দিনযাপন । ২১০২২০১৭

একগাদা কাজ হাতে নিয়ে বসেও প্রায় কিছুই করলাম না সন্ধ্যা থেকে … কেমন জানি আলসেমি লাগছে … আজকে প্রায় দিনের পুরোটা সময়ই রোদ আর ধুলাবালির মধ্যে ঘুরাঘুরি করেছি। ফলে একদিকে যেমন পায়ের ব্যথা, আরেকদিকে ক্লান্তিজনিত আলসেমি … আর দুইটার কম্বিনেশনে যা হলো যে যে কাজগুলা করাটা দরকার ছিলো সেগুলা না করে এমন কয়েকটা কাজ করলাম যেগুলা আগামী সপ্তাহে করলেও হতো …

স্পোর্টস-এর পার্টিসিপেন্ট লিস্টটা ফাইনালাইজ করতে হবে। সেটা নিয়েই প্রথম বসেছিলাম … ইভেন্ট-এর সিরিয়াল করলাম, সেই অনুযায়ী লিস্ট সাজালাম কিন্তু ল্যাপটপের ডকুমেন্ট ফাইলটায় আর সেগুলা ঠিক করতে ইচ্ছা করলো না। মনে হলো যে এখানে যা-ই করি, স্কুলের কম্পিউটারে নেয়ার পর দেখবো যে কিছু ফরম্যাট আর ফন্টের গন্ডগোল হয়েছেই, তো একবারে স্কুলের কম্পিউটারে বসেই না হয় কালকে সকালে কাজটা ফাইনালাইজ করবো … কালকে সকালবেলা গ্রাউন্ডসম্যানের সাথে কথা বলার জন্য মাঠে যাওয়ার একটা ফ্যাঁকড়া ছিলো, মাদলেন আপা বলছিলেন যে নুসরাত আপু আর আমি যেন সকালে আরিফিন স্যারের সাথে জগন্নাথ হলের মাঠে যাই গ্রাউন্ডসম্যানের সাথে কথা বলার জন্য। পরে আবার নুসরাত আপু আমাকে মাঠে যাওয়ার ব্যাপারটা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কালকে এমনিতেই স্কুলের টাইমিং অল্প, তার মধ্যে আবার আমার দুই ক্লাসের খাতা দিতে হবে, স্পোর্টস-এর ডকুমেন্টগুলা ফাইনালাইজ করতে হবে … আবার মার্চ পাস্ট-এর প্র্যাক্টিস হবে সেইটাতেও থাকতে হবে … ফলে আমাকে আসলে যেমনেই হোক স্কুলেই থাকতে হবে কালকে … আমি তো ভাবছি যে কালকে সাড়ে ৬টা সময়ই স্কুলে চলে যাবো কি না ! খাতায় ওয়ার্কশিট পেস্টিং, সিল দেয়ার কাজগুলা করতে হবে দুই সেট খাতার মধ্যে! … ৭টায় পৌঁছালে আদৌ কতটুকু কাজ করতে পারবো বুঝতে পারছি না … আবার কালকে খাতা না দিয়েও উপায় নাই কারণ সোমবারে টেস্ট। রবিবারে খাতা দিয়ে তো আর সোমবারে টেস্ট নেয়া যাবে না!

এখন মনে হচ্ছে আজকে এই বন্ধের মধ্যে স্কুলে গিয়ে কাজ করতাম কিছুক্ষণ, তাইলেও মনে হয় কালকের জন্য অন্তত একটা টেনশন কমতো! …

যাই হোক, কালকে যা হয় হবে … আজকের কথা বলি … আজকে মোটের ওপর একটা ভালো দিন গেলো বলা যায় … মানে মোর দ্যান এক্সপেক্টেড একটা দিন …কাশফিয়া আপুর সাথে গতকাল মুখে মুখে প্ল্যান হয়েছিলো যে বর্ণমেলা-তে যাবো, সেটা আবার এবার হবে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল-এর মাঠে। অন্যান্য সময় তো মহিলা কমপ্লেক্স-এর মাঠে হয়। এবার কি রোলবল ওয়ার্ল্ডকাপ হচ্ছে সেখানে, সেজন্য মহিলা কমপ্লেক্স-এ হয়নাই … তো বর্ণমেলা-তে প্রতি বছর আর যাই হোক জলপুতুল পাপেটের একটা স্টল থাকে আর প্রাচ্যনাটেরও কোনো না কোনো পারফর্মেন্স থাকে … তো মনে মনে ভাবছিলাম যে বর্ণমেলায় তাইলে যাওয়াই যায় … শহিদ মিনারের ভীড়ভাট্টা আমার ভালো লাগে না, তাই ওই এলাকাতে আমি পারতপক্ষে একুশে ফেব্রুয়ারিতে যাইও না … যাই হোক, সোয়া ১১টার দিকে রেসিডেন্সিয়ালের গেটের সামনে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দেখি শুভ আর অমিত রিকশা থেকে নামছে। আইডিয়া করলাম যে প্রাচ্যনাটের শো আছে। ওদের সাথেই ঢুকলাম ভেতরে। কাশফিয়া আপুর সাথে ফোনে কথা হলো, বললো যে এখনো রওনাই দেয় নাই … যেহেতু প্রাচ্যনাট-এর সঙ্গী-সাথীই পেয়ে গেছি, এখন কাশফিয়া আপুর দেরি হলেও আর টেনশন নাই যে একা একা ঘুরতে হবে … তো এর মধ্যে ব্যাক স্টেজে গিয়ে দেখি আরেক কাহিনী … কণা আসছে পারফরমেন্স-এর জন্য, কিন্তু সে নাকি সকাল থেকেই খুব অসুস্থ … ওর চেহারা দেখেই মনে হচ্ছে যে ও যেকোনো সময় সেন্সলেস হয়ে যাবে … পিরিয়ড হয়েছে নাকি, হেভি ব্লিডিং হচ্ছে, এর মধ্যে আবার গরম আর ধুলাবালি মিলায় শ্বাসকষ্টও হচ্ছে … এদিকে ও একা একা বাসায়ও যেতে পারবে না এই অবস্থায় … আবার একটু পরেই পারফরমেন্স, ফলে ওকে যে গ্রুপের কেউ গিয়ে দিয়ে আসবে সেটাও তখন সম্ভব হচ্ছিলো না … এর মধ্যেই এক পর্যায়ে কণা সত্যি সত্যি সেন্সলেস হয়ে গেলো! প্রথম আলোর আয়োজন যেহেতু এই বর্ণমেলা, আর সারাদিনের  ইভেন্ট, ওদের একটা মেডিকেল টিমও ছিলো। ওরা সাথে সাথেই আসলো। কণার প্রেশার মেপে দেখা গেলো ভীষণ লো, ৭০-৪০! … ওকে বাসায় নিয়ে যাবে কি, সাথে সাথে পাশেই মেডিকেল ফ্যাসিলিটির যে টেন্ট ছিলো সেখানে নিয়ে ওকে স্যালাইন, নেবুলাইজার সব দেয়া লাগলো … এর মধ্যেই আবার প্রাচ্যনাটের পারফমেন্স শুরু হলো … আমি কই ভাবছিলাম যে অমিতের পারফর্মেন্স দেখা যাবে তাইলে, ভালোই হলো। কিসের কি! পুরাটা সময় আমি ওই মেডিকেল টেন্ট-এ কণার পাশেই দাঁড়িয়ে রইলাম। পারফমেন্স শেষ করে শুভ আর শাফায়াত থাকলো যে কণাকে বাসায় দিয়ে আসতে হলে ওরা যাবে। পরে ডাক্তার আবার বললো যে স্যালাইন শেষ না হলে ছাড়বে না … এর মধ্যেই কাশফিয়া আপু চলে আসলো। আমি তখন আবার বিনা নোটিশে হাওয়া হয়ে গেলাম কিছুক্ষণের জন্য … কাশফিয়া আপুরা বেশিক্ষ্ণ ছিলো না … ঘন্টাখানেকের মতো থেকে, একটু ঘুরে -টুরে চলে গেলো …ওই সময় আবার জলপুতুল -এর পাপেট শো হচ্ছে … তো ভাবলাম যে ঐটা একটু দেখে তারপর আমিও বের হয়ে যাবো … তখন অলরেডিই প্রায় সোয়া ১টার মতো বাজে … এদিকে দেখি যে শাফায়াত আর শুভ তখনও আছে … কণাকে নেয়া যায় নাই কারণ ও উঠে বসেছিল তারপর আবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে বলে নেবুলাইজার দিয়ে রেখেছে। ওর খালাতো ভাইকে ফোন করা হয়েছিলো এর আগেই যে কণাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে, উনিও যাতে বাসায় থাকে … এই অবস্থা দেখে উনাকেই আবার বলা হলো সরাসরি এসে কণাকে সাথে করে বাসায় যেতে … সেই ভদ্রলোকও আরেক কিসিম! … কণার বাসা রেসিডেন্সিয়াল মডেলের পাশেই, আর সেই ভদ্রলোক নাকি ভুল করে আগারগাঁও চলে গেছে, সেখান থেকেও প্রায় ঘন্টাখানেক লাগায় তারপর এসে পৌঁছালো। জলের গানের পারফর্মেন্স আছে বলে কনক দা’রা এসেছে, তো কনক দা’র গাড়িতে করেই পরে ওকে বাসা পর্যন্ত দিয়ে আসা হইলো … মানে কণাকে নিয়ে ওর ওই খালাতো ভাই-ই গেলো আর কি … পরে আমি কিছুক্ষণ শাফায়াত, শুভ, শাহিন-এর সাথে ঘুরে-টুরে সময় কাটালাম, জলের গানের পারফর্মেন্স দেখে তারপর বের হলাম … বাসায় ফিরতে ফিরতেই প্রায় ৪টা …

আজকে আবার প্রাচ্যনাট-এর জন্মদিন … সন্ধ্যায় গ্রুপে গেলে নিশ্চয়ই অনেকে আসতো, একটা মজমা-মাস্তি-গান-বাজনা হতো … কিন্তু সারাদিন ঘুরে ঘুরে বেশ ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম অলরেডিই … বাইরে বাইরে আর থাকতে ইচ্ছা করলো না … সন্ধ্যায় জেম-এর বাসায় যাওয়ারও একটা হুট প্ল্যান হয়েছিলো … জেম নাকি জলের গান আর কলকাতা থেকে আসা একটা ব্যান্ড-কে দাওয়াত খাওয়াবে, তো কথায় কথায় আমরাও যেচে পড়ে দাওয়াত নিয়ে নিয়েছিলাম … কিন্তু পরে মনে হইলো যে ব্যাপারটা ওই কথায় কথায় ফান পর্যন্তই থাকুক! নইলে হুট করে চেয়ে-চিন্তে দাওয়াত নিয়ে মিরপুর থেকে সেই খিলগাঁও পর্যন্ত গিয়ে ‘অযাচিত অতিথির’ মতো না পরে অনুভব করতে হয় নিজেকে! … এইটা যদি জলের গান না হয়ে এমনেই প্রাচ্যনাটের বন্ধুবান্ধবের একটা গ্যাদারিং হইতো তাইলে হয়তো এইটুকু তেল দেখাতাম যে একটা আড্ডাবাজি, হাহা-হিহি সময় কাটিয়ে ভালো বোধ করার জন্য হলেও সন্ধ্যাসময় জেম-এর বাসায় চলে যেতাম … সামটাইমস থিংস আর সো কমপ্লিকেটেড! কেন জানি এখনো ‘জলের গান’ ব্যাপারটার সাথে সহজ হতেই পারি না … রাহুল দা, কনক দা, জার্নাল ভাই  উনারা যখন প্রাচ্যনাটের মেম্বার, তখন একদম ঠিকঠাক আমার কাছে, কিন্তু যখনি জলের গানের সদস্য তখনই কেন জানি মনে হয় যে এরা অন্য লেভেলের কেউ, ঠিক কোথায় জানি মিলছে না! …   

যাই হোক, বেশি সিরিয়াস কথায় আর না আগাই …

আমি খালি ভাবছি যে আগামী কয়েকদিন আমার কি অবস্থা হবে, আর তারপরেই খুব জোর করে নিজেকে স্ট্রেসড আউট হওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করছি … কালকে-পরশু এক তো বিরাট একটা প্যানা যাবে স্কুলের স্পোর্টস নিয়ে, এর মধ্যেই আবার ২৩ তারিখেই বিকালে যাবো স্কলাস্টিকায়। ওইদিন নাটক আছে স্ক্লাস্টিকায়, ‘লর্ড অভ দ্য ফ্লাইজ’, সেইটার ছবি তুলতে যাবো … তারপর আবার ২৪ তারিখ নাকি ফ্রেঞ্চ ক্লাসের একটা এক্সাম হবে, সেইটাকে আবার প্রজেক্ট হিসেবে ধরা হবে! মানে, সেই এক্সামও হেলা-ফেলা করে দেয়া যাবে না! … তারপর আবার ২৫ তারিখে স্কুলের পিকনিক … এরই মধ্যেই তো আবার নেক্সট উইকের লেসন প্ল্যানটাও ঠিকঠাক থাকতে হবে, ওয়ার্কশিট রেডি করতে হবে, প্রিন্ট দিতে হবে … কীভাবে যে কি করবো জানি না! …

এর মধ্যে আমার আরেক টেনশন ২৩ তারিখে স্পোর্টস-এর দিন যদি আমার পিরিয়ড থাকে তাইলে আমি কি করবো? আগামী দুই-তিনটা দিনের মধ্যেই আমার পিরিয়ড হবার কথা …সেটা যদি হয় তাইলে আরেক ডিজাস্টার হবে! পিরিয়ডের প্রথম তিনদিন তো আমার ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্যাড চেঞ্জ করা লাগে … ২৩ তারিখ ওই জগন্নাথ হলের মাঠের মধ্যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় যাওয়ার মতো আর আরাম করে প্যাড চেঞ্জ করার মতো টয়লেট-ই বা কই পাবো, আর যাবতীয় দৌড়াদৌড়িই বা কীভাবে করবো? … মনে মনে খালি চাইতেসি যে কোনোভাবে ২৩ তারিখ স্পোর্টসটা যাক, তারপর পিরিয়ডটা শুরু হোক … দরকার হয় আমি পিকনিকে যাবো না … তাও স্পোর্টস-এর সময় আমি কোনো ডিজাস্ট্রাস এবং প্যাথেটিক সিচুয়েশনে পড়তে চাই না … পিরিয়ড হইলে আর যাই হোক আমি বাইরে বাইরে থাকতে মোটেও কমফোর্টেবল না … প্রথম তিনদিন পারলে ঘরেই বসে থাকি, সেখানে মাঠে গিয়ে স্পোর্টস-এর দৌড়াদৌড়ি, তাও আবার এমন একটা জায়গায় যেইখানে ভালো টয়লেট মানে ওই জগন্নাথ হল থেকে ১৫/২০ টাকা রিকশাভাড়ার দূরত্বে গিয়ে কমার্স ফ্যাকাল্টির কমনরুম!  ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওইখানে যাবো নাকি আমি?

কি যে হবে আল্লাহ-ই জানে! …

সে যাই হোক, আজকে আর লিখবো না … এমনিতেও ল্যাপটপে চার্জ শূণ্যের কোঠায়, তারওপর আমার প্রচণ্ড ক্ষুধা লেগেছে … রীতিমতো পেট ব্যথা করা ক্ষুধা … সো, লেখা শেষ করি … লেখাটা পোস্ট করেই খেতে যাবো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s