দিনযাপন । ২১০৬২০১৭

মাঝখানে একদিন দিনযাপন লেখা শুরু করেছিলাম, ১০/১২ তারিখের দিকে … কিন্তু তারপর অর্ধেক অংশে গিয়ে কেন যেন খেই হারিয়ে ফেললাম … দেখলাম আর লেখা আগাচ্ছে না … কিছু একটা নিয়ে লিখবো বলে আগেই ভেবে রেখেছিলাম, কিন্তু লিখতে বসে আর ওই প্রসঙ্গটার কথা মাথাতেই আসলো না … পরে দিনযাপন অর্ধেক অবস্থাতেই রেখে দিয়েছিলাম … দুই-তিন দিন পরে অবশ্য মনে পড়েছে যে পাঠশালার এক সিনিয়র ব্যাচের স্টুডেন্ট, হান -কে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম … ওই সময়েই ৩/৪ দিন আগে ওর মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম। ক্যানসার হয়েছিলো, বছরখানেক আগে মনে হয় ধরা পড়েছে এরকম কিছু … তো আলটিমেটলি সারভাইভ করে নাই। তো পাঠাশালায় যারা ওড় ব্যাচমেট ছিলো বা কাছের মানুষ ছিলো তারা ওর ছবি-টবি দিয়ে ওর ব্যাপারে বেশ স্মৃতিচারণ করছিলো ফেসবুকে। তখন আমি ভাবতে গিয়ে দেখলাম যে আমার আসলে হান-এর সাথে মনে রাখার মতো পারটিকুলার কোনো স্মৃতি নাই! শুধু এইটুকুই যে হান-কে পাঠাশালাতে দেখতাম, আমার থেকে ২/৩ ব্যাচ সিনিয়র ছিলো, ওকে দেখলে বাংলাদেশি মনে হইতো না, মনে হইতো সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ড টাইপের কোনো দেশ থেকে আসছে… ও চাকমা, মারমা বা রাখাইন বা কি ছিলো তাও জানি না!… তখন মনে মনে একটা তালিকা করার চেষ্টা করতেসিলাম যে আমার আশেপাশের সার্কেলে এরকম কে কে আছে যাদের ব্যাপারে আমার শুধুমাত্র পরিচিতিটুকু ছাড়া আর পারটিকুলার কোনো স্মৃতি নাই … কিংবা, আশেপাশের সার্কেলে যারা যারা আছে তাদের কার সাথে কি পারটিকুলার ইন্টারঅ্যাকশনের কথা আমি মনে করতে পারি? … তো ওই ভাবনাগুলা নিয়েই ওইদিন দিনযাপনে লিখতে চাইসিলাম, কিন্তু দিনযাপন লিখতে বসছি যখন তখন পুরা ভাবনাটাই মাথা থেকে গায়েব হয়ে গেছে!

যাই হোক, আজকে আবার বেশ উদ্যম নিয়ে লিখতে বসলাম … ওয়েল, যদি নেট-এর স্পিড বেশি স্লো না হতো, আর পিট’স ড্রাগন নামে যে মুভিটা ছেড়েছিলাম অনলাইন চ্যানেলে দেখবো বলে, সেটা যদি বার বার আটকে না যেতো তাহলে হয়তো এখন মুভিই দেখতে থাকতাম … আর তারপর মুভি শেষ হতে হতে প্রায় রাত ১০টা পার হয়ে গেলে চরম আলসেমি ভর করতো, তারপর আর দিনযাপন লিখতে ইচ্ছা করতো না! … সো, থ্যাংকস টু স্লো স্পিড অভ ইন্টারনেট যা কিনা মুভির অনলাইন স্ট্রিমিং-কে ব্যাহত করলো আর আমিও কাজ না পেয়ে দিনযাপন লিখতে বসে গেলাম …

আসলে ছুটি মানেই আমার এমন আলসেমি করার মুড আসে যে লিটেরেলি মাথা খাটায় কিছু করতে হবে এমন কাজ করতেই মন চায় না … সিনেমা দেখা কিংবা বই পড়াতে তো সেভাবে মাথা খাটানোর কিছু নাই … তাই ওই দুইটা কাজেই এখন সবচেয়ে স্বস্তি! … এখন যেটা হয় যে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সকাল প্রায় ১০টা পার হয়, তারপর শুরু হয় ম্যারাথন মুভি দেখা … এমনকি একটা ‘মুভিজ টু ওয়াচ’ লিস্ট-ও বানিয়ে ফেলেছি … হাল্কা-পাতলা এন্টারটেইনমেন্ট মুভি, হাই-থট এর সিরিয়াস মুভি, অস্কার নমিনেটেড মুভি এইরকম তিনটা স্টিকি প্যাডে লেখা লিস্ট টেবিলে সেঁটে রেখেছি … একটা করে মুভি দেখি আর নাম কাটি! … সেই প্ল্যান! … এর মধ্যে একটা বই-ও পড়ে শেষ করলাম – ড্যান ব্রাউন-এর ‘ইনফারনো’… বিদুষী নামের আমার এক স্টুডেন্ট বইটা আমাকে দিয়েছিলো পড়ার জন্য … তাও প্রায় মাস দেড়েক আগে … কিন্তু তখন কাজের চাপে আর বইটা বেশিদূর আগায় নাই … আর এই ১১ তারিখের পর যে স্কুল বন্ধ হলো, এর মাঝে পড়ে শেষ করলাম … শেষ ১৫০ পৃষ্ঠা তো মনে হয় দুইদিনে পড়েছি! ক্লাসে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমি প্রসঙ্গক্রমে বা প্রসঙ্গ ছাড়াই অনেক বই কিংবা মুভি’র রেফারেন্স দেই স্টুডেন্ট-দের … তো বিদুষী, সুহায়মাহ্‌, ইউশার মতো কয়েকজন স্টুডেন্ট আছে যারা প্রচুর বই পড়ে। তো তাদের সাথেই বই পড়ার আলাপের সূত্র ধরে বিদুষী একদিন ৪৬১ পৃষ্ঠার ‘ইনফারনো’ নিয়ে এসে দাবিই করে বসলো এইটা আমার পড়া লাগবে! … ড্যান ব্রাউনের ‘দি দ্য ভিঞ্চি কোড’ ছাড়া আর কিছুই পড়া হয়নাই আমার … মোটা মোটা বই পড়তে ধৈর্য্যে কুলায়না বলেই হয়তো! … অবশ্য ড্যান ব্রাউনের লেখার মজা হচ্ছে তার রেফারেন্স-এর ব্যবহার … আর যেহেতু টাড় লেখার মুল থিম-ই আর্ট হিস্ট্রি ফলে আমার মনে হয় আমার অন্তত আর্ট হিস্ট্রির প্রতি আগ্রহ থেকে হলেও তার লেখা সব বই ধৈর্য্য ধরে পড়া উচিৎ … আরেকজন লেখকের লেখা আমার পড়ার ইচ্ছা হয়, এবং মনেও হয় যে আমি এখনো এর কোনো লেখাই না পড়ে বেশ অপরাধই করেছি; সে হচ্ছে হারাকি মুরাকামি … একবার একজনের কাছে একটা বই, খুব সম্ভবত নরওয়েজিয়ান উড, সেটা দুই পাতার মতো পড়েছিলাম … কিন্তু সেটা জাপানিজ থেকে অনুবাদ বলে আদৌ কনভিন্সড হতে পারছিলাম না যে বর্ণণার যে সুন্দর দ্যোতনা সেটা লেখকের না অনুবাদকের অবদান! … যাই হোক, হারাকি মুরাকামির এক-দুইটা বই কিনে পড়া শুরু করা যেতে পারে আগামী মাসে …

17156034_1847505172155838_8679005771943606975_n

যাই হোক, আজকের দিনের কথাতেই চলে আসি সরাসরি … নইলে এভাবে লেখার ডালপালা গজায় প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গ পাল্টাতেই থাকবে … আজকে বের হলাম মূলত আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-এ যাবো বলে … আজকে ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে … আর ফরাসিদের কাছ থেকে শুরু হয়ে এখন ইউরোপের অনেক দেশেই এই দিনে ‘ফেত দো লা মুজিক’ বা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হয় … সেখানে দিনব্যাপী গান-বাজনা হয়, প্রফেশনাল-অ্যামেচার সব ধরণের মিউজিশিয়ানই সেই ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করতে পারে … তো আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-ও প্রতি বছর এই মিউজিক ফেস্টিভ্যাল-এর আদলেই তাদের গ্যালারিতেই ছোটোখাটো মিউজিক ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে … এইটা নাকি প্রতিবছরই হয় … এইবার এইখানে স্টুডেন্ট হবার বদৌলতে এইরকম আয়োজনের কথা জানলাম … সে যাই হোক, সকালে বের হলাম পৌনে ১২টার দিকে … ভাগ্যক্রমে রাস্তা ফাঁকাই ছিলো, মোটামুটি ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ধানমন্ডি ৭ নাম্বার পৌঁছে গেছি … সেখানে আগে কিউ বেলা-তে গিয়ে চুল ট্রিম করলাম … তারপর একটু সামনেই লাইফস্টাইল নামের লজাঁরি’র দোকানে গিয়ে আন্ডারগার্মেন্টস কিনলাম … মোটামুটি আগামী ৬ মাসের জন্য নিশ্চিত … তো এইগুলা করেও দেখি মাত্র ২টা বাজে! … মিউজিক ফেস্টিভ্যাল যদিও বেলা ১২টা সময়ই শুরু হয়ে গেছে, আমার তাও এত তাড়াতাড়ি যাবার ইচ্ছা করছিলো না … ধানমন্ডি ৪ নাম্বারে গিয়ে প্রাইডের দোকানে ঢুকে একটু উইন্ডো শপিং করলাম, জ্ঞানকোষে গিয়ে বাংলাদেশ স্টাডিজ-এর দুইটা বই কিনলাম … তারপর আলিয়ঁস ফ্রসেঁস ঢুকতে ঢুকতে যখন ভাবছি যে নায়ীমীকে ফোন দিবো ও আসবে কি না, দেখি ব্যাগ রাখি যেখানে সেখানে ওর ব্যাগও রাখা … লা গ্যালারিতে গিয়ে দেখি কনক দা’র ছেলে ধিয়ান-এর ব্যান্ড-এর পারফর্মেন্স … নায়ীমীকে খুঁজে পেলাম … ও বললো কিছুক্ষণ আগেই পৌঁছেছে … তো মোটামুটি ৪টা পর্যন্ত থেকে দুইজনেই বের হয়ে গেলাম … নায়ীমী এলিফ্যান্ট রোডের দিকে চলে গেলো আর আমি সিএনজি পাওয়ার অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়ায়ই থাকলাম … মিরপুর নামটা শোনার সাথেই সাথেই খুব দ্রুত না বোধক মাথা নাড়ায় সিএনজিওয়ালারা চলে যেতে থাকলো … একজন রাজি হইলো যাবে বলে … ভাড়া চাইলো ৪০০ টাকা! … ৪০০ টাকা ভাড়া আমি সিএনজিওয়ালাকে দিবো কেন? তাইলে তো উবার ডেকে যাওয়াই ভালো … তো এই চিন্তা করতে করতে দেখি আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-এর এক দারোয়ান বের হয়ে এসে বলে, ‘আপনাকে অনেকক্ষণ ধরে দেখতেসি সিএনজি খুঁজতেসেন… কই যাবেন ? আমি দেখি পাই কি না ‘ … তো তারপর ডেসটিনেশন এবং এস্টিমেটেড ভাড়া জেনে সে মোটামুটি সামনে হ্যাপি আর্কেড মার্কেট পর্যন্ত আগায় গেলো সিএনজি খোঁজার জন্য … কিন্তু সেও ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসলো কিছুক্ষণ পর। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম তাইলে ইফতারের সময়টায় বের হবো … অবশ্য তখন মাত্র ৫টা বাজে … আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা বাকি ইফতারের … তো যাই হোক, ক্যাফেতে ঢুকে দেখি পিয়ানোর স্টুডেন্ট-দের পারফরমেন্স হচ্ছে … পিয়ানো শুনতে শুনতে নিজের কথা ভাবলাম … এই নিয়ে দুই/তিন বার ডিআইএমএস-এ পিয়ানো লেসন শুরু করে একবারও লেভেল ওয়ান-এর পরে কন্টিনিউ করিনাই … একবার তাও লেভেল টু কিছুটা গিয়েছিলাম, কিন্তু যখনই লেফট হ্যান্ড -রাইট হ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনের এক্সারসাইজ আসলো তখনই কি কি সব গিট্টু লাগলো, আর তারপর কন্টিনিউ করা হলো না … পিয়ানো প্র্যাকটিস করার জন্য একটা মিডি কিবোর্ড কিনেছিলাম … ওইটা সেন্ট্রাল রোডের বাসায় ইলেক্ট্রিসিটির ভোল্টেজের ঝামেলার জন্য বাজাতে পারতাম না … তারপর সেটা ৫ তলায় নোবেল ভাইয়ের হেফাজতে অনেক দিন পড়ে ছিলো, শরীফ ভাই মাঝে মাঝেই ব্যবহার করতো … এখনো সেটা নোবেল ভাইয়ের মোহাম্মদপুরের বাসায় তার হেফাজতেই আছে … মাঝে মাঝেই ভাবি এখন এইটা মিরপুরের বাসায় নিয়ে এসে সেট করে নিজে নিজেই প্র্যাকটিস করি … কিন্তু চরম আলসেমির কারণে সেটাও করা হয় না … একটু আগে পিয়ানো লেসন কমপ্লিট করতে না পারার দুঃখ নিয়ে একটা স্ট্যাটাস লিখেছিলাম ফেসবুকে … নোবেল ভাই নিজেই কমেন্ট করলো কিবোর্ড-টা নিয়ে এসে আবার শুরু করতে … কিন্তু সেইটা করতে গিয়ে আলসেমিতেই হয়তো আরও ৬ মাস কি এক বছর কাটিয়ে দেবো!

যাই হোক, মিউজিক ফেস্টিভ্যাল সোয়া ৫টার দিকেই শেষ হয়ে গেলো … এর মধ্যে সানিডেল-এর সময়কার কলিগ সোনিয়া আপুর সাথে দেখা হলো … তারপর নদীর সাথে … এই নদী মেয়েটার সাথে আমার যোগাযোগ খুব অদ্ভুত … সামনাসামনি মনে হয় আজকেই প্রথম দেখা হলো নাকি এর আগেও আরেকদিন হয়েছে মনে করতে পারলাম না … কিন্তু একে অপরকে চিনি মনে হয় প্রায় ৮ বছর হবে! সেই অরকাট, হাই ফাইভ-এর যুগে ওর সাথে কিভাবে কিভাবে অনলাইনে পরিচয় … তারপর থেকে বিভিন্ন কমন ইন্টারেস্ট এবং ইন্টারঅ্যাকশনের সূত্রতায় ওর সাথে কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ হয়েই আসছে … অনেকক্ষেত্রেই ও আমার লেখালেখি, ক্রিয়েটিভ কাজ-কর্ম এইসবের বেশ সক্রিয় অ্যাপ্রিশিয়েটর … ইদানীং ও অবশ্য ফেসবুক থেকে ডিঅ্যাকটিভেটেড … তারপরও এই যে, কিভাবে কিভাবে যোগাযোগ হয়েই যায়!

তো, ওই সময় যখন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল শেষই হয়ে গেলো, তো চিন্তা করলাম দেড় ঘণ্টার মতো সময় আমি এইখানে বসে বসে কি করবো? এর চেয়ে আবার বাড়ি ফেরার পথ ধরি … একবার ভাবলাম রিকশা নিয়ে ২৭ নাম্বার মিনা বাজার পর্যন্ত যাই … এই চান্সে আর্টিসানে একটা ঢুঁ মারবো … তারপর মিনা বাজারের পাশ থেকে সিএনজি নিয়ে লালমাটিয়ার ভেতর দিয়ে বের হয়ে চলে যাবো সিএনজি দিয়ে … তাতে সময়ও বাঁচবে, ভাড়াও কম লাগবে … এক রিকশাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে বলে ৮০ টাকা ভাড়া দিতে হবে! … এর মধ্যে এক দুইটা সিএনজিও খালি পেলাম … একজন ৩০০ টাকায় রাজি হইলো আসতে … তো আর কি? মনের আনন্দে বাসায় চলে আসলাম …

এদিকে সকালে যখন বের হই তখন বিবি তার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমাকে ডেকে বেশ অভিমানের সাথে কথা বললো … আমি যাই না কেন … আমার কি চারতলা থেকে নেমে একটুর জন্যও দুইতলায় আসতে ইচ্ছা করেনা নাকি এইসব এইসব … তো বিকালে যখন ফিরলাম … তখনও সিএনজি থেকে নেমে দেখি আবারো বিবি বারান্দায় দাঁড়ানো … মনে হইলো যে এখন সরাসরি চারতলায় উঠে গেলে বিষয়টা অন্যায় হবে… তো সকালের কনভারসেশনের প্রেক্ষিতেই দুইতলায় বিবির বাসায় গিয়ে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে, নিজের ব্যস্ততার জাস্টিফিকেশন দিয়ে-টিয়ে তারপর আসলাম … মানুষটার আসলে একা থাকতে ভালো লাগে না … স্বভাবতই সে খুব আড্ডাবাজ … গল্পগুজব করতে পছন্দ করে … একা একা থাকাটা এইরকম মানুষের জন্য খুব বোরিং … আমার অবশ্য মাঝে মাঝে একটা কাজ করতে ইচ্ছা করে … এই ইচ্ছাটা অনেক বছর আগে থেকেই আছে … তো এখন আমার কাজটা করার সুযোগ আছে কিন্তু সময় কুলায় না … সেটা হলো বিবির সাথে কথা বলে বলে আমাদের পারিবারিক ইতিহাসের একটা রেকর্ড নেয়া … বিবিরা এমন একটা জেনারেশন যারা ৪৭ এর দেশবিভাগ আর ৭১ এর যুদ্ধ দুইটারই প্রত্যক্ষদর্শী … ফলে তাদের অভিজ্ঞতায় এই সময়গুলোর ইতিহাস কিংবা এই ইতিহাসের সময়গুলোর প্রেক্ষিতে তাদের জীবনের গল্পগুলো এক একটা হিস্টোরিকাল ডকুমেন্ট হতে পারে! … আজকেই কথায় কথায় বিবি-কে বলছিলাম তার গল্পগুলো লেখার জন্য … বললো লেখার ধৈর্য্য নাই … কিন্তু মুখে বলতে ভালো লাগে … তো তখনই মনে হইলো যে পাঠশালায় যখন নিজের জীবনের গল্প বলে ফাটায় ফেলবো ক্রেজ চলতেসে, তখন আমিও ভাবতে শুরু করেছিলাম যে আমি যদি নিজের জীবন নিয়ে ডকুমেন্টারি স্টোরি করি, তাহলে নিজের ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে করবো … মানিকগঞ্জ, জলপাইগুড়ি এইসব রুটগুলা খুঁজে বের করবো আর সেগুলোর কানেকশনগুলা জোড়া লাগাবো … তারপর ছবি আর গল্প মিলায় একটা বই বের করবো … আত্মজীবনীমূলক ছবির বই … তো আজকে বিবির সাথে কথা বলতে গিয়ে আবারো সেই ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে কাজ করার ঘুমিয়ে থাকা বীজটা একটু নড়েচড়ে উঠলো … যেটা করতে পারি যে আপাতত আমি একটা রেকর্ডার কিনে বিবির সাথে গল্পের চলে তার গল্পগুলো রেকর্ড করতে পারি … বিবির যদি লেখার ধৈর্য্য না হয় তাইলে এই রেকর্ড করা গল্পগুলো থেকেই তার গল্পটা বের করবো …

আচ্ছা … বাই দ্য ওয়ে … আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে … দুপুরে লাঞ্চ হয় নাই … বাসায় এসেও হাল্কা পাতলা খাবার খেয়েছি … সো, আপাতত আমি মুড়িঘণ্ট দিয়ে ভাত খেতে গেলাম … অবশ্য, আজকে আর কি-ই বা লিখবো? অনেক কিছু লিখে ফেলসি আজকে … প্রাসঙ্গিক, অপ্রাসঙ্গিক … আজকের মতো না হয় শেষই করি … কালকে মুড থাকলে আবার হয়তো লিখতে বসে যাবো …

           

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s