দিনযাপন । ১৯০৫২০১৭

পরীক্ষার খাতা হাতে আসার সাথে সাথে কেমন জানি একটা বাচ্চাসুলভ উত্তেজনা কাজ করতে থাকে। মনে হয় যে কতক্ষণে খাতা দেখে শেষ করবো, আর তারপর হিসাব করে বের করবো কে কত পেলো, কে পাশ করলো, কে ফেইল করলো, আবার যে ফেইল করলো তাকে এক-দুই নাম্বার কোথাও বাড়ায় দিয়ে পাশ করিয়ে দেয়া যায় কি না … কিন্তু খাতা নিয়ে যখন বসি, তখন আবার মনে হতে থাকে যে ধুর! এত খাতা! ভাল্লাগেনা খাতা দেখা! … তখন ৫/৬ টা খাতা দেখার পরেই আবার সব গুছিয়ে রেখে অন্য কাজ করতে থাকি …

অন্যদিন বিকালে ঘুমালে সন্ধ্যা পার হয়ে রাত প্রায় ৮টা বেজে যায় তারপর উঠি … আর আজকে ৪টা কি সাড়ে ৪টার দিকে মনে হয় ঘুমালাম, ঘুম ভেঙ্গে গেলো ৬টার দিকেই … সারা সন্ধ্যা কি করবো ভাবতে ভাবতে খাতা নিয়ে বসলাম, তারপর আবার কিছুক্ষণ আগামী টার্মের সিলেবাস রেডি করা যায় কি না সেটা নিয়ে গবেষণা করলাম … শেষমেশ কিছুই করতে ভালো লাগছে না দেখে দিনযাপন লিখতে বসেছি …

কয়েকদিন ধরে এত গরম! গোসল করে বাথরুম থেকে বের হবার আগেই মনে হয় যে আবার ঘেমে আঠা-আঠা হয়ে গেছে শরীর! ফ্যানের বাতাস গায়ে লাগে না মোটেই! … স্কুল থেকে দুপুরবেলা যখন ফিরি, সিএনজির মধ্যে মনে হয় যেন সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছি … আরাম পাওয়ার জন্য দুপুরবেলায় উবার সার্ভিস নেয়া যেতে পারে, কিন্তু তাতে করে যে এক্সট্রা টাকাটা খরচ হবে সেটাকে মনে হয় বিলাসিতা! রাতের বেলা কাঁটাবন থেকে উবার-এর গাড়ি দিয়ে ফিরি,সেটার তো তাও একটা যুক্তি আছে যে রাতের বেলা সিএনজি’র চেয়ে উবার-এর গাড়িতে একা আসা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ! কিন্তু দুপুরবেলা শুধুমাত্র গরম থেকে আরাম পাওয়ার জন্য এসি’রলোভে উবারে চড়াটা একটু বেশি বেশিই হয়ে যায়! …

যাই হোক, গরমে অসহ্য দিন তো কাটছেই … এর মধ্যে এখন আবার কি এক চিকুনগুনিয়া রোগ হচ্ছে সবার … তাতে নাকি খুব জ্বর আসে, আর শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যথা করে। স্কুলে টিচারদের কয়েকজনের হয়েছে, স্টুডেন্টরাও অনেকেই এতে এফেক্টেড, বুয়াদেরও কার কার নাকি হয়েছে বা হবে হবে করছে … আমি খালি মনে মনে আশা করে যাচ্ছি যে আমার যাতে এই ছাতা-মাথা’র অসুখ না হয় … এম্নিতেই শরীরের হাড্ডি-গুড্ডি ব্যথা করে, রিউমেটিক ফিভারের ধাঁচ আছে, আর সাথে যদি এই চিকুনগুনিয়া হয়, তাইলে সব কাজ-কর্ম গুটায় বাসায় বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এই চিকুনগুনিয়ার ব্যথা নাকি প্রায় ছয় মাস, এমনকি এক বছর পর্যন্তও থাকে!

17353213_1027317814070721_1979846623714086168_n

ভাবছি, আবারো একটা ঘর গোছানো প্রজেক্ট হাতে নিতে হবে। এক্টা-দুইটা জিনিস আবার এদিক-সেদিক করবো, শেলফটা গোছাবো … এবারের ঈদে একটা কেবিনেট বানাবো প্ল্যান করেছিলাম, শাড়ি রাখার জন্য … তবে, একটু মাল্টিপারপাস ডিজাইন হবে আর কি … একই সাথে আয়না থাকবে, আবার আয়রন করার মতো একটা অপশন-ও থাকবে … এইসব এইসব ভেবে মনে মনে একটা ডিজাইন করে রেখেছিলাম … কাঠ দিয়ে বানালে হয়তো খরচ বেশি পড়বে, সেক্ষেত্রে আপাতত ভাবছি বোর্ড দিয়েই বানিয়ে ফেলবো … আমার যে কত শাড়ি হয়েছে, হিসাবও নাই … এমনকি অনেকদিন পর পর শাড়ি পড়তে গিয়ে নিজেই নতুন করে আবিষ্কার করি যে ‘আমার এই শাড়ি আবার কবে কিনলাম’! এই তো আজকেই একটু আগে অনলাইন একটা গ্রুপে একটা শাড়ি দেখে দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে অর্ডার দিয়ে দিয়েছি! আরেকটা শাড়িও পছন্দ হয়েছে, ভাবছি ওইটাও দিয়ে দিবো … শাড়ি খালি বেড়েই যাচ্ছে, অথচ পরা হচ্ছে না … স্কুলে রেগুলার শাড়ি পরতে ইচ্ছা করে না … একে তো সারাদিন দৌড়াদৌড়ি, তাছাড়াথেকে স্কুলে যাওয়া-আসাতেই আমি অর্ধেক টায়ার্ড হয়ে যাই, শাড়ি পরে গেলে শাড়ি আর শাড়ির জায়গায় থাকে না! আর এরকম গরম হইলে তো কথাই নাই! … হইতো যে গাড়ি দিয়ে যাই আসি, এসির বাতাসে ঠাণ্ডা হয়ে থাকতে পারি, স্কুলেও এসি আছে, তাইলে শাড়ি পরে থাকাটা গায়েই লাগতো না! …

এদিকে, ইদানীং আরেক যন্ত্রণা শুরু হয়েছে … চূল বড় করার ইরাদা নিয়েছি, তাই এই গরমে চুল কাটছি না … আর এখন চুল প্রায় ঘাড় ছাড়িয়ে পিঠের কাছাকাছি নেমে এসেছে … এম্নিতেই চুল শুকায় না, আবার চুল খোলাও রাখতে পারি না … চুল খুলে রাখলেই পিঠ ঘেমে গিয়ে চুলকাতে শুরু করে, আবার চুল বেঁধে রাখলে কিছুক্ষণ পরে মাথা ব্যথা শুরু হয় … আজিব সব যন্ত্রণার মধ্যে আছি! … অন্যসময় হোলে হয়তো রেগে-মেগে এদ্দিনে নিজেই নিজের চুল কেটে ছোটো করে ফেলতাম … কিন্তু এবার পাক্কা প্রমিজ করেছি মনে মনে যে চুল বড় করবো, তো করবোই! … একটা হেয়ার ড্রায়ার কেনা যেতে পারে সেক্ষেত্রে! … দুর্দিনে অন্তত চুল শুকানোর জন্য কাজে দেবে … আড় ভাবছি যে টেবিল ফ্যানটাও প্যাকেট থেকে নামিয়ে আবার কানেকশন দেবো … চুল শুকানোর জন্য ওটাও বেশ ভালো সার্ভিস দেয় …

তবে, জুনের ১১/১২ তারিখের আগে এইসব করার সময় পাবো বলে মনে হয় না… এম্নিতেই ১০ তারিখে স্কুলে রিপোর্ট কার্ড ডে, তার মধ্যে আবার ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও পরীক্ষা জুনের ৯ তারিখেই পড়েছে! … এর মধ্যেই আবার কিনু কাহারের থেটার-এর ইংলিশ সাবটাইটেল-এর একটা কাজও শেষ করতে হবে … ফলে মোটামুটি জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত সেই ব্যস্ত থাকবো … তারপরে স্কুল ছুটি হয়ে যাবে … ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও ব্রেক আছে … তখন এইসব ঘর গোছানো, ফ্যান সেট করা, হেয়ার ড্রায়ার কেনা টাইপ কাজকর্ম করে ফেলতে হবে …

এবার তো আবার ঈদের সময়ও লম্বা টাইমের জন্য থাকবো না … টিয়ামরা কক্সবাজারে ঈদ করার প্ল্যান করেছে, হোটেল-টোটেলও বুকিং দিয়ে দিয়েছে … তো মোটামুটি ২৪ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত মনে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার এইসব জায়গাতেই থাকবো … তারপর ঢাকায় ফিরে পরের দুই সপ্তাহের জন্য খালি স্কুলের নতুন সেশনের কাজ করবো …

যাই হোক, আজকে আর লেখার মতো কিছু নাই … আপাতত অফ যাই …   

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s