দিনযাপন । ১৭০৪২০১৭

শেষ দিনযাপন পোস্ট করেছিলাম মনে হয় ফেব্রুয়ারির ২৩/২৪ তারিখের দিকে … তারপর মার্চের ২৩ তারিখে দিনযাপন লেখা শুরু করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেটা শেষ করা হয়নি … আজকে ১৭ এপ্রিল ২০১৭ এই প্রবোধ নিয়েই দিনযাপন লিখতে বসেছি যে ‘নো ম্যাটার হোয়াট’ আজকের দিনযাপন লিখে শেষ করে পোস্ট করবোই …

ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের ওই লম্বা সময়টায় দিনযাপন না লেখার জেনুইন কারণ ছিল। আসুস-এর যেই নেটবুকটা ইউজ করছিলাম সেটার হার্ডডিস্ক সংক্রান্ত ইস্যুতে ওইটা বারবার হ্যাং হয়ে যেতো। একপর্যায়ে ওইটা কাজ করার অনুপযুক্তই হয়ে গেলো। দেখা যেতো যে কয়েকবার করে ফোর্স শাট ডাউন দেয়ার পরে ওইটা চালু হতো, তারপর আবার কাজ শুরু করলেই কিছুক্ষণের মধ্যে হ্যাং হয়ে যেতো … শেষমেশ ঈদের সময় পর্যন্ত টাকা জমিয়ে ম্যাকবুক কেনার প্ল্যানটা অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে এসে যা টাকা জমেছিলো তার সাথে আরও কিছু টাকা ধারদেনা করে শেষে একটা ম্যাকবুক এয়ার কিনলাম … আর তারপর যেটা হলো যে স্কুলের কাজকর্ম এতটাই অকুপাইড হয়ে গেলাম যে দিনযাপন লিখতে বসার এনার্জি আর আগ্রহ কোনোটাই ব্যাটে-বলে মিললো না …

যাই হোক, আজকে তো লিখতে বসছি ফাইনালি!

গত কয়েকদিন ধরেই লিখবো লিখবো করতে করতে আর লিখতে বসা হয়নাই … কিন্তু আজকে একটা ঘটনার প্রেক্ষিতে মাথার মধ্যে কিছু চিন্তা ভাবনা ঘুরপাক খাওয়া শুরু করেছে … চিন্তাগুলো গোছানো না, কিন্তু লিখতে লিখতে যতটুকু গুছিয়ে নেয়া যায় আর কি! …

যেমন … মানে … আমি এখানে মেনশন করবো না আর কি যে কি ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার মধ্যে এই চিন্তাগুলোর উদয় হলো … ঐটুকু এন্টারটেইনমেন্ট আমি না হয় আপাতত আমার নিজের মধ্যেই রাখলাম …

একটা জিনিস আমি প্রায়ই ভাবি … সেটা হচ্ছে যে আমার আশেপাশে যাদের আমি চিনি, তাদের প্রত্যেকেরই আমার জীবনের গল্পের অংশ হবার কিংবা আমি তাদের জীবনের গল্পের অংশ হবার পেছনে কোনো না কোনো কারণ আছে … সময়ে সময়ে এই পরিচয়গুলোর বিভিন্ন রকমের ডাইমেনশনগুলো বের হয়ে আসে … যেমন, একটা ছোটো উদাহরণ যদি এমন হয় যে, কাশফিয়া আপু আমার কলিগ, আবার তার এক ভাগ্নী-জামাই অমিতের ফ্রেন্ড পৃথার বড় ভাই … কিংবা অই যে, চারুর বিয়েতে গিয়ে দেখলাম যে নোবেল ভাইয়ের এক প্রাক্তন প্রেমিকা চারুর জামাইয়ের আপন মামাতো বোন না ফুপাতো বোন… এইরকমের বিভিন্ন টাইপের কানেকশনগুলো আমার অনেক ইন্টেরেস্টিং লাগে … তবে সেটা আরও ইন্টেরেস্টিং হয় তখনই যখন এমন এমন কিছু মানুষ, যাদের সাথে আমার হয়তো কখনো কোনোরকম ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট ছিলো, তাদের ব্যাপারে আউট অভ নো হয়্যার এমন কিছু রেফারেন্স পাই যাতে করে সেই ব্যক্তি কিংবা যার সাথে রেফারেন্সটা কানেক্টেড সেই দ্বিতীয় ব্যক্তির ব্যাপারে আমার যাবতীয় ডাটাবেস নতুন করে সাজানোর অবস্থা হয়! … পৃথিবীটা আসলে কতটা মাকড়সার জালের মতো জটিল! … আর তখনই মনে হতে থাকে, আমি হয়তো বা কোনো এক গল্পকারের চরিত্র, আর আমার মতোই আমার পরিচিত মানুষগুলোও … যখনই এমন কিছু কানেকশন তৈরি হয় যে দুই প্রান্তের দুই পরিচিত ব্যক্তির মধ্যে একটা রেফারেন্স তৈরি হয়, তখনই মনে হতে থাকে যে গল্পকার জেনে-বুঝে গল্পে একটা টুইস্ট আনলো মাত্র! …

আর আমি তারপর পরবর্তী টুইস্টগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকি! …

17309701_1031963566939479_3647410789815246919_n

কয়েকদিন আগে একজন ঘটনাচক্রে আমাকে বলেছে যে বছর দুই/তিন আগের কিছু একটা নাকি সামনে আবার ফিরে আসবে … যে বলেছে সে কাইন্ড অফ ফরচুন টেলার এবং চেহারা দেখেই প্রথমে যা যা বলে দিয়েছেন তাতে করে তার কথায় বিশ্বাস না করার কোনো উপায় নাই … প্রথমে উনি যখন বলেছেন, আমি ভাবছিলাম সোহেল সংক্রান্ত কিছু একটা … ভাবছিলাম যে সোহেল আবার যোগাযোগ করা শুরু করবে না কি, ভুল হয়ে গেছে আবার মাপ-টাপ চাওয়া শুরু করবে নাকি ইত্যাদি ইত্যাদি … তারপর মনে মনে আল্লাহ-খোদার নাম নেয়াও শুরু করলাম যে এই ঘটনা কোনোভাবে ঘটুক তা আমি মোটেই চাই না … নতুন কারো সাথেই আমি যেখানে কোনোরকমের কোনো সম্পর্কে থাকতে চাই না, সেখানে সোহেল তো তালিকারই বাইরে! ও আমার সামনে আসলে স্রেফ খুনাখুনিই হতে পারে, আর কিছুই না! … তো, কয়েকদিন এইটা নিয়ে একটু বিরক্তই ছিলাম … পরে মনে হলো যে এত চিন্তা করে লাভ কি? … দেখতে থাকি, কি হয়! কি ‘কাম ব্যাক’ করে! … হতেই পারে, যাই-ই ঘটবে বলে উনি বলেছে, সেটা আজকে কালকেই ঘটবে না, হয়তো এক বছর, দুই বছরও ‘রিসেন্ট’  -এর হিসেবের মধ্যেই পড়ে!

মাঝখানে একদিন ক্লাস ফোরে ক্লাস নিতে গিয়ে বিভিন্ন কথাপ্রসঙ্গে অ্যানিমে নিয়ে কথা হচ্ছিলো স্টুডেন্ট-দের সাথে … তো, ডেথ নোট-এর প্রসঙ্গ আসলো … ক্লাস ফোরের বাচ্চা বুঝুক না বুঝুক ডেথ নোট দেখে মহা এক্সাইটেড … তো এরকম একজনের ফিলিংস শেয়ারের প্রসঙ্গে আমি বলছিলাম যে আমার কাছে একটা ডেথ নোট আছে, যেটা আমি একটা কমিকন থেকে কিনেছিলাম, কিন্তু আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় ওখানে কারো কারো নাম লিখে দেখি যে সত্যিই কিছু হয় কি না! … মনে মনে আমি সোহেলের কথাই বুঝাচ্ছিলাম … সত্যি সত্যিই মাঝে মাঝে আমার মনে হয় যে এরকম হতো যে আমি ওই নোটবুকটায় সোহেলের নাম লিখলাম আর ও মরে গেলো!

আরেকদিন সিরিয়াল কিলার নিয়ে কথা হচ্ছিলো … আমি কথায় কথায় বলছিলাম যে ছোটোবেলায় আমার মনে হইতো যে পৃথিবীতে যত মানুষের ওপর আমার রাগ আছে, আমি বড় হয়ে সিরিয়াল কিলার হয়ে ওদের সবাইকে মেরে ফেলবো … কেউ একজন হিসাব করতে শুরু করলো যে ক্লাসের মধ্যে অনেকেই সিরিয়াল কিলার, কারণ তারা প্রায়ই সিরিয়ালি মশা মারে! … আমার মুখ ফস্কে বের হয়ে গেলো, ‘আই হ্যাভ ইভেন কিলড আ হিউম্যান’ … এক মুহুর্তের জন্য পুরো ক্লাস পিন ড্রপ সাইলেন্ট হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো … কে কি বুঝেছে আমি জানি না! … নিজেরই কেমন অদ্ভুত লাগছিলো … মনে হচ্ছিলো কেউ যেন কথাটা আমাকে দিয়ে বলিয়ে দিয়েছে! … কোনো এক স্টুডেন্ট, সে কি বুঝেছে না বুঝেছে জানি না, ‘আরেহ! মিস ওয়ান্টেড সে দ্যাট শি কিল্ড আ মসকিউটো নেমড হিউ ম্যান’ বলে সেই সাইলেন্স ভাঙলো! … ক্লাস ফোরের একটা বাচ্চার কি আমার মুখ ফস্কে বের হয়ে যাওয়া কথার আসল অর্থ আদৌ বোঝার ক্ষমতা আছে? …

দিনযাপনের লেখাটা জমছে না … যেই ঘটনাটার প্রেক্ষিতে আজকে আসলে দিনযাপন লেখার তাগিদ পেলাম, সেই ঘটনাটা লিখতে পারলে হয়তো আরেকটু গভীরতা থাকতো … তার ওপর মন পড়ে আছে গ্রিম-এর সিজন সিক্স-এ … ৫ নাম্বার এপিসোডটা দেখা শুরু করেছিলাম,তারপর সেটা ৭ মিনিটের মাথায় থামিয়ে দিয়ে দিনযাপন লিখতে শুরু করলাম … এখন দিনযাপন লেখা শেষ করে ভাত খেতে খেতে সেই এপিসোডটা দেখে শেষ করবো …

আপাতত নিজের ব্যাপারে একটা আপডেট দিয়ে আজকের লেখা শেষ করি … প্রায় মাসখানেক হয়ে গেলো আমার পিরিয়ড হচ্ছে না! গত মাসের শিডিউলড উইক পার করে আরেকটা সাইকেল অলরেডি প্রায় শেষ, কিন্তু পিরিয়ডের কোনো চিহ্ন নাই … প্রতিদিনই ভাবছি আজকে হয়তো হবে, কিন্তু হচ্ছে না! … যতরকমের হরমোনাল প্রবলেম থাকুক, একমাত্র ২০১৪ সালের ওই ইন্সিডেন্ট ছাড়া এমনিতে কখনোই আমার পিরিয়ডিক সাইকেল বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেনাই … কি জানি! টিউমারটা হয়তো বেশ জোরে-শোরেই অ্যাকশনে নেমেছে … নামুক! তাও ভালো! ক্যানসার- ট্যান্সার জাতীয় কিছুতে টার্ন নিক, মরে টরে যাই … জীবনের অনেক কিছুই ইদানীং খুব বোরিং হয়ে যাচ্ছে! … অন্তত, একটা চেঞ্জ তো আসবে!

ওহ! এর মধ্যে তো ফ্রেঞ্চ কোর্স-এর ডেলফ আ-আ লেভেলের ইন্টারন্যাশনাল পরীক্ষাও হয়েছে। তাতে ৮৩.৫ স্কোর করে পাশ করেছি … অনেকেই দেখলাম ৯০-এর উপরে পেয়েছে … আমার তো লিসেনিং পার্টটাতেই অনেক কম নাম্বার চলে আসছে … যাই হোক, এইটুকুই যে পেরেছি আমার জন্য তাই-ই অনেক … এবার আ-দো লেভেলে ছয় মাসের ইন্টেন্সিভ কোর্স না নিয়ে এক বছরের এক্সটেনসিভ কোর্সটা নিয়েছি … শুক্রবার সকালে ক্লাস করতে যেতে হয় এখন … সপ্তাহে ৬ দিন ভোরবেলা উঠতে হয় এটা একটা পেইন … কিতু উইকেন্ড-এর দুইটা দিনই অন্তত নষ্ট হচ্ছে না, আর সকালে ক্লাস করার কারণে শুক্রবার দিনের বাকি অংশটা পুরোটাই কাজে লাগাতে পারছি …

যাই হোক, বহুত লিখসি আজকে … ক্ষুধা লেগেছে … খেতে যাই …       

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s