দিনযাপন । ২৭০৫২০১৭

আজকে মোটের ওপর একটা আলসেমি করা দিন গেলো … বলা যায় যে একেবারে স্বেচ্ছায়ই এই আলসেমিপনা বেছে নিয়েছি আজকে! … না জানি কতদিন পরে আজকে এমন একটা দিন গেলো যে পরেরদিনের জন্য কোনো কাজ তৈরি করার নেই। সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেছে সাড়ে ৫টার দিকে, কিন্তু তারপর আবার জোর করে ঘুমিয়েছি প্রায় বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। শুয়ে থেকে থেকে পিঠ-কোমর ব্যথা করতে শুরু না করলে হয়তো আরও ঘুমাতাম।

আর আজকে সারাটাদিন আসলে বিছানায় গড়াগড়ি করেই কাটালাম। শুয়ে শুয়ে , আধশোয়া হয়ে, বসে থেকে সিনেমা দেখেছি একের পর এক। সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে দেখতে। এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই স্বপ্নের যেটুকু সকালবেলা শুয়ে শুয়ে রিকল করেছি, সারাদিনে তার এক লাইনও ভুলিনাই! মনে হচ্ছে এখন লিখতে শুরু করলে একেবারে ডিটেইল কি কি ঘটেছে লিখে ফেলতে পারবো!

স্বপ্নটার প্রথম অংশটুকু কেমন ছাড়াছাড়া মনে আছে। আমি কোথায় কোথায় জানি রাস্তায় ঘুরলাম … একবার মনে হলো জায়গাটা উত্তরার দিকে কোথাও, নাকি মিরপুর … এর মধ্যে এইটুকুই মনে আছে যে আমি এইরকম ঘুরতে ঘুরতে একটা জায়গায় এসে পৌঁছালাম। সম্ভবত ওই জায়গাটাই খুঁজছিলাম। তো আমি যেখানে যাবো, সেই বিল্ডিং-এ উঠবার সিঁড়ি ভয়ঙ্কর রকমের খাঁড়া বা এরকম কিছু একটা সমস্যা … পাশের বিল্ডিং-এর ভেতর দিয়ে একটা শর্টকাট আছে … তো ওই বিল্ডিং-এ ঢুকে দেখি ওইটা সাইকায়াট্রিস্ট ফুটা ভাইয়ের অফিস, আর সেটার ভেতর দিয়ে, একটা দুইটা সিঁড়ি দিয়ে নেমে, আবার কই কই ঢুকে শেষমেশ যেখানে গেলাম, সেখানে গিয়েছিলাম অন্য কোনো কাজে, কিন্তু তারপর আবিষ্কার করলাম যে ওখানে যেই ঘরটায় আমি দাঁড়িয়ে আছি সেটাতে টুটুল থাকে! আমি আবার ওকে বলছিলাম যে ‘জোশ জায়গায় থাকিস তো তুই!’ … সেটা বলছিলাম সম্ভবত এই কারণে যে ওর ঘরটা অনেক উঁচু তলায় আর ওর বারান্দা দিয়ে প্রায় দিয়ে পুরো ঢাকা শহর দেখা যায়! আবার একতলা বিল্ডিং-এ ঢুকে কীভাবে এত উঁচুতলায় এসে থামলাম, কিছুই বুঝলাম না! … তো যাই হোক, স্বপ্নের পরবর্তী অংশটুকু বেশ ভালোই মনে আছে। ওই টুটুলের বাসা থেকেই কীভাবে কীভাবে ধানমন্ডির রাস্তায় পৌঁছে গেলাম। রিকশা দিয়ে কোথাও যাচ্ছি। অনেক জ্যামে বসে আছি। এর মধ্যেই শুনতে পাচ্ছি কোথাও একটা লোককে কেউ খুব মারছে, আর সে যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পর দেখতে পেলাম যে একটা বিশাল লম্বা লোক, প্রায় ৭ ফুট বা তার বেশি হবে, তাকে কেউ খুব চাবুক পেটা করছে। যেহেতু লোকটা অনেক লম্বা তাই অনেক দূর থেকেই তার রক্তাক্ত শরীরটা দেখা যাচ্ছিলো। এদিকে আমার মনে হলো যে সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা একটা কোনো স্কুলের প্রেমেসিস। এর মধ্যেই হঠাৎ করে খেয়াল করলাম যে নোবেল ভাই রাস্তার অপর সাইড থেকে রিকশায় আমার রিকশাকে ক্রস করছে, সাথে অর্চি, ক্লাস এইটের স্টুডেন্ট। তারই একটু আগে নোবেল ভাইকে আরেকজনের সাথে দেখেছি, নাকি অর্চিকে আর কারো সাথে দেখেছি কিছুতেই মনে করতে পারলাম না! সেটাও কিন্তু স্বপ্নের মধ্যেই! আবার এটাও হিসাব মেলাতে পারলাম না যে অর্চি কিভাবে নোবেল ভাইয়ের সাথে এক রিকশায় যায়! কেউ তো কাঊকে চেনারই কথা না! পরে দেখলাম যে অর্চি আসলে একা না, পেছনের রিকশায় অর্চির ক্লাসের তাহমিদ, সিদরাত আর সম্ভবত ইফাজও আছে। ওরা সবাই নাকি নোবেল ভাইয়ের বাসায় যাচ্ছে! আমিও নোবেল ভাইয়ের বাসায় হাজির হলাম। দেখি যে সব ক্লাস সেভেন আর এইটের স্টুডেন্টগুলা! এমনকি সেভেনের উজমা আবার ওর মা-কেও নিয়ে এসেছে! এদিকে নোবেল ভাইয়ের বাসায় সন্ধি নাই, ও নাকি ওর মা’র বাসায়! তাতেও অবাক হলাম! এত মানুষ নোবেল ভাইয়ের বাসায় আসছে, অথচ সন্ধি নাই! আবার এটাও ভাবছিলাম যে নোবেল ভাইয়ের বাসা তো শুনেছি সাত তলার ওপরে, অথচ এটা তো এক তলা বাসা! স্বপ্ন দেখছি আর স্বপ্নের মধ্যেই এটা-সেটা হিসাব মিলিয়ে যাবার চেষ্টা করছি … একটা পর্যায়ে গিয়ে ব্যাপারটা লেজিটিমেট করার চেষ্টা করলাম যে আসলে এটা বোধহয় আরিফিন স্যার হবার কথা, আমি কোনো কারণে আরিফিন স্যারের জায়গায় নোবেল ভাইয়ের চেহারা দেখছি! … এরকম হাবিজাবি কি কি ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে ঘুমও ভেঙ্গে গেলো! …

ঘুম ভেঙ্গে নিজেই নিজের এই রেফারেন্সহীন আজিব টাইপের স্বপ্ন দেখার কারণ ভাবার চেষ্টা করছিলাম। পরে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তে আসলাম যে গতকালকে সেই সকালে গোসল করেছিলাম, তারপর আর গোসল করা হয়নি … সেকারণেই হয়তো মাথা জ্যাম হয়ে যাচ্ছে! আমার আবার চুল ঠিকঠাকভাবে না ভেজালে এই একটা অদ্ভুত মাথা ব্যথা করতে থাকে, যেটার ফলাফল হয় এইসব অদ্ভুত স্বপ্ন! … ফলে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই আজকে প্রথম কাজ করলাম গোসল!

গোসল-টোসল করে, হাতমুখ ধুয়ে বের হয়ে এসে দেখি মা ঘুমিয়ে আছে। নিজেই নিজের নাস্তা এটা-সেটা মিলায় রেডি করে খেয়ে নিলাম। চা বানানোর উপায় পেলাম না। ঘুম কাটানোর জন্য ঠাণ্ডা কোকই ভরসা ভেবে নিলাম। এরপর শুরু হলো ম্যারাথন সিনেমা। কি সিনেমা দেখবো ভাবতে গিয়ে প্রথমেই মনে হয়েছে ‘দি শাইনিং’ এর কথা। না জানি কত বছর ধরে খালি চিন্তাই করে আসছি যে এটা একটা মাস্ট ওয়াচ সিনেমা, দেখতেই হবে, অথচ দেখা আর হয়নাই! … গত কয়েকদিন ধরেই মাথায় ঘুরছে যে স্ট্যানলি কুবরিক-এর যত সিনেমা আছে এখনো দেখি নাই, সব একটা একটা করে দেখয়ে শেষ করবো … তারই সূত্রে ‘দি শাইনিং’-এর কথা মাথায় ঘুরছিলো … তো, ‘দি শাইনিং’ দেখার পর মনে হইলো ‘মুলাঁ হুজ” দেখি! গতকালকে ফেসবুকে নাবিল-এর স্ট্যাটাসে দেখছিলাম যে ও ‘মুলাঁ হুজ’ আর ‘শিকাগো’ দেখেছে অনেকদিন পর, তো তখন থেকেই আমার মাথায় ঘুরছিলো যে আমি দুইটার একটাও এখনো দেখিই নাই! … ‘মুলাঁ হুজ’ শেষ হতে হতে প্রায় ৪টা বেজে গেলো … মার শরীর ভালো না বলেই হয়তো আজকে সারাদিনে আর আমার ঘরের দিকে আসেই নাই … সো, আমার খাওয়া-দাওয়া কি হলো না হলো তারও আসলে কোনো খোঁজ-খবর ছিলো না … ৪টার দিকে ভাত খেয়ে ভাবলাম যে একটু ঘুমিয়ে নিবো … সকালে চা খাই নাই, পরপর সিনেমা দেখেছি, ফলে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছিলো। কিন্তু ঘুম আসলো না সাথে সাথেই … আবার আরেকটা সিনেমা ছেড়ে দেখতে শুরু করলাম – ‘লো ভি দো কোহজেত’ … একটা ফ্রেঞ্চ অ্যানিমেশন সিনেমা। ওইটা শেষ হতে হতে বেশ ঘুম ঘুম ভাব চলে আসলো … ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বেশ একচোট ঘুমায় নিলাম। ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা খেয়ে আবার আলসেমি করতে শুরু করলাম … একবার মনে হলো যে একটু ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের পড়ালেখা নিয়ে ঘাটাঘাটি করি, নয়তো কিনু কাহারের থেটারের সাবটাইটেলের কাজটা একটু আগাই … কিসের কি! এমনেই বসে বসে আলসেমি করতে অনেকটা সময় পার করে দিলাম। তারপর আবার মাঝখানে গোসলও করলাম … অতঃপর আর কিছু করার কোনো তাগিদ না পেয়ে দিনযাপনের লেখা নিয়েই বসলাম …

আগামী আরও দুই-চারটা দিন এরকম আলসেমি করে কাটায় দিতে পারলে মনে হয় ভালো হইতো। হাতে কোনো এক্সট্রা টাকা-পয়সাই নাই! কালকে হয়তো কোনোমতে স্কুলে যেতে আর বাসায় ফিরতে পারবো, কিন্তু পরশুদিন থেকে কিভাবে কি করবো জানি না! নাকি কালকের চলাফেরার টাকাটাও নাই? … স্কুলে যেতে পারবো হয়তো, কিন্তু ফেরার টাকা আছে কি না দেখে নিতে হবে! … কি যে অবস্থা গত দুইমাস ধরে! মাসের শেষ মানেই হাত খালি! …

যাই হোক, আজকের মতো লেখা শেষ করি …      

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s