দিনযাপন । ১৩০৫২০১৭

আহা! কতদিন পর আজকে একটা সন্ধ্যা যেখানে পরবর্তী দিনের জন্য কপি চেকিং-এর টেনশন নাই, ওয়ার্কশিট তৈরির চিন্তা নাই, ক্লাসে কোন টপিকটা কিভাবে পড়াবো সে ব্যাপারে মাথাব্যথা নাই! … যেকোনো টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবার আগে আগে এই সময়টা বেশ ভালো লাগে, যখন মাত্র পরীক্ষা শুরু হয় আর হাতে তখনও খাতা এসে হাজির হয় না! … এই যেমন, এইবার আমার ১৭ তারিখ পর্যন্ত খাতা দেখা-দেখির ঝামেলা নাই … ১৭ আর ১৮ তারিখ মিলিয়ে ৫ সেট খাতা আসবে, তারপর মোটামুটি জুনের ১ তারিখ পর্যন্ত নাভিশ্বাস উঠার মতো অবস্থায় খাতা দেখবো আর মার্কস কাউন্ট করবো …

যাই হোক, আজকে আবার সন্ধ্যায় গ্রুপে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এত মাথা ব্যথা করছিলো আর ক্লান্ত লাগছিলো যে দুপুরে খেয়ে দেয়ে ঘুম দিলাম … গত ৪/৫ দিন হলো দীর্ঘদিন পরে আবার টানা গ্রুপে যাওয়া হচ্ছে। বনমানুষ-এর শো হবে ১৬ তারিখ। তো নতুন কিছু সাবস্টিটিউট লাগবে, তাদের আবার নাচ-গান এইসব ওঠানোর বিষয় আছে। তাই একটা ছোটোখাটো ওয়ার্কশপের মতোই হয়ে গেলো। আমি আবার অনেকদিন থেকেই ‘খালা’ ক্যারেক্টারটা উঠাবো বলে ভাবছিলাম। সেকারণে আমিও এই সুযোগে এই ওয়ার্কশপের ভেতরে সেই ক্যারেক্টারটা নিয়ে কাজ করলাম। সে কারণেই গত ৮ তারিখ থেকে রেগুলারই গ্রুপে সময় দিচ্ছি। আজকে স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয় গেছে, আর যেহেতু কপি চেকিং-টেকিং এর ঝামেলা নাই তাই টিচাররা কেউ থাকেও নাই বেশিক্ষণ। ফলে আমিই বা খালি স্কুলে বসে থেকে কি করবো চিন্তা করে বাসায় চলে আসলাম। ভাবলাম যে বাসায় এসে খেয়েদেয়ে, গোসল করে তারপর আবার বিকালে ৫টার দিকে বের হবো। কিন্তু গতকালকে রাতে ভালো ঘুমও হয়নাই, আবার আজকের প্রচণ্ড রোদের কারণেই কি না জানি না, প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হলো … ফলে সাড়ে ৪টার দিকে রেডি হবার বদলে ঘুমিয়ে গেলাম।

17361854_1852826441623711_1519773914481962798_n

স্কুল খোলা থাকলে গ্রুপে যাওয়ার ব্যাপারটা এত হেক্টিক হয়ে যায়! এই যে গত কয়েকদিন ধরে গ্রুপে যাচ্ছি, তাতে ভালো যা যা কিছু হচ্ছে তার সাথে সাথে খরচটাও হচ্ছে ডাবল! সকালে স্কুলে যাচ্ছি, তখন ভাড়া লাগছে না। বিল্লাল নামে যেই সিএনজিওয়ালা প্রতিদিন আমাকে নিয়ে যায়, উনি প্রতিদিনের ভাড়া প্রতিদিন নেয় না, একবারে ২/৩ হাজার টাকা করে নেয়। ফলে দৈনিক খরচ হিসেবে আমার আসলে ফেরার পথের ২৫০/৩০০টাকাই খরচ হয়। গ্রুপ থেকে ফেরার সময় রাত হয়ে যায়, সিএনজি পাবো কি পাবো না, কিরকম সিএনজি হবে না হবে চিন্তা করে উবার ডেকে ফেলি। উবারে খরচ পড়ে যায় প্রায় ৪০০/৫০০ টাকা। অবশ্য যত রাত করে আসি, ততই ভাড়াও কম উঠে। তারপরও, ৩৫০/৪০০ টাকা মানেও তো প্রায় ১৫০/২০০ টাকা বেশি খরচ! … হয়তো এভাবে ভাবা যায় যে বিল্লাল ভাই প্রতিদিন ভাড়া নিলে তো তাকেও আমার ২৫০ টাকা ডেইলি-ই দিতে হতো … কিন্তু, ঝামেলা যেটা হয় যে, স্কুল শেষ হয় ২টার দিকে, আর তারপর ৬টা/সাড়ে ৬টা সময় গ্রুপে আসতে হলে মাঝখানের ওই ৪টা ঘণ্টা কোথায় কাটাবো সেটাই ক্রাইসিস হয়ে দাঁড়ায়। স্কুল করার পর একটু শান্তিতে গোসল করে ড্রেসটা চেঞ্জ না করে গ্রুপে গেলে নিজেকে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগতে থাকে। যেহেতু প্রতিদিন মানুষের বাসায় গিয়ে গিয়ে সেটা করা সম্ভব না, তাই বেস্ট অপশন বাসায় চলে আসা। আর তা যদি করি, এবং এভাবে যদি প্রতিদিন গ্রুপে যাই তাহলে আমার ডেইলি খরচই দাঁড়াবে প্রায় ১০০০টাকায়!

এম্নিতেই ২২হাজার টাকা বেতনের ১৫ হাজার টাকাই সিএনজি ভাড়ার পেছনেই যায়। তখন তো বেতনের টাকা একটা ফুটা পয়সাও থাকবেই না, উল্টা আরও টাকা লাগবে! …

এই স্কুল আর গ্রুপ টাইমের মাঝখানের সময়টার যে কি সমাধান করতে পারবো, বা আদৌ কবে পারবো জানি না! অন্তত মাঝখানে কোনো কাজ করতে চাই না … একেবারে গোসল, খাওয়া, ঘণ্টাখানেক রেস্ট, তারপর এককাপ চা খেয়ে রেডি হয়ে গ্রুপ … এইটাই হিটে হবে, কিন্তু সেটা অন্তত আমার নিজের বাসায় এসে করাটা যতটা আরামদায়ক, ততটাই ব্যয়বহুল! …

স্কুলটা মিরপুরের কোথাও হতো, তাও পোষাতো!

কিন্তু, এই কয়েকদিন গ্রুপে গিয়ে আসলে রেগুলার গ্রুপে যেতে না পারার খামচি মারা দুঃখটা আরও বেশি করে ভেতরে মোচড় দিচ্ছে … এই যে গ্রুপে যাই, কাজ হোক বা না হোক, কিছু মানুষের সাথে একটা সুন্দর সময় কাটে, হাহা-হিহি আড্ডাবাজি হয়, অন্তত এটা তো প্রচণ্ড ভালো বোধ করায়! … নিজেকে কিংবা অনেক কিছুকে ভুলে থাকতে পারার এই টনিকটা শুধুমাত্র বাড়ির দূরত্বের কারণে কিভাবে দূরে দূরে সরে যাচ্ছে! …

যাই হোক, আজকে অন্তত ‘কাজ নাই’ সন্ধ্যার অবকাশে দিনযাপন লিখতে বসলাম … দিনযাপনও প্রতিদিনই লিখতে মন চায়, কিন্তু মনে হয় যে দিনযাপন লিখতে বসলেই যে ঘণ্টা খানেক/ দেড়েক সময় ব্যয় হবে ওইটুকু সময়ে মনে হয় অনেককিছু করে ফেলা যাবে! … ফলে আর দিনযাপন লিখতে বসা হয়না … আগামী কয়েকদিন হয়তো একটু লেখালেখির ফুরসৎ হবে।

আজকে এতদিন পড়ে লিখতে বসেছি, তাও এমন একটা ইভেন্টলেস দিনে যে আদৌ কি নিয়ে লিখবো বুঝতে পারছি না … মানে, পারটিকুলারলি মেনশন করার মতো কোনো ইভেন্ট আজকে নাই আর কি …

তাইলে আর কি! আজকের মতো লেখায় ইস্তফা দেই … দেখি একটু ফাইল-পত্র গুছানো যায় কি না … এইবারের টার্মটা খুব গুছিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু শেষের দিকে, মানে এই মাস-টাতে এসে কিঞ্চিত আউলা-ঝাউলা হয়ে গেছে সব … এখন যেহেতু একটু সুযোগ পেয়েছিই, গুছিয়েই নেই কাগজপত্রগুলো …

শেষ করি আজকে …  টিল নেক্সট টাইম … চাঁও! 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s