামুটিভাবে গেমস টিচার নুসরাত আপুর অঘোষিত সহকারি হিসেবেও অবতীর্ণ হয়ে গেছি ইতিমধ্যেই … তার মধ্যেই মাদলেন আপাও উনার সহকারি হিসেবে আমাকে আর কাশফিয়া আপুকে মোটামুটি স্টুডেন্ট লিস্ট তৈরি করা, টিচারদের ডিউটি ডিস্ট্রিবিউশন, ইভেন্ট-এর সিকোয়েন্স সাজানো, এমনকি জগন্নাথ হলে যে প্যান্ডেল বসবে, মাঠে চক দিয়ে দাগ দেয়া হবে এইগুলার প্ল্যানিং-এর মধ্যেও ইনভল্ভ করেছেন নুসরাত আপুর সাথে … ভালোই লাগছে … বেশ স্পোর্টস ডে মুডে আছি … হলিক্রসে পড়ার দিনগুলো মনে করে নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছি … স্পোর্টস ডে-তে ডিসপ্লে মানেই সামনের সারিতে যেই কয়েকজন লিড দিতো তাদের একজন থাকতাম … ডিসপ্লে-র রিহার্সালের ছুতায় কর ক্লাস বাদ দিয়ে ল্যাবে গিয়ে বসে থাকতাম, গল্প করতাম … কোন গানের সাথে ডিসপ্লে হবে তা নিয়ে কত জল্পনা-কল্পনা হইতো! … আর সেই সাথে বেসবল আর ভলিবল খেলা … সানিডেলে থাকতে ৩টা স্পোর্টস পেয়েছি, কিন্তু কোনো কাজে-কর্মে সেভাবে আমি ইনভল্ভড ছিলাম না … ছবি তুলতাম আর বাচ্চাদের সাথে মজা করতাম, আড্ডা দিতাম … ফলে সানিডেলের স্পোর্টস নিয়ে আমার খুব বেশি স্মৃতিকাতরতা কাজও করে না … এইবার যেমন সবসময়ই মনে হবে যে এক্সেল অ্যাকাডেমি’র প্রথম স্পোর্টস ইভেন্টের আয়োজনের একটা পার্ট ছিলাম আমিও! …

14956432_1785581695014853_3214309294636133769_n

একটা বিষয় নিয়ে মন খারাপ হবার ভাব হলেও জোর করেই সেটা হতে দিচ্ছি না … বিভিন্নরকম সিচুয়েশনের কথা ভেবে কিংবা নিজেকে ভাবিয়ে মন খারাপ হবার বিষয়টা দূরে সরিয়ে রাখছি … আগামীকালকে প্রাচ্যনাট থেকে পিকনিকে যাওয়া হচ্ছে, সিলেটে … আর প্রাচ্যনাটের পিকনিকের সাথেই আমার কি জানি একটা বাজে যোগাযোগ আছে, কখনোই আমার কোনো পিকনিকে যাওয়া হয়নাই! … আমি যেই কয়েকবছর প্রাচ্যনাটে আছি তার মধ্যে বোধহয় এই নিয়ে তিন নাম্বার পিকনিক পেলাম আমি, কিন্তু তিনটার একটাতেও আমি যাই নাই! … মানে, কি জানি হয়! কি জানি একটা সিচুয়েশন দাঁড়ায় যায়, তারপর আর যাওয়া হয় না … এবার যেমন পিকনিকের টোটাল প্ল্যানটাই খুব ভালো লাগে নাই … মনে হয়েছে যে খুব হেকটিক জার্নিই হবে খালি … আর এরকম জার্নি করা পিকনিক করে এসে আলটিমেটলি শনিবারে আমার আর কোনো কাজ তো হবেই না, ফ্রেঞ্চ ক্লাসেও যাওয়ার হয়তো এনার্জি থাকবে না … মাঝখান দিয়ে এক সপ্তাহের ৮ ঘণ্টার ক্লাস মিস! … আর ফ্রেঞ্চ ক্লাসের সাথে সাথে স্কুলের কাজ তো আছেই … আজকেও তো যেমন নতুন দায়িত্ব জুটেই গেলো স্পোর্টস নিয়ে! … আগামী সপ্তাহের জন্য এনার্জি ধরে রাখতে কালকে আর পরশু আমাকে আলটিমেটলি রিলাক্সই করতে হবে … কালকে ভোরে রওয়ানা দিয়ে সিলেট যাবো, তাও আবার হবিগঞ্জে, তারপর আবার রাতে বারবিকিউ করে খেয়ে দেয়ে ওই হুড়াহুড়ির মধ্যেই নাকে-মুখে রওয়ানা দিয়ে শনিবার ভোরবেলা ঢাকা পৌছাবো … আমার অন্তত এত হেক্টিক জার্নি শরীরে কুলাবে না এখন … সেজন্য আর পিকনিকে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো আগ্রহই তৈরি করলাম না মনের মধ্যে …

কিন্তু এটাও আবার সত্যি যে যাচ্ছি না দেখে মনের ভেতর আকুপাকুও করছে … অমিত আসছিলো কালকে বাসায় … কথায় কথায় বলছিলো যে আজকে নাকি ওরা একদল রওয়ানা দিবে সিলেটে … অ্যারেঞ্জমেন্ট সব ঠিক-ঠাক আছে কি সেটা দেখবে আগে থেকেই ওখানে থেকে। আমার একবার মনে হচ্ছিলো যে বলি আমিও সাথে রওয়ানা দিবো … অন্তত এভাবে গেলে তো আগামীকাল ভোরবেলার জার্নির প্যারাটা কম হতো! … তখন আর রাতে রওয়ানা দিয়ে আসাটা নাকে-মুখে মনে হতো না … কিন্তু তারপরেই ফ্রেঞ্চ ক্লাসের কথা চিন্তা করে নিজেকে বুঝ দিলাম যে অন্তত মার্চের ১৭ তারিখের আগ পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ ক্লাসটাই সবচেয়ে জরুরি … এর মধ্যেই আবার ২৫ তারিখ, মানে আগামী শনিবারে স্কুলেরও পিকনিক … তো ওইদিন তো ফ্রেঞ্চ ক্লাস একটা মিস যাবেই … সো পর পর দুই সপ্তাহ তো আর ক্লাস মিস দেয়ার মানে হয় না … মার্চের ১৭/১৮ তারিখের দিকে ফ্রেঞ্চ-এর ইন্টারন্যাশনাল লেভেল-এর এক্সাম … আমি ভেবেছিলাম এই যাত্রা এইটা না দিয়ে থাকা যাবে, পরের সেশনে দেবো … কিন্তু এইটা না দিলে নাকি পরের লেভেলেই উঠতে পারবো না! তো কি আর করা! এখন এই ডেলফ এক্সাম দিতেই হচ্ছে … ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের পরীক্ষা শুনেই ভয় লাগতেসে! ভালো না করতে পারলে মান-ইজ্জতের বিষয়!

রাইটিং পার্টগুলো তাও হয়তো কোনোভাবে উৎরায় যাবো, কিন্তু ওরাল পার্টগুলোতে কি করবো সেটাই টেনশন! বলতে না হয় টুকটাক ভুলভাল হলেও পেরে যাবো, কিন্তু শুনে শুনে যে উত্তর বের করতে হবে, সেটার যে কিছুই বুঝবো না, তার কি হবে?

উফ! এমন একটা ওয়েদার এখন, ফ্যান ছাড়লে লাগে ঠান্ডা, আবার ফ্যান বন্ধ করে রাখলে গরম লাগতে থাকে! গোসল করে এসে ভাবলাম যে ফ্যান ছেড়ে চুল শুকাই, কাঁপাকাঁপির চোটে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলাম …

আবারো আমার দুনিয়া ভেঙ্গে ঘুম আসতেসে … মাত্রই ১০টা বাজে আজকে আর এখনই ঘুম চলে আসলো … আজকে অবশ্য সারাদিন ধরেই ঘুম ঘুম ভাব … সকালে স্কুলে একটা ডিউটি ছিল … মোক টেস্ট চলছে ক্লাস টেন-এর। মাত্র দুইটা বাচ্চা পরীক্ষা দিচ্ছে, সো খুবই ইনফর্মাল ডিউটি, আর একই সাথে খুবই বোরিং! দেড় ঘণ্টা চুপচাপ বসে থাকা যায়? আমার এক পর্যায়ে মনে হলো মাথা ভার হয়ে আসছে। দরজা বন্ধ, রুমে ফ্যানও বন্ধ, মনে হয় সাফোকেশনও হচ্ছিলো … তো আমার তখন থেকেই খুব ঘুম পেতে শুরু করলো … বাচ্চাদের সামনে যাতে ঘুমে ঢলে পড়ে না যাই সেজন্য কাগজ-কলম নিয়ে ছবি আঁকতে শুরু করলাম … অন্তত কিছু একটা করে যাতে নিজেকে অ্যাক্টিভ রাখা যায় … জিনাত আপা’র ডিউটি ছিলো আমার পরেই। উনি এসে বলতে চাইছিলেন যে আমি আরো আধাঘণ্টা থাকবো কি না, তাহলে উনি ১০টার দিকে আসবেন। আমি আর এক মুহুর্তও থাকতে চাইলাম না … ১০টা থেকে এমনিতেই আমার ক্লাস … গিয়ে এক কাপ চা খেয়ে চাঙ্গা হবার জন্য জিনাত আপাকে ডিউটি গছিয়ে দিয়ে চলে আসলাম …

কিন্তু ওই যে মাথা ব্যথা আর ঘুম ঘুম ভাবটা তৈরি হয়েছিলো সকালে, সারাদিনই তার রেশ গেছে …

যাই হোক, আজকের মতো শেষ করি …  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s