দিনযাপন । ০৯১২২০১৭

যাক! দুইদিন বাদে নেট-এর মাথা ঠিক হলো … কি জানি হয়েছিলো গত দুই দিন যাবৎ, কিছুতেই ওয়ার্ডপ্রেস-এর সাইটটাতে ঢুকতে পারছিলাম না … ফলে দিনযাপন-ও লেখা হচ্ছিলো না … হয়তো এটা করতে পারতাম যে দিনযাপনের লেখাটা লিখে গুগল ড্রাইভের ফোল্ডারটায় সেভ করে রাখতে পারতাম … কিন্তু সেটা তো আর পরে প্রকাশ করা হতো না, তাই আলসেমি করে আর লেখা হয়নি …

তাছাড়া, গত দুই/তিনটা দিন প্রচন্ড উইথড্রয়াল সিনড্রোমের মধ্যে কাটাচ্ছি … আবার এইটা পিএমএস-এর কারণেও হতে পারে … বৃহস্পতিবার স্কুলে তো খুব হই-হুল্লোড় করলাম সবাই টিচার্স রুমে … স্পিকারে গান ছেড়ে প্রায় নাচা-গাওয়া মুডে খাতা দেখলাম সবাই … তো আমি স্কুলের পরে শৈলীর এক্সিবিশনে যাবার জন্য কাশফিয়া আপু, তোড়া আর জিশার সাথে ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম … শৈলীর কিছু শাড়ি আর কামিজের কাপড় এসেছে খুব সুন্দর … অনলাইনে দেখে ভালোই লাগছিলো … ভাবছিলাম ওদের বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিনদিনের মেলায় একটু ঘুরে নিজের চোখে সেগুলো দেখে আসবো … এসব জায়গায় একা একা যেতে ইচ্ছা করে না, কারণ তখন নিজের পছন্দ-অপছন্দ শেয়ার করার কেউ থাকে না, আর দেখা যায় সাথে কেউ থাকলে এটা এমন, ওটা তেমন আলোচনা করে করে অনেককিছুই চোখের দেখায় ভালো লাগলেও অন্যের মতামতের কারণে অন্তত ‘ভাল্লাগসে কিনে ফেলসি’ টাইপ খরচটা কম হয় … তো যাই হোক, দেখা গেলো আমি ঘ্যান ঘ্যান করেই গেলাম, কিন্তু কেউই আসলে যাওয়ার খুব একটা গরজ দেখালো না … জিশা যাবে যাবে করেও শেষ মুহুর্তে শুক্রবার যাই, শনিবার যাই করলো … আমার সেদিনই যাবার খুব ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু একা একা আর যেতে ইচ্ছা করলো না … আমিও খুব মন টন খারাপ করে ‘কেউ আমার সাথে গেলো না’ টাইপ অভিমানী চিন্তা করতে করতে এক উবার ডেকে সোজা বাসায় চলে আসলাম …

বাসায় এসে সেদিন যেটা হলো যে দুপুরবেলাই গোসল টোসল করে খেয়ে দেয়ে বসে বসে মাইন্ড রিলাক্সেশনের জন্য কালারিং বুকটা নিয়ে বসে বসে একটা ফ্লোরাল প্যাটার্ন রং করতে করতেই সন্ধ্যা পার করে ফেললাম … এর মাঝখানে আবার ভাত খেতে খেতে বসে ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম’ এর নতুন সিজনের ৮ নাম্বার এপিসোডটাও দেখলাম … তো সন্ধ্যা সাতটার দিকে যখনই ভাবলাম যে এবার একটু ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাসের পড়া নিয়ে বসি, এক্সারসাইজ বইটা থেকে একটা-দুইটা প্রজেক্ট নিজে নিজে করার চেষ্টা করি তখনই খুব ঘুম পেতে শুরু করলো … তো তখন ভাবলাম যে তাহলে ঘণ্টা দুই-এক ঘুমিয়ে নেই, তারপর উঠে না হয় পড়বো … কিসের কি! দফায় দফায় এদিক সেদিক ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শেষে পরদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠলাম!

তো, পরদিন বলতে গতকাল সকাল … ঘুম থেকে উঠেই মনে হলো যে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে, অতএব গোসল করে বের হতে হবে … তো গোসল-টোসল করে বের হতে হতে প্রায় ৮টা বেজে গেলো … সিএনজি স্ট্যান্ডে কালকে সিএনজি পাবো কি না ভয়ে ছিলাম, কারণ গতকালকে আবার সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা ছিলো একসাথে … তো এক পরিচিত সিএনজিওয়ালাকেই পেলাম … উনি তখন সিএনজি স্ট্যান্ডের পাশের দোকানে বসে নাস্তা করছেন … তো মিনিট পাঁচেকের মধ্যে নাস্তা সেরে উনিই আমাকে নিয়ে গেলেন …

24232467_1242918232510677_2131122960504957027_n

গতকালকে এম্নিতেই সকাল থেকে আবহাওয়াটা কেমন বিষণ্ণ ছিলো, মন খারাপ করা আবহাওয়া যাকে বলে … এর মধ্যে ক্লাসের ব্রেকটাইমে আমরা ক্লাসমেটরা কয়েকজন মসিঁউ সুমাদ্রির সাথে গল্প করছিলাম … ঘটনাচক্রে ঠিক তখনই পাশে পিয়ানো ক্লাস হচ্ছে … তো একটা ছেলে খুব সুন্দর পিয়ানো বাজাচ্ছিলো … আমি সবার কথা শোনা বাদ দিয়ে ওই ছেলেটার পিয়ানো বাজানোই দেখছিলাম … পিয়ানো বাজানোর প্রতি আমার ছোটবেলা থেকে এত একটা ফ্যাসিনেশন ছিলো, অথচ দুই/তিনবার পিয়ানো লেসনে ভর্তি হয়েও আমি কন্টিনিউ করলাম না … কিন্তু এখন যেটা হয় যে কাউকে খুব সুন্দর করে পিয়ানো বাজাতে শুনলে আমার নিজের ভেতরেই কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে … খালি মনে হয় আমিও যদি পিয়ানো শেখাটা কন্টিনিউ করতাম তাহলে এতদিনে আমার পিয়ানো বাজানো ঠেকাতো কে? … ধার-দেনা করে হলেও একটা আপরাইট পিয়ানো কিনে বাসার এক কোণায় সেট করতাম আর আপনমনে পিয়ানো বাজাতাম … সেরকম কিছুর ধারেকাছেই কখনো যেতে পারলাম না এত ফ্যাসিনেশন থাকা সত্ত্বেও, এইটা ভাবলেই খুব মন খারাপ হয়ে যায় … তো আমি পিয়ানো বাজানো শুনতে শুনতে আর নিজে পিয়ানো শেখা শেষ করলাম না সেই কথা ভাবতে ভাবতে সবাই ক্লাসের দিকে রওয়ানা দিলাম … এদিকে আমি যে আনমনে পিয়ানো বাজানো দেখছিলাম সেটা মসিঁউ সুমাদ্রি খেয়াল করলেন, নাকি এমনিই বললেন জানি না, পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে উনি হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘প্রজ্ঞা তুমি পিয়ানোর কোর্সে ভর্তি হয়ে যাও’! … কথাটা কেমন তীরের মতো বুকে এসে বিঁধলো যেন! হাসতে হাসতেই বললাম, ‘এর আগে তিন বার আমি পিয়ানো শেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার ধৈর্য থাকে না’ … উনি কি জানি একটা বলছিলেন, আমার কানে আর সেই কথা ঢুকলো না … এমনিতেই নিজের পিয়ানো লেসন কমপ্লিট না করার দুঃখটা নিজেই নাড়াচাড়া করছিলাম, মসিঁউ আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য পিয়ানোতে ভর্তি হবার কথা বলে যেন উনার অজান্তেই মোটামুটি বড়সড় এক চামচ দিয়ে বেশ ভালোমতোই দুঃখটাকে নাড়া দিয়ে দিলেন … এইসব মুহুর্তে আমার মধ্যে ‘কি বালটা ফেললাম জীবনে?’ কিংবা ‘ আমাকে দিয়ে আসলে কিছুই হবে না’ জাতীয় হতাশাগুলো চাগাড় দিয়ে ওঠে … তো হলোও তাই … ফলাফল, দিনের বাকি অংশ প্রচণ্ডরকমের ‘ভাল্লাগেনা’ সিনড্রোমে কাটলো …

গতকালকে আলিয়াসঁ ফ্রসেঁস থেকে বের হয়ে ‘কাউকে দরকার নাই, আমি একাই যাবো’ মনোভাব নিয়ে ডাইনে-বাঁয়ে না তাকিয়ে সোজা শৈলীর শো-রুমে হাজির হলাম … মন খারাপ নিয়ে ঘুরছি ফিরছি, তার প্রভাবে ‘কি আছে জীবনে’ টাইপ চিন্তাভাবনা করে চোখের ভালোলাগায় প্রায় ৩ হাজার টাকার জিনিসপত্র কিনে ফেললাম … একটা শাড়ি খুব পছন্দ হয়ে গিয়েছিলো, দাম ২১৫০ টাকা … ওই শাড়িটাও প্রায় নিয়েই নিচ্ছিলাম … পরে নিজেকেই নিজে বুঝ দিলাম ‘নাহ! বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে’ … তো একগাদা জিনিসপত্র কিনে বাসায় ফিরতে ফিরতে আরও কেমন ঔদাসীন্য ভর করলো … বাসায় এসে কিছুক্ষণ কালারিং বুকটা নিয়ে গুতাগুতি করলাম, কিছুক্ষণ ফেসবুক গুতালাম, কিছুক্ষণ ঘুমালাম, কিছুক্ষণ খাতা দেখার চেষ্টা করলাম … কিন্তু কিছুই করতে ইচ্ছা করলো না … ভাবলাম যে আজকে মসিউ বারী আরেকটা মোক টেস্ট নেবেন বলেছেন, তো সেটার জন্য একটু ভোকাবুলারি আর গ্রামারগুলো উল্টে-পাল্টে দেখি … কিছুই করতে ইচ্ছা হলো না … এম্নিই বিছানায় শুয়ে শুয়ে শূন্য দৃষ্টিতে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে রইলাম … এই করতে করতে আবার কখন জানি ঘুমিয়েও গেছি …

আজকে আবার সকাল থেকে বৃষ্টি … ইনফ্যাক্ট, বৃষ্টি পড়ছে ভোররাত থেকেই … ঠিক পৌনে আটটা সময় যখন বেড় হবো, তখন বেশ তেজের সাথে বৃষ্টি নামলো … তো আমি চিন্তা করলাম যেটুকু বৃষ্টি, তাতে আমি বাসার নিচে নেমে রিকশা পেয়ে গেলে সিএনজি স্ট্যান্ড পর্যন্ত চলে যাওয়া যাবে … প্রায় মিনিট ১০/১৫ দাঁড়িয়ে থেকেও রিকশা পেলাম না … ভাবলাম যে উবার-এর খোঁজ করি … না প্রিমিয়াম, না উবার এক্স, কোনোটাতেই কোনো গাড়ির হদিস নাই … বৃষ্টির দিনে উবার-এর এই এক তামাশা! গাড়িই পাওয়া যায় না! আর আজকে তো আবার ছুটির দিন সকাল! তো অনেকক্ষণ পর একটা রিকশা পেয়ে যখন সিএনজি স্ট্যান্ডে পৌঁছেছি তখন অলরেডি ৮টা ১০ বাজে … আজকে ক্লাসে ঢুকতেও বেশ দেরি করে ফেললাম, প্রায় ৯টা বেজে গেলো পৌঁছতে পৌঁছতে … আজকে অবশ্য বৃষ্টির কারণে মসিঁউ বারী আর বকা-টকা দেন নাই দেরি করা নিয়ে … তবে, আমাকে কিছু বলার উনার উপায়ও নাই … এমনিতে যেই দুই/তিনজনকে উনি ক্লাসে ঢুকে উপস্থিত পান, তাদের মধ্যে আমি একজন …

আজকে ক্লাস শেষে এক চরম দোনোমনোর মধ্যে পড়লাম … বসুন্ধরা সিটি-তে যাওয়ার একটা কাজ আছে আমার … দেশাল থেকে কয়েকদিন আগে যেই পঞ্চটা কিনেছি, সেটা কিনে দেবার জন্য বলেছেন তাসলিমা মিস, একেবারে নগদ টাকাও দিয়ে দিয়েছেন … অথচ আমি গত সপ্তাহেও আজকে না কালকে করে গেলাম না, ভাবলাম গতকালকে বা আজকে যাবো … গতকালকে গেলাম না এই ভেবে যে নামাজের টাইম, লাঞ্চ টাইম সব মিলায় একটা ভজঘট অবস্থায় পড়তে হতে পারে … ঠিক করলাম যে আজকে যাবো … এদিকে মা-ও তার কিছু কলিগের জন্য কিছু জিনিস কেনার কথা বলে দিলো … তো বসুন্ধরা সিটি-তে একা একা গিয়ে এইসব কেনাকাটা করতে হবে ভাবতেই আমার কেমন অস্থির লাগতে থাকে! এত বড় একটা জায়গা, এত মানুষ, ওখানে একা একা গেলে আমার খালি এটা কই আসলাম! তো আজকে বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব দেখে সকাল থেকেই মনটা কেমন খচখচ করছিলো যে আজকেও মনে হয় যাওয়ার ইচ্ছা চলে যাবে … তো ক্লাস থেকে বের হয়ে অনেকক্ষণ আলিয়সঁ ফ্রসেঁস-এই দাঁড়িয়ে রইলাম, কিছুক্ষণ গেটের বাইরে বেড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না যে বসুন্ধরা সিটি যাবো না বাসায় চলে যাবো … এর মধ্যেই আবার বৃষ্টিও বেশ জোর বেগে নামলো … বৃষ্টি শুরু হবার সাথে সাথে মনকে বুঝ দিয়ে ফেললাম যে আর যাই হোক, এইরকম কাদা-মাখা দিনে আর কোথাও যাওয়া ঠিক হবে না, ডেস্টিনেশন হতে হবে সোজা বাসা! … এবার আরেক কাহিনী … সিএনজি তো পাই-ই না, উবারও রিকোয়েস্ট নেয় না … মেজাজ খুব খারাপ হতে শুরু করলো … দুই/তিনবার রিকোয়েস্ট পাঠানোর পরেও কোন উবারের গাড়ি রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলো না … একে একে দেখি আলিয়াসঁ ফ্রসেঁস খালি করে সব স্টুডেন্ট, টিচাররা বের হয়ে যাচ্ছে, আর আমি সিঁড়িতে বসে উবারে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েই যাচ্ছি … মসিঁউ সুমাদ্রি ক্লাস শেষ করে বের হচ্ছিলেন, উনার সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হলো … মন-টন ভালো কি না, মন ভালো রাখার জন্য কি করা উচিৎ এইসব নিয়ে কথাবার্তা … তো একপর্যায়ে ‘যাই, কিছু দুঃখ খুঁজে আসি’ বলে উনিও চলে গেলেন … আমি তখনো বসে বসে উবারের গাড়ির জন্য অপেক্ষাই করি … অবশেষে এক গাড়ি পেলাম … ধানমন্ডি ৩ নাম্বার থেকে জ্যাম ঠেলে মেইন রোডে আসতে সেই গাড়ি সময় নিয়ে নিলো আরও পনেরো/বিশ মিনিট … বাসায় ফিরে আবার সেই গতকালকের মতো কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না সিন্ড্রোমে কাবু হয়ে গেলাম … তাও কিছুটা সময় বসে বসে কালকের জন্য মার্কশিটে নাম্বার তুলেছি … ক্লাস সেভেনের খাতা দেখে শেষ করা দরকার ছিলো … তাহলে ক্লাস সেভেনের নাম্বারটাও দিয়ে দিতে পারতাম কালকে … কিন্তু ইচ্ছাই করলো না খাতাগুলো নিয়ে বসতে … দেখি, কালকে স্কুলে বসে শেষ করতে পারি কি না … না হলে পরশু নাম্বার দিতে হবে আর কি … ডিফল্টার হতে ইচ্ছা করে না স্কুলে … তবু এসব ব্যাপারে ডিফল্টার হয়ে যাই … কেন জানি মনে হয় ডেডলাইনের ব্যাপার স্যাপার না থাকলে দেখা যেতো কাজের উদ্যমটাও বেশি হতো আমার জন্য … তখন এম্নিতেই একটা চিন্তা আসতো যে যতটা সম্ভব অন্যদের আগে কাজ শেষ করে ফেলি … ডেডলাইন দিয়ে দই বলেই আর প্রতিযোগী মনোভাবটা আসে না …

আজকে হলিক্রস কলেজের অ্যালামনাই লাঞ্চ ছিলো … কলেজ থেকে পাস করে বের হবার পর এই এত বছর ধরে প্রতিবার ভাবি যে এইবছর যাবোই যাবো, কিন্তু আর যাওয়া হয়না … দেখা যায় যে যাদের সাথে যাবো বলে প্ল্যান করি তাদের সময় হয় না, নয়তো নিজেই কিছু একটাতে ব্যস্ত হয়ে যাই … তো এই বছর অ্যালামনাই লাঞ্চে যাবো এইটা মোটামুটি গত একবছর ধরে মনে মনে প্ল্যান … একদিকে তৃষা, মিন্নি, নিশাত আছে … আবার এদিকে কাশফিয়া আপুও বলে আসছিলো যে এবার মেয়েকে নিয়ে আয়োজন করে যাবে অ্যালামনাই লাঞ্চে … তো সকল রকমের আশায় গুড়ে বালি দিয়ে কোনো পক্ষই এবার সময় সুযোগ করতে পারলো না … আর আমিও গেলাম না … ওখানে গেলে নিশ্চয়ই ব্যাচমেটদের কারো না কারো সাথে দেখা হয়েই যেতো, কিন্তু তারপরও একতা গ্রুপ করে না গেলে কি ভালো লাগে? … যাই হোক, এবার অন্যবারের চেয়ে তীব্র ইচ্ছা থাকলেও যাওয়া হলো না …

আজকে বিকালে আলিয়াসঁ ফ্রসেঁস-এ একটা মিউজিক্যাল প্রোগ্রাম ছিলো … বাঁশি, ভায়োলিন আর গিটারের কন্সার্টের মতো … ওইটাতেও যাবার ইন্টেরেস্ট ছিলো … নোবেল ভাই বলছিলো যাবে … আবার শেষে ২০০ টাকা টিকিট শুনে পিছিয়ে গেলো টাকা নেই বলে … তো ওখানেও আমার একা একা গিয়ে কি করবো চিন্তা করে যাওয়া হলো না …

এই সপ্তাহটা মোটামুটি একটা খুবই খারাপ সপ্তাহ কাটলো বলা যায় … কিংবা বলা যেতে পারে যে এই বছর সবচেয়ে ভালো মাস কাটিয়েছি নভেম্বরে … একটা পর্যায়ে নভেম্বরে এমনও মনে হয়েছে যে এই মাসে বোধহয় যা ইচ্ছে করবো তা-ই হবে … আর ডিসেম্বর আসতে না আসতেই যত মেজাজ খারাপ করা, মন খারাপ করা ঘটনা, যতরকমের ইচ্ছার একটাও ফুলফিল না হওয়া … এইটা আমার জন্য একদম প্রমাণিত যে যখনই আমি অনুভব করতে শুরু করি যে ভালো লাগছে, বা ভালো আছি, তখনই সবকিছু যেন ১৮০ ডিগ্রি টার্ন নিয়ে একদম উল্টোটা হয়ে যায় … আমি ভালো থাকতে পারি, এটা যেন কোনো একতা অদৃশ্য শক্তি কখনোই হতে দেয় না … একটু ভালো বোধ করার সাথে সাথে একদম ডবল ইন্টেন্সিটির হতাশাবোধ আর বিষণ্ণতা নিয়ে আসে …

আর আমিও বা কেন যে মাঝে মাঝে ভালো থাকতে চাওয়ার, কিংবা ভালো বোধ করার ভুলটা করে ফেলি! … কিছুতেই এই লোভ সংবরণ করতে পারি না … যখনই কোনো ঘটনায়, কোনো কারণে, কারো আচরণে, কারো কোনো কথায় ভালো বোধ করতে শুরু করি, তখনই মনের মধ্যে ইচ্ছারা কিলবিল করতে থাকে যে এইসব আরও চাই, আরও বেশি বেশি চাই … আর তারপর কি জানি কি হয় … একদম স্বয়ংক্রিয় কোনো এক অদৃশ্য শক্তি দৃশ্যগুলো একদম পালটে দেয় … আর আমার তখন বোধ হয় যে আমি আবারো নিজের ভালো থাকার জন্য একটা কিছু চাইতে শুরু করেছিলাম … মনে মনে যা চাই, সেটাও কীভাবে কীভাবে এই অদৃশ্য শক্তি টের পেয়ে যায়! …

যদি আমি কোনো গল্পকারের তৈরি করা চরিত্র হয়ে থাকি, তবে সেই গল্পকারও বলিহারি! সিরিয়ালের চরিত্রগুলোর মতোই তিনি আমার চরিত্রটা নিয়েও খুব টুইস্ট খেলতে পছন্দ করেন … আজকে একভাবে গল্প আগায় তো পরদিনই পুরো মোড় ঘুরিয়ে দেন … কি এক গোলকধাঁধায় আমাকে ফেলে রেখেছেন উনি! … এই গল্পকারের গল্প পড়ে আমার চরিত্র যে বিশ্লেষণ করতে যাবে, সে খেই হারাবে নিশ্চিত! … 

যাই হোক, আজকে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না … তাছাড়া রাত ইতিমধ্যে ১২টা পার … কালকে তো আবার সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই স্কুল … আজকে বিকালেও ঘুমাইনি … তাই এখন ঘুমও পাচ্ছে বেশ …

অতএব, আজকের মতো শেষ করি দিনযাপনের প্যানপ্যানানি …                       

Advertisements

দিনযাপন । ০৫১২২০১৭

গতকালকে দিনযাপন লিখতে বসেছিলাম, কিন্তু পরে এমন ঘুম পেয়ে গেলো যে সেটা আর শেষ করা গেলো না … গতকালকের দিনযাপনের সূত্র আজকে টানবারও উপায় নেই … বরং, আজকের ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকালকের যেটুকু যা প্রসঙ্গ আসে তা না হয় লিখবো …

আজকের সারাদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা স্কুলের স্টাডি ট্যুর … ক্লাস ফোর থেকে ক্লাস সেভেন-এর স্টাডি ট্যুর ছিলো আজকে … শহিদ মিনার আর জাতীয় জাদুঘর … তো যত মাথা তত ব্যথার ঘটনা সবচেয়ে বেশি সম্ভবত স্কুলগুলোতেই ঘটে … তো তারই ধারাক্রমে আজকের স্টাডি ট্যুরের প্রায় অনেককিছুতেই একটা হচপচ হচপচ অবস্থা গেলো … তারপরও যাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি টেনশন সেই বাচ্চারাই সবচেয়ে ডিসিপ্লিনড ছিলো … ফলে অন্য বিষয়গুলো একদমই শেষে আর ধর্তব্যের মধ্যে পড়লো না …

তবে … স্টাডি ট্যুরে টিচাররা কি শাড়ি পরবো সেটা নিয়ে একটা কাহিনী হয়ে গেলো গতকালকে … আর এখানে আমার কিছু ব্যক্তিগত দায় স্বীকারের জায়গা আছে … সেই কথাই বলি … একেবারে খোলামেলা …

যেহেতু শহিদ মিনার আর জাতীয় জাদুঘর যাওয়া হচ্ছে, আর দুইটা জায়গাই আমাদের বাঙ্গালি ইতিহাস আর সংস্কৃতির সাথে অনেক সম্পৃক্ত তাই কথায় কথায় জামদানি পরার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছিলো … আর সেটাতেই আমারও আগ্রহ ছিলো বেশি … ইন ফ্যাক্ট, যদি ড্রেস কোডে কোনো ইউনিফর্মিটির বিষয় না থাকতো তাও আমি জামদানিই পরতাম, এইটা অনেক আগে থেকেই ভেবে রাখা … তো যাই হোক, গত পরশুদিন এবারের পহেলা বৈশাখে স্কুল থেকে আমাদের যেই শাড়িটা দিয়েছিলো সেটা পরে গিয়েছিলাম … জিশা কয়েকদিন ধরেই খুব শখ করছিলো ওই শাড়িটা পরবে, আমাদেরকেও বলছিলো … তো ওর শখে শখেই ওইদিন ওই শাড়িটা পরা … যেহেতু শাড়িটার মেটেরিয়াল আমার টাইপ না, মানে কটন বা এন্ডি না এবং বৈশাখের গা জ্বালানো গরমে ওই শাড়িটা পরে মোটেই আরাম পাইনাই, তাই শাড়িটা দ্বিতীয়বার পরার আমার এমনিতে কোন ইচ্ছাই ছিলো না … তাও জিশা শখ করলো, আমিও ভাবলাম এখন শীতকাল, এবার একটু নিজের মতো পছন্দসইভাবে ব্লাউজ আর অ্যাক্সেসরিজ দিয়ে শাড়িটা না হয় একদিন পরেই যাই … তো ওইদিন ওই শাড়ি দেখে মাদলেন আপা কথায় কথায় বললেন যে আজকের স্টাডি ট্যুরে এই শাড়িটাই পরা যায় কি না … মনে মনে প্রমাদ গুনলাম আর ভাবলাম যে স্টাডি ট্যুরের আগে এই শাড়ি পরে এসে কি ভুলটাই না করলাম … কারণ যেহেতু একজন অথোরিটেটিভ ফিগার এই শাড়ি পরার কথা বলেছেন অনেকেই হ্যাঁ হ্যাঁ বলে সায় দিয়ে ফেললো … তো মনে মনে আবার ভাবলাম যে কাশফিয়া আপুও যেহেতু এইসব ডিসিশনের ব্যাপারে বেশ ইনফ্লুয়েন্সিভ, তাহলে উনি অন্তত এখানে ডিফেন্ড করতে পারবেন যে এই শাড়িটা পরতে চাই না আর শেষমেশ হয়তো জামদানিই পরা হবে … এদিকে গতকালকে কাশফিয়া আপু চলে গেলেন সোনারগাঁও, ক্লাস এইট টু টেন এর ফিল্ড ট্রিপে … তো যখন আজকের স্টাডি ট্যুর নিয়ে মিটিং হলো তখন টিচার বলতে ফৌজিয়া আপা, তাসলিমা আপা, শুক্লা, তোড়া, জিশা আর আমি … এর মধ্যে জিশা যেহেতু আজকে যাবে না, তাই ওকে এই হিসাবে বাদ দেয়াই যায় … তো শাড়ির প্রসঙ্গ আসতে অন্যরা ‘একটা হলেই হয়’ বলে ডিফেন্সিভ মোডে চলে গেলো, আর আমি একাই ডিফেন্ড করলাম যে অনেকেরই তো এই শাড়ি নাই, আর যদি শাড়ি ম্যানেজ করাও হয়, তাহলে সেটা স্কুলে এসে পরার হ্যাঁসেল নিতে হবে … আবার আমি যেহেতু একদিন আগেই শাড়িটা পরেছি, অন্তত আমার তো শাড়িটা অলরেডি ময়লা কাপড়ের ঝুড়িতে নয়তো লন্ড্রিতে চলে গেছে … তো কথায় কথায় জামদানির সিদ্ধান্ত পাস হয়ে হয়ে গেলো … কারণ এই একটা শাড়ি সবারই ঘরে অন্তত একটা হলেও থাকে … তো গতকালকে আমি, জিশা আর তোড়া সাড়ে ১২টার দিকেই বের হয়ে গিয়েছি … বের হবার দশ মিনিটের মধ্যেই জিশা জানালো যে শুক্লা ওকে ফোন করেছে, বলেছে শাড়ির সিদ্ধান্ত চেঞ্জ, সবাই নাকি পহেলা বৈশাখের ওই শাড়িই পরতে হবে …

এখন যেটা হলো যে একটা সিদ্ধান্ত হয়ে যাবার পর আমরা বের হয়ে আসছি তারপর আবার এভাবে সিদ্ধান্ত পাল্টে যাবার ব্যাপারটা আমার ভালো লাগলো না … এখন এইটা কি মাদলেন আপা নিজেই এসে বলেছেন নাকি অন্য কোন টিচার এই শাড়ি পরার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে আপাকে ইনফ্লুয়েন্স করেছেন, না শিলু আপাই বলেছেন না কি হয়েছে সেটা আমাদের তো আর জানার উপায় নেই … কিন্তু এটা বুঝলাম যে যা-ই হবার তা আমরা বের হয়ে যাবার পরে হয়েছে  … আমার এটা ভেবেই খুব জিদ উঠলো … এমনিতেই একদিন শাড়ি পরে ফেলার পর সেই শাড়ি আমি পারতপক্ষে না ধুয়ে পরিনা, তারওপর এইটা এমন একটা শাড়ি যেটা নাকি দ্বিতীয়বার পরারই আমার ইচ্ছা ছিলো না … আর দুইদিনের ব্যবধানে তৃতীয়বার তো পরবোই না! … তাছাড়া, এই শাড়ির যেই ম্যাটেরিয়াল, তা আর যাই হোক, আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির সাথে যায় না …

তো আমার তো স্বভাব আছেই যে একটা কিছু পছন্দ না হলে আমি কখনোই মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই কাজটা করবো না … বাসায় ফিরতে ফিরতে রাস্তাতেই আমার খালি একবার মনে হলো যে আমি ওই শাড়ি পরবো না … এরপর আর কোনোভাবে ওই শাড়ি পরার ব্যাপারে পজিটিভ কোনোকিছু ভেবে বেরই করতে পারলাম না … কালকে সারা সন্ধ্যা নিজের মধ্যে ইচ্ছা আনার চেষ্টা করলাম, সারারাত ঘুমের মধ্যেও এই স্টাডি ট্যুর, শাড়ি এইসব নিয়েই স্বপ্নও দেখলাম … আবার সকালবেলা রেডি হবার সময় একবার পেটিকোট-ব্লাউজ পর্যন্তও পরলাম, কিন্তু শাড়ি আর পরতে ইচ্ছা করলো না … শাড়িটা হাতে নিয়েই মনে হলো এইটা আধোয়া, ধুতে দিবে বলে মা আলাদা করেও ফেলেছিলো, সেখান থেকে তুলে এনে কালকে আবার ভাঁজ করে দিয়েছে … আর তারপর এই শাড়ি পরতে ইচ্ছা হয়? … সাথে সাথে ব্লাউজ-পেটিকোট খুলে সালোয়ার-কামিজ পরে রওয়ানা দিলাম স্কুলে …

এখন এইটাকে কেউ কেউ অহেতুক জিদ বলে ভাবতে পারে, কেউ আবার বলতে পারে প্রচণ্ড দুঃসাহস দেখিয়েছি, আবার কেউ বলতে পারে বিদ্রোহী অ্যাটিচুড দেখিয়েছি … যে যেটাই ভাবুক, আমার কথা হচ্ছে আমি আমার ইচ্ছার দাস … ইচ্ছা না হলে আমাকে জোর করিয়ে কেউ কিছু করাতে পারে না … আর যদি কারো জোরাজুরিতে কিছু করি, সেটার ফল অন্তত আমার জন্য ভালো হয় না …

এই যেমন গতকালকেই সোনারগাঁওতে ফিল্ড ট্রিপে যাওয়ার যে প্ল্যান ছিলো, সেটা আমি না করেছি, কারণ যখনই আমার কাছে একবার মনে হয়েছে যে প্রজাপতি নিয়ে কোনো একটা ইনসিডেন্ট ঘটলে আমি কি করবো, তখনই আমার সোনারগাঁও যাবার ইচ্ছা উঠে গেছে … তারপর এমনকি স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল জাবিন আপা এটাও বলেছেন যে ‘প্রজ্ঞা, তুমি এরকম একটা কারণে যাচ্ছো না, আমি খুব কষ্ট পেলাম’ … কিন্তু আমার তাতেও আগ্রহ তৈরি হয়নাই … তো এখন দেখা যেতো স্কুলের ডেকোরাম ফলো করার তাগিদে আমি যদি ‘আল্লাহ! জাবিন আপা এভাবে বললেন, এখন না গেলে কীভাবে হয়’ চিন্তা করে যেতাম, তারপর কোনোভাবে প্রজাপতিসংক্রান্ত একটা ইন্সিডেন্ট ঘটতো, তাহলে আমার পুরা ট্রিপটারই বারোটা বাজতো … এমনকি প্রজাপতি নিয়ে কিছু না ঘটলেও ওই ‘যদি ঘটে’ আতঙ্কেই আমি হয়তো ট্রিপটা কোনোভাবেই এনজয়ই করতে পারতাম না …

যাই হোক, অ্যাপার্ট ফ্রম শাড়ি ইন্সিডেন্ট, স্টাডি ট্যুরের সবকিছুই খুব পজিটিভ ছিলো … শেষে গিয়ে খালি আমারই সেকশনের দুই মেয়ে কোনো টিচারকে না জানিয়ে নিজ দায়িত্বে জাদুঘরের ওয়াশরুমে চলে যাওয়াতে তাদের নিয়ে একটা হচপচ সিচুয়েশন তৈরি হলো … জাদুঘরের গ্যালারি থেকে বের হয়ে সব ক্লাস যখন মেইন গেটে যাবে বলে লাইন করছে, তখন ওই দুই মেয়ে এসে ওয়াশরুমে যেতে হবে বললো … আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে ছেলেদের টয়লেট দেখলাম, কিন্তু মেয়েদেরটা চোখে পড়লো না … বললাম যে দাঁড়াও জিজ্ঞেস করে আসি … তো আমি ওয়াশরুম কোথায় জিজ্ঞেস করতে যাবো, সেই সময়ে নার্গিস আপা এসে বললেন আমাদের গ্রুপে যিনি গাইড ছিলেন তার সাথে কি একটা ফর্ম ফিলাপের ফর্মালিটিস আছে, আমি গিয়ে যেন কথা বলি … তো আমাকে উনাদের অফিসরুমে যেতে হলো, উনারা স্কুল কার্যক্রমের কি একটা ফর্ম ফিলাপ করতে দিলেন … কোন স্কুল থেকে এসেছি, কতজন ছিলাম, ট্রিপটা কেমন লাগলো এইসব … তো মিনিট পাঁচেক লাগলো সেটা করতে … বের হয়ে দেখলাম সবাই মেইন গেটের কাছে পৌঁছে গেছে … এদিকে আমি গেটের কাছে পৌঁছতে না পৌঁছতে তোড়া বলে আমার ক্লাসের দুইজন নাকি বাস পর্যন্ত যায় নাই … জানা গেলো তারা ওয়াশরুমে গেছে … তো আমি আবার জাদুঘরের বিল্ডিং-এর দিকে দৌড় দিলাম … অর্ধেক পথ যেতেই দেখি মাদলেন আপা খুব মেজাজ খারাপ করার চেহারা নিয়ে ওই দুইজনকে নিয়ে বের হচ্ছে … যেহেতু ওদের বাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে আমাকে আর শম্পা আপাকে সামনে পেলেন আমাদেরকেই ঝাড়ি-টারি মেরে ‘আই অ্যাম ভেরি মাচ ডিসঅ্যাপয়েন্টেড’ বলে গটগট করে হেঁটে চলে গেলেন … তো ওই দুইজন বলার চেষ্টা করলো যে তারা শম্পা আপাকে বলে গেছে ওয়াশরুমে যাবার কথা, শম্পা আপা বললেন যে আমাকে বলেছো মানে এই না যে তোমরা একা যাবে … মাদলেন আপা বকলেন যে জাদুঘরের বিল্ডিং থেকে বের হবার আগে বাচ্চা গোনা হলো না কেন … এদিকে গ্যালারি থেকে নেমে ওই সিড়ির গোঁড়া পর্যন্ত তো ওদের গুনেই দাঁড় করানো হয়েছে … ওই দুইজন যে লাইন থেকে বের হয়ে কাউকে কিছু না বলে নিজের মতো করে ওয়াশরুমে চলে যাবে, সেটা আমি ওখানে উপস্থিত থাকলে আমি ডেফিনিটলি খেয়াল করতাম … এমনকি নিজের ক্লাস না হয়ে অন্য ক্লাসের কেউ হলেও … কিন্তু অন্যরা ‘এইটা তো আমার ক্লাস না’ চিন্তা করেই হয়তো দেখার প্রয়োজন মনে করে নাই … এমন রাগ উঠলো আমার তখন … ক্লাস ফাইভের দায়িত্ব তো খালি আমার একার ছিলো না, সাথে নার্গিস আপা ছিলেন … আবার বাস হিসেবে ধরলে তোড়া আর শম্পা আপাও ছিলেন … কিন্তু যেহেতু আমি ক্লাস টিচার, গরজটা যেন আমারই, আর কারো নয় … রাগে গজগজ করতে বাসে উঠলাম … মনে মনে ভাবলাম ওইসময়েই ওই ফর্ম ফিলাপের জন্য ডাক আসতে হবে? … সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে শেষে একটা বাগড়া বাধবার জন্যই বুঝি বা এরকম সিচুয়েশনের অবতরণ! …  

যাই হোক, এই এক স্টাডি ট্যুর পুরোটাই মেজাজ খারাপ করতে করতেই গেলো … এখন মনে হচ্ছে অন্তত শেষ তো হলো … আর যাই হোক, আগামী ৩টা ওয়ার্কিং ডে-তে মনোযোগ দিয়ে খাতা দেখতে পারবো … গত দুইদিন ধরে না স্কুলে, না বাসায় খাতা দেখা আগাচ্ছে … কালকে থেকে স্কুলে গিয়ে আর কোনোদিকে না তাকায় চুপচাপ একটা ক্লাসে বসে খাতা দেখবো … বাসায় এসে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের পড়া পড়বো … সামনেই একটা মোক টেস্ট আছে, সোমবারে … এর আগের মোক টেস্ট খুব ভালো হয়নাই … এবার অন্তত একটু ইফোর্ট দিতে হবে … ২২ তারিখ আ-দো এর লেভেল কমপ্লিশন পরীক্ষা … এখন থেকেই আমার পড়ালেখা শুরু করা উচিৎ … লিস্নিং-এর অবস্থা যা তা … সেইটা অন্তত এই দুই/তিন সপ্তাহে ঝালাই করতে হবে … সো, বাসায় নো খাতা দেখাদেখি …  

আজকে স্কুল থেকে বের হয়ে আবার বেঙ্গল বইয়ে গিয়েছিলাম … কাশফিয়া আপুর মেয়ে আর তার বান্ধবী যাবে বেঙ্গল বইয়ে, কাশফিয়া আপুও যেতে চাইলো, আমারও কফি খাবো টাইপ ইচ্ছা, বেঙ্গল বই শুনে ভাবলাম ভালোই তো কফিও খাওয়া হবে, বইও দেখা হবে … তো আজকে কফিই খাওয়া হলো বেশি, বই দেখা হলো কম … ষ্টেশনারি সেকশনে গিয়ে বেশ কেনাকাটা হয়ে গেলো … দুইটা নোটবুক, একটা কালারিং বুক, একটা ফ্যান্সি কলম … বেঙ্গল বইয়ে বেশিক্ষণ থাকাও হলো না … বড়জোর ঘণ্টা দেড়েক ছিলাম … তারমধ্যে আধাঘণ্টা কফি খেতে আর পনেরো-বিশ মিনিট স্টেশনারি কিনতেই চলে গেলো … বই আর দেখা হলো না … তো বেড় হবো হবো এমন সময় তৃষা ফোন করেছিলো যে দশ নাম্বারের দিকে আছে কি না তাহলে দেখা করবে … আমি ওকে ২৭ নাম্বারের দিকে আসতে অফার করলাম, তাহলে না হয় ওর সাথে বেঙ্গল বইয়েই দেখা করতাম … কিন্তু ও আবার বললো তাইলে আজকে বাদ দে … আমিও বাদ দিলাম … একটা উবার ডেকে সোজা বাসায় …

আর কি-ই বা লিখবো আজকে? … সেই সন্ধ্যায় গোসল করেছি বাসায় ফিরে, চুল শুকানো হয়নাই এখনও … দিনযাপনের লেখা শেষ করে অন্তত চুলটা ড্রায়ার দিয়ে একটু শুকাই … ঘুমও পেয়ে গেছে খুব … কালকে হয়তো একটু দেরি করেই বের হবো … সাড়ে ৭টা কিংবা ৮টা … ৮টায় বেড় হলে অবশ্য অফিসের পিক আওয়ারের জ্যামে পড়তে হয় … এক উবার ড্রাইভার বেশ বাঁধা ড্রাইভারের মতো প্রায়ই স্কুলে নিয়ে যায় ইদানীং … সেই লোককে বেশি একটা পছন্দ না দেখে গত সপ্তাহে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে এই সপ্তাহ থেকে আমার স্কুলের টাইমিং একেকদিন একেকরকম … ফলে এখন হয়তো আর উবারে যাবো না … তো আজকে দেখি উনি মেসেজ পাঠিয়ে রেখেছে কালকে কখন বের হবো … এখন উত্তর দিতে ইচ্ছা করছে না … সকালে উঠে উত্তর দেবো … দেখি, উনি কি রেসপন্স করে …

একটা বই পড়তে খুব ইচ্ছা করছে কয়েকদিন ধরে, ‘দ্য টাইম ট্রাভেলার্স ওয়াইফ’ … মুভিও আছে একটা উপন্যাসটার ওপর বেস করে … মুভিটা দেখে উপন্যাসটা পড়তে বেশি ইন্টেরেস্ট হয়েছে … এখন গত এক সপ্তাহ যাবৎ মাথায় ঢুকেছে বইটা পড়তে হবে … এই ছুটিতেই …

যাই হোক, আজকের মতো দিনযাপন এখানেই শেষ …  

  

দিনযাপন । ০২১২২০১৭

মাঝে মাঝে এমন সব দিন যায় যখন মনে হয় ‘ দিনটা এমন কেন?’ … গত দুইদিন ঠিক এরকম ‘এমন কেন’ টাইপের দিন কাটালাম … বিশেষ করে গতকালকে …

কালকে বাসায় ফিরেছি অনেক রাতে, তাই কালকের দিনযাপনের ফিরিস্তি দেয়ার আর সুযোগ হয়নাই … তো কালকে ঘুম থেকে ওঠার মুহুর্ত থেকেই একটা কেমন জানি ভাবসাব নিয়ে দিন শুরু হলো … এমনিতে শুক্র-শনিবারে যেহেতু পৌনে ৮টা সময় বাসা থেকে বের হই, তাই ঘুম থেকে উঠি সাড়ে ৬টার মধ্যে … সাতটার মধ্যে নাস্তা খাওয়া কমপ্লিট হয়ে গেলে তারপর বাথরুম করে, ফ্রেশ হয়ে, গরমের দিন হলে গোসল করে রেডি হয়ে বের হবার জন্য হাতে অনেক সময় থাকে … ফলে তাড়াহুড়াও হয়না … তো গতকালকে মা উঠলো দেরি করে, আমাকে ডাকলো দেরি করে, নাস্তাও খেলাম দেরি করে … সেকারণে রেডি হতেও একটা তাড়াহুড়া লেগে গেলো … বের হলাম যখন তখন অলরেডি ৭টা ৫০ বাজে … সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি কোনো সিএনজি  নাই! … ওইখানে একটা টং-দোকানের গাড়ি বসে, চা-সিগারেট-হাবিজাবি বিক্রি করে … তো উনার সাথে ওইখানকার কোনো কোনো সিএনজিওয়ালার ভালো যোগাযোগ … আরেকদিন এরকম সিএনজি ছিলো না, উনি ফোন করে একজনকে ডেকে এনেছিলেন … তো কালকেও ফোন দিলেন একজনকে … উনাকে পাওয়া গেলো না … কালকে কোনো একটা ভর্তি পরীক্ষা বা কিছু একটার পরীক্ষা ছিলো, তাই সিএনজিওয়ালারাও মনে হয় সকাল সকাল প্যাসেঞ্জার নিয়ে সবাই চলে গেছে … তো আমি উবার ডাকবো কি না ভাবতে ভাবতে এক পরিচিত সিএনজিওয়ালা এসে থামলো ওখানে … ধানমন্ডি যাবে বলে রাজি হয়ে সে আমাকে নিয়ে রওয়ানা দিলো, তখন অলরেডি ৮টা ৫ কি ১০ বাজে … তো ৬০ ফিটের রাস্তায় ঢোকার মাথায় সে আমাকে নামিয়ে দিয়ে আরেক সিএনজি-তে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলো … কারণ তার হঠাৎ মনে পড়লো যে ৯টা সময় তার একজন বাঁধা প্যাসেঞ্জারকে তুলতে হবে মিরপুর থেকে … আমাকে নামায় দিয়ে সে তো ৯টার মধ্যে পৌঁছাতে পারবে না … আমি বললাম তাকে যে রাস্তা তো খালিই থাকে এইসময়, আপনি সাড়ে ৮টার মধ্যেই ধানমন্ডি পৌঁছায় যাবেন, ৯টার মধ্যে এদিকে চলেও আসতে পারবেন … কিন্তু উনি আশ্বস্ত হলেন না … তো যাই হোক, আমাকে অন্য সিএনজি-তে তুলে দিয়ে উনি চলে গেলেন … তাও ভালো ওই সিএনজি-ওয়ালা ভালো ছিলো … এমনকি রাস্তায় কি এক মিছিলের মধ্যে পড়লাম … তো ডানে যাবো দেখে মিছিলের মাঝখান দিয়েই সিএনজি টার্ন নিতে হলো, তাতে আবার যেই ছাত্ররা মিছিল করে যাচ্ছিলো তারা ফাঁপরবাজি করতে চেষ্টা করলো যে ডানে টার্ন নেয়া যাবে না, রাস্তার বামে থাকতে হবে … তখন আবার সিএনজিওয়ালা ইনস্ট্যান্ট বুদ্ধি খাটায় ‘পরীক্ষা আছে, এইদিক দিয়েই কলেজ’ বলে জায়গা করে নিলো … তো যাই হোক, মোটামুটি সাড়ে ৮টার মধ্যেই পৌঁছালাম … ক্লাসে ঢুকতে ঢুকতে ৫ মিনিট দেরি হয়ে গেলো … মসিঁউ বারী সময়মতো ক্লাসে ঢোকা নিয়ে খুব রিজিড … উনি নিজে ঠিক সাড়ে ৮টা সময় ক্লাসে ঢুকে যান … উনার আগে যারা ক্লাসে আসে তাদেরকে উনি বেশ অ্যাপ্রেশিয়েট করেন … আর দেরি করলে একটু বিরক্তই হন … ফলে উনার ক্লাসে ৫ মিনিট দেরি হলেও মনে হয় যে অনেক দেরি করে ফেললাম …

তো কালকে সকাল থেকেই কেমন মাথা ব্যথা করছিলো … রাতে যতই পায়ে মোজা পরে, ফুলহাতা গেঞ্জি পরে, কাঁথা নিয়ে ঘুমাইনা কেন, মাথায় যে বাতাস লাগে তাতেই খুব যন্ত্রণা হয় … প্রতিদিন ভাবি একটা স্কার্ফ দিয়ে মাথাটা ঢেকে শুবো, কিন্তু শোয়ার সময় আর মনে থাকে না … তো কালকে ক্লাসে মাথা ব্যথার চোটে মনোযোগই দিতে পারছিলাম না … আর এরকম মাথা ব্যথা হলেই আমার কেমন ঘুম ঘুম লাগতে থাকে … ফলে কন্টিনিউয়াসলি হাই তুলতে শুরু করলাম … ব্রেকের সময় কফি খেয়ে পরের অংশটুকুতে তাও একটু চাঙ্গা হওয়া গেলো … কিন্তু মাথা ব্যথা গেলো না … বাসায় এসে কখন গোসল করবো তার অপেক্ষা …

কালকে আবার বিকালেও বের হলাম … বলতে হয় বের হবার দুঃসাহস করলাম … বনানীর যাত্রাবিরতিতে নোবেল ভাইদের ব্যান্ড সর্বনাম-এর পারফরমেন্স ছিলো … এমনিতেও সর্বনাম-এর শো হলে যাওয়ার চেষ্টা করি, যদি ফ্রি থাকি … তারওপর ভাবলাম যে অনেকদিন হলো এই মানুষগুলার সাথে দেখা হয় না, গল্প হয়না, আড্ডা হয়না … ফলে, ওই দেখা করা আর গল্প করার টানেই চলে গেলাম … ভয়ে ভয়ে ছিলাম যে প্রোগ্রাম যদি রুফটপে হয়, আর যদি ওখানে প্রজাপতি ওড়াওড়ি করে তাহলে কি করবো? … তো সাহস করে গেলাম এই ভেবে যে অবস্থা বেগতিক দেখলে চলে আসবো … যাই হোক, কালকে আশ্চর্যজনকভাবে যাত্রাবিরতির ওই বিল্ডিং-এর কোথাও কোনো প্রজাপতি দেখলাম না … একটা ভালো সময় কাটলো … অমিত-ও গিয়েছিলো ছবি তুলবার জন্য … তো অমিতের সাথেও এই উছিলায় দেখা হয়ে গেলো … এখন তো গ্রুপে যাইনা দেখে অমিতের সাথেও দেখা হয় না … আবার ও দিনের বেলা যেই সময় বাসায় আসে তখন হয় আমি থাকি না, আর নয়তো রাতে যখন আসে তখন আমি হয়তো ঘুমানোর বন্দোবস্ত করছি … ফলে ওর সাথে কথা-দেখা কিছুই হয় না প্রায় … গানের আয়োজন শুরুই হলো সাড়ে ৮টার দিকে … শেষ হলো পৌনে ১১টায় … কালকের শো-টা বেশ ভালো ছিলো … সাউন্ড ব্যালেন্স খুব সুন্দর ছিলো, ফলে একটা বদ্ধ ঘরের মধ্যেও খুব ভালো লেগেছে গানগুলো শুনতে … কিন্তু এইরকম প্রোগ্রামে এমনিও দর্শক হয়না, তারমধ্যে সর্বনাম-এর খুব একটা পরিচিতি নাই বলেই কি না, দর্শক বলতে দেখা গেলো হাতে গোনা ৮/১০ জন … তাও আবার আমরা-আমরাই … যে যার পরিচিত … এইরকম একটা শো-তে ভরপুর দর্শক থাকলে অ্যাপ্রেশিয়েশনটাও হতো খুব ভালো… তো যাই হোক, শো শেষে আবার ওখানেই সবার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও ছিলো … সবার মানে পারফরমাদের, আর আমরা বন্ধু-বান্ধব যারা ছিলাম সবাই মিলেঝিলে খেয়ে নিলাম … তো খেয়ে-দেয়ে বের হতে হতে সাড়ে ১১টা বেজে গেলো … এক উবার ড্রাইভার পেলাম … সে বনানী থেকে বাসা পর্যন্ত নিয়ে আসলো ভালমতোই … ভাড়া দেয়াড় সময় বলে একটু বাড়ায় দিয়েন, রাত তো! … ৩৩৫ টাকা আসছে ভাড়া, ওইটাই দিলাম … বললাম, যা ভাড়া আসছে, তাই তো দিবো … বেশি কেন? … ড্রাইভার বোধহয় বেশ মনক্ষুণ্ণই হলো… কিন্তু তাতে আমার কি করার?

বাসায় ফিরেছি পৌনে ১২টার দিকে … খুব ক্লান্ত বোধ করছিলাম … সোয়া ১২টা কি সাড়ে ১২টার মধ্যে ঘুমিয়ে গেছি …

আজকের দিনটাও সবমিলায় একটা ‘কেমন জানি’ দিন, কিন্তু কালকের চেয়ে বেটার … আজকে সকাল সকাল উঠেছি, কিন্তু আলসেমি করতে করতে বের হয়েছি ৮টা সময় … তবে সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে আজকে সিএনজি পেয়ে গেছি সাথে সাথেই … ক্লাসে ঢুকেছি ৩ মিনিট দেরিতে … আজকেও গতকালকের মতো প্রচণ্ড মাথা ব্যথা আর ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে ক্লাস করেছি … ব্রেকের সময় আজকে আবার বাইরে গিয়ে চা খেতে হয়েছে কারণ ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর কারণে আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-র অফিস, ক্যাফেটারিয়া সব বন্ধ ছিলো … তো ওই চা খেয়ে খুব আরাম পেলাম না … চায়ে সম্ভবত কফি মেশানো ছিলো, আর লিকারও কেমন কড়া লাগলো … চাঙ্গা হবার জন্য ক্যাফেইন দরকার বলে খেলাম আর কি … ক্লাস শেষে আবার আমরা একটা দল হয়ে বেঙ্গল বইয়ে গেলাম … গতদিন আশিক ভাই, আবির ভাই উনারা যান নাই … তো উনারাই বলেছিলেন আজকে যাবে … উনাদের সাথে সাথে আমি, শৌনক, রিফাত, মামুন ভাই, আশরাফ ভাই, সুমাইয়া যোগ দিলাম … মাথা ব্যথার জন্যই সম্ভবত আজকে ঘুরে ঘুরে বই দেখতেও খুব একটা উদ্যম পাচ্ছিলাম না … এর মধ্যে সানিডেল-এর কয়েকটা স্টুডেন্টের সাথে দেখা হলো … সংগ্রাম, আবেগ, জিসান, জুল্কিফাল আর বাকি দুজনের নাম ভুলে গেছি … তো তারা আবার আমার ব্যক্তিগত জীবনের বেশ খোঁজখবর নিলো … জীবনযাপন কেমন হচ্ছে, কি করছি না করছি, বিয়ে-টিয়ে করেছি কি না … মানে, সানিডেল-এ থাকতেই ওদের সাথে আমার খুব ভাব-সাব ছিলো … ফলে টিচার টিচার ভাবের চেয়ে বন্ধুসুলভতাই বেশি ওদের সাথে … যাই হোক, বেঙ্গল বই থেকে বের  হয়ে আমাদের বড় দলটা পাঁচজনে এসে ঠেকলো … আমি, শৌনক, রিফাত, আশিক ভাই আর আবির ভাই … তো সবারই ক্ষুধা লেগেছে … সামনের বিল্ডিং-এই অনেকগুলা খাবারের দোকান … তো ওখানে অরেঞ্জ অ্যান্ড হাফ নামে একটা দোকান আছে, ওখানে ঢুকলাম … হাক্কা ঢাকা যাবো না অরেঞ্জ অ্যান্ড হাফ এই নিয়ে কনফিউশন ছিলো … শৌনক পাস্তা খাওয়ার কথা বললো, তো ওর কথার প্রেক্ষিতেই আমরাও ওটাকেই কি পয়েন্ট ধরে অরেঞ্জ অ্যান্ড হাফ-এ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম …

সবই ভালো ছিলো … সুন্দর গল্পগুজব হাসাহাসি হচ্ছিলো … খাওয়াদাওয়া শেষ করে আমরা কফি -আইসক্রিম এসব খাচ্ছি … এর মধ্যে হঠাৎ আবিষ্কার করলাম যে দোকানের ভেতরেই একটা প্রজাপতি আছে এবং লাইট জ্বালিয়ে দেবার কারণে সেইটা এখন ওড়াওড়ি শুরু করেছে … আমার এনজয়মেন্ট ওখানেই শেষ … তো প্রজাপতিটা বেশকিছুক্ষণ যাবৎ একটা জায়গাতেই বারবার উড়ে উড়ে সেটল হচ্ছিলো … আমার বিবর্ণ চেহারা দেখে ওড়া সবাই-ই আমাকে বেশ প্যাম্পার করছিলো যে কিছু হবে না, ওইটা ওখানেই থাকবে, আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন… কিন্তু যেই মুহুর্তে ওইটা প্রকৃতপক্ষে দোকানের ভেতরে এদিক সেদিক ওড়া শুরু করলো আমার পক্ষে আর দোকানের ভেতরে থাকা সম্ভব হলো না … আমি দৌড় দিয়ে বেড় হয়ে বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম … শৌনক আমার কফি আর ওর আইসক্রিম নিয়ে বাইরে এসে আমাকে কিছুক্ষণ সঙ্গ  দিলো … কিছুক্ষণ রিফাত এসে দাঁড়ালো … সে এক বিব্রতকর পরিস্থিতি …

গতকালকে ফেসবুকে পুরনো সময়ের পোস্ট ঘাঁটতে গিয়ে একটা ফেসবুক নোট পেলাম … ২০০৯ -এ লিখেছিলাম … ‘নৈঃশব্দ’ শিরোনামে … লেখাটা পড়তে পড়তে নিজেই নিজের সেইসময়কার লেখনীতে মুগ্ধ হয়ে গেলাম … সম্ভবত লেখাটা অনিক-কে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলাম … এখন নিশ্চিত হতে পারছি না … অনিক মাঝে মাঝেই নিরুদ্দেশ হয়ে যেতো … ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিতো, এমনকি মোবাইলেও ফোন করলে বা মেসেজ পাঠালে রিপ্লাই দিতো না … অনেক পরে বুঝতে পেরেছিলাম যে এইটা ও তখনই করতো যখন ওর প্রেমিকার সাথে ওর ভাব-সাব হতো … আবার যখন ঝামেলা হতো তখন ও স্বরূপে ফিরে এসে নতুন কারো সাথে বন্ধুত্ব পাতাতো! … আমিও অনিকের এরকম সাময়িক বন্ধু ছিলাম, যেটা বুঝেছি বেশ পরে … কিন্তু অনিকের সাথে সম্পর্কগত এইসব ব্যাপারস্যাপার বাদ দিলে এমনিতে মানুষ হিসেবে আমার জীবনে ওর অনেক ইনফ্লুয়েন্স … বলা যেতে পারে আমার জীবনের সবচেয়ে ইনফ্লুয়েন্সিভ মানুষ কে সেটা যদি জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে আব্বুর পরে অনিকের নামই আসবে … আজকে আমার মধ্যে যা যা ক্রিয়েটিভ পার্ট তার প্রায় সবটুকুই এক্সপ্লোরড হয়েছে অনিকের ইনফ্লুয়েন্সে … এমন না যে ও আমাকে বলেছে এটা করো, ওটা করো … ওর সাথে কথা বলতে গিয়ে বা ঘুরতে ফিরতে গিয়ে নিজের মধ্যেই থট প্রসেস-এর পরিবর্তন ঘটেছে … নিজেকে চিনতে শিখেছি … নিজেকে বুঝতে শিখেছি … তো, যাই হোক, লেখার প্রসঙ্গে ফিরে আসি … লেখাটা পড়তে গিয়ে যেটা ভালো লাগছিলো যে অনেক সুন্দর সুন্দর উপমা ব্যবহার করেছিলাম … এত বছর পরে লেখাটা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম যে এখন যদি এরকম কিছু লিখতে যাই ওইসব উপমার ১০ ভাগ-ও মাথায় আসবে না … এখন আমার লেখার স্টাইল অনেক বেশি ডিরেক্ট, অনেক বেশি র! … আর আগে খুব উপমা দিয়ে, খুব বিমূর্ততা দিয়ে লিখতাম … মনে হতো যেন গদ্যের ফ্রেমে পদ্য লিখছি! … সেইসব কাব্যিকটা এখন আর লেখায় আসে না …

লেখাটা খুব বড় না … এখানেই তুলে দিচ্ছি … অন্তত আর্কাইভ হয়ে থাকবে … 

” নৈঃশব্দের শব্দ শুনতে পারা যায় কি? …সেই শব্দ শুনতে কেমন?…সুর-তাল-লয়ে তাদের দ্যোতনা দিব্যি আসে তো?…আমি নৈঃশব্দ ঘৃণা করি জানো নাকি?…নাগরিক শব্দদূষণের যন্ত্রণার ভেতরেও আমি এক মুহুর্ত নিরবতা সহ্য করতে পারি না!…সকাল বেলা যখন আমার ঘুম ভাঙ্গে আব্বুর ঘরের টিভি থেকে ভেসে আসা তীব্র হিন্দি গানের শব্দে, তখন যদিও মনে মনে ‘বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে’ বলে গজরাই, যেদিন নিঃশব্দে ঘুম ভাঙ্গে সেদিন কিন্তু ঠিকই অসহ্য লাগে। কারণ আমি নৈঃশব্দ ঘৃণা করি।

রাস্তা-ঘাটে বাস-ট্রাক-গাড়িতে যদি যান্ত্রিক হর্ণ না থেকে থাকতো বিথোভেনের সিম্ফনিগুলো…কিংবা মোৎজার্ট, ভিভালদি দের মাতাল করা সুরের ধ্বনি…’প্যাঁ-পোঁ’ এর বদলে যদি থাকতো শান্ত, আরামদায়ক কোনো পারকাশন…রিকশা’র পেছন থেকে যে গাড়িটা মগজের প্রতিটা কোষ’কে উত্তেজিত করে ক্রমাগত হর্ন দিয়ে ‘শক্তির অনুশীলন’ করে, সে যদি শঙ্খের সুর তুলতো, তাতে ক্ষতি কি হতো?…রিকশা’র যে ঘন্টা ক্রিং ক্রিং ক্রিং করে মাথা ধরিয়ে দেয়, সেখানে যদি ‘ধিন তা তা…তা ধিন না’ করে মন্দিরা বাজতো, শ্রবণেন্দ্রিয়ের কি উপায়টা থাকতো ভালো না লেগে?

মোবাইলের রিংটোনগুলো খুব যন্ত্রণা দেয়। মানুষ হাই-পিচ সাউন্ড যে কতটা পছন্দ করতে পারে তা মোবাইলের রিংটোনের বহরেই বোঝা যায়। নোকিয়া’র টরে-টক্কা রিংটোন যদি বাসের সহযাত্রীর পকেটে ফুল ভলিউমে বেজে ওঠে তখন কেমন লাগে?…আমার কিন্তু মোটেই ভালো লাগে না…..মোবাইলে কেন মেট্রোনামের সফট ট্রায়াড কর্ড বাজে না?…কিংবা খুব মন মাতানো একটা টুং-টাং চাইম বেল?…

নিত্য-নতুন ব্যাঙ্গের ছাতার মতো যে বাড়ি ঘরগুলো তৈরি হয়,তাতে হাতুড়ি-ছেনি’র বাড়িতে ঠাস্-ঠাস শব্দ না হয়ে যদি ঢং-ঢং করে ঘন্টার বাজনা হতো তবে কেমন হতো?…ছোটোবেলায় চাবি ঘোরানো খেলনা ছিলো। চাবি ঘুরিয়ে বাক্স খুললেই ‘টুং-টাং’ করে বাজতো…রাস্তার কানে তালা লাগানো শব্দেরা কেন মিউজিক বক্সের ‘টুং-টাং’ হয়ে যায় না?

বলবে এত কিছুর চাইতে নৈঃশব্দই ভালো?…মোটেই ভালো নয়, যদি বলো ‘হ্যাঁ’…নৈঃশব্দের সুর অনেক করুণ!…নৈঃশব্দ আমাকে ‘ঘড়ির টিক টিক’ শোনায় স্পষ্ট করে। তাতে আমার সময়জ্ঞান হয়, আর সময়ের কমা-দাড়ি জেনে গেলেই আমি বিষন্ন হয়ে যাই……সময় অনেক দ্রুত আগায়, না আমি অনেক ধীরে?………আবার কখনো সময় যে এগুতেই চায় না!……নৈঃশব্দের প্রহরে যখন কি-বোর্ডের সি মেজর স্কেল ধরি, সা রে গা মা’র ধারাপাত বাজাই, সেটাও কেমন করুণ শোনায়!…গিটারের তারে যদি আনমনে একটা ‘টং’ করে শব্দ করি, তবে সেটাও যেন তার সমস্ত বিষাদগ্রস্ততা নিয়ে বেজে ওঠে। …

নৈঃশব্দের শব্দ শোনার জন্য কখনো বিষন্নতাকে সই করে বসি…কোথায় যেন একটা করুণ সুর বাজে!…কেউ যেন বহুদূরে ভায়োলিনে বিষন্নতার-একাকীত্বের করুণ সুর তুলছে। …এত বিষাদ সেই সুরে…আমার শুনতে ভালো লাগে না……আমি অসহ্য হয়ে কানে হাত চেপে ধরি…………হাত নামালে ক্ষণিকের জন্য একটা অদ্ভুত রকম নিরবতা নেমে আসে…তারপর আবারো ভায়োলিন বেজে ওঠে…………

এই বিষন্নতার সুর তোলা নৈঃশব্দ আমার প্রিয় নয়। আমি নৈঃশব্দের ঘোরে ক্যালটিক নৃত্যের আনন্দময় সুর শুনতে চাই…তখন হয়তো নৈঃশব্দকে আমিও ভালোবাসবো… ”    

আজকে আর লিখবো না … একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছে … দুপুরে শৌনক আর আবির ভাইয়ের কাছ থেকে দুই/চার চামচ আইসক্রিমে ভাগ বসিয়েছিলাম … বাসায় এসে গোসল করেছি সন্ধ্যায় … তাও আবার পানি বেশি গরম হবার অপেক্ষা করিনি … তারপর ভেজা চুল নিয়েই ঘুমিয়েছি ঘণ্টা দুয়েক … চুল শুকিয়েছি আরও অনেক দেরিতে … সবমিলিয়ে এখন গলা খুসখুস করছে আর মনে হচ্ছে একটা ভালো ঠাণ্ডা লেগে যাবে … সন্ধ্যায় ঘুমের মধ্যেই বেশ এক-দুইবার কেশে ফেলেছি … জানি যে শীতকালের এই সময়টায় ঠাণ্ডা কিছু খাওয়া আমার জন্য বিষের সমান, তাও লোভ সামলে চলি না …

যাই হোক, আজকের মতো শেষ করি …        

      

দিনযাপন । ২৯১১২০১৭

সিনেমা দেখে বাসায় ফিরতে ফিরতেই আজকে রাত ৯টাতারপর গোসল টোসল সেরে , খাওয়া দাওয়া করে আর পরীক্ষার খাতা নিয়ে বসতে ইচ্ছা করলো না … আজকের দিনযাপন গরম গরম লিখতে হবে … না হলে দিনশেষের ‘দুনিয়া গোল’ এইটা আবারো প্রমাণিত হবার ঘটনাটা কালকে-পরশু লিখলে মজা হবে না …

আগেই প্ল্যান ছিলো যে সিনেপ্লেক্সে ‘কোকো’ মুভিটা আসলেই দেখতে যাবো … ট্রেলার দেখেই মুগ্ধ হয়ে ছিলাম … তাছাড়া লি উনক্রিখ-এর মুভি মানেই অসাধারণ কিছু হবে সেইটা একটা এক্সপেকটেশন এমনিই থাকে … তো, ২৪ নভেম্বরে এইটা সিনেপ্লেক্সে আসবে, সেটা লিখে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম … মানে, সিনেমাটা আসছে, দেখতে চাই টাইপের একটা ওপেন ইনভাইটেশন … তো কাশফিয়া আপু সাথে সাথেই রেসপন্স করেছিলো ‘চলো যাই’ … তো সেইটার সূত্র ধরেই গতকালকে প্ল্যান ফাইনাল করা হলো … স্কুলে আরও কয়েকজনকেই বলেছিলাম, তারা উৎসাহীও ছিলো, কিন্তু মুভির টাইম বিকাল ৪টা ৪০ শুনে পরে আর যেতে চাইলেন না … এদিকে সোয়া ১টার টাইমটাও মেলানো যাচ্ছিলো না, যেহেতু পরেরদিনের পরীক্ষার জন্য ট্রে-সেটিং করে স্কুল ছুটি হতে হতেই প্রায় দেড়টা বেজে যায় … ফলে শেষমেশ আমি আর কাশফিয়া আপুই টিম হলাম …

23621296_1231531866982647_2549737000666621710_n (1)

আজকে স্কুল শেষে টেকআউট বার্গার হয়ে তারপর সিনেপ্লেক্সে যাওয়া হলো … ৫ তারিখে স্কুলের ক্লাস ফোর থেকে সেভেন-এর বাচ্চাদের স্টাডি ট্যুর আছে, শহিদ মিনার আর জাতীয় জাদুঘর … তো সেখানে বাচ্চাদের টিফিন হিসেবে বার্গার দেয়া হবে … আর বার্গার যদি দিতেই হয়, তাহলে টেকআউট হচ্ছে বেস্ট অপশন … ঢাকা শহরের সবচেয়ে মজার বার্গার সম্ভবত টেকআউটেই পাওয়া যায় … বাচ্চাদেরও খুব ফেভরিট এই বার্গার … তো সেই বার্গার অর্ডার করতেই আসলে টেকআউটে যাওয়া আজকে … কাশফিয়া আপুই যোগাযোগ করছিলো ফোনে ফোনে, আজকে গিয়ে ফর্মালি অর্ডার প্লেস করা হলো … তো টেকআউটে যখন যাওয়াই হলো, তখন বার্গার না খেয়ে বের হবার তো কোনো মানে হয় না! তাই আমাদের লাঞ্চটাও ওখানেই হয়ে গেলো …

বসুন্ধরা সিটিতে আমরা আগে আগেই পৌঁছে গেলাম … তখনো হাতে প্রায় ঘণ্টাখানেক বাকি … তো বিভিন্ন দোকানে উইন্ডোশপিং করে করে শেষে দেশি দশে ঢুকলাম … দেশালে ঢুকে একটা পঞ্চ আর একটা জ্যাকেট পছন্দ হয়ে গেলো … এম্নিতেই একটা শীতের কাপড় কিনবো কিনবো করছিলাম … ইনফ্যাক্ট, আজকে টেকআউট থেকে বের হয়ে ওই বিল্ডিং-এর নিচে সেইলরের আউটলেটে একটা জ্যাকেট ট্রায়াল দিয়ে প্রায় কিনেই ফেলছিলাম! … পরে কি মনে করে আর নিলাম না … ভাবলাম যে বসুন্ধরা সিটিতে তো যাচ্ছিই … ওখানে আরও দোকান আছে, সেগুলো দেখে নেই … তো দেশালে ঢুকে দেখতে দেখতে শেষে কাশফিয়া আপুই প্রথমে একটা পঞ্চ দেখে খুব পছন্দ করলো … সেই পঞ্চ আবার আমারও পছন্দ হলো … তো দুইজনেই একই পঞ্চ কিনে ফেললাম … এর মধ্যেই একটা জ্যাকেটও বের করে দেখালো কাশফিয়া আপু … সেটাও গায়ে দিয়ে পছন্দ হয়ে গেলো … শেষে দেখা গেলো আমি পঞ্চ আর জ্যাকেট দুইটাই কিনে ফেললাম … স্যালারি অ্যাকাউন্টের কার্ডে টাকাই ছিলো বোধহয় হাজার পাঁচেক, তার মধ্যে ওইখানেই তিনহাজার টাকা শেষ! … সিনেমা দেখে বের হয়েও এস্কেলেটর দিয়ে নিচে নামতে নামতে এক দোকানে ঢুকে একটা ব্লু টুথ স্পিকার দেখে এতোই পছন্দ হলো যে ১১০০ টাকা খরচ করে ওইটাও কিনে ফেললাম! … কার্ডে এখন ৫০০ টাকাও আছে কিনা সন্দেহ! … এমনকি হাতেও ক্যাশ টাকা বোধহয় সবমিলায় শ’পাঁচেক হবে … আজকে ২৯ তারিখ … বেতন পেতে পেতে আরও অন্তত ৪/৫ দিন চলতে হবে! …

এইমাসে তো শুরুতেই এক্সট্রা টাকা পেয়ে রাজার হালে খালি উবারে করে স্কুলে গেছি, আবার উবারে করে ফিরেছি! … দিনপ্রতি প্রায় ১০০০ টাকা করে খরচ করে এখন মাস শেষে এসে যাও হাজার পাঁচেক টাকা হাতে ছিলো, সেইটাও আজকে এক ধাক্কায় শেষ করলাম! …

এটাকে হয়তো ডিপ্রেশন শপিং বলা যেতে পারে! … কিছু মানুষ মন মেজাজ খারাপ থাকলে খাওয়া-দাওয়া করে … আর আমার মতো কিছু মানুষ আছে যারা আগা-পাছ-তলা না ভেবে শপিং করে …

যাই হোক, মুভিটার গল্প বলি … মুভি দেখে আমি মুগ্ধ … ট্রেলার দেখে যেই বিমোহিত অবস্থায় ছিলাম তাতে এতটুকু ছেদ পড়েনি … বরং মুগ্ধতা আরও বেড়েছে! … মুভি দেখে নিজের জীবনের সাথে মিলায় ইমোশনার হয়ে যাবার আবেগ আমার মধ্যে কম কাজ করে … কিন্তু আজকে এই সিনেমা দেখে আমি কাঁদলাম পর্যন্ত … একটা অংশ ছিলো, হেক্টর নামের একটা চরিত্র প্রধান চরিত্র মিগেল-কে বলছিলো যে সে তার মেয়েকে খুব মিস করে, তার মেয়ে তাকে ভুলে যাচ্ছে, আর তাই হেক্টরের আত্মাও আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে … তো এমন একটা অবস্থায় এখন তারা আছে যে হেক্টরের মেয়ে মারা গেলেও তাদের আর কখনো এই পরলোকেও দেখা হবে না … আমার কি জানি হলো … আমি নিজের কথা ভাবতে থাকলাম … সত্যি সত্যিই যদি এরকম ইহলোক-পরলোক বলেকিছু থাকে, তাহলে হয়তো আমারও একটা অংশ এখন আত্মা হয়ে পরলোকে আছে … সে কি কখনো আমার অস্তিত্ব জানবে? না আমি কখনো তাকে খুঁজে পাবো, যদি আমি এখন মরে যাই? … আমি তো তাকে দেখিনি … আমি ছাড়া আর কেউ কি তাকে মনে করে? … তাহলে আমি যদি মরে যাই, তবে তো সেও বিলীন হয়ে যাবে … তাহলে তো মরেও কোনোদিন তার সাথে আমার দেখা হবে না … এই ভাবতে ভাবতে কেঁদেই দিলাম …

ইদানীং এই নিজের একটা অংশকে নিজের হাতেই ফেলে দেয়ার অনুশোচনাটা মনের ভেতর কেমন আহাজারি হয়ে আঘাত হানে … হঠাৎ হঠাৎ ভেতরে থেকে কেমন কান্না ঠেলে আসে … প্রায়ই এমন হয়, হয়তো শুয়ে আছি, কিংবা টেবিলে বসে কাজ করছি, কিংবা রাস্তায় গাড়িতে বসে আছি, কথা নাই বার্তা নাই ‘কেন এমন করেছিলাম’ ভাবনার উদ্রেক হয় কোথা থেকে, আর আমার গলা পর্যন্ত কান্না এসে ঠেকে … রাস্তায় থাকলে বা বাইরে থাকলে তো আড় কাঁদতে পারি না, বাসায় থাকলে বালিশ-টালিশ ভিজিয়ে কাঁদি … স্কুলের একটা স্টুডেন্ট আছে, অর্হ্য, বেশ গুটলু-গাটলু টাইপ, ওকে দেখলেই আমার মনে হয় ওর মতো একটা গুল্লু-গাল্লু ছেলে থাকতে পারতো আমার! … কখনো কিন্তু মেয়ের কথা মনে হয় না! … মনে হয় যেন একটা ছেলেই হতো! … আর কাকতালীয়ভাবে অর্হ্য’র জন্মদিনও বেছে বেছে সেই ৫ অক্টোবর-এই! … এতটা পরিহাস ভাগ্য কীভাবে করে মাঝে মাঝে বুঝে উঠতে পারি না! … এই দুই-তিনদিন আগেই অর্হ্যকে ধরে প্রতিদিনের মতো গাল টিপে দিয়ে আদর করছি, ট্রেন ট্রেন খেলছি, কে জানি জিজ্ঞেস করছিলো ‘মিস আপনি ওকে এত আদর করেন কেন?’ … আমার কোনো রকম নিয়ন্ত্রণের অপেক্ষা না করেই মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলো, ‘কারণ ওকে দেখলে আমার মনে হয় আমার যদি ওর মতো একটা বাবু থাকতো!’ …

নিজের হাতেই সবকিছুর সব সম্ভাবনা শেষ করে দিয়ে এখন আবার নিজেই কেন আহাজারি-অনুশোচনা করি নিজেই বুঝি না! …

যাই হোক, মুভি দেখে বের হয়ে বাসায় ফেরা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না … তো উবার ডাকলাম … দাদন নামের এক ড্রাইভার … সে বাংলামটর আছে বললো … তো বসুন্ধরা সিটির গেটে আসা তার অন্য খুব ঝামেলা হয়ে যাবে, তাই আমি বললাম যে আমিই না হয় সার্ক ফোয়ারার মোড় পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়াচ্ছি … তো আমি আর কাশফিয়া আপু বসুন্ধরা সিটি থেকে হেঁটে গিয়ে কাজি নজরুল ইসলাম এভিনিউ-এর মাথায় দাঁড়ালাম, তারও প্রায় মিনিট ১০/১৫ পরে গাড়ি এসে পৌঁছালো … সারা রাস্তা সেই ড্রাইভার কুমিল্লা রাইডার্স আর ঢাকা ডাইনামাইটস এর বিপিএল ম্যাচের খেলার ধারা বিবরণী শুনলো … যেহেতু রেডিও-তে সেই ধারা বিবরণী চলছিলো তাই আমারও শুনতে হলো … সারাদিন বিভিন্ন শব্দের মধ্যে থেকে থেকে গাড়ির ভেতর খেলার কমেন্ট্রি কেমন একঘেঁয়ে আর বিরক্তিকর লাগছিলো … তারপরও কিছু বললাম না … খেলা ভালো লাগে হয়তো তার … গান শুনলে না হয় বলা যেতো ‘ভাই পড়ে শুনেন’ … কিন্তু লাইভ খেলা তো আর পরে শুনতে বলা যায় না! … তো তার বিভিন্ন আচরণে একটু বিরক্ত হতে হতেই আসছিলাম … নাকি মন মেজাজ খারাপ ছিলো বলে সামান্যতেই বেশি বিরক্ত লাগছিলো জানি না … ড্রাইভারও যখনই জ্যামে বসে ছিলো ক্রমাগত পয়া নাড়াচ্ছিল, আর সেই পা নাড়ানোর চোটে মনে হচ্ছিলো যেন পুরো গাড়িই কাঁপছিলো … ইগ্নোর করে গেলাম … এক পিক-আপ ওভারটেক করতে চেয়ে একটু বিরক্ত করলো, এই ড্রাইভার আবার তার সাথে গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে চাইছিলো, সেখানে বিরক্তি প্রকাশ করে তাকে থামালাম … তো এইসব করতে করতে যখন সাড়ে এগারোর চৌরঙ্গির গলি দিয়ে ঢুকছি, তখন ড্রাইভার বলে, ‘এই রাস্তায় তো এই কয়েকদিন আগে পর্যন্তও রেগুলার আসতাম … অন্তত মাসে একবার … এখানে গলির শেষ মাথায় গিয়ে ডানদিকেই নতুন একটা ফ্ল্যাট হয়েছে না, ওইখানে আমার আগের মালিকের শ্বশুরবাড়ি’ …. আমিও হু-হা করে রেসপন্স করলাম … তো গাড়ি বাসার মোড়ে এসে ডানে ঘোরাতে ঘোরাতে আমাদের বাসা দেখিয়েই বলে, এই যে এই বাসাটা! এইটার দুইতলায় … আমি কি বলবো বুঝে না পেয়ে বললাম, বাঁয়ে গেটে রাখেন! এইটা তো আমারও বাসা! … আমি যতটুকু না অবাক হয়েছিলাম, তার চেয়ে বেশি অবাক এবার সে হলো! … বলে, এইটা আপনার বাসা? … আমিও বললাম যে হ্যাঁ, আমার দাদার জায়গা, দাদার বাড়ি এটা! নিজেদেরই বাসা! … আমি ভাবছিলাম উনি কি আগে যে দুইতলায় ভাড়া থাকতো তাদের কথা বলছে, নাকি  তিনতলার উনাদের কথা বলছে … তখন ড্রাইভার একগাল হাসি দিয়ে জানালো ‘দুইতলায় আপনার দাদি থাকে না? … আপনার ভাইবোনরা আছে না, কুহু, মুহিত … আমি উনাদের গাড়ি চালিয়েছি প্রায় ১০ বছর … আপনার মায়ের কলেজেও গেছি দুই/তিন বার … আপনার দাদিও আমাকে ভালোমতোই চেনে … এমনকি ওই দারোয়ান চাচাও আমাকে দেখলে চিনবে!’ … আমি তখন মনে মনে বলছি লে হালুয়া, দুনিয়া না হয় গোল, তাই বলে এমনই গোল যে নিজের চাচির ড্রাইভারকেই আমি ঘটনাচক্রে উবারে ড্রাইভার হিসেবে পাবো? … কিছুই বলার না পেয়ে বোকার মতো হে হে করতে করতে নেমে গেলাম …

যাই হোক, আজকে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না … কেমন জানি উদাস হয়ে ছিলাম সকাল থেকে … সিনেমা দেখতে গিয়ে এইসব বাচ্চাকাচ্চা-হাবিজাবি চিন্তাভাবনা মনে এসে ভিড় করে মন মেজাজ আরও খারাপ করে দিয়েছে … এখন ভাত খাবো … যেহেতু রাতে ১০টার দিকে গোসল করেছি, চুল একদমই শুকায়নাই … ভাত খেয়ে এসে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাবো … তারপর শুয়ে পড়বো … কালকে আবার হরতাল … কিন্তু পরীক্ষাও আছে … ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের হরতাল বলে বিশেষ পাত্তা পায়নাই … পরীক্ষার টাইমও সেজন্য পেছানো হয়নাই … তো সকাল সকাল তো স্কুলে যেতেই হবে … উবারের এক ড্রাইভার এখন এম্নিতেই সকালবেলা বাসার সামনে এসে দাঁড়ায় থাকে … কালকেও মনে হয় আসবে … একদিকে আরামই লাগে যে শীতের মধ্যে সকালবেলা গাড়িতে করে আরামে যাচ্ছি … কিন্তু যখনই ভাড়ার টাকাটা ৪৫০টাকা গুনতে হয় তখনই মনে হয় যে এর চেয়ে সিএনজি-তে ঠাণ্ডা বাতাস আর ধুলা খেতে খেতে এসে ২৫০টাকা দিলেও তো ২০০টা টাকা সেভ হইতো! … উবারের গাড়ির ওই ড্রাইভার আখতার ভাইকে অবশ্য আমি আজকে সকালবেলাই এই বুঝ দিয়েছি যে আগামী রবিবার থেকে আমার স্কুলের টাইমিং আসলে চেঞ্জ হয়ে যাবে, তখন আর নির্দিষ্ট টাইমে যাবো না … ফলে উনি যাতে এভাবে আর না আসে … দরকার হলে আমিই ডাকবো … মনে মনে বলি টাকা বাঁচানোর জন্য হলেও সকাল-দুপুর দুইবেলা উবারে চলাফেরা করার বিলাসিতা করা যাবে না! …

যাই হোক, আজকের মতো লেখা শেষ করি … ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর না ২৮ নভেম্বরে যে বর্ণার বিয়েতে যাবার পথে ফোন ছিনতাই হয়েছিলো, সেই ঘটনাটা নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম কালকেই … কিন্তু আজকে আর সেটাকে প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে না … ফলে সেটা নিয়ে আর কিছু লিখলাম না …

অতএব, আজকের জন্য দি এন্ড …               

 

দিনযাপন । ২৬১১২০১৭

বিকালে গোসল করতে গিয়ে পানি ঠিকমতো গরম হবার জন্য অপেক্ষা না করেই কিঞ্চিৎ ঠাণ্ডা পানিতে গা ভিজিয়েছি … গোসল শেষ করে যেরকম দাঁত কপাটি লাগার মতো কাঁপাকাঁপি করেছি, এখন মনে হচ্ছে জ্বরই আসে কি না … খুব মাথা ব্যথা করছিলো বাসায় ফিরতে ফিরতেই … ভাবলাম যে বাসায় ঢুকেই গিজার ছেড়ে দেবো, তারপর গোসল করে, খেয়ে ঘুমাবো একটু … কিসের কি! দেড়টা নাগাদ বাসায় ঢুকতে না ঢুকতেই বিছানায় ধপাস! চোখ বন্ধ হয়ে আসছিলো ঘুমে, আর সাথে অসহ্য মাথা ব্যথা … তো ঘুমিয়েই গেলাম … ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আবার কি একটা খাপছাড়া স্বপ্নও দেখেছি … কিন্তু সেটার কিচ্ছুই মনে নাই … ঘুম ভাঙলো সোয়া চারটার দিকে … তারপরও আলসেমি করে, হাত-পা ঝেড়ে উঠতে উঠতে আরও দশ-পনেরো মিনিট … মাথা ব্যথার তীব্রতা এতই ছিলো যে গিজারের পানি কখন পুরোপুরি গরম হয়ে সারবে তার জন্য তর সইলো না … ফলে গরম পানির কলে যেটুকু নাতিশীতোষ্ণ পানি আসছিলো ওইটা দিয়েই গোসল করে ফেললাম … কিন্তু এই পানির সমস্যা হচ্ছে মগে বা বালতিতে নিতে নিতে পানিটা ঠাণ্ডা হয়ে যায় … ফলে আমার আলটিমেটলি ঠাণ্ডা পানি দিয়েই গোসল করা হলো … অলরেডি চোখ জ্বালা-পোড়া শুরু হয়েছে আমার … মাথা ব্যথাও কমে নি … জ্বর আসলে অবাক হবো না …

আজকে না জানি কতদিন পর আমার হাতে কোনো কাজ নেই … মানে, করতেই হবে জাতীয় কোনো অবলিগেশন নেই কোনো কাজ নিয়ে … আগামীকালকে আমার সাব্জেক্ট-এর দুইটা ক্লাসের পরীক্ষা … ক্লাস সেভেন আর এইট-এর বাংলাদেশ স্টাডিজ … আবার পরশু আসবে ক্লাস ফাইভ আর সিক্স-এর জিওগ্রাফি … পরদিন ক্লাস ফোর এর জিওগ্রাফি … তো আজকেই যা ফ্রি সময় কাটানোর কাটিয়ে নেই …

দিন হিসেবে আজকে খুবই সাদামাটা একটা দিন গেলো … স্কুল আর বাসা … স্কুলে গিয়ে সকাল সকাল অবশ্য একটা ছোট্ট কাহিনীর জন্ম দিয়ে ফেললাম … যেই রুমে আজকে পরীক্ষার ডিউটি ছিলো সেই রুমেই দেখি এক প্রজাপতি বসা … তাও বেশ উঁচুতে … রুমা খালার সাথে অনেকক্ষণ যাবৎ ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম যে ওইটাকে যেভাবে পারে যেন ক্লাস থেকে বের করে … দেখি যে উনি কোনো উপায় পাচ্ছে না … পরে লাকি আপা এগিয়ে গেলো … এম্নিতেই উনি লম্বা মানুষ … হাতে একটা কাগজ নিয়ে চেয়ারে, বেঞ্চে উঠে উঠে উনি প্রজাপতিটাকে উড়িয়ে উড়িয়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করলো … এর মধ্যে আরেক খালা বুদ্ধি করে কোথা থেকে ঝুল ঝাড়ার ঝাড়ু নিয়ে চলে আসলো … সে এক দৃশ্য! ক্লাসের মধ্যে এক টিচার আর এক বুয়া মিলে একটা প্রজাপতিকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, আর বাচ্চারা হাঁ করে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে যে আসলে ঘটনাটা কি ঘটছে … ক্লাস সেভেনের কয়েকটা স্টুডেন্ট আবার আমার এই প্রজাপতি ভীতি সম্পর্কে জানে … আমি দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম যে প্রজাপতি তাড়ানোর বিষয়টা কীভাবে কি হচ্ছে … তো, ওই স্টুডেন্টগুলা আবার আমার কাছে এসে দাঁড়ায় দাঁড়ায় আমাকে বুঝ দিচ্ছে যে ‘মিস! কিচ্ছু হবে না! ওইটা কিছু করবে না!’ …

তো যাই হোক, শেষমেশ প্রজাপতিটাকে ধরা গেলো … বুয়া ওইটাকে নিয়ে বাইরে উড়ায় দিয়ে আসলো … গতকালকেও ডিউটির সময় আরেক কেলেঙ্কারি হতে গিয়েও হয়নাই … ক্লাস ফাইভের রুমে ডিউটি দিচ্ছিলাম … হঠাৎ দেখলাম ক্লাস সেভেনের রুমে এক প্রজাপতি উড়ছে … আমার খালি মনে হতে দেরি যে ওইটা যদি এখন ওই ক্লাস থেকে করিডোর ধরে ক্লাস ফাইভের দিকে আসে তাহলে কি হবে, আর তখনই দেখলাম ওইটা সত্যি সত্যি করিডোর ধরে উড়ছে … আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম … এদিকে প্রজাপতিটা ক্লাস ফাইভে না ঢুকে পাশের ক্লাস এইটের রুমে ঢুকে উড়তে থাকলো … শুক্লা তখনই ক্লাসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো … ওকে ক্লাস ফাইভে দাঁড় করিয়ে আমি সোজা টিচার্স রুমের দিকে দৌড় … টিচার্স রুমে থেকে ক্লাস এইট আর করিডোর দেখা যায় …তো যখন দেখলাম প্রজাপতিটা ক্লাস এইটের দেয়ালে বসেছে, তখন আবার ক্লাস ফাইভে ফিরে গেলাম … শম্পা আপা ছিলেন ক্লাস এইটে, উনি দেখলাম কোনো এক ফাঁকে যখন প্রজাপতিটা একটু হাতের নাগালে এসেছে তখন জোহরা খালাকে ডেকে ওইটাকে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করেছে! …

প্রতিদিনই এই এক প্রজাপতি নিয়ে কি কি যে কাহিনী করে যাই … আর এত প্রজপতি এখন কোথা থেকেই যে আসে!

গতকালকে দিনযাপন লেখার মতো সময় আর এনার্জি পাইনাই, কিন্তু গতকালকে বেশ ইভেন্টফুল একটা দিন ছিলো … সকালে স্কুল ছিলো … পরীক্ষা শুরু বলে শনিবারে স্কুল … তো কালকে তো আলিয়সঁ ফ্রসেঁ-তেও ক্লাস ছিলো … আমি সকালে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত স্কুলে পরীক্ষার ডিউটি সেরে তারপর ক্লাসে গিয়ে জয়েন করলাম ব্রেকের পর … এদিকে কালকে আওয়ামী লিগের আনন্দ শোভাযাত্রা ছিলো সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে … আর আমাদের যখন ক্লাস শেষ হবে তখনই শোভাযাত্রা যাবার পিক টাইম … তো কে কীভাবে যাবে আলোচনার এক ফাঁকে কথায় কথায় আলোচনা হচ্ছিলো যে ওইসময় যে যার বাসায় যাওয়ার রিস্ক না নিয়ে বেঙ্গল বইয়ে যাই … তো ক্লাস শেসে বের হয়ে আলটিমেটলি ওইটাই প্ল্যান হয়ে গেলো … শৌনক, স্থিতধী, নিশাত আর আমি শৌনকের গাড়িতে উঠলাম, এদিকে সাদাত, আশিক ভাই, আশরাফ ভাই আর লামিয়া বললো ওরা সাদাতের গাড়িতে আসছে … মাঝপথে আবার সাদাতরা ফোন করে জানালো ওরা রাস্তার অবস্থা দেখে কনফিউজড যাবে কি যাবে না … আলটিমেটলি ওরা গেলো না … আমরা চারজনই বেঙ্গল বই-এ গিয়ে ঘুরলাম, বই দেখলাম, ছবি-টবিও তুললাম …

বেঙ্গল বই -এর পুরো নকশাটা এত সুন্দর! আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম… মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে এই শীতকালে না হলেও গরমের সময় আমি এখানে এসে এসে প্রায়ই বসে বসে বই পড়বো … খাতাপত্র নিয়ে গিয়ে কাজ করা যাবে কি না জানতে হবে … তাহলে মাঝে মাঝে বইখাতা নিয়ে পড়ালেখাও করা যাবে …. শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের উল্টা দিকে পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের লাইব্রেরিটাও বেশ সুন্দর … ওইখানেও বসে বই পড়া যায় … কিন্তু ওটা খুব পশ জায়গা না বলে মনে হয় সব টাইপের মানুষ যায়না … আবার কাঁটাবন সিগন্যালের কাছাকাছিই দিপনপুর বলে আরেকটা জায়গা হয়েছে যেখানে বসে বসে বই পড়া যায়, চা-কফি খাওয়া যায় … তবে বেঙ্গল বইয়ের এই জায়গাটা সব ধরণের মানুষেরই পারপাস সার্ভ করবে … যে জেনুইনলি বসে বই পড়তে চায়, তার জন্যও একটা যেমন আকর্ষনীয় জায়গা, যে নাকি এরকম জায়গায় গিয়েছি, হেঁটেছি এইসব দেখিয়ে নিজেকে একটু সংস্কৃতমনা প্রমাণ করতে চায় তার জন্যও এটা আকর্ষনীয় জায়গা …

বেঙ্গল বই থেকে বের হয়ে আমরা আবার খেতেও গেলাম … স্থিতধীর এক কথায় টিবিসি ক্যাফের প্রসঙ্গ আসছিলো … তো রামেনের কথা শুনে স্থিতধী আর আমি দুজনই রামেন খাওয়ার জন্য উৎসাহী হলাম … টিবিসি-তে এর আগেও দুই-একবার খেয়েছি … ওরা জাপানিজ স্টাইলে রান্না করে … মেন্যুতেও জাপানিজ আইটেমই থাকে … জাপানিজ খাবার বলেই জায়গাটার প্রতি আগ্রহও অনেক … ছোটোখাটো একটা দোকান, কিন্তু খুব মজার খাবার … দামেও যথেষ্ট রিজনেবল …

যাই হোক, গত দুইদিন বেশ সাহসের পরিচয় দিয়ে বিকেলে ৪টার পরে বাসার বাইরে থেকেছি … কালকে তো তাও ৫টার দিকে ফিরেছি … পরশুদিন তো আঁখি আপুর গানের প্রোগ্রামের জন্য আলিয়সঁ ফ্রসেঁ-তে গিয়েছিলাম বিকেল বেলাতেই … তাও ভালো যে প্রোগ্রামটা অডিটোরিয়ামে ছিলো … না হলে যেতাম কি না সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে … যাই হোক, গান শুনে বেশ ভালো একটা সন্ধ্যা পার করেছি … আঁখি আপুর গলায় সেভাবে কখনো গান শুনি নাই … সবসময়ই শুনে এসেছি উনার এই প্রোগ্রামে, ওই প্রোগ্রামে গানের কথা … কিন্তু সরাসরি আর গান শোনা হয়নাই … তো ওইদিন গান শুনে বেশ ভালো লাগলো উনার কণ্ঠ … উনার সাথে আরেকজন যিনি গেলেন, তার গান ভালো লাগলো না … গলা মেলোডিয়াস না … আবার একপর্যায়ে উনার ভয়েস ক্র্যাকই করে বসলো! … উনার জন্য পুরাই বিব্রতকর পরিস্থিতি! … সেই তুলনায় আঁখি আপুর এমনিতেই ঠাণ্ডার জন্য গলায় সমস্যা, কাশি … অথচ গান গাইবার সময় একদমই সেটা টের পাওয়া গেলো না …

গত পরশুদিন আলিয়সঁ ফ্রসেঁ থেকে বাসায় ফেরার সময় একটা স্বভাববিরুদ্ধ দুষ্টুমির আশ্রয় নিয়েছি … আবার এটাকে স্বভাববিরুদ্ধও বলা যায় না , যদি এই কনটেক্সট-এ ভাবি যে আমার পছন্দ-অপছন্দের ট্রিটমেন্ট-টা খুব সোজাসাপ্টা। ঘটনা হচ্ছে, জেবু আপাও গিয়েছিলো গান শুনতে … কাশফিয়া আপু, টুম্পা আপু, শম্পা আপা উনারাও … তো জেবু আপা আমাকে দেখেই প্রস্তাব দিয়ে ফেললেন ফেরার সময় আমার সাথে যাবেন, আমি যেন উনাকে কাজিপাড়া নামিয়ে দিয়ে যাই … তো উনাকে তো এম্নিতেই আগের বিভিন্ন ঘটনার কারণে আমার লিফট দিতে ইচ্ছা করে না, উনি যেতে চাইলেও আমি এটা কাজ, ওটা কাজ বলে কাটিয়ে দেই। তো, গতমাসেই একদিন আবার ঘটনাচক্রে উনি আমার সাথে স্কুল থেকে ফিরেছে … তা ওইদিন আমি উবারে এসেছি … উনি গাড়িতে উঠেই গাড়ি এমন কেন, অমুক কেন, তমুক কেন, এদিক দিয়ে যান, ওইদিক দিয়ে যান, এসি কম কেন, মশা কামড়ায় এইসব শুরু করলেন! … আমি নিজে প্যাসেঞ্জার হিসেবে কখনোই এসব নিয়ে কমপ্লেইন করিনা … তো আমি খুব বিব্রত হচ্ছিলাম যে ড্রাইভার না আবার কি মনে করে …এম্নিতেই তো উবারে ড্রাইভার, রাইডার সবার জন্যই বিভিন্ন ডেকোরাম সেট করে আছে … তো পরশুদিনও যেহেতু উবারেই ফিরবো বলে ঠিক করে রেখেছি, তাই উনাকে কীভাবে কাটানো যায় সেইটা ভাবলাম … পরে বললাম যে আমি তো আলিয়সঁ থেকে কাঁটাবন যাবো, বাসায় ফিরতে দেরি হবে, আপনি আমার ভরসায় থাইকেন না … সবাই মিলে যখন গান শুনে শেষ করে বের হলাম, তখনও উনি কনফার্ম হবার চেষ্টা করছিলেন যে আমি কি এখন বাসায় যাবো কি না … আমি বের হবার কোনো ভাবই দেখালাম না … এদিকে মসিঁউ সুমাদ্রির সাথে দেখা হওয়াতে উনার সাথে গল্প করার উছিলায় আরও দেরি করে বের হবার ছুতা পেয়ে গেলাম … জেবু আপা চলে যাওয়ার পর তবেই বের হলাম … 

যদিও এইটুকু দুষ্টুমির জন্য আমার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নাই … কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো আমি পছন্দ না হলে করতে পারি না … যেমন নর্মালি আমি নিজেই মানুষকে অফার করি আমার সাথে লিফট নেবে কি না ইত্যাদি, কিন্তু কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে যেমন পাশের বাসায় থাকলেও অফার করি না যদি না সে যাত্রাসঙ্গী হিসেবে আমার পছন্দের না হয় … জেবু আপার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই … উনি এমন এমন সব কথা বলে, আমার খুব বিব্রত লাগে … আমার কথা হচ্ছে গাড়িতে ড্রাইভারও তো উপস্থিত ব্যক্তি হিসেবে সব কথা শোনে … সুতরাং, রিক্সা হোক, সিএনজি হোক আর গাড়িই হোক, প্যসেঞ্জার হিসেবে নিজের একটা পার্সোনালিটি হোল্ড করার তো বিষয় থাকে! …

জেবু আপা যদি বুদ্ধিমতী হতেন তাহলে হয়তো এতদিনে বুঝে যেতেন যে যখনই উনি আমার কাছে বাড়ি যাবার জন্য লিফট চায়, আমি আসলে উনাকে সাথে নিবোনা দেখে বিভিন্ন ছুতায় উনাকে কাটায় দেই … কিংবা, হতেও পাড়ে, উনি বুঝেন সবই, কিন্তু বোকা বোকা ভাব নিয়ে চলেন …

বাই দ্য ওয়ে, সেদিন দুরন্ত টিভি থেকে তরুণ ভাই ফোন দিলেন … আমি ফোন পেয়ে একটু অবাক হলাম … কিন্তু আশা করলাম না যে নতুন কোনো কাজ দেবে বলে ফোন করেছেন … তো ফোন ধরার পর উনি বললেন যে আইস এজ-এর ট্রান্সলেশনের যে কাজটা করেছিলাম সেটার পেমেন্ট রেডি, অনেকদিন ধরেই নাকি পেমেন্টটা ডিউ হয়ে আছে, উনারই আমাকে জানাতে মনে নাই, আমি যেন এসে নিয়ে যাই … আমি হাসি হাসি এক্সপ্রেশনে জ্বি ভাইয়া, আচ্ছা ভাইয়া বলে দিলাম … কি কন্টেক্সট-এ আদৌ উনাদের মনে হয়েছে যে আমাকে আর কাজ দেবে না সেটা উনারা আর জানায় নাই … ডেডলাইন মিট করিনি সেজন্য, নাকি অনুবাদটাই আপ-টু-দ্য মার্ক মনে হয় নাই উনাদের, নাকি আর কোনো কারণ সেটা অন্তত তরুণ ভাই না হোক, রুবেল ভাই জানাতে পারতো … আমাকে উনারা বলতে পারেন যে আমার প্রফেশনালিজমের অভাব … আমি নিজেও মনে মনে এইটাই ভাবছি যে উনারা যদি আমাকে আমার সমস্যার কথাটা জানিয়ে ফর্মালি কিছু বলতেন সেটাই হয়তো উনাদের জন্য বেশি প্রফেশনাল হতো! … যাই হোক, কয়েকদিন পর্যন্ত এই মানসিকতা নিয়ে অপেক্ষা করেছি যে যদি এরপর কোনো নতুন অ্যাসাইনমেন্ট দেয় তাহলে সেটা সব কাজ বাদ দিয়ে হলেও ডেডলাইনের মধ্যে করে দেবো … কিন্তু এতদিন পরে এসে এখন মনে হচ্ছে যে উনারা যদি কোন কারণে আবার যোগাযোগও করে, তাহলে নিজেই বলে দেবো যে আর উনাদের কাজ করবো না …

অনুবাদের প্রসঙ্গে মনে হলো, এইবারের ছুটিতে আমাকে যেভাবেই হোক, মুনির ভাইয়ের বইয়ের কাজ শেষ করতেই হবে … মাঝখানে উনার সাথে একদিন বেশ দীর্ঘ মিটিং হয়েছিলো কাজটার ভবিষ্যৎ নিয়ে … আমার আর একটা চ্যাপ্টারের অর্ধেক কাজ বাকি রয়ে গেছে বইটার, আব্বুকেও দেখতে দেয়ার ব্যাপার আছে … আব্বুকে দেখতে দেয়া মানেই সেখানে মোটামুটি একমাস চলে যাবে … সুতরাং, আমি যেভাবেই হোক ডিসেম্বরের মধ্যে আমার কাজ শেষ করবো … মুনির ভাই নেহায়েত ভালো মানুষ দেখে ৩ বছর যাবৎ ধৈর্য ধরে আছে যে ১৫০ পাতার একটা বই আমি এত লম্বা সময় নিয়ে অনুবাদ করেই যাচ্ছি, আর করেই যাচ্ছি! … এখন আমার নিজেরই মনে হয়, আর কতদিন? এখন এইটা শেষ করা দরকার … বইটা এখন পাবলিশড অবস্থায় দেখার ইচ্ছা জেগেছে … সুতরাং, যত দ্রুত কাজটা শেষ করবো, তত দ্রুত বইটা বের হবে …

অনেককিছু লিখলাম আজকে … ঘুম পাচ্ছে খুব … এখন কিছুটা ঘুমিয়ে নেবো কি না ভাবছি … মাথা ব্যথায় আর কিছু করতে ইচ্ছা করছে না …

অতএব, আজকের মতো দিনযাপনের লেখা এখানেই শেষ …  

     

 

দিনযাপন । ২১১১২০১৭

স্কুল থেকে ফিরে আজকে ঘুমালামই প্রায় সাড়ে ৮টা পর্যন্ত … সকালবেলা উঠেছি প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে, স্কুলে গিয়েছিও মাথা ব্যথার যন্ত্রণা নিয়েই … কেমন একটা অদ্ভুত টাইপের মাথা ব্যথা … হাতে-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরলে যেমন অনুভূতি হয়, মনে হয় যেন মাথাতেও তেমন ঝিঁঝিঁ ধরে আছে! … স্কুলে গিয়ে কাশফিয়া আপুর কাছ থেকে মাথা ব্যথার জন্য ওষুধ নিয়ে খেলাম … তাতে করে স্কুলে থাকার সময়টুকু একটু ভালো থাকা গেলো … বাসায় এসে গোসল করে, খেয়ে একটু শুলাম … কখন ঘুমিয়ে গেছি কে জানে … শাফায়াত-এর ফোন আসাতে ঘুম ভাঙলো, কিনু কাহারের সেটের ছবি লাগবে এনএসডি-তে পাঠানোর জন্য, তার জন্য ফোন দিলো … ওর সাথে কথা শেষ করে সময় দেখলাম ঘড়িতে … সাড়ে ৮টা বাজে! … তো ফ্রেশ হয়ে যাবতীয় হার্ড ড্রাইভ নিয়ে বসলাম, কিন্তু কোথাও কিনু কাহারের কোনো ফাইলেই সেট-এর ছবি খুঁজে পেলাম না …

আইরনি হচ্ছে, ২০১৪ সালে একবার খুব গুছিয়ে কিনু কাহারের একটা শো-এর ছবি তুললাম, ওইদিনই বাসায় ফেরার পথে ক্যামেরা চুরি হয়ে গেলো … ২০১৫-তে আরেকবার একেবারে সেট, ক্লোজ পোর্ট্রেট, গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যসহ কিনু কাহারের শো-এর ছবি তুললাম … কয়েকদিনের মধ্যেই ল্যাপটপ চুরি হয়ে গেলো! … এখন না এর আগের তোলা ছবিগুলোতে সেট-এর রেফারেন্স ছবি পেলাম … না পরেরগুলোতে …

একঘণ্টা কিনু কাহারের ছবি খুঁজতে খুঁজতে কাটিয়ে দিয়ে যেটা হলো যে এখন আর আমার অন্য কোনো কাজ নিয়ে বসতে ইচ্ছা করছে না … দুই সেট রিভিশন ওয়ার্কশিট দেখতে হবে… কিন্তু ইচ্ছাই করছে না যে এখন বসি … অথচ  যেভাবেই হোক আজকেই ওয়ার্কশিটগুলো দেখে শেষ করতে হবে কারণ কালকেই দিতে হবে ওগুলো বাচ্চাদের … এরপর ওরা আসবে শনিবার … আর তার দুইদিন পরেই পরীক্ষা আমার সাব্জেক্ট-এর … সো, কালকে মাস্ট … দেখি, দিনযাপন লেখা শেষ করে বসতে হবে…

আজকে ফেসবুকে ‘অন দিজ ডে’ ঘাঁটতে গিয়ে এই আপুর ছবিটা দেখে মনে হলো দিনযাপনে এই স্মৃতিটা তুলে ধরা যেতে পারে … এর আগে কখনো এইটা নিয়ে লিখেছি কি না মনে পড়ছে না … যদি লিখেও থাকি, না হয় আবার লিখলাম! … ঘটনাটা ২০০৮ এর মে মাসের দিকের মনে হয় … নাকি ২০০৭ এর … মনে নাই … যেই অ্যালবামে ছবি আছে, সেইটা ২০০৮ এ আপলোড করা, কিন্তু যেই ব্যক্তিকে নিয়ে লিখছি তার সাথে কবে দেখা হয়েছে সঠিক মনে নাই … যাই হোক, টুম্পা নামের একজনের সাথে একদিন পরিচয় হয়েছিলো … তারই গল্প … আমি সম্ভবত ক্লাস শেষ করে বের হয়েছি, তো একজন এসে আমাকে ভার্সিটির এইটা কোথায়, ঐটা কোথায় জিজ্ঞেস করছিলো … জিন্স-শার্ট পরা, আর মাথায় ওড়না দিয়ে পাগড়ির মতো করে বাঁধা, কপালে বড় লাল টিপ … পরে একটা সময় ওড়নাটা খুলেছিলো, তখন আবার দেখা গেলো তার হাঁটুসমান লম্বা চুল! … আমার বেশ ইন্টেরেস্টিং লেগেছিলো উনার পুরো ব্যাপারটা … তখনও আমার চেনা-পরিচয়ের গণ্ডি ভার্সিটির ভেতরেই, ফলে এরকম মানুষদের দেখে অভ্যস্ত ছিলাম না … উনি যেই জায়গাগুলো খুঁজছিলেন সেগুলো দেখিয়ে দেবার জন্য নিজেই তার সঙ্গী হয়ে গিয়েছিলাম … উনি আর্কিটেকচারের স্টুডেন্ট ছিলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির … কি একটা প্রজেক্টের কাজে ঢাকা ইউনিভার্সিটি আসছিলেন … তো ওইদিন বেশ লম্বা একটা সময় তার সাথে আমার ভার্সিটির বিভিন্ন জায়গা হেঁটে বেড়ানো হয়েছে, গল্পগুজব হয়েছে … কিন্তু এরপর আর কখনোই যোগাযোগ হয়নি … তখন তো আর সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিলো না, ফেসবুক ছিলো না … নিদেনপক্ষে তাও ফোন নাম্বার এক্সচেঞ্জ হতো … উনার ক্ষেত্রে তাও হয়নাই … কিন্তু ঘুরতে ঘুরতে যেহেতু উনার একটা ছবি তুলেছিলাম, সেই ছবির কল্যাণে উনি কখনোই স্মৃতি থেকে হারিয়ে যান না! … আবার মাঝে মাঝে আমি ভাবিও … উনি এখন কি করে … কোথায় আছেন? … কেমন আছেন? … আমি না হয় ছবির রেফারেন্সে উনাকে ভুলি নাই … উনারও কি আমাকে মনে আছে কি না …

প্রতিদিন এরকম কতরকমের মানুষের সাথেই আমাদের দেখা হয়, কথা হয়! সবাই কি সবাইকে মনে রাখে? … আমার যেমন একটা অভ্যাস আছে, আমি যতটুকু সম্ভব নামধাম না মনে থাকলেও কারো সাথে রাস্তাঘাটে মিনিমাম ইন্টারঅ্যাকশনটাও মনে রাখার চেষ্টা করি … সেইসব মানুষগুলো আমার ক্ষেত্রে কি করে সেইটাই মাঝে মাঝে ভাবি … এই যেমন আজকে দুপুরে বাসায় ফেরার পথে যেই উবার ড্রাইভারকে পেলাম, নাসির, তার কথা আমার মনে থাকবে … যখন সে উবারের কল রিসিভ করলো, তখনই দেখে মনে হলো যথেষ্ট স্মার্ট … আমি কাশফিয়া আপুকে উবারের অ্যাপে ওই ড্রাইভারের ছবি দেখায় মজাও করছিলাম, ‘দেখেন, আমি তো এক সেই গুডলুকিং হিরো টাইপ ড্রাইভার পেলাম আজকে!’ … তো গাড়িতে উঠে বসার পর প্রথম তার হাতের ট্যাটু খেয়াল হলো … গেট-আপেও বেশ স্মার্ট … কথাবার্তাও সুন্দর, গোছানো … তো একসময় কি এক কথাপ্রসঙ্গে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম গাড়ি কি তার নিজেরই কি না … তো সেখান থেকে আস্তে আস্তে কথা শুরু হলো … জানলাম যে তার এরকম গাড়ির ব্যবসা … এইটা তাঁর নিজের, এরকম আরও দুইটা গাড়ি আছে, সেগুলাও ড্রাইভার দিয়ে উবারে দিয়ে দিয়েছে … সে নিজে নাকি বুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়ে … সকালবেলা ক্লাস করে, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ি চালায় … তার বাবা নাই … ৬ দিন বয়সে বাবা মারা গেছে … মা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরি করে … তো সেই মা একাই তাকে বড় করেছে … এখন তার একটাই চ্যালেঞ্জ, সে অনেক বড় হবে, বড়লোক হবে … তাই একই সাথে পড়াশোনাও করে, ব্যবসাও করে … আমার মানুষের এসব গল্প শুনতে ভালো লাগে … এই ড্রাইভারের সাথে আমার দ্বিতীয়দিন হয়তো আর দেখাই হবে না … কিন্তু এই যে আজকে প্রায় ঘণ্টাখানেকের রাইডে সে একটা প্রসঙ্গ ধরে তার নিজের গল্প বলে গেলো তার মাঝে মাঝেই তার বিভিন্ন ব্যক্তিগত চিন্তার জায়গাও রিফ্লেক্টেড হচ্ছিলো … আর ওই জায়গাগুলোই আমার সবচেয়ে ইন্টেরেস্টের জায়গা … একজন ব্যক্তির সোশ্যাল পারস্পেক্টিভ জানা … যেমন এই ছেলেটাই এমনিতে এত এত স্ট্রাগলের কথা বলছে … আবার একদিন কোন এক মেয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে তার গাড়ির বাম্পারে লাগিয়ে দিয়েছে, সেই গল্প বলতে গিয়ে সে এইটাও বলেছে যে মেয়েমানুষ রাত দশটায় কেন গাড়ি চালাবে বলেন আপু? এত রাতে সে বাইরেই কেন থাকবে? আর যদি কাজের জন্য থাকেও তাহলে রিকশা নিবে, সিএনজি নিবে … নিজে গাড়ি চালানোর দরকার কি? … এইসব কথা শুনে শুনে আমি মনে মনে সোশ্যাল পারসেপশনের কাল্কেটিভিটি বোঝার চেষ্টা করি …

যেমন, আরেকবার আরেকজন ড্রাইভার পেয়েছিলাম … নামটাও মনে আছে এখনো … সজল শিকদার … সে নিজেই বলছিলো যে তার বাড়ি বরিশাল, সেখানকার লোকজন কোনোমতে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর ভার্সিটির পড়ালেখাকে খুব একটা আমল দেয় না …হয় ডিপ্লোমা করে, নয়তো ভোকেশনাল ট্রেইনিং নেয় … তারপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজে ঢুকে যায় … কিন্তু তার স্বপ্ন সে তার বাচ্চাকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াবে … তার রেন্ট-এ কারের ব্যবসা … টাকা জোগাড়ের জন্য সে দরকার হলে আরও গাড়ি ইনভেস্ট করবে … তার বউ-বাচ্চা বরিশালে থাকে … . তার বউ ব্রজমোহন কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ে, থার্ড ইয়ারে … বউকেও সে পড়ালেখা করাচ্ছে কারণ তার কাছে মনে হয় বাচ্চার ভালোভাবে বড় হবার জন্য মা’কে শিক্ষিত হওয়া খুব জরুরি …

এইরকম কত কত রকমের চিন্তাভাবনা মানুষের … আমার এগুলা শুনতে খুব ভালো লাগে … কারো সাথে আমি যুক্তি-তর্কে যাই না … আমার চিন্তা আমার কাছে … তার চিন্তা তার কাছে … আমি খালি শুনি … কে কী ভাবে … কে কীভাবে ভাবে … যেমন, সিএনজিওয়ালা শুকুর আলী ভাই যখন গতবছর আমাকে বেশ রেগুলার আনা-নেয়া করতো, উনি একবার কথায় কথায় বলছিলেন যে বাইকে যে মেয়েরা ছেলেদের পেছনে দুইপাশে পা দিয়ে বসে, এইটা তার পছন্দ না … কেন পছন্দ না সেটা উনি ব্যাখ্যা করতে পারেন নাই … খালি বলেছিলেন, এইটা ঠিক না … দেখতে বাজে লাগে! … আমি নিজেও বাইকে বসলে দুইপাশে পা দিয়েই বসি … কিন্তু তাকে আমি সেটা জানানোর প্রয়োজন বোধ করিনাই, কিংবা এইটার ভালোমন্দ কিছু ডিফেন্ড করি নাই … খালি এইটুকু বলে ব্যাপারটাকে হাল্কা করার চেষ্টা করেছিলাম যে বাইকে এভাবে বসাটাই সেফ, একপাশে বসার চেয়ে … তো উনি যা যা বলছিলেন তাতে মনে হচ্ছিলো উনি আসলে মনে করে যে মেয়েদের বাইকেই চড়া উচিৎ না! … কীভাবে বসলো সেটা তো অনেক পরের কথা! … আবার এই একই সিএনজিওয়ালাই কিন্তু আমাকে বেশ কয়েকবার বলেছে ‘আপনি একটা স্কুটি বাইক কিনে ফেলেন না কেন? তাইলেই তো হয়!’ …

আজকে স্কুলে আর্ট পরীক্ষা ছিলো … তো আমার আর্ট পরীক্ষার ডিউটি পড়লেই বাচ্চাদের ছবি আঁকা দেখে একটা জিনিস নিয়ে খুব হতাশা তৈরি হয় … স্কুলে বাচ্চাদের পড়ালেখা এখন সবই তো প্রায় গুলিয়ে খাওয়ানোর মতো … ফরম্যাটের বাইরে কিছু করতেই চায় না কেউ … আর্ট-ও দেখি কেমন ফরম্যাটের মধ্যেই ফেলে দেয় ওরা! … আজকে আমি যেই ক্লাসে ডিউটি দিচ্ছিলাম, তাদের আঁকার বিষয় ছিলো মাছ ধরার দৃশ্য … দেখা গেলো সবার ছবিই একরকম! … একপাশে নদী, পাড়ে একটা গাছ আর এক থোকা কাশফুল … দূরে দিগন্তে গাছের সারি, পেছনে সূর্য … পানিতে একটা লোক মাছ ধরছে … তো আমি একপর্যায়ে জিজ্ঞেসই করে বসলাম তোমাদের সবার ছবি একরকম কেন হবে? সবার উত্তরও এক – ক্লাসে তো এটাই করিয়েছে! … আমি তখন বেশ কথা বলা শুরু করলাম … আমি বললাম, আমি হলে কি আঁকতাম জানো? একটা বড় মাছ বঁড়শি দিয়ে মানুষ ধরছে! … বিষয়ে বলা আছে ফিশিং, বলা তো নাই মানুষ মাছ ধরছে! … অনেকেই তখন দেখলাম বেশ মজা পেলো … কিন্তু আবার আরেক মুখস্ত উত্তর – ‘অ্যাজ ইউ লাইক’ আঁকতে দিলে যা খুশি তাই আঁকা যায়! … আমি বুঝলাম না! ড্রয়িং-এর বিষয় যা-ই হোক, ভিজ্যুয়ালাইজেশনটা তো যার যার মতোই হবার কথা! … ওরা আঁকতে আঁকতে জিজ্ঞেস করছিলো, পানি যদি ট্রান্সপারেন্ট হয়, তাহলে ছবি আঁকার সময় কেন নীল রং দিতে হয়? … তো বুঝালাম যে পানি স্বচ্ছ বলেই আকাশের যেমন রং হয় সেটাই পানিতে রিফ্লেক্ট করে … একটা ছেলে আকাশে সন্ধ্যার লাল-কমলা টোন দিয়েছে, পানি রং করলো আসমানি নীল … কিন্তু আমার কথা শুনে যখন প্রশ্ন করলো, ‘মিস আমার তো তাহলে পানিতেও কমলা দেয়া উচিৎ ছিলো তাই না?’ তখন মনে হলো, যাক, এইটুকু যে ওর মনে প্রশ্ন জেগেছে এই-ই অনেক! …

কেমন যে একটা শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের! ড্রয়িং-এর মতো একটা বিষয়েও যদি বাচ্চাদের নিজেদের চিন্তাকে, নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিকে দেখানোর স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে ক্রিয়েটিভিটি কীভাবে তৈরি হবে? … অনেক বাচ্চা আছে ক্লাস ফোর-ফাইভে পড়ে, অথচ কি সুন্দর করে কমিকস স্ট্রিপ আঁকে … অথচ ড্রয়িং ক্লাসে তাকেও ছবি আঁকতে হয় ওই মুখস্থ  ফরম্যাটের মধ্যে! … আবার অনেক বাচ্চা আছে, নিজেও কখনো রিয়েলাইজ করে না ও যেভাবে ছবি আঁকে, সেটা পজিটিভলি নারচারড হলে সে একসময় কত বড় এক্সপ্রেশনিস্ট কি ইমপ্রেশনিস্ট কি সুরিয়ালিস্ট আর্টিস্ট হয়ে উঠতে পারে !…

যাই হোক, অনেক কথা লিখে ফেললাম আজকে … এখন আমার লেখা শেষ করা উচিৎ … ১১টা বাজে … অন্তত ২ সেট রিভিশন ওয়ার্কশিট আমাকে দেখে শেষ করতেই হবে এখন … তারপর ঘুমাবো … কালকে স্কুলেও আমার অনেক কাজ … নিজের কাজ … কাশফিয়া আপুর কাজ … জিশার কাজ … ঠাণ্ডা মাথায় স্কুলে যেতে হবে কালকে …    

দিনযাপন । ২০১১২০১৭

অবশেষে স্কুলের বিগত দুই সপ্তাহের ‘পাগলপ্রায়’ অবস্থা হবার মতো কাজের চাপ শেষ হলো … এমন একটা অবস্থার মধ্যে পড়েছিলাম যে মনে হচ্ছিলো আর কয়েকদিন এভাবে চললে সব ছেড়ে-ছুড়ে কোথাও পালিয়ে যাবো … সবকাজ স্মুথলিই চলছিলো, লাস্ট দুই/আড়াই সপ্তাহ যাবৎ কাজে-কর্মে কেমন হচপচ লেগে গেলো! … আমার একারই যে এমন অবস্থা তা না … সব টিচারেরই আজকে অবস্থাটা এমন ছিলো যেন ক্লাস সাসপেন্ড হয়ে ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে! … পরীক্ষার খাতা আসুক, তা দেখতে রাজি আছি … কিন্তু ক্লাস টেস্ট বা রিভিশন ওয়ার্কশিট এইগুলা দেখার ব্যাপারে প্রচণ্ড বিতৃষ্ণা কাজ করছে …

যাই হোক … এ বছরের মতো শেষ তো হলো! …

আজকে সকালটা শুরু হয়েছে খুব সুন্দরভাবে … ৫টায় যদিও অ্যালার্ম দেয়া ছিলো, ঘুম ভেঙে গেলো পৌনে ৫টার দিকেই … একদম সময়ের মধ্যেই নাস্তা-টাস্তা খেয়ে রেডি হয়ে গেলাম … স্কুলে শেষ অ্যাকাডেমিক ক্লাস বলে আজকেও শাড়ি পরে গিয়েছিলাম … তো শাড়ি-টারি পরা শুদ্ধ সাড়ে ৬টার মধ্যেই রেডি হওয়া শেষ … আজকে বাসা থেকে  দুই সেট খাতা নিয়ে গিয়েছি স্কুলে … ফলে যথারীতি উবার ডাকলাম … সকালবেলা উবার ডাকলে যেটা হয় যে ঘুরে ফিরে কয়েকজন ড্রাইভারকেই রিপিটেটিভলি পাওয়া যায় … আজকেও এরকমই একজনকে পেলাম … ড্রাইভারটা একটু বিরক্তিকর, আজাইরা কথা বেশি বলে … মানে তার স্যার তাকে কি বলেছে … তার ম্যাডাম তাকে কি বলেছে … কোন রাইডার কি করেছে না করেছে এইসব … আমি কোনোরকম মন্তব্য না করে বকবকানি শুনে যাই, কখনো কখনো শুনেও না শোনার ভান করি … কিন্তু ৩/৪ দিন ওই ড্রাইভারকে পাওয়ার কারণে যেটা হয়েছে যে এখন উনি একদম বাসার নিচেই এসে দাঁড়িয়ে থাকে … একদিক দিয়ে আরাম হয় আর কি! … অন্তত খাতার ব্যাগটা টেনে যে বেশিদূরে গাড়ি পর্যন্ত নেয়া লাগে না সেটাই আরাম …

আজকে স্কুলেও পৌঁছে গেলাম তাড়াতাড়ি … পৌনে সাতটায় রওয়ানা দিয়েও রাস্তা ফাঁকা পেলাম, স্কুলে ঢুকে যখন সাইন করছি তখন দেখি সাতটা ১৮ মিনিট! … বেশ কিছু স্কুলে ইতিমধ্যে হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষা শেষ, সম্ভবত সেকারণেই সকালে স্কুলের জ্যাম কম … তো হাতে বেশ সময় পেয়ে কিছু কাজ গুছিয়ে ফেললাম … এর মধ্যেই আরেক কাহিনী … তোড়া দেখলাম খুব মুখ গোমড়া করে প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে টিচার্স রুমে এসে ঢুকলো … কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতে করতে নিজেই বললো মেজাজ খারাপ, হাত কেটেছে কীভাবে যেন … তারপর খেয়াল করে দেখি ওর ডান হাতের মধ্যমা থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছে … রক্ত বন্ধ হচ্ছে না দেখে আমরা যারা টিচার্স রুমে ছিলাম তারা বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম যে অনেক বেশি কেটেছে কি না … তখনই বেল দেবে অ্যাসেম্বলি শুরু হবার, আমার ফার্স্ট পিরিয়ডে ক্লাস … আমি ওইসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে তোড়াকে নিয়ে মুহুর্তের মধ্যে পাশের মডার্ন হসপিটালে রওয়ানা দিলাম … বেচারিও বেশ ভড়কে গেছে দেখলাম পুরা ঘটনায় … ওর ওড়না নাকি বাতাসে উড়ছিলো, রিকশায় বসে ওড়না সামলাতে গিয়ে কীভাবে কি হয়েছে নিজেই বুঝতে পারছে না … তারমধ্যে অনেকটুকু ব্লিডিং-এর কারণেও বেশ দমে গেছে … তো মডার্নের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে দেখানোর পর বললো যে স্টিচ লাগবে না, প্রেশার ব্যান্ডেজ করে দিলো … কিন্তু যেভাবে কেটেছে তাতে ও ভুগবে বেশ … স্কুলে ফিরতে ফিরতেই ও কেমন নেতিয়ে পড়লো … প্রেশার ফল করছিলো সম্ভবত … মিষ্টি, জুস এসব খাইয়ে ওকে একটু স্টেবল রাখা গেলো … আমরা আবার ওকে চাঙ্গা রাখার জন্য ওর সাথে ঠাট্টা করছিলাম যে কাটলো তো কাটলো মধ্যমাই কাটলো … সবাইকে এখন ব্যান্ডেজ বাঁধা মিডল ফিঙ্গার দেখিয়ে বেড়াতে পারে এইসব এইসব …

তো,  যাই হোক, সকালটা এভাবে শুরু হবার পর সারাটা দিন ৫টা ক্লাস নিতে নিতে কোনদিক দিয়ে গেলো বুঝলামই না … আজকে একদমই মনে কোনো তাগিদই ছিলো না যে ক্লাস নেই … রিভিশন ওয়ার্ক যদিও, ওয়ার্কশিট দিয়েছি, স্টুডেন্টরা করেছে … তারপরও ঐটুকুই ইচ্ছা হচ্ছিল যে ক্লাসে গিয়ে বসে থাকি … দুপুর নাগাদ প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেলো … বাসায় এসে গোসল করে মাথা ঠাণ্ডা হতে যতটুকু দেরি … তার আগ পর্যন্ত মনে হচ্ছিলো যেন মাথাটা ছিঁড়ে ফেলে দেই … বিকালে একটু হলেও ঘুমানো দরকার ছিলো … তাহলে মনে হয় মাথা ব্যথাটা পুরোপুরি কমতো … এখনো কেমন একটা ভারী বোধ নিয়ে বসে আছি … এই মাথা ব্যথা অবস্থা নিয়েই এক সেট টেস্ট কপি আর আড়াই সেট রিভিশন ওয়ার্কশিট দেখলাম … এরপর মনে হলো আর সম্ভব না … কালকের জন্য যেটুকু কাজ জরুরি সেটা তো শেষ, বাকিটা না হয় কালকে স্কুলে বসে করবো …

ইদানীং এক অদ্ভুত যন্ত্রণায় পড়েছি … আমি বিয়ে করেছি কি না … না করলে এখনো করছি না কেন এইসব নিয়ে দেখি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ! … এমনকি উবারে,সিএনজি-তে ড্রাইভাররা পর্যন্ত জানতে চায় আমি বিবাহিত কি না, উত্তর ‘না’ বললে তখন আমাকে খুব অ্যাডভাইস দেয় আমার তাড়াতাড়ি বিয়ে করা উচিৎ, ইত্যাদি ইত্যাদি … আমি চুপচাপ শুনে যাই … কিছু বলি না … স্কুলে কলিগরা অনেকে মাঝে মাঝে খোঁচাখুঁচি করে … বাসায় মা একসময় সরাসরি জিজ্ঞেস করতো … এখন এর তার বিয়ের খবরের উছিলায় বলে, ‘তোমার বিয়ে তো আর দেখে যাবো না … ‘ … এইসব কথাবার্তা আমার কেন জানি খুব বিরক্ত লাগে … আমি বিয়ে করবো কি করবো না সেটা নিয়ে ভাবনাটা আমার … সম্পূর্ণই আমার হবার কথা … বিয়ে কিংবা যেকোনোরকমের কমিটমেন্টে আমার এখন ভয় ঢুকে গেছে … অন্তত বিয়ে করতে হবে দেখে র‍্যান্ডম কাউকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব না … রূপকথার গল্পের মতো হলেও আমি নিজেকে নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবতে পছন্দ করি যে কোনোদিন কেউ একজন নিজে থেকেই আমার সাথে সারাজীবন থাকতে চাইবে … তখন আমি তার সাথে থাকতে রাজি হবো … সেটা বিয়ে করবো কি এম্নিতেই দুইজন একসাথে থাকবো সেটা নিয়ে আমার আলাদা ভাবনা নেই … কিন্তু এটা প্রায়ই ভাবি যে কখনোকেউ নিজে থেকে এসে আমাকে চাইবে … আদারওয়াইজ, আমি বিয়ে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতেই ভয় পাই … ভয়ে, আতঙ্কে আমার আর ইচ্ছা করেনা বিয়ে করবো কি করবো না সেটা নিয়েই ভাবতে … এই কথাগুলো যেহেতু কাউকে বোঝাতে পারি না, তাই উত্তরও দেই না …

যাই হোক, আজকে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না … হঠাৎ করে মুড কেমন চেঞ্জ হয়ে গেলো … কি যে হয় আমার মাঝে মাঝে … গতকাল হঠাৎ-ই সবকিছু কেমন পজিটিভ লাগছিলো … মনে হচ্ছিলো যেন ভাবনার ধারাটাই পাল্টে যাচ্ছে … আজকেও সবকিছু পজিটিভ পজিটিভ যেতে যেতে হঠাৎ আবার কেমন মেঘ ছাওয়ার মতো করে সব কালো হয়ে গেলো! … নিজের মুড সুইং এর প্যাটার্নটা নিজেই বুঝি না … কোন কথায় কে খুশি হলো, কে রাগ করলো আর কে বিরক্ত হলো তাও বুঝি না … যখনই ভাবি ভয় কেটে যাচ্ছে নিজের ভেতরে, তখনই অস্তিত্বমান ভয় যেন আরও একটা পুরু স্তরের ভয় এনে ঘাড়ের ওপর ফেলে দেয় …

নিজের এই রূপ নিজেই বুঝি না! … অন্যেরা কি বুঝবে? …

যাই হোক, শেষ করি … কিছুই বলার নেই আর … নিজেকে নিয়ে … কাউকে নিয়েই …