দিনযাপন । ২৫০২২০১৭

২৩ তারিখের স্পোর্টস-এর গল্প আর স্ক্লাস্টিকায় যাবার গল্প ওইদিনই লিখে ফেলবো ভেবেছিলাম ঠিকই, কিন্তু সারাদিনে দৌড়াদৌড়ি করে বাসায় ফিরে এমনই ক্লান্ত লাগছিলো যে ঘুমিয়েই গেছি। ঘুমানোর আগে স্কলাস্টিকার নাটকের ছবি পাঠানোর কথা কয়েকটা। মেইলটা পাঠিয়েছি পুরাই ঘুমের ঘোরে। উলটাপালটা কিছু যে করিনাই সেটাই ভাগ্য! …

যাই হোক, স্কুলের স্পোর্টস কেমন হবে সেটা নিয়ে আমাদের মনে মনে একটা ভয় থাকলেও শেষমেশ বেশ সফলভাবেই সবকিছু হয়েছে। এমনকি যেই মার্চপাস্ট নিয়ে খুব টেনশন ছিলো যে এইটা মনে হয় একটা হচপচ লাগবে, দেখা গেলো যখন মার্চ পাস্ট চলছে তখন সবাই খুব সুন্দরভাবে তাল মিলিয়ে মার্চ পাস্ট করলো … একটা ভালো বিষয় ছিলো যে আগের দিন রাতে বৃষ্টি হয়েছিলো, ফলে মাঠের ধুলা-বালিগুলো বসে গিয়েছিলো, আর তারপর সারাদিনে রোদের উত্তাপও বেশি বাড়েনাই … আমাদের টিচারদেরকে একটা করে ক্যাপ দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু আমি স্বভাবসুল্ভভাবে ক্যাপ উলটো করে পরে ঘুরেছি, ফলে মাথায় রোদ লাগে নাই ঠিকই, কিন্তু চামড়া পুড়েছে ঠিকই … এই সপ্তাহটা মোটামুটি সানবার্নট চেহারা নিয়েই ঘুরতে হবে মনে হয় …

ওইদিন মোটামুটি একটা দৌড়ের ওপর থাকা দিনই গেলো! … জগন্নাথ হলের মাঠের যেই টয়লেট সেইটায় আমার যাওয়ার ইচ্ছা করলো না । ফলে মাঠে থাকার সময়টুকু পানিও খাইনাই। শেষের দিকে এসে বাথরুম চাপলো, কিন্তু চেপে রাখলাম। পরে শুনলাম যে কয়েকজন স্কুলের দিকে যাবে, তো আমিও তাদের সাথে স্কুলে চলে গেলাম। কারণ এই ইউরিনের প্রেশার নিয়ে অন্তত মিরপুর পর্যন্ত যাওয়ার অবস্থা আমার ছিলো না … তো জেসমিন আপা’র গাড়িতে করে স্কুলে গিয়ে সেখানে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে, হাতমুখ ধুয়ে তারপর রওনা দিলাম … তখন অলরেডিই প্রায় ২টা বাজে … আর আমার হিসাব হচ্ছে যে সাড়ে ৪টার মধ্যে আমি বাসা থেকেই রওয়ানা দিবো স্ক্লাস্টিকার উদ্দেশ্যে! … স্কুলের সামনেই একটা সিএনজি পেলাম। মনে মনে হিসাব করছিলাম যে বাসায় গিয়েই প্রথম কাজ হবে গিজারটা ছেড়ে দিয়ে পানি গরম হবার ফাঁকে খেয়ে নেয়া, সেই ফাঁকে ক্যামেরাটাও চার্জে বসানো, আর তারপর গোসল করেই রেডি হয়ে বের হয়ে যাওয়া … এদিকে রাস্তায় সেদিন প্রচণ্ড জ্যাম … ধানমন্ডি ৭ নাম্বার থেকে কলাবাগান ফার্স্ট লেন পর্যন্ত যেতেই মনে হয় ১৫/২০ মিনিট লেগে গেলো! এর মধ্যে আবার সিএনজি’র কি হইলো, আর স্টার্ট নেয় না! অনেকক্ষণ গুতাগুতি করে শেষে সিএনজিওয়ালা অপারগতা স্বীকার করে আমাকে নামায় দিলো… এখন ওইখানে আর সিএনজি পাবো কই? … তাও হেঁটে হেঁটে অনেকটা রাস্তা আগালাম। পরে একটা রিকশা নিয়ে ২৭ নাম্বার মিনাবাজার পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে আবার সিএনজি নিলাম। সেই সিএনজিও আবার অনেকটা ঘুরে-টুরে যখন বাসা পর্যন্ত পৌঁছালো, তখন অলরেডিই প্রায় সাড়ে ৩টা বাজে! … কোনোরকমে খেয়ে-দেয়ে, গোসল করে, রেডি হয়ে যখন বের হলাম তখন বাজে পৌনে ৫টা। তাও ভালো যে মিরপুর থেকে কালশি ব্রিজ দিয়ে উত্তরা যেতে ১৫/২০ মিনিটের বেশি লাগে না ইউজুয়ালি। মোটামুটি সোয়া পাঁচটার মধ্যেই স্ক্লাস্টিকায় পৌঁছায় গেলাম …

এবার অনেকদিন পর স্ক্লাস্টিকায় যাওয়া হলো। প্রায় বছরখানেক হবে … মাঝখানে অ্যানিমাল ফার্ম-এর শো হলো, তখন আর যাওয়া হয়নাই … ইমন ভাই সম্ভবত তখন আমাকে ফোন দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময়টায় আমি জাপানিজ স্টাডিজের পড়ালেখা, স্কুলের কাজ আর অনেককিছু নিয়েই এতটা স্ট্রেসের মধ্যে ছিলাম যে আমি কারো ফোনও রিসিভ করি নাই, ফেসবুকের মেসেজেরও রিপ্লাই দেই নাই … তো পরে দেখেছিলাম যে অ্যানিমাল ফার্ম-এর শো হচ্ছে, তখন আবার খারাপও লাগছিলো যে এই নাটকটা তো মিস করে ফেললাম! … তো এবার শো হলো লর্ড অভ দ্য ফ্লাইজ-এর … এমনিতেও নাটকটা পরিচিত, কারণ গ্রুপেও মাঝখানে কয়েকদিন এই নাটকটা করা হবে বলে কথাবার্তা চলছিলো, স্ক্রিপ্ট রিডিং-ও চলছিলো … তো সেটা আর পরে হয়নাই … তো স্ক্লাস্টিকার স্টুডেন্টদের অভিনয়ে বেশ ভালোই লাগলো নাটকটা … অনেক পোক্ত কাজ মনে হলো এবার … তো স্কলাস্টিকা থেকে বের হলাম সাড়ে ৮টার দিকে … যেই সিএনজি দিয়ে গিয়েছিলাম, তাকেই বলে রেখেছিলাম যেন সাড়ে ৮টার দিকে ওইখানে চলে যায়। তো সেই সিএনজিওয়ালা, বাহাদুর ভাই, সেও সময়মতোই চলে গেলো … এদিকে স্কলাস্টিকার বাপ্পি স্যারের বাসাও মিরপুরে, ৬ নাম্বারে। তো উনিও আমার সাথেই চলে আসলেন। ( ইন ফ্যাক্ট, এর আগেরবার যখন স্কলাস্টিকায় গিয়েছি, সেবারও স্যার আর আমি একসাথে ফিরেছিলাম। তো এবার আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে স্যারকে কি বলবো যে এবারও স্যার চাইলে আমার সাথে ফিরতে পারে? নিজে যেচে পড়ে জিজ্ঞেস করাটা কি ঠিক হবে কি না, উনি আবার কি মনে করবে এইসব ভাবতে ভাবতে উনি নিজেই বলে ফেললেন যে আমার সাথে ফিরবেন…) ভালোই হলো আমার জন্য, বাড়ি ফেরার পথে গল্প করার সঙ্গী পেলাম … তো বাসায় ফিরতে ফিরতেই টের পেলাম যে আমার আসলে শরীরে শক্তি আর অবশিষ্ট নাই বসে থাকার … তারপরও আমাকে বসতে হলো … নাটকের কয়েকটা ছবি বাছাই করে পাঠানো লাগলো আল্পনা আপা আর অলোক স্যারকে। প্রেস রিলিজের সাথে পাঠাবে প্ত্রিকায়, সেজন্য আর কি। তো প্রায় ঘুমায় ঘুমায়ই সেই কাজটা করলাম … এমনকি আমি বলতেও পারবো না কখন আমি সেন্ড কমান্ডটাও প্রেস করেছি! অনেকক্ষণ চোখ লেগে জেগে ওঠার পর দেখি ঘুমের ঘোরেই আমি মেইল পাঠিয়ে দিয়েছি! …

কালকে সারাদিনে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের পরীক্ষা নিয়ে কাজ করতে করতেই গেছে … কিছু যে পড়েছি তাও না … বসে বসে ডেলফ আ-আ পরীক্ষার কিছু স্যাম্পল প্রশ্ন ঘাঁটলাম, তারপর আর কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না দেখে ইউটিউবে একটা ফ্রেঞ্চ সিরিজ দেখা শুরু করলাম। সিরিজটার নাম ‘এক্সট্রা’, এক আমেরিকান লোক ফ্রান্সে এসে কীভাবে সেখানকার ভাষা এবং সংস্কৃতির সাথে অ্যাসোসিয়েট করে সেটা নিয়ে একটা কমেডি সিরিজ। ওইটা দেখলে অন্তত লিসেনিং-এর জন্য কিছুটা উপকার হলেও হতে পারে। তো যাই হোক, পরীক্ষাটা খুব কঠিন হয়নাই। ইন ফ্যাক্ট, সকালে যেসব স্যাম্পল প্রশ্ন নামিয়েছিলাম, সেখানকারই একটা প্রশ্ন ছিলো ঐটা! আগে বুঝলে তো এইসব স্যাম্পল প্রশ্ন নামিয়ে প্রিন্ট করে প্র্যাক্টিস করে ফেলতাম! … তো পরীক্ষা বেশ ভালোই দিয়েছি, কিন্তু একজায়গায় এমন একটা ভুল করে আসছি যে পরে সেটা নিয়ে নিজেই হাসতে হাসতে শেষ হয়ে গেলাম … একটা প্রশ্ন ছিলো, সেখানে পাসপোর্টের ফর্ম ফিলাপ করতে হয় … তো ওইখানে মূলতঃ দেখে যে ফ্রেঞ্চ ভাষায় যে ইন্সট্রাকশনগুলো থাকে সেগুলো বুঝে বুঝে ঠিক জায়গায় ঠিক জিনিসটা লিখছি কি না … যেমন, কোনটা ‘ডেট অভ বার্থ’, কোনটা ‘প্লেস অভ বার্থ’ এইসব বুঝতে পারছি কি না … তো একটা জায়গায় ছিলো ‘কালার অভ আই’ … আমার হঠাৎ মাথায় কি কাজ করলো, আমি ‘ব্ল্যাক’ এর ফ্রেঞ্চ হিসেবে ‘ব্লঙ্ক’ লিখে দিলাম। অনেকক্ষণ পরে, অলরেডি তখন পেপার জমা দিয়ে ক্লাসের নর্মাল একটা এক্সারসাইজ করছি, সেখানে একটা জায়গায় ‘হোয়াইট’ এর ফ্রেঞ্চ লিখতে গিয়ে খেয়াল হলো যে ‘ব্লঙ্ক’ মানে তো ফ্রেঞ্চ ভাষায় সাদা রঙ, আর কালো হচ্ছে ‘নোয়া!’ … প্রচণ্ড হাসি পেলো তখন! … আমি যেটা লিখসি তাতে কি দাঁড়ালো? আমার চোখের মণির রঙ সাদা! …

গতকালকে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো ছিলো শিল্পকলায়। তার আগে কণা’র স্মরণে একটা সেশন ছিলো … ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের পরীক্ষার জন্য তো আর যাওয়া হলো না … কি অদ্ভুত না? জলজ্যান্ত একটা মানুষ কীভাবে করে এখন ইন্সটলেশন হয়ে গেলো! আজকে সকালে বসে বসে দেখছিলাম গতকালকের ছবিগুলো … কণার অনেকগুলো ছবি নিয়ে একটা বড় ছবি বানানো হয়েছে … ওর একার ছবি, গ্রুপের সবার সাথে বিভিন্ন সময়ের ছবি … কালকে শো-এর সময়, ওর জন্য ট্রিবিউট সেশনের সময় থাকলে হয়তো খুব ভালো লাগতো না কিছুই … যত যাই হোক, সারাজীবন মনের মধ্যে অন্তত এঈ খচখচানি তো থাকবে যে ওইদিন আমি, কিংবা শাফায়াৎ আর শুভ সহ আমরা ৩/৪ জন কি একটু দৌড়াদৌড়ি করে ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ও বেঁচে যাইতো? …

আজকের কাহিনীতে আসি এবার … আজকে স্কুলের পিকনিক ছিলো … আমার যাওয়ার কথা ছিলো … টাকাও জমা দিসিলাম … কিন্তু আমি যাই নাই … গত কয়েকদিন ধরেই যেই ভয়টা পাচ্ছিলাম যে স্পোর্টস-এর দিনই না পিরিয়ড থাকে, সেইটা হয় নাই … কিন্তু গতকাল থেকে পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলো, আর পিরিয়ডের প্রথম দুই/তিন দিন মানে তো প্রায় রক্তগঙ্গা বয়ে যাওয়ার অবস্থা হয় আমার … এই অবস্থায় আজকে আমি আর পিকনিকের জার্নি করার রিস্ক নিলাম না … ওষুধ খেয়েও আমার প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে একবার করে প্যাড চেঞ্জ করতে হবে, সারাদিন পিকনিকের মধ্যে বাইরে কোথায় এইসব করবো? … আর মাথায় মধ্যে এই চেঞ্জ করার টেনশন নিয়ে আর যাই হোক সবার মধ্যে থেকে হই-হুল্লোড় করা যায় না … সেকারণে কালকে ময়না আপাকে ফোন করে জানায় দিলাম যে যাবো না … ব্যাপারটা নিয়ে মন খারাপ করার জায়গাটাকে খুব নিয়ন্ত্রণ করে রাখছি ‘এইটাই কপাল’ টাইপ দীর্ঘশ্বাস ফেলে! … কালকে দেখা যাবে স্কুলে যাওয়ার পর ‘আরেহ! তুমি গেলা না কেন?’ প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া লাগবে সারাটাদিন …

যাই হোক, আজকে আর লিখবো না … আজকে সারাদিনের কোনো বিশেষ ঘটনা তো নাই … যেহেতু পিকনিকে যাইনাই, তাই বিকালবেলা ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের ক্লাসে গেছি, আর তার আগে পর্যন্ত দিনের বেলাটা আলসেমি করেই কাটিয়েছি …

আর ইচ্ছা করছে না আজকে লিখতে … অতএব এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s