দিনযাপন । ১৬০৯২০১৭

যাবতীয় মন খারাপ – হতাশা – গ্লানি সবকিছু যেন বছর ঘুরে ঘুরে ঠিক এইসময়টাতেই ফিরে আসে! … অন্তত গত তিন বছর ধরে তাই-ই টের পাচ্ছি … এই যে সেপ্টেম্বর মাসের এক একটা দিন যাচ্ছে, আর আমি না চাইলেও আমার মনে ফিরে ফিরে আসছে এই দিনটাতে এমন হয়েছিলো … এই সময়টা এমন ছিলো … তেমন ছিলো … আর যতই ভাবছি, ততই যেন মনে হচ্ছে আগের বছরের চেয়েও এবছরের বিষণ্ণবোধের ইন্টেনসিটিও যেন বেশি! …

আর কেমন জানি একটা সপ্তাহ গেলো এইটা! কুরবানি ঈদের পরে ১০ তারিখে স্কুল খোলার কথা, কিন্তু আমার দৌড়াদৌড়ি তো সেই শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে … ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর ক্লাস করলাম শুক্রবার, পরদিন আবার স্কুলেও গেলাম কিছু কাজ গোছানোর জন্য … বিকালে ‘রিজওয়ান’ নাটক দেখতে যাবো বলে স্কুলেও গেলাম সকাল সকাল … আর তারপর তো মনে হলো পরের ৫টা দিন পুরাই বুলডোজার চললো নিজের ওপর দিয়ে … গ্রুপে গেলাম প্রায় ২/৩ দিন, আর গ্রুপে যাওয়া মানেই তো বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১টা … তারপর আর ক্লান্তির কারণেই ঘুমও আসে না … রাতে ৩টার দিকে যাও ঘুমালাম, উঠে পড়তে হলো তো সাড়ে ৫টার মধ্যেই … এদিকে গতকালকেও ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর ক্লাস ছিলো, সকাল সকাল উঠেছি … আজকে ফাইনালি সকালবেলা ১০টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে একটু সুস্থির হওয়া গেলো … তারপরেও তো আবার বিকালে বের হয়ে গ্রুপে গেলাম … না হলে হয়তো ফুল রেস্ট নেয়াই যেতো …

এর মধ্যে একদিন কিছুটা বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম … আর তাতে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো অবস্থা হয়েছে … সোমবারের কাহিনী এটা … সকালবেলা বৃষ্টি বৃষ্টি অবস্থা দেখে উবার ডাকলাম … তো গাড়িতে উঠতে যাবো ঠিক সেসময়েই বৃষ্টির বেগ বেড়ে গেলো … দারোয়ানকে বললাম একটু গেটটা খুলে দিতে, গাড়িটা যতটুকু পারে ঢুকলে আমি উঠতে পারি … দারোয়ান খুব পার্ট নিয়ে কি কি বললো … জিদের চোটে ছাতা মাথায় দিয়ে গাড়ী পর্যন্ত যেতে যেতেই কিছুটা ভিজেই গেলাম … এরপর স্কুলে পৌঁছে দেখি অবস্থা আরো বেগতিক … স্কুলের সামনেই পানি … কোথায় যে গাড়ি থামাবে আর আমিই যে এই বৃষ্টির মধ্যে কোথায় নামবো ঠিক নাই … তো জুয়েল ভাই যতই ছাতা ধরুক না কেন, আমি দুই ব্যাগ সামলে নিজেকে সামলে স্কুলের ভেতর যেতে যেতেই বেশ ভিজেই গেলাম … সেই ভেজা কাপড়ে সারাদিন থাকলাম … বাকিটা ইতিহাস! … সেই যে মাথা ব্যথা আর গা ম্যাজমেজে ভাব শুরু হয়েছে সেটা যাচ্ছেই না … এরই সাথে পিরিয়ড-ও চললো সিচুয়েশনকে আরেকটু খারাপ করার জন্য … পিরিয়ড নিয়ে সবচেয়ে পেইন খেলাম মঙ্গলবার ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর মেকআপ ক্লাস করতে গিয়ে … ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্যাড চেঞ্জ করতেই হবে, নইলে সব মাখামাখি হয়ে কেলেঙ্কারি অবস্থা হয়ে যায়! প্রচণ্ড মাথাব্যথা আর জ্বর জ্বর ভাবটা একটু হেল্প করলো এই এক্সকিউজ বানাতে যে ‘খারাপ লাগছে, একটু মাথায়-মুখে পানি দিয়ে আসি’ … ওইদিন বেশি স্টুডেন্ট আসলো না … ফলে ক্লাসও বেশ ক্যাজুয়ালিই হলো … পরীক্ষার আগে লাস্ট ক্লাস না হলে হয়তো আমি যেতামই না ক্লাসে … অন্তত এইরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে থাকার চেয়ে ক্লাসে না যাওয়াটাই ভালো … নর্মালি তো আমি ক্লাসে কখনোই ব্রেক ছাড়া ওয়াশরুমে যাই না, সেখানে একদিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওয়াশরুমে যাচ্ছি … এইটা তো নিশ্চয়ই কারো না কারো, অন্তত টিচারের মনে স্ট্রাইক করবেই যে ‘সমস্যাটা কি!’ … আর এইবারের টিচার এম্নিতেই ছেলে, তার মধ্যে অনেকই সিরিয়াস মাইন্ড-এর … উনি আমার আচরণের মধ্যে অস্বস্তিকর ব্যাপারটা বেশ ভালোভাবেই খেয়াল করেছেন বলেই আমার মনে হয় … কি ভেবেছেন কে জানে!

তো যাই হোক, গতকালকে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর আ দো-দো সেশনের ফাইনাল পরীক্ষা ছিলো … সেই পরীক্ষাও দিতে পারবো কি পারবো না সেটা নিয়ে আরেক কাহিনী হলো! … এমনিতেই জ্বর জ্বর ভাব আর মাথা ব্যথার কারণে গত সপ্তাহের একটা দিনও বইখাতার একটা পেজও খুলে রিভিশন দিতে পারলাম না … তারমধ্যে যাও ভাবলাম যে বৃস্পতিবার তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে একটু হলেও রিভিশন দেবো, গ্রুপে কল দিয়ে রাখলো একটা মিটিং-এর … তো গেলাম … যথারীতি মিটিং শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে ১১টা … একদিকে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা, আরেকদিকে কিছুই পড়লাম না তার টেনশন … সকাল পর্যন্ত এই টেনশন নিয়ে থাকতে হবে চিন্তা করে আরো স্ট্রেস ফিল করতে শুরু করলাম … শেষমেশ না পারতে কোর্স টিচারের কাছেই মেইল করলাম নিজের যাবতীয় অবস্থা জানিয়ে … বলে রাখলাম যে এমনও হতে পারে পরীক্ষা না-ও দিতে পারি … মেইল পাঠিয়ে শুরু হলো আরেক টেনশন, আচ্ছা, মেইলটা যে পাঠালাম, এইটা কি ঠিক হলো? উনি আবার কিছু মনে করে কি না … ভাববে কি না যে পরীক্ষার আগের রাতে মেইল পাঠায়, সমস্যা কি … এইসব ভাবতে গিয়ে আরও টেনশন করতে করতে শেষমেশ ঘুমালাম … সকালে উঠে দেখলাম যে উনি মেইলের উত্তর দিয়েছে রাতেই, টেনশনের কিছু নাই টাইপের বুস্ট আপ করা রিপ্লাই …তারপরও, মন থেকে খচখচানি গেলো না … 

(তবে উনি পুরা মেইল ইংরেজিতে লিখলেও সম্বোধনে নামটা ‘প্রজ্ঞা’ লিখলেন … অনেকরকমের স্ট্রেসফুল চিন্তাভাবনার মধ্যে এইটা দেখেই খুশি হয়ে গেলাম যে উনি অন্তত আমার নামটার ইংরেজি বানান দেখে বুঝেছেন যে নামটা আসলে কি! এবং সম্ভবত বাংলায় নাম লিখে উনিও ওইটাই আমাকে বুঝিয়ে দিলেন … অনেক শিক্ষিত মানুষকে, এমনকি টিচার লেভেলের মানুষদেরকেই PRAJNA নামটাকে নিয়ে মোক করতে দেখেছি … তার অন্যথা হলেই বরং আগে অবাক হই … তারপরে খুশি হই …)  

যাই হোক, শেষমেশ পরীক্ষা যতটা খারাপ হবে ভেবেছিলাম, তার চেয়ে অনেকটাই ভালো হয়েছে … লিসনিং পার্টটা নিয়ে টেনশন ছিলো, সেখানেও মনে হয় উৎরায়ই যাবো … অন্তত পাসমার্ক হিসেবে ৫ তো পাবো! … রাইটিং পার্টগুলা নিয়ে আমি বরাবরই কনফিডেন্ট থাকি … স্পিকিং নিয়ে তাও একটু টেনশন ছিলো … শেষের দিকে গেছি বলেই কিনা জানি না, উনি বেশ ক্যাজুয়াল আলাপ-চারিতা করলেন … কিন্তু সবসময় যেটা হয় যে প্রয়োজনের সময় জানা জিনিসগুলাও মাথায় আসে না, ফ্রেঞ্চ-এ কথা বলার সময়ও তাই-ই হয় … কিভাবে উত্তরটা বলবো গোছাতে গিয়ে দেখা যায় এটা-ওটা শব্দ ভুলেই যাই … তারপর আমতা আমতা করতে থাকি! …

তবে গত সেশনে মঁসিউ সোমেন আর এবার মঁসিউ সুমাদ্রি’র কারণে অন্তত ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর প্রতি আগ্রহটা দ্বিগুণ হয়েছে … এখন তো আ-দো শেষ করে বে-আ করারও চিন্তাভাবনা করছি … এই সেশনটা আবার ইন্টেন্সিভে ভর্তি হলাম যাতে আ-দো তোয়া আর কাথ্‌ একসাথে শেষ করে ডিসেম্বরে ডেলফ আ-দো দিয়ে দিতে পারি … তাহলে জানুয়ারি থেকে বে- আ শুরু করা যাবে … তবে, ইন্টেন্সিভে ভর্তি হবার কারণে এখন আমাকে সপ্তাহে ৭ দিনই ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠতে হবে … এইটা একটু পেইন হবে আর কি আগামী ৩ মাস … তবে কোর্স টিচার যদি ভালো হয়, তাহলে আবার পেইন লাগবে না আর কি … অক্টোবরের ৬ তারিখ থেকে তো মনে হয় ক্লাস শুরু হবে … দেখা যাক! ভাগ্যে কে পড়ে এবার! …

ভেবেছিলাম আজকে নিজের হতাশা-বিষাদ নিয়ে লিখবো, মাঝপথে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স নিয়ে বেশ বড়সড় লেখা লিখে ফেললাম … যাই হোক, দিনযাপনের একটা না একটা ফিরিস্তি তো দেয়া হলো …

‘বেদের মেয়ে’ নাটকের কস্টিউমের কাজের ব্যাপারে একটা আপডেট দেয়া দরকার … শেষ যেদিন দিনযাপন লিখলাম সেদিন মেনশন করেছিলাম যে শর্মী এটার কস্টিউম করছে, আমাকে বলছিলো ওকে কিছু হেল্প করতে … ঘটনাচক্রে সেই কস্টিউমের দায়িত্ব এখন আমার ঘাড়ে … এমনই কপাল আমার যে আমি কস্টিউমটা করছি ঠিকই, কিন্তু সেটা ঠিকঠাকভাবে ইমপ্লিমেন্ট হলো কি না সেটা দেখার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়া হচ্ছে না আমার … যেহেতু টিম মেম্বারদের নাম-টাম এইসব আগেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে এবং টিকিট-ও অলরেডি বুকড, এখানে টিম মেম্বার বাড়ানোর কোনো অপশন নাই … আমি অবশ্য এইটা নিয়ে কিছু চিন্তাভাবনাও করি নাই … হোক, যা হয় হোক … কস্টিউম করতে বলেছে, অন্তত কস্টিউম-এর কাজের মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে তো থিয়েটারের একটা কাজের সাথে সংযুক্ত থাকলাম … গ্রুপে ছোটোখাটো অনেকই তো কস্টিউমের কাজ করেছি, এতদিনে তো বড় কোনো একটা প্রডাকশনেও কস্টিউমের কাজ করার সুযোগ পাবার দাবি রাখতে পারি আমি … তো, এখানে গ্রুপের একটা ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্টের কস্টিউম করছি … কস্টিউম ভালো লাগলে মানুষ বলবে ডিজাইনার কই, সবাই বলবে ‘আসে নাই’ … কোনো না কোনোভাবে তো ওইখানে আলোচনায় থাকবো … হাতে এক্সট্রা টাকা থাকলে নিজের খরচেই ওই সময়টাতে সিঙ্গাপুরে চলে যেতাম হয়তো … কিন্তু এত টাকাও নাই যে এইরকম গরজ দেখাবো … কস্টিউম সব একজনকে বুঝায় দিয়ে যেই ৩ দিন ওরা থাকবে না তখন ঢাকায় বসে টেনশন করবো আর কি …

আর ভালো লাগছে না লিখতে … ঘুম পাচ্ছে … আজকে অনেক গরম … গরমের চোটে গা চিটচিট করছে আর মাথা ব্যথা … সকালে যেহেতু উঠতে হবে, স্কুল আছে, তাই এখন শুয়ে পড়াটাই ভালো … রাত তো প্রায় ১২টা বাজে …  

 

Advertisements

দিনযাপন । ০২০৯২০১৭

সর্বশেষ দিনযাপন এন্ট্রি ছিলো জুনের ২১ তারিখ। তারপর প্রায় ২ মাস পার করে আজকে দিনযাপন লিখতে বসেছি! এই দুইমাসের প্রতিদিন না হলেও অন্তত যদি সপ্তাহে একদিনও দিনযাপন লিখতাম, তাহলে কিছুটা হলেও গত কয়েকদিনের ঘটনাবহুলতার একটা ধারণা পাওয়া যেতো … এখন দুইমাস পর দিনযাপন লিখতে বসে কোথা থেকে শুরু করি অবস্থায় পড়েছি! …

যাই হোক, প্রসঙ্গেক্রমে যেটুকু যা আসে তা আপডেট করার চেষ্টা করবো … এখন থেকে আবারো নিয়মিত দিনযাপন লিখবো এমন নিশ্চয়তা একদমই দিচ্ছি না। সেটা আসলে চাইলেও সম্ভব হয় না … স্কুলের কাজের ব্যস্ততা এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যে বিকালে অন্তত ৫টা পর্যন্ত তো স্কুলে থাকাই হচ্ছে, আবার প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের জ্যাম ঠেলে বাসায় ফিরেও স্কুলেরই কাজ করছি! কাজের পরিধিটা কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না! কেমন একটা অল ওয়ার্কস অ্যান্ড নো প্লে জীবনযাপন করছি! … এই যে এখন কোরবানি ঈদের ছুটি যাচ্ছে, একবার ভাবছি যে এই ছুটির মধ্যেই এমনভাবে যাবতীয় ওয়ার্কশিটের প্ল্যান করে ফেলবো যে স্কুল খোলার পরে আর উইকডে-তে ওয়ার্কশিট বানাবো না … এমনকি খাতা দেখার কাজটা কিভাবে স্কুলের সময়ের মধ্যেই করে ফেলা যায় সেটা নিয়েও প্ল্যান করে ফেলতে হবে … এমনিতেও সেপ্টেম্বর মাসটা শেষ হবার পর, কিংবা মধ্য অক্টোবরে যখন একটু শীত আসি আসি করবে আর দুপুরের রোদ পড়ে গেলেই প্রজাপতিদের উড়াউড়ি শুরু হয়ে যাবে, তখন আমাকে এম্নিতেই ৩টার মধ্যে স্কুল থেকে বের হয়ে বাসায় চলে আসতে হবে … ফলে এখন থেকেই কাজ গোছানোর একটা প্ল্যান করে ফেলা উচিৎ …

যাই হোক, আজকে ঈদের দিন বলেই হয়তো অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি বোরিং লাগছে … হাতে অনেক কাজ থাকলেও ঈদের দিন সেই কাজে হাত দেবো না – এরকম একটা অদ্ভুত সাইকোলজি কাজ করে সবসময় … আমার হাতে কিন্তু করার মতো অনেক পেন্ডিং কাজ … স্কুলের ওয়ার্কশিট আর হ্যান্ডআউট তৈরির কাজ, গ্রুপে শর্মী’র একটা আঁকা-আঁকির কাজ আছে, ঘরের কিছু গোছগাছের কাজ আছে, নেক্সট যেদিন মিস্ত্রী আসবে সে কোন কোন পয়েন্টে ড্রিল করবে সেটা ঠিক করার কাজ আছে, ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের পড়ালেখা নিয়ে বসার কাজ আছে … মানে করার মতো কাজের অভাব নাই … কিন্তু কোনোটাই করতে ইচ্ছা করছে না … এই যে যেমন শর্মীর একটা কাজ করে দেয়ার কথা … সামনের অক্টোবরে এশিয়ান ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে প্রাচ্যনাটের একটা আন্ডার টোয়েন্টি ফাইভ গ্রুপ ‘বেদের মেয়ে’ নাটক নিয়ে যাবে … তো শর্মী সেই টিমে আছে … এখন ও কস্টিউম করার দায়িত্ব পেয়েছে … তো আমার সাথে গত বুধবার বসলো যে আমি যদি একটু ওর ভাবনার সাথে সাথে নতুন কিছু অ্যাড করতে পারি, আর ডিজাইন অনুযায়ী যদি একটু ওকে লেআউট ড্রয়িং করে দেই … তো আমিও খুশিমনে কাজটা নিয়ে আসলাম বাসায় … চিন্তা করলাম যে বৃহস্পতিবার তো স্কুল বন্ধ, সো আমি দিনের বেলা বসে ছবিগুলো এঁকে বিকালে গ্রুপে নিয়ে যাবো … কিসের কি! … বুধবার রাতে গোসল করেই ভেজা চূল নিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম … তার ফলাফল হলো এই যে বৃহস্পতিবার সারাদিন কেমন এক ঘোর লাগা টাইপের মাথা ব্যথা করলো, এবং আমি লিটেরেলি অন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় বিছানাতেই পড়ে রইলাম … এদিকে আমার আর শর্মীকে ফোন করে কিছু বলাও হলো না, ও নিজেও ফোন দিলো না … ফলে কাজটা এখনো ‘নট ডান’ অবস্থায় আছে … শর্মীকে যে গতকালকে বা আজকেও ফোন করবো, একে তো মনেই থাকে না, আবার যখন মনে হয় তখন চরম আলসেমি লাগে! …

আমার এই টেন্ডেন্সিটা ইদানীং বেশ চরম আকার ধারণ করছে যে কোনো একটা কাজ কেউ করতে বললে সেটা করা হোক বা না হোক, কিংবা কতদূর করা হলো সে সংক্রান্ত আপডেট জানানোর জন্য আর তার সাথে যোগাযোগই করা হয় না … সরাসরি দেখা হলে এক কথা … কিন্তু ফোন করে জানাবো কিংবা ফেসবুকে মেসেজ পাঠায় জানাবো, সেটা আর হয় না … এদিকে কেউ যদি নিজে থেকে যোগাযোগ না করে তাইলে তো আরো ওয়ার্স্ট কেস-এ পড়তে হয়! … এই যেমন কয়েকদিন আগে দাদু’র ‘লঘু মেঘ’ বইটা নিয়ে বলেছিলো এইটা কোন এক পাবলিশারকে দেবে আবার ছাপানোর জন্য, এখন এইটার একটা ফটোকপি লাগবে … সেটা রোজার ঈদের সময়কার কথা … আমি ওই বই নিজেই গরজ করে নিয়ে প্রিন্ট পয়েন্ট থেকে ফটোকপি করিয়ে আনলাম। কিন্তু বিবি যেহেতু আমার কাছে চায়নাই, আমারও আর দেয়া হয়নাই … বিবি ‘লঘু মেঘ’ বইটা ফেরত নিয়ে গেছে, কিন্তু ফটোকপি হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানতেই চায় নাই … আমিও এর মধ্যে স্কুলের দৌড়াদৌড়িতে আর উনার সাথে যোগাযোগের মধ্যে ছিলাম না … তো আজকে দুপুরে বিবি খেতে আসলো তাই দেখা হলো … তো বিবি আমাকে বইয়ের ফটোকপি করতে দিয়ে আর খোঁজই নিলো না, এদিকে একদিন পাবলিশার আসবে বলেছে আর উনি নাকি তখন তাড়াহুড়া করে চারুকে দিয়ে সেই বইয়ের ফটোকপি করিয়ে পাবলিশারকে দিয়েছে … আমি বললাম যে আমি তো ফটোকপি করিয়ে রেখে দিয়েছি, আপনি চান নি দেখে দেয়ার সুযোগ হচ্ছিলো না … বিবি বলে শিওর ছিলো না আমি আদৌ ফটোকপি করিয়েছি কি না! জিজ্ঞেস করলেই তো হতো! তাও করেন নাই! …

স্কুলের ফৌজিয়া আপার সাথেও এইরকম একটা কাহিনী আছে … উনার মা-কে কি একটা সম্মাননা দেয়া হয়েছিলো, উনি সেটা উনার মায়ের পক্ষে রিসিভ করেছিলেন। তো আমি ফটোগ্রাফি করি দেখে উনি আমাকে স্পেশাল খাতির করে সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন যেন আমি ছবি তুলে দেই উনার … আমার ক্যামেরা কিট এখন একদমই অ্যামেচার … ফলে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যে ছবি তুলে আমি নিজেই হতাশ হয়ে যাই যে কি ছবি উঠলো, এই ছবি তো কাউকে দেয়া যাবে না! … হতে পারে যেমন ছবিই উঠেছে তা পেলেই যার ছবি তুলেছি সে খুশি হয়ে যাবে … কিন্তু আমি নিজে যেহেতু সন্তুষ্ট হতে পারি না, আমি আর ছবি দেই না … তো ফৌজিয়া আপার ঐদিনের ছবি নিয়ে তাই হয়েছে … আর গতবছর যেসময় ছবি তুলেছি তখন আমার এমন ল্যাপটপও নাই যে আমি অন্তত ফটোশপে একটু ঘষামাজা করে তারপর ছবিগুলা দিবো যাতে করে ফটোগ্রাফার হিসেবে অন্যদের কাছে নিজের মানটা অন্তত বাঁচে! … নইলে এই ছবি যখন উনি কাউকে দেখাবে যে যদি বলে যে ‘ভালো ছবি হয়নাই’? … তো এইসব করে করে আর উনাকে ছবি দেয়া হয় নাই … এখন আমার ম্যাকবুক আছে, চাইলেই ছবিগুলোর চেহারা উন্নত করে দিতে পারি, কিন্তু এখন আবার ফৌজিয়া আপা আমার সাথে ভালো টার্মে নাই … এমনকি আমিও কিছু কারণে একটু আহত হয়ে কথা-বার্তাই বলি না উনার সাথে … এখন যদি ছবি দিতে যাই তাহলে তো বিষয়টা আরো খারাপ দেখাবে … মনে হবে যে ঝামেলা চলছে দেখে দেনা-পাওনা যা আছে সব চুকিয়ে দিচ্ছি! … এম্নিতেই উনি নিজেই আমাকে একটা বই দিয়েছিলেন জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজের … যেহেতু জাপানিজ স্টাডিজে পড়ছিলাম, উনি একটা ইজি বই দিয়ে বলেছিলেন যে এটা আমি ব্যবহার করতে পারি … অথচ কয়েকদিন আগে সবাইকে জানান দিয়ে এমনভাবে উনি বইটা ফেরত চেয়েছেন, এবং একবার-দুইবার না, কয়েকবার করে সবার সামনে বলে বলে ফেরত চেয়েছেন অ্যাজ ইফ আমি বইটা ধার নিয়েছিলাম, এখন আর ফেরত দিচ্ছি না … তো বইটা যখন আমি উনাকে ফেরত দিলাম, তখন উনি ধন্যবাদ বা ভালো-মন্দ কিছুই অবশ্য বললেন না … এখন ছবি দিতে গেলে আবার কি বলবে আল্লাহই জানে! …

যেসব মানুষদের অনেক শ্রদ্ধা করি, কিংবা তাদের আতিথেয়তার কারণেই পছন্দ করি তাদেরই কেউ কেউ মাঝে মাঝে এমন এক রূপ প্রকাশ করে যেটা নাকি তাঁর কাছ থেকে কখনো আশা করি না! … ফৌজিয়া আপার ক্ষেত্রেও হঠাৎ করেই তাই-ই দেখলাম … গত ফেব্রুয়ারির দিকে অরুনদ্যুতি আপু একটা ফাউল করলো আরেফিন স্যারের সাথে আমাকে প্যাঁচায়, তার সাথে সম্পর্ক আর ভালো থাকলো না … এমনই বিরক্ত হলাম যে আগের মতো কথাবার্তাই বন্ধ করে দিলাম … আর গত মাসে কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে ভালো সম্পর্কে কালি পড়লো ফৌজিয়া আপার সাথে … অথচ এক্সেল অ্যাকাডেমিতে জয়েন করার পড় সবচেয়ে আগে খাতির হয়েছিলো এই অরুণদ্যুতি আপু আর ফৌজিয়া করিম আপার সাথেই! …

মানুষ চেনা যে কেন এত দায়! …

যাই হোক, প্রসঙ্গ পাল্টে যাচ্ছে … আজকে সারাদিনে কি করলাম তা বলি … ভাবছিলাম যে অন্তত ১০টা পর্যন্ত ঘুমাবো, কিন্তু ঘুম ভেঙ্গে গেলো ৮টার দিকেই … পরে সাড়ে ৮টার দিকে উঠে পড়লাম … কাপড়-চোপড় কিছু ছড়ানো-ছিটানো ছিলো ড্রয়িং রুমে, ওইগুলা সব গুছিয়ে ফেললাম … নতুন একটা কেবিনেট আর একটা সেলফ বানানোর পর ঘর এখন যথেষ্টই গোছানো লাগছে দেখতে … তারপরও যদি কেউ আসে, তাহলে যাতে আরেকটু গোছানো মনে হয় সেজন্য ড্রয়িং রুম থেকে কাপড়ের স্তূপ সরানো আর কি … তো এগুলা করে নাস্তা খেয়ে ভাবলাম যে একটা সিনেমা দেখি … ‘ইট কামস অ্যাট নাইট’ বলে একটা নতুন মুভি চালালাম, ভাবলাম যে হরর টাইপের হতে পারে … কিন্তু প্রথম ১০ মিনিট দেখার পর এতই বিরক্ত লাগলো যে বন্ধ করে দিলাম … তারপর আরো একটা দুইটা মুভি ঘাঁটাঘাঁটিই করা হলো, দেখা আর হলো না … এরপর গোসল করে এসে ‘ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড’ দেখতে শুরু করলাম … পনেরো-বিশ মিনিট যাওয়ার পর বিবি আসলো, একসাথে খাওয়া-দাওয়া করলাম, বিবি বেশিক্ষণ থাকলো না বাসায় কাজের মেয়েকে একলা রেখে আসছে বলে … তো আমিও শুয়ে-বসে সিনেমার বাকি অংশ শেষ করে ঘুম দিলাম … সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে চা-নাস্তা খেয়ে এরপর কি করবো ভাবতে ভাবতে দিনযাপন লিখতে শুরু করলাম …

রোজার ঈদে টিয়ামদের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আর কক্সবাজার গিয়েছিলাম … যতটা এক্সাইটমেন্ট নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম, ততটাই ডিজঅ্যাপয়েন্টিং একটা ট্যুর হয়েছে সেটা … ইনফ্যাক্ট ট্যুর শুরু হবার আগে থেকেই … তো এবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবো কিনা জানতে চেয়েছিলো টিয়াম … এমনিতেই ছুটি কম, তারওপর রোজার ঈদের বিরূপ অভিজ্ঞতা … এই দুই মিলিয়ে এইবার আর উৎসাহই কাজ করলো না … এদিকে টিয়ামের ওপর আমার একটু রাগও আছে … মাস দুই হলো গাড়ি কিনেছে, আমি তারপর যেই দুই-তিনবার গাড়ি চেয়েছি এইটা-না ওইটা কি কি সব আজব টাইপের অজুহাত দেখিয়েছে … এখন দরকার হলে পয়সা খরচ করে উবারের গাড়িতে আসি, তাও টিয়ামের গাড়িতে উঠবার কথা ভাবিও না … সম্ভবত অদূর ভবিষ্যতে কখনোই উঠবো না … জিদ আর কি! … আজাইরা জিদ হতে পারে … কিন্তু স্বভাবজাত জিদ … আমি চাইলাম, দিলো না কেন টাইপের জিদ …

আর কিছু লেখার মতো পাচ্ছি না … মানে প্রসঙ্গক্রমেও আসছে না আর কি … গতকালকে যে আলিয়ঁস ফ্রসেঁ-তে গিয়ে হুদাই আমরা বসে রইলাম, তারপর এসে জানালো ক্লাস হবে না, আমাদের কাছে আগেরদিন ভুল মেসেজ গিয়েছে, তারপর আমরা কয়েকজন সময় কাটানোর ছলে ধানমন্ডি লেক-এর আশেপাশে ঘোরাঘুরি করলাম, ট্রুথ অর ডেয়ার খেলার ছলে একে-অপরের সম্পর্কে এক্টু-আধটু জানলাম, তারপর আবার ঈদের মধ্যেই পুরান ঢাকায় যাওয়ারও প্ল্যান করে ফেললাম এইগুলা নিয়ে একটু লিখতে চাইছিলাম, কিন্তু সেটার তো আসলে কোনো প্রসঙ্গ আনা যায় নাই … এই এখন একটু জোর করে প্রসঙ্গ বানালাম আর কি … আসলে যেটা হয় বেশিরভাগ সময়েই আমরা ক্লাসে যাই, ক্লাস শেষ করে যে যার বাড়ির পথে রওয়ানা দেই … ক্লাসের ভেতরে আর একজন আরেকজন সম্পর্কে কতটুকুই বা জানা হয়, কিংবা সবার সাথে সবার কতটুকুই বা ইন্টারঅ্যাকশন হয় … তো কালকে একটা মিসকম্যুনিকেশন হলো ক্লাস নিয়ে … আমাদেরকে নোটিশ পাঠানোর কথা ছিলো যে ক্লাস হবে না, কিন্তু নোটিশ আসলো যে ক্লাস হবে … তো আমরা গেলাম, মোটামুটি সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বসে থাকার পর জানা গেলো যে আসলে ক্লাস হবে না … এদিকে একজনের গাড়ি আসবে ১টা সময়, আরেকজন বাসায় গিয়ে বলতে পারবে না যে ক্লাস হয়নাই, সো ক্লাস টাইম পর্যন্ত সময় পার করে তারপর বাসায় যাবে … তো তাদের ছুতায় আমরা ৪/৫ জন প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিভিন্নভাবে সময় কাটালাম … ভালোই লাগলো …

সে যাই হোক, আজকের মতো দিনযাপনের প্যানপ্যানানি শেষ করবো … অলরেডি রাত ১১টা বাজে … ছুটি কাটানোর শেষ প্রহরে হয় একটা মুভি দেখবো, নয়তো কোনো একটা টিভি সিরিজ দেখা শুরু করবো … ‘নারকোস’ নামে একটা সিরিজ আছে … বেশ পপুলার … ওইটার থার্ড সিজন শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে, কিন্তু আমি এটা কোনো সিজনই দেখি নাই … তো ভাবছিলাম যে এই ছুটির অবসরে দেখা শুরু করবো নাকি … সিরিজ দেখার আবার আরেক প্যানা হচ্ছে একবার দেখা শুরু করলে সব কাজ বাদ দিয়ে দেখতেই থাকি! … দেখি, কি করা যায় …

বিদায় নেই তাইলে আজকের মতো …       

 

দিনযাপন । ২১০৬২০১৭

মাঝখানে একদিন দিনযাপন লেখা শুরু করেছিলাম, ১০/১২ তারিখের দিকে … কিন্তু তারপর অর্ধেক অংশে গিয়ে কেন যেন খেই হারিয়ে ফেললাম … দেখলাম আর লেখা আগাচ্ছে না … কিছু একটা নিয়ে লিখবো বলে আগেই ভেবে রেখেছিলাম, কিন্তু লিখতে বসে আর ওই প্রসঙ্গটার কথা মাথাতেই আসলো না … পরে দিনযাপন অর্ধেক অবস্থাতেই রেখে দিয়েছিলাম … দুই-তিন দিন পরে অবশ্য মনে পড়েছে যে পাঠশালার এক সিনিয়র ব্যাচের স্টুডেন্ট, হান -কে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম … ওই সময়েই ৩/৪ দিন আগে ওর মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম। ক্যানসার হয়েছিলো, বছরখানেক আগে মনে হয় ধরা পড়েছে এরকম কিছু … তো আলটিমেটলি সারভাইভ করে নাই। তো পাঠাশালায় যারা ওড় ব্যাচমেট ছিলো বা কাছের মানুষ ছিলো তারা ওর ছবি-টবি দিয়ে ওর ব্যাপারে বেশ স্মৃতিচারণ করছিলো ফেসবুকে। তখন আমি ভাবতে গিয়ে দেখলাম যে আমার আসলে হান-এর সাথে মনে রাখার মতো পারটিকুলার কোনো স্মৃতি নাই! শুধু এইটুকুই যে হান-কে পাঠাশালাতে দেখতাম, আমার থেকে ২/৩ ব্যাচ সিনিয়র ছিলো, ওকে দেখলে বাংলাদেশি মনে হইতো না, মনে হইতো সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ড টাইপের কোনো দেশ থেকে আসছে… ও চাকমা, মারমা বা রাখাইন বা কি ছিলো তাও জানি না!… তখন মনে মনে একটা তালিকা করার চেষ্টা করতেসিলাম যে আমার আশেপাশের সার্কেলে এরকম কে কে আছে যাদের ব্যাপারে আমার শুধুমাত্র পরিচিতিটুকু ছাড়া আর পারটিকুলার কোনো স্মৃতি নাই … কিংবা, আশেপাশের সার্কেলে যারা যারা আছে তাদের কার সাথে কি পারটিকুলার ইন্টারঅ্যাকশনের কথা আমি মনে করতে পারি? … তো ওই ভাবনাগুলা নিয়েই ওইদিন দিনযাপনে লিখতে চাইসিলাম, কিন্তু দিনযাপন লিখতে বসছি যখন তখন পুরা ভাবনাটাই মাথা থেকে গায়েব হয়ে গেছে!

যাই হোক, আজকে আবার বেশ উদ্যম নিয়ে লিখতে বসলাম … ওয়েল, যদি নেট-এর স্পিড বেশি স্লো না হতো, আর পিট’স ড্রাগন নামে যে মুভিটা ছেড়েছিলাম অনলাইন চ্যানেলে দেখবো বলে, সেটা যদি বার বার আটকে না যেতো তাহলে হয়তো এখন মুভিই দেখতে থাকতাম … আর তারপর মুভি শেষ হতে হতে প্রায় রাত ১০টা পার হয়ে গেলে চরম আলসেমি ভর করতো, তারপর আর দিনযাপন লিখতে ইচ্ছা করতো না! … সো, থ্যাংকস টু স্লো স্পিড অভ ইন্টারনেট যা কিনা মুভির অনলাইন স্ট্রিমিং-কে ব্যাহত করলো আর আমিও কাজ না পেয়ে দিনযাপন লিখতে বসে গেলাম …

আসলে ছুটি মানেই আমার এমন আলসেমি করার মুড আসে যে লিটেরেলি মাথা খাটায় কিছু করতে হবে এমন কাজ করতেই মন চায় না … সিনেমা দেখা কিংবা বই পড়াতে তো সেভাবে মাথা খাটানোর কিছু নাই … তাই ওই দুইটা কাজেই এখন সবচেয়ে স্বস্তি! … এখন যেটা হয় যে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সকাল প্রায় ১০টা পার হয়, তারপর শুরু হয় ম্যারাথন মুভি দেখা … এমনকি একটা ‘মুভিজ টু ওয়াচ’ লিস্ট-ও বানিয়ে ফেলেছি … হাল্কা-পাতলা এন্টারটেইনমেন্ট মুভি, হাই-থট এর সিরিয়াস মুভি, অস্কার নমিনেটেড মুভি এইরকম তিনটা স্টিকি প্যাডে লেখা লিস্ট টেবিলে সেঁটে রেখেছি … একটা করে মুভি দেখি আর নাম কাটি! … সেই প্ল্যান! … এর মধ্যে একটা বই-ও পড়ে শেষ করলাম – ড্যান ব্রাউন-এর ‘ইনফারনো’… বিদুষী নামের আমার এক স্টুডেন্ট বইটা আমাকে দিয়েছিলো পড়ার জন্য … তাও প্রায় মাস দেড়েক আগে … কিন্তু তখন কাজের চাপে আর বইটা বেশিদূর আগায় নাই … আর এই ১১ তারিখের পর যে স্কুল বন্ধ হলো, এর মাঝে পড়ে শেষ করলাম … শেষ ১৫০ পৃষ্ঠা তো মনে হয় দুইদিনে পড়েছি! ক্লাসে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমি প্রসঙ্গক্রমে বা প্রসঙ্গ ছাড়াই অনেক বই কিংবা মুভি’র রেফারেন্স দেই স্টুডেন্ট-দের … তো বিদুষী, সুহায়মাহ্‌, ইউশার মতো কয়েকজন স্টুডেন্ট আছে যারা প্রচুর বই পড়ে। তো তাদের সাথেই বই পড়ার আলাপের সূত্র ধরে বিদুষী একদিন ৪৬১ পৃষ্ঠার ‘ইনফারনো’ নিয়ে এসে দাবিই করে বসলো এইটা আমার পড়া লাগবে! … ড্যান ব্রাউনের ‘দি দ্য ভিঞ্চি কোড’ ছাড়া আর কিছুই পড়া হয়নাই আমার … মোটা মোটা বই পড়তে ধৈর্য্যে কুলায়না বলেই হয়তো! … অবশ্য ড্যান ব্রাউনের লেখার মজা হচ্ছে তার রেফারেন্স-এর ব্যবহার … আর যেহেতু টাড় লেখার মুল থিম-ই আর্ট হিস্ট্রি ফলে আমার মনে হয় আমার অন্তত আর্ট হিস্ট্রির প্রতি আগ্রহ থেকে হলেও তার লেখা সব বই ধৈর্য্য ধরে পড়া উচিৎ … আরেকজন লেখকের লেখা আমার পড়ার ইচ্ছা হয়, এবং মনেও হয় যে আমি এখনো এর কোনো লেখাই না পড়ে বেশ অপরাধই করেছি; সে হচ্ছে হারাকি মুরাকামি … একবার একজনের কাছে একটা বই, খুব সম্ভবত নরওয়েজিয়ান উড, সেটা দুই পাতার মতো পড়েছিলাম … কিন্তু সেটা জাপানিজ থেকে অনুবাদ বলে আদৌ কনভিন্সড হতে পারছিলাম না যে বর্ণণার যে সুন্দর দ্যোতনা সেটা লেখকের না অনুবাদকের অবদান! … যাই হোক, হারাকি মুরাকামির এক-দুইটা বই কিনে পড়া শুরু করা যেতে পারে আগামী মাসে …

17156034_1847505172155838_8679005771943606975_n

যাই হোক, আজকের দিনের কথাতেই চলে আসি সরাসরি … নইলে এভাবে লেখার ডালপালা গজায় প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গ পাল্টাতেই থাকবে … আজকে বের হলাম মূলত আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-এ যাবো বলে … আজকে ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে … আর ফরাসিদের কাছ থেকে শুরু হয়ে এখন ইউরোপের অনেক দেশেই এই দিনে ‘ফেত দো লা মুজিক’ বা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হয় … সেখানে দিনব্যাপী গান-বাজনা হয়, প্রফেশনাল-অ্যামেচার সব ধরণের মিউজিশিয়ানই সেই ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করতে পারে … তো আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-ও প্রতি বছর এই মিউজিক ফেস্টিভ্যাল-এর আদলেই তাদের গ্যালারিতেই ছোটোখাটো মিউজিক ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে … এইটা নাকি প্রতিবছরই হয় … এইবার এইখানে স্টুডেন্ট হবার বদৌলতে এইরকম আয়োজনের কথা জানলাম … সে যাই হোক, সকালে বের হলাম পৌনে ১২টার দিকে … ভাগ্যক্রমে রাস্তা ফাঁকাই ছিলো, মোটামুটি ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ধানমন্ডি ৭ নাম্বার পৌঁছে গেছি … সেখানে আগে কিউ বেলা-তে গিয়ে চুল ট্রিম করলাম … তারপর একটু সামনেই লাইফস্টাইল নামের লজাঁরি’র দোকানে গিয়ে আন্ডারগার্মেন্টস কিনলাম … মোটামুটি আগামী ৬ মাসের জন্য নিশ্চিত … তো এইগুলা করেও দেখি মাত্র ২টা বাজে! … মিউজিক ফেস্টিভ্যাল যদিও বেলা ১২টা সময়ই শুরু হয়ে গেছে, আমার তাও এত তাড়াতাড়ি যাবার ইচ্ছা করছিলো না … ধানমন্ডি ৪ নাম্বারে গিয়ে প্রাইডের দোকানে ঢুকে একটু উইন্ডো শপিং করলাম, জ্ঞানকোষে গিয়ে বাংলাদেশ স্টাডিজ-এর দুইটা বই কিনলাম … তারপর আলিয়ঁস ফ্রসেঁস ঢুকতে ঢুকতে যখন ভাবছি যে নায়ীমীকে ফোন দিবো ও আসবে কি না, দেখি ব্যাগ রাখি যেখানে সেখানে ওর ব্যাগও রাখা … লা গ্যালারিতে গিয়ে দেখি কনক দা’র ছেলে ধিয়ান-এর ব্যান্ড-এর পারফর্মেন্স … নায়ীমীকে খুঁজে পেলাম … ও বললো কিছুক্ষণ আগেই পৌঁছেছে … তো মোটামুটি ৪টা পর্যন্ত থেকে দুইজনেই বের হয়ে গেলাম … নায়ীমী এলিফ্যান্ট রোডের দিকে চলে গেলো আর আমি সিএনজি পাওয়ার অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়ায়ই থাকলাম … মিরপুর নামটা শোনার সাথেই সাথেই খুব দ্রুত না বোধক মাথা নাড়ায় সিএনজিওয়ালারা চলে যেতে থাকলো … একজন রাজি হইলো যাবে বলে … ভাড়া চাইলো ৪০০ টাকা! … ৪০০ টাকা ভাড়া আমি সিএনজিওয়ালাকে দিবো কেন? তাইলে তো উবার ডেকে যাওয়াই ভালো … তো এই চিন্তা করতে করতে দেখি আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-এর এক দারোয়ান বের হয়ে এসে বলে, ‘আপনাকে অনেকক্ষণ ধরে দেখতেসি সিএনজি খুঁজতেসেন… কই যাবেন ? আমি দেখি পাই কি না ‘ … তো তারপর ডেসটিনেশন এবং এস্টিমেটেড ভাড়া জেনে সে মোটামুটি সামনে হ্যাপি আর্কেড মার্কেট পর্যন্ত আগায় গেলো সিএনজি খোঁজার জন্য … কিন্তু সেও ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসলো কিছুক্ষণ পর। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম তাইলে ইফতারের সময়টায় বের হবো … অবশ্য তখন মাত্র ৫টা বাজে … আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা বাকি ইফতারের … তো যাই হোক, ক্যাফেতে ঢুকে দেখি পিয়ানোর স্টুডেন্ট-দের পারফরমেন্স হচ্ছে … পিয়ানো শুনতে শুনতে নিজের কথা ভাবলাম … এই নিয়ে দুই/তিন বার ডিআইএমএস-এ পিয়ানো লেসন শুরু করে একবারও লেভেল ওয়ান-এর পরে কন্টিনিউ করিনাই … একবার তাও লেভেল টু কিছুটা গিয়েছিলাম, কিন্তু যখনই লেফট হ্যান্ড -রাইট হ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনের এক্সারসাইজ আসলো তখনই কি কি সব গিট্টু লাগলো, আর তারপর কন্টিনিউ করা হলো না … পিয়ানো প্র্যাকটিস করার জন্য একটা মিডি কিবোর্ড কিনেছিলাম … ওইটা সেন্ট্রাল রোডের বাসায় ইলেক্ট্রিসিটির ভোল্টেজের ঝামেলার জন্য বাজাতে পারতাম না … তারপর সেটা ৫ তলায় নোবেল ভাইয়ের হেফাজতে অনেক দিন পড়ে ছিলো, শরীফ ভাই মাঝে মাঝেই ব্যবহার করতো … এখনো সেটা নোবেল ভাইয়ের মোহাম্মদপুরের বাসায় তার হেফাজতেই আছে … মাঝে মাঝেই ভাবি এখন এইটা মিরপুরের বাসায় নিয়ে এসে সেট করে নিজে নিজেই প্র্যাকটিস করি … কিন্তু চরম আলসেমির কারণে সেটাও করা হয় না … একটু আগে পিয়ানো লেসন কমপ্লিট করতে না পারার দুঃখ নিয়ে একটা স্ট্যাটাস লিখেছিলাম ফেসবুকে … নোবেল ভাই নিজেই কমেন্ট করলো কিবোর্ড-টা নিয়ে এসে আবার শুরু করতে … কিন্তু সেইটা করতে গিয়ে আলসেমিতেই হয়তো আরও ৬ মাস কি এক বছর কাটিয়ে দেবো!

যাই হোক, মিউজিক ফেস্টিভ্যাল সোয়া ৫টার দিকেই শেষ হয়ে গেলো … এর মধ্যে সানিডেল-এর সময়কার কলিগ সোনিয়া আপুর সাথে দেখা হলো … তারপর নদীর সাথে … এই নদী মেয়েটার সাথে আমার যোগাযোগ খুব অদ্ভুত … সামনাসামনি মনে হয় আজকেই প্রথম দেখা হলো নাকি এর আগেও আরেকদিন হয়েছে মনে করতে পারলাম না … কিন্তু একে অপরকে চিনি মনে হয় প্রায় ৮ বছর হবে! সেই অরকাট, হাই ফাইভ-এর যুগে ওর সাথে কিভাবে কিভাবে অনলাইনে পরিচয় … তারপর থেকে বিভিন্ন কমন ইন্টারেস্ট এবং ইন্টারঅ্যাকশনের সূত্রতায় ওর সাথে কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ হয়েই আসছে … অনেকক্ষেত্রেই ও আমার লেখালেখি, ক্রিয়েটিভ কাজ-কর্ম এইসবের বেশ সক্রিয় অ্যাপ্রিশিয়েটর … ইদানীং ও অবশ্য ফেসবুক থেকে ডিঅ্যাকটিভেটেড … তারপরও এই যে, কিভাবে কিভাবে যোগাযোগ হয়েই যায়!

তো, ওই সময় যখন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল শেষই হয়ে গেলো, তো চিন্তা করলাম দেড় ঘণ্টার মতো সময় আমি এইখানে বসে বসে কি করবো? এর চেয়ে আবার বাড়ি ফেরার পথ ধরি … একবার ভাবলাম রিকশা নিয়ে ২৭ নাম্বার মিনা বাজার পর্যন্ত যাই … এই চান্সে আর্টিসানে একটা ঢুঁ মারবো … তারপর মিনা বাজারের পাশ থেকে সিএনজি নিয়ে লালমাটিয়ার ভেতর দিয়ে বের হয়ে চলে যাবো সিএনজি দিয়ে … তাতে সময়ও বাঁচবে, ভাড়াও কম লাগবে … এক রিকশাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে বলে ৮০ টাকা ভাড়া দিতে হবে! … এর মধ্যে এক দুইটা সিএনজিও খালি পেলাম … একজন ৩০০ টাকায় রাজি হইলো আসতে … তো আর কি? মনের আনন্দে বাসায় চলে আসলাম …

এদিকে সকালে যখন বের হই তখন বিবি তার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমাকে ডেকে বেশ অভিমানের সাথে কথা বললো … আমি যাই না কেন … আমার কি চারতলা থেকে নেমে একটুর জন্যও দুইতলায় আসতে ইচ্ছা করেনা নাকি এইসব এইসব … তো বিকালে যখন ফিরলাম … তখনও সিএনজি থেকে নেমে দেখি আবারো বিবি বারান্দায় দাঁড়ানো … মনে হইলো যে এখন সরাসরি চারতলায় উঠে গেলে বিষয়টা অন্যায় হবে… তো সকালের কনভারসেশনের প্রেক্ষিতেই দুইতলায় বিবির বাসায় গিয়ে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে, নিজের ব্যস্ততার জাস্টিফিকেশন দিয়ে-টিয়ে তারপর আসলাম … মানুষটার আসলে একা থাকতে ভালো লাগে না … স্বভাবতই সে খুব আড্ডাবাজ … গল্পগুজব করতে পছন্দ করে … একা একা থাকাটা এইরকম মানুষের জন্য খুব বোরিং … আমার অবশ্য মাঝে মাঝে একটা কাজ করতে ইচ্ছা করে … এই ইচ্ছাটা অনেক বছর আগে থেকেই আছে … তো এখন আমার কাজটা করার সুযোগ আছে কিন্তু সময় কুলায় না … সেটা হলো বিবির সাথে কথা বলে বলে আমাদের পারিবারিক ইতিহাসের একটা রেকর্ড নেয়া … বিবিরা এমন একটা জেনারেশন যারা ৪৭ এর দেশবিভাগ আর ৭১ এর যুদ্ধ দুইটারই প্রত্যক্ষদর্শী … ফলে তাদের অভিজ্ঞতায় এই সময়গুলোর ইতিহাস কিংবা এই ইতিহাসের সময়গুলোর প্রেক্ষিতে তাদের জীবনের গল্পগুলো এক একটা হিস্টোরিকাল ডকুমেন্ট হতে পারে! … আজকেই কথায় কথায় বিবি-কে বলছিলাম তার গল্পগুলো লেখার জন্য … বললো লেখার ধৈর্য্য নাই … কিন্তু মুখে বলতে ভালো লাগে … তো তখনই মনে হইলো যে পাঠশালায় যখন নিজের জীবনের গল্প বলে ফাটায় ফেলবো ক্রেজ চলতেসে, তখন আমিও ভাবতে শুরু করেছিলাম যে আমি যদি নিজের জীবন নিয়ে ডকুমেন্টারি স্টোরি করি, তাহলে নিজের ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে করবো … মানিকগঞ্জ, জলপাইগুড়ি এইসব রুটগুলা খুঁজে বের করবো আর সেগুলোর কানেকশনগুলা জোড়া লাগাবো … তারপর ছবি আর গল্প মিলায় একটা বই বের করবো … আত্মজীবনীমূলক ছবির বই … তো আজকে বিবির সাথে কথা বলতে গিয়ে আবারো সেই ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে কাজ করার ঘুমিয়ে থাকা বীজটা একটু নড়েচড়ে উঠলো … যেটা করতে পারি যে আপাতত আমি একটা রেকর্ডার কিনে বিবির সাথে গল্পের চলে তার গল্পগুলো রেকর্ড করতে পারি … বিবির যদি লেখার ধৈর্য্য না হয় তাইলে এই রেকর্ড করা গল্পগুলো থেকেই তার গল্পটা বের করবো …

আচ্ছা … বাই দ্য ওয়ে … আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে … দুপুরে লাঞ্চ হয় নাই … বাসায় এসেও হাল্কা পাতলা খাবার খেয়েছি … সো, আপাতত আমি মুড়িঘণ্ট দিয়ে ভাত খেতে গেলাম … অবশ্য, আজকে আর কি-ই বা লিখবো? অনেক কিছু লিখে ফেলসি আজকে … প্রাসঙ্গিক, অপ্রাসঙ্গিক … আজকের মতো না হয় শেষই করি … কালকে মুড থাকলে আবার হয়তো লিখতে বসে যাবো …

           

দিনযাপন । ২৭০৫২০১৭

আজকে মোটের ওপর একটা আলসেমি করা দিন গেলো … বলা যায় যে একেবারে স্বেচ্ছায়ই এই আলসেমিপনা বেছে নিয়েছি আজকে! … না জানি কতদিন পরে আজকে এমন একটা দিন গেলো যে পরেরদিনের জন্য কোনো কাজ তৈরি করার নেই। সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেছে সাড়ে ৫টার দিকে, কিন্তু তারপর আবার জোর করে ঘুমিয়েছি প্রায় বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। শুয়ে থেকে থেকে পিঠ-কোমর ব্যথা করতে শুরু না করলে হয়তো আরও ঘুমাতাম।

আর আজকে সারাটাদিন আসলে বিছানায় গড়াগড়ি করেই কাটালাম। শুয়ে শুয়ে , আধশোয়া হয়ে, বসে থেকে সিনেমা দেখেছি একের পর এক। সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে দেখতে। এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই স্বপ্নের যেটুকু সকালবেলা শুয়ে শুয়ে রিকল করেছি, সারাদিনে তার এক লাইনও ভুলিনাই! মনে হচ্ছে এখন লিখতে শুরু করলে একেবারে ডিটেইল কি কি ঘটেছে লিখে ফেলতে পারবো!

স্বপ্নটার প্রথম অংশটুকু কেমন ছাড়াছাড়া মনে আছে। আমি কোথায় কোথায় জানি রাস্তায় ঘুরলাম … একবার মনে হলো জায়গাটা উত্তরার দিকে কোথাও, নাকি মিরপুর … এর মধ্যে এইটুকুই মনে আছে যে আমি এইরকম ঘুরতে ঘুরতে একটা জায়গায় এসে পৌঁছালাম। সম্ভবত ওই জায়গাটাই খুঁজছিলাম। তো আমি যেখানে যাবো, সেই বিল্ডিং-এ উঠবার সিঁড়ি ভয়ঙ্কর রকমের খাঁড়া বা এরকম কিছু একটা সমস্যা … পাশের বিল্ডিং-এর ভেতর দিয়ে একটা শর্টকাট আছে … তো ওই বিল্ডিং-এ ঢুকে দেখি ওইটা সাইকায়াট্রিস্ট ফুটা ভাইয়ের অফিস, আর সেটার ভেতর দিয়ে, একটা দুইটা সিঁড়ি দিয়ে নেমে, আবার কই কই ঢুকে শেষমেশ যেখানে গেলাম, সেখানে গিয়েছিলাম অন্য কোনো কাজে, কিন্তু তারপর আবিষ্কার করলাম যে ওখানে যেই ঘরটায় আমি দাঁড়িয়ে আছি সেটাতে টুটুল থাকে! আমি আবার ওকে বলছিলাম যে ‘জোশ জায়গায় থাকিস তো তুই!’ … সেটা বলছিলাম সম্ভবত এই কারণে যে ওর ঘরটা অনেক উঁচু তলায় আর ওর বারান্দা দিয়ে প্রায় দিয়ে পুরো ঢাকা শহর দেখা যায়! আবার একতলা বিল্ডিং-এ ঢুকে কীভাবে এত উঁচুতলায় এসে থামলাম, কিছুই বুঝলাম না! … তো যাই হোক, স্বপ্নের পরবর্তী অংশটুকু বেশ ভালোই মনে আছে। ওই টুটুলের বাসা থেকেই কীভাবে কীভাবে ধানমন্ডির রাস্তায় পৌঁছে গেলাম। রিকশা দিয়ে কোথাও যাচ্ছি। অনেক জ্যামে বসে আছি। এর মধ্যেই শুনতে পাচ্ছি কোথাও একটা লোককে কেউ খুব মারছে, আর সে যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পর দেখতে পেলাম যে একটা বিশাল লম্বা লোক, প্রায় ৭ ফুট বা তার বেশি হবে, তাকে কেউ খুব চাবুক পেটা করছে। যেহেতু লোকটা অনেক লম্বা তাই অনেক দূর থেকেই তার রক্তাক্ত শরীরটা দেখা যাচ্ছিলো। এদিকে আমার মনে হলো যে সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা একটা কোনো স্কুলের প্রেমেসিস। এর মধ্যেই হঠাৎ করে খেয়াল করলাম যে নোবেল ভাই রাস্তার অপর সাইড থেকে রিকশায় আমার রিকশাকে ক্রস করছে, সাথে অর্চি, ক্লাস এইটের স্টুডেন্ট। তারই একটু আগে নোবেল ভাইকে আরেকজনের সাথে দেখেছি, নাকি অর্চিকে আর কারো সাথে দেখেছি কিছুতেই মনে করতে পারলাম না! সেটাও কিন্তু স্বপ্নের মধ্যেই! আবার এটাও হিসাব মেলাতে পারলাম না যে অর্চি কিভাবে নোবেল ভাইয়ের সাথে এক রিকশায় যায়! কেউ তো কাঊকে চেনারই কথা না! পরে দেখলাম যে অর্চি আসলে একা না, পেছনের রিকশায় অর্চির ক্লাসের তাহমিদ, সিদরাত আর সম্ভবত ইফাজও আছে। ওরা সবাই নাকি নোবেল ভাইয়ের বাসায় যাচ্ছে! আমিও নোবেল ভাইয়ের বাসায় হাজির হলাম। দেখি যে সব ক্লাস সেভেন আর এইটের স্টুডেন্টগুলা! এমনকি সেভেনের উজমা আবার ওর মা-কেও নিয়ে এসেছে! এদিকে নোবেল ভাইয়ের বাসায় সন্ধি নাই, ও নাকি ওর মা’র বাসায়! তাতেও অবাক হলাম! এত মানুষ নোবেল ভাইয়ের বাসায় আসছে, অথচ সন্ধি নাই! আবার এটাও ভাবছিলাম যে নোবেল ভাইয়ের বাসা তো শুনেছি সাত তলার ওপরে, অথচ এটা তো এক তলা বাসা! স্বপ্ন দেখছি আর স্বপ্নের মধ্যেই এটা-সেটা হিসাব মিলিয়ে যাবার চেষ্টা করছি … একটা পর্যায়ে গিয়ে ব্যাপারটা লেজিটিমেট করার চেষ্টা করলাম যে আসলে এটা বোধহয় আরিফিন স্যার হবার কথা, আমি কোনো কারণে আরিফিন স্যারের জায়গায় নোবেল ভাইয়ের চেহারা দেখছি! … এরকম হাবিজাবি কি কি ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে ঘুমও ভেঙ্গে গেলো! …

ঘুম ভেঙ্গে নিজেই নিজের এই রেফারেন্সহীন আজিব টাইপের স্বপ্ন দেখার কারণ ভাবার চেষ্টা করছিলাম। পরে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তে আসলাম যে গতকালকে সেই সকালে গোসল করেছিলাম, তারপর আর গোসল করা হয়নি … সেকারণেই হয়তো মাথা জ্যাম হয়ে যাচ্ছে! আমার আবার চুল ঠিকঠাকভাবে না ভেজালে এই একটা অদ্ভুত মাথা ব্যথা করতে থাকে, যেটার ফলাফল হয় এইসব অদ্ভুত স্বপ্ন! … ফলে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই আজকে প্রথম কাজ করলাম গোসল!

গোসল-টোসল করে, হাতমুখ ধুয়ে বের হয়ে এসে দেখি মা ঘুমিয়ে আছে। নিজেই নিজের নাস্তা এটা-সেটা মিলায় রেডি করে খেয়ে নিলাম। চা বানানোর উপায় পেলাম না। ঘুম কাটানোর জন্য ঠাণ্ডা কোকই ভরসা ভেবে নিলাম। এরপর শুরু হলো ম্যারাথন সিনেমা। কি সিনেমা দেখবো ভাবতে গিয়ে প্রথমেই মনে হয়েছে ‘দি শাইনিং’ এর কথা। না জানি কত বছর ধরে খালি চিন্তাই করে আসছি যে এটা একটা মাস্ট ওয়াচ সিনেমা, দেখতেই হবে, অথচ দেখা আর হয়নাই! … গত কয়েকদিন ধরেই মাথায় ঘুরছে যে স্ট্যানলি কুবরিক-এর যত সিনেমা আছে এখনো দেখি নাই, সব একটা একটা করে দেখয়ে শেষ করবো … তারই সূত্রে ‘দি শাইনিং’-এর কথা মাথায় ঘুরছিলো … তো, ‘দি শাইনিং’ দেখার পর মনে হইলো ‘মুলাঁ হুজ” দেখি! গতকালকে ফেসবুকে নাবিল-এর স্ট্যাটাসে দেখছিলাম যে ও ‘মুলাঁ হুজ’ আর ‘শিকাগো’ দেখেছে অনেকদিন পর, তো তখন থেকেই আমার মাথায় ঘুরছিলো যে আমি দুইটার একটাও এখনো দেখিই নাই! … ‘মুলাঁ হুজ’ শেষ হতে হতে প্রায় ৪টা বেজে গেলো … মার শরীর ভালো না বলেই হয়তো আজকে সারাদিনে আর আমার ঘরের দিকে আসেই নাই … সো, আমার খাওয়া-দাওয়া কি হলো না হলো তারও আসলে কোনো খোঁজ-খবর ছিলো না … ৪টার দিকে ভাত খেয়ে ভাবলাম যে একটু ঘুমিয়ে নিবো … সকালে চা খাই নাই, পরপর সিনেমা দেখেছি, ফলে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছিলো। কিন্তু ঘুম আসলো না সাথে সাথেই … আবার আরেকটা সিনেমা ছেড়ে দেখতে শুরু করলাম – ‘লো ভি দো কোহজেত’ … একটা ফ্রেঞ্চ অ্যানিমেশন সিনেমা। ওইটা শেষ হতে হতে বেশ ঘুম ঘুম ভাব চলে আসলো … ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বেশ একচোট ঘুমায় নিলাম। ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা খেয়ে আবার আলসেমি করতে শুরু করলাম … একবার মনে হলো যে একটু ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের পড়ালেখা নিয়ে ঘাটাঘাটি করি, নয়তো কিনু কাহারের থেটারের সাবটাইটেলের কাজটা একটু আগাই … কিসের কি! এমনেই বসে বসে আলসেমি করতে অনেকটা সময় পার করে দিলাম। তারপর আবার মাঝখানে গোসলও করলাম … অতঃপর আর কিছু করার কোনো তাগিদ না পেয়ে দিনযাপনের লেখা নিয়েই বসলাম …

আগামী আরও দুই-চারটা দিন এরকম আলসেমি করে কাটায় দিতে পারলে মনে হয় ভালো হইতো। হাতে কোনো এক্সট্রা টাকা-পয়সাই নাই! কালকে হয়তো কোনোমতে স্কুলে যেতে আর বাসায় ফিরতে পারবো, কিন্তু পরশুদিন থেকে কিভাবে কি করবো জানি না! নাকি কালকের চলাফেরার টাকাটাও নাই? … স্কুলে যেতে পারবো হয়তো, কিন্তু ফেরার টাকা আছে কি না দেখে নিতে হবে! … কি যে অবস্থা গত দুইমাস ধরে! মাসের শেষ মানেই হাত খালি! …

যাই হোক, আজকের মতো লেখা শেষ করি …      

দিনযাপন । ২৫০৫২০১৭

গতকালকে একটা চরম বাজে দিন কাটানোর পর আজকের দিনটাকে তুলনামূলকভাবে ভালোই বলা যায়। কালকেই ভেবেছিলাম যে শরীরের যেটুকু শক্তি আছে তাই দিয়েই কালকের গরম গরম দিনযাপন লিখে ঘুমাবো। কিন্তু যা ভেবেছি তা মোটেই করতে পারিনি। বাসায় ফিরেছি এমনই হাত-পা ফোলা আর ব্যথা নিয়ে যে কোনোভাবেই আর শুয়ে থাকা ছাড়া অন্যথা করার কোনো তাগিদ পেলাম না! অবশ্য শুয়ে থেকে যে ঘুমিয়েছি এমনও না! পা ফোলার কারণে কেমন চিনচিন করে ব্যথা করছিলো, আর সারা গা-হাত-পা চুল্কাচ্ছিলো … সারারাত খালি অস্বস্তিতে এপাশ-ওপাশ করেছি আর গা-হাত-পা চুলকিয়েছি! … ফলাফল আজকে সারাদিন মাথাব্যথা!

যাই হোক, কালকে মোটামুটি সারাদিনই যত রকমের বিরক্তিকর অনুভূতি নিয়ে পার করলাম। কালকে থেকে স্কুলের টাইমিং পাল্টেছে। যেহেতু পরীক্ষা শেষ এখন টিচারদের ৯টায় গেলেই হবে। এদিকে আমি যেই সিএনজি-তে যাই, সেই লোক আমার সাড়ে সাতটা/ আটটায় বের হবার জন্য অপেক্ষা করলে তার লস। ফলে সে ওই সাড়ে ৬টা সময় যখন সিএনজি বের করে, তখনই যেই ট্রিপ পায় সেটা নিয়ে নেয়। এখন তাকে তো আর আমি বলতে পারবো না যে আমি যেদিন দেরি করে বের হবো, আপনিও সেদিন দেরি করেই ট্রিপ শুরু করবেন! ফলে, আমার দেরি করে বের হবার দিনগুলোতে এই স্যাক্রিফাইসটুকু আমাকেই করতে হয়। যাই হোক, কালকে শাড়ি পরেছিলাম, স্কুলের ক্লাস পার্টি আছে দেখে। বিল্লাল ভাই-কে যেহেতু পাওয়া যাবে না, ভাবলাম যে উবার ডাকি, একটু আরাম করে যাই। কিসের কি! পিক আওয়ার দেখে ওইসময় ক্রমাগতই দেখাতে থাকলো ‘অল কারস ইন ইউজ’ … তো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর উবারের ভরসায় না থেকে বের হয়ে গেলাম। সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি পরিচিত সিএনজিওয়ালারা কেউ নাই। একটা সিএনজি পাইলাম, সে কতক্ষণ গাই-গুই করে তারপর রাজি হইলো। প্রচণ্ড গরমে শাড়ি পরে প্রায় আধাসেদ্ধ হয়ে স্কুলে পৌঁছালাম।

এদিকে ক্লাস পার্টি মানেই বাচ্চাকাচ্চাদের হাউ-কাউ … আমি অবশ্য খুব বেশি অ্যাটেন্ড করারই চেষ্টা করলাম না… একদিনই তো ! করুক একটু হাউকাউ! … একবার খালি ক্লাস টিচার হিসেবে যেটুকু চেহারা দেখায় আসা যায়, দেখায় এসে বসে থাকলাম টিচার্স রুমে। টিচার্স রুমের হাউকাউগুলোই বরং ভালো লাগছিলো না। কে কি শাড়ি পরে এসেছে, কাকে কেমন লাগছে এই নিয়ে আজাইরা তেলানি, মন্তব্য, হাহা-হিহি এইগুলা ভালো লাগে না শুনতে। আর স্কুলে তো শাড়ি পরা মানেই কিছু টিচারের একেবারে নিজেদের ওয়্যারড্রবের এক্সিবিশন শুরু হয়ে যায়! তো যাই হোক, এই সবকিছুর মধ্যে একটাই ভাল লাগার ব্যাপার ঘটলো। ক্লাস এইটের দুই-তিনজন স্টুডেন্ট এসে আমাদের তিন টিচারকে ডেকে নিয়ে গেলো, কি একটা সারপ্রাইজ আছে বলে। তো লাকি আপা, ফারাহাত আপা আর আমি গেলাম ওদের সাথে। অরিফিন স্যারকেও খুঁজছিল ওরা, কিন্তু স্যার কালকে যায়ই নাই স্কুলে। তো যাই হোক, আমরা ওদের সাথে হলরুমে গিয়ে দেখি ওরা আমাদের চারজনের নাম করে চার কেক নিয়ে এসেছে! আমরা যেহেতু ক্লাস নাইনে আর ওদের ক্লাস নিচ্ছি না, ফলে ওরা আমাদের জন্য এভাবে একটা ছোটোখাটো ট্রিবিউট দেবার প্ল্যান করেছে! কেক-টেক কেটে আমি আমার কেক বগলদাবা করে নিচে নেমে গেলাম। ভাবলাম যে আমার জন্য কেক, এইটা অর্ধেকটা টিচার্স রুমে দিয়ে বাকিটা আমি বাক্সে করে বাসায় নিয়ে যাবো। কিসের কি! ফারাহাত আপা এসে বলে উনি নাকি উনার আর লাকি আপার কেক বাচ্চাদের দিয়ে আসছে ওরা নিজেরা মিলে খাওয়ার জন্য, আর আমি যেহেতু আমারটা নিয়ে এসেছি তাইলে এইটাই টিচার্সরুমে সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খাবো! আমার নাম করে আনা কেক-এর একটা টুকরাও আমি নিজেই আর ভালোমতো খেতে পারলাম না! চুপচাপ ব্যাপারটা হজম করে গেলাম। কারণ নইলে আবার সবাই জ্ঞান দেয়া শুরু করতো যে এইসব বাচ্চামি করা ঠিক না, স্কুলে কাজ করতে হলে অনেক কিছু বাদ দিয়েই থাকতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি! …

ক্লাস পার্টি শেষ হলো ১১টার দিকে। ১২টার দিকেই কালকে টিচারদের ছুটি হয়ে গেলো। আমি এক উবার ডাকলাম। সেই ড্রাইভার টাইম দেখালো ২০ মিনিট লাগবে পৌঁছাতে, কারণ সে একটা ট্রিপ শেষ করে আসছে। ২০ মিনিট পর যখন ফোন দিয়ে খোঁজ নিলাম সে কই, বলে যে মিরপুর ১২ নাম্বারে গ্যাস নেয়! আমি ধান্মন্ডি থেকে মিরপুর যাবো, আর তাইলে উবারের ড্রাইভার কেন মিরপুরে থাকা অবস্থায় কল নিবে আমার মাথাতেই ঢুকলো না! সে বলতে থাকলো যে আমার লোকেশন নাকি মিরপুর দেখিয়েছে সেজন্য সে কল নিয়েছে! মেজাজটা এমন খারাপ হলো! ২০ মিনিট হুদাই নষ্ট হইলো আমার, তারমধ্যে উবারের ট্রিপ ক্যান্সেল করার কারণে ৫০টাকাও কাটলো! আরেকটা উবার কল করলাম, সেই ড্রাইভারও প্রায় মিনিট ১৫ বসিয়ে রেখে তারপর পৌঁছালো।

বাসায় ফিরে গোসল করে, খাওয়া দাওয়া করে উঠতে উঠতেই সাড়ে ৩টা বেজে গেলো। এদিকে আবারো বের হবো। স্কুলে গতকাল প্লেগ্রুপের বাচ্চাদের পারফরমেন্স ছিলো, সন্ধ্যা ৭টায়। তো এই গরমে স্কুল থেকে বের হয়ে কার বাসায় যাবো, ওইখানে আবার শাড়ি পরবো এইসব চিন্তা করে নিজের বাসাতেই চলে এসেছি। তাসলিমা আপা আগের দিনই প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিলেন যে আমি চাইলে উনার বাসাতেও যেতে পারি। আমি একবার ভেবেছিলামও যে শাড়ি- কাপড় নিয়ে উনার বাসায় চলে যাবো। কিন্তু পরে মনে হলো যে শাড়ি পরলে নিজের বাসাতেই পরতে আরাম! তো বের হবার সময় এক উবার ডাকলাম। সেইটাও আসলো প্রায় ২০মিনিট বসায় রেখে। ফলে যেখানে প্ল্যান ছিলো পৌনে পাঁচটার দিকে রওয়ানা দিয়ে দেবো, সেখানে বেরই হলাম সোয়া ৫টার কাছাকাছি সময়। ৬টার মধ্যে পৌঁছে যাবো ভেবেছিলাম, সেটা তো হলোই না, বরং জ্যামে বসে বসে আরও মাথাই ব্যথা হয়ে গেলো। স্কুলে যখন পৌছালাম, তখন অলরেডি ৭টা বাজে। তাও ভালো যে প্রোগ্রাম আর মিনিট ১০/১৫ দেরি করে শুরু হলো।

এদিকে বাসায় ফেরার সময় আরেক হুজ্জত! উবারে কল দিলাম পৌনে ৯টার দিকে। এক ড্রাইভার কল নিলো। দেখলাম যে টাইম দেখাচ্ছে ১৫ মিনিট। তো ১৫ মিনিট পরে যখন ফোন দিলাম তখন সেই ড্রাইভার বলে যে সে স্কয়ার হসপিটালের সামনে আছে, কলাবাগান না কোথায় একটা ট্রিপ নামাবে, তারপর তার গাড়ির ইঞ্জিনের কি সমস্যা হয়েছে সেটা ঠিক করবে, তারপর আসবে … এর মধ্যে স্কুলের প্রায় সবাই-ই চলে গেছে, খালি দারোয়ান ভাই আর খালারা কাজ সব গুছাচ্ছে আর লিভা মিস তার সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছে। তো আমি রেগেমেগে ট্রিপ ক্যান্সেল করে দিয়ে আরেকবার উবারে কল দিলাম। এইবার আরেক ড্রাউভার কল নিলো, তার সাথে তখনই কথা বললাম, সে বললো যে বসুন্ধরা সিটির সামনে আসছে, ৮ নাম্বারে একটা ট্রিপ নামাবে। তো সেই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে করতে প্রায় ১০টা বেজে গলো। এদিকে স্কুলে আমি একা দেখে খালারাও কেউ বের হয় না, দারোয়ান ভাই-ও যায় না! … আমি খালাদেরকে বারবার রিকোয়েস্ট করছিলাম যে উনারা যেন চলে যায়, কারণ এম্নিতেই জ্যামের রাস্তা, তার মধ্যে রাত সাড়ে ৯টা পার হয়ে গেছে, উনারা যাবে সেই রায়েরবাজার! … কিন্তু উনারা কেউ আমি না যাওয়া পর্যন্ত যাবে না। তো অবশেষে ১০টার দিকে সেই ড্রাইভার অবশেষে জানালো উনি মডার্ন হসপিটালের সামনে আছে। আমি তাকে ওখানেই থাকতে বলে হাঁটা দিলাম। স্কুলের সামনে আসবে, তারপর আবার ঘুরায় মিরপুর রোডে উঠবে, দরকার কি? …

কালকে রাস্তার এই জ্যামের দশা দেখে গত বছরের এই সময়টার কথা খুব মনে পড়তেসিলো। ইউনিভার্সিটি থেকে ক্লাস শেষ করে লিটেরেলি দুইদিন অর্ধেক পথ হেঁটে হেঁটে, অর্ধেক পথ রিকশা দিয়ে বাসায় ফিরেছিলাম। কালকেও মনে হইলো ওইরকমই সাফারিং-এর মধ্য দিয়েই গেলাম। শুধুমাত্র জ্যামের কারণে যদি মানুষের এতগুলা সময় নষ্ট হয়ে যায়, তাইলে কিভাবে কি হবে? … কালকে বসে বসে ভাবছিলাম যে, এই যে আমি গতকাল সারাদিন খালি একটা গাড়ি আসার জন্যই ২০ মিনিট/ আধাঘণ্টা/ এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলাম, অথচ রাস্তায় বের হয়ে একটা সিএনজি নেয়ার কথা চিন্তা করলাম না, সেটা কেন? সারাদিনে উবারে যাওয়া আসার পেছনে কালকে আমার যে ১৫০০ টাকা খরচ হলো, এবং মাসের শেষে এসে এখন যে ১৫০ টাকা খরচ হলেও গায়ে লাগে, তাও এতগুলা টাকা খরচ করলাম, সেটাই বা কেন? … মনে মনে উত্তর গুছাবার চেষ্টা করলাম এভাবে যে, একটা কারণ অবশ্যই গত বছরের রোজার আগের এই সময়টায় বাসায় ফেরার যেই সাফারিং, সেইটার ট্রমা। আর দ্বিতীয়ত, এখন আসলে অনেক বেশিই আরামপ্রিয় হয়ে গেছি, যেটা শরীরে পোষায় না, মনে তাগিদ পাইনা সেইটা করিই  না! … কালকে স্কুল থেকে ওই সন্ধ্যার পরে বের হয়ে মডার্নের সামনে গিয়ে যদ সিএনজি খুঁজতাম, মোটামুটি ১৫/২০ মিনিট দাঁড়ায় একটা সিএনজি হয়তো পেতাম, কিন্তু তারপর যে জ্যামে বসে গরমে সেদ্ধ হতাম, তারপর সেটার প্রভাবে মেজাজ প্রচণ্ড তিরিক্ষি হয়ে থাকতো, সেটার চাইতে এক ঘণ্টা বসে থাকার পরে উবারের গাড়িতে করে যে ডাবল ভাড়া দিয়ে, এসির বাতাস খেতে খেতে আসলাম, তাতে একটু হলেও এতদূরের পথের জার্নির সাফারিং-টা তো কমলো!

তারপরেও তো কালকে যেই শরীরের অবস্থা নিয়ে বাসায় ফিরছি, সিএনজিতে করে যাওয়া-আসা করতে গেলে মনে হয় আজকে আর স্কুলেও যেতে পারতাম না! সকালে তো আজকে একবার মনেও হচ্ছিলো যে আদৌ যদি আজকে স্কুলে না যাই তাহলে কি হবে? যেহেতু ৯টা টাইমিং, বের হলাম একটু দেরি করে, ৮টার দিকে। যদি ইউজুয়াল টাইমে বের হতে হতো, তাহলে হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়েই নিতাম যে স্কুলে যাবো না! আর গেলেও এরকম দেরি করেই যাবো! …

আজকে যেমন কিনু কাহারের থেটার-এর শো ছিলো শিল্পকলায়। কিন্তু গতকালকের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করে আজকে আর যাওয়ার সাহসই করলাম না। স্কুলের পরে না হয় তাসলিমা আপার বাসায় গিয়ে গোসল করে, খেয়েদেয়ে ধীরে-সুস্থে বিকালে ওইদিকে যেতে পারতাম, কিন্তু ফেরার পথে কি হবে, আদৌ উবার পাবো কি না এইসব চিন্তা করলাম, তারমধ্যে ভাবলাম যে গতকালকে রাতে তো একদমই ঘুম হয় নাই, আর সারাদিন মাথাব্যথা নিয়ে এভাবে না ঘুরে বরং বাসায় যদি বিকাল-সন্ধ্যা সময়টা একটু ঘুমাই তাহলেও বোধহয় ভালো লাগবে। তো সেটাই করলাম আর কি!

আজকে আর লিখবো না। এখন আবার একটু গোসল করে ঠাণ্ডা হবো। দুপুরের গোসলের ইফেক্ট চলে গেছে অনেকক্ষণ আগেই। আবার গা চুলকাচ্ছে এখন। আর কেমন জানি একটা জ্বর জ্বর ভাব। গরমের কারণে দুই/তিনদিন ধরে ক্রমাগত ঠাণ্ডা পানি, কোক, আইসক্রিম খাচ্ছি … আর সেই সাথে ঘামছিও। সব মিলায়ই মনে হয় জ্বর আসি আসি করছে! …

বাই দ্য ওয়ে, গতকালকে একটা বিশেষ ডেটলাইন ছিল। একটা হাইপোথেটিক্যাল ডেটলাইন, তবুও, ডেটলাইন তো! কিছু একটা তো হতে পারতো এই তারিখে, বা তার আগে পরের কোনো এক সময়! নিজের হাতেই তো সেই সম্ভাবনা শেষ করেছি! … গতকালকে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, ইডিডি ২৪ মে, ২০১৫ লিখে … আনিতা আবার ইডিডি’র অর্থসহ এক মন্তব্য করে বসেছে! পারসোনালি ইনবক্সে লিখলে হয়তো আমি একরকম উত্তর দিতাম। কিন্তু কমেন্ট বক্সে লেখায় আমিও আবার ‘এইটা একটা কোড’ লিখে ব্যাপারটা কাটিয়ে দিয়েছি। যে যা খুশি বুঝে নিক! …

যাই হোক, শেষ করি তাইলে আজকের মতো!             

দিনযাপন । ২১০৫২০১৭

আজকে একটু দেরি হয়ে গেলো, তাও দিনযাপন লিখতে বসলাম। এত গরম দুইদিন যাবত! গতকালকে তো মনে হয় এই গ্রীষ্মের হায়েস্ট টেম্পেরেচার ছিলো … আজকেও যে তাপমাত্রা খুব কম তা না … মনে হচ্ছে একটু পরে বাথরুমে গিয়ে গায়ে পানি দিয়ে আসা লাগবে। আজকে বিকালে ঘুমাইনাই, তাই ঘুম ঘুমও লাগছে … ঘুম কাটানোর জন্য ঠাণ্ডা আইসক্রিম খাবো কি না ভাবছি … অবশ্য ঠাণ্ডা কিছু খেলে সাথে সাথেই মনে হয় যেন গরম বেশি লাগতেসে …

ঘরের মধ্যে একটা মাকড়সা দুই/তিন ধরে ঘুরঘুর করতেসে। কিভাবে ঢুকেছে কে জানে! মাকড়সাতে এমনিতে আমার সমস্যা নাই, কিন্তু তারপরও, রুমমেট হিসেবে মাকড়সা আসলে খুব আকাঙ্ক্ষিত না আমার কাছেও। আরেকদিন এক বিশাল সাইজের লাল রঙের সেন্টিপেড ঘরের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলো। সম্ভবত বাথরুমের পাইপলাইন দিয়ে ঢুকেছে! কার্পেটের ভেতরে ঢুকে যাবার জাস্ট আগের মুহুর্তে খেয়াল করে ওইটাকে জুতা দিয়ে চাপা দিয়ে আটকে ফেলেছিলাম। নইলে এই জিনিস যদি বেয়ে বেয়ে বিছানায় উঠে যেতো কি ভয়ঙ্কর অবস্থা হইতো!

আজকে স্কুলেও কোথা থেকে এক মেটে সাপের বাচ্চা বাথরুমে ঢুকে গেছে। প্রথমে ওটাকে কেঁচো ভেবে সবাই উসখুস করছিলো, কিন্তু মেরে ফেলার সাহস করতে পারছিলো না কেউ। এদিকে ওইটার রঙ দেখে আবার কেউ শিওর-ও হতে পারছিলো না যে ওইটা আদৌ কেঁচো কি না … কারণ কেঁচো তো ছাই রঙের হয় না! … আর যেভাবে কিলবিল করছিলো, সেটাও কেঁচোর মুভমেন্টের সাথে বেমানান। এদিকে আমি একটু সাহস করে ওইটাকে মারতে গেলাম। জুতা দিয়ে বাড়ি মেরে মারবো ভেবেছিলাম, কিন্তু দেখলাম যে এর চেয়ে চাপা দিয়ে মারাটাই সহজ। আমি জুতাটা ওই সাপের বাচ্চার ওপর রেখে চাপ দিবো কি দিবো না সেঁতা নিয়ে ইতস্তত করছিলাম। জিশা পাশ থেকে ‘মিস, দেন! চাপ দেন! … এই তো! আরেকটু জোরে … ‘ বলতে থাকায় আমারও একটু উৎসাহ আসলো। সাপ মারাটা আসলে বেশ অ্যাডভেঞ্চারাস ব্যাপার টাইপের একটা অ্যাটিচুড নিয়ে ওইটাকে মারতে থাকলাম। এইদিকে দেখি যে এইটার রক্ত বের হচ্ছে। শিওর হওয়া গেলো যে এইটা আড় যাই হোক, কেঁচো না! ফৌজিয়া আপা এসে দেখে বললেন যে এইটা মেটে সাপের বাচ্চা … মরা সাপকে ভালমতো অব্জার্ভ করে দেখা গেলো যে এইটার একটা মাথা আর পয়েন্টেড লেজও আছে! …

18527616_1071533732982462_8673022964557895536_n

সাপ মারার মতো সাহসী অভিযানের পরে বিকালে এক মহা অ্যাম্বেরেসিং ঘটনা ঘটে গেলো! স্কুলের ক্লাস পার্টিতে টেক আউটের বার্গার নেয়া হবে, সেটার অর্ডার দিতে গিয়েছিলাম আমি আর কাশফিয়া আপু, সাথে আবার কিভাবে কিভাবে জেবু আপাও জুটে গেলো। এদিকে বার্গারের দোকানে অর্ডার নিয়ে কথা বলে, নিজেরা বার্গার খেয়ে নামার সময় আমার উৎসাহেই দুইতলায় ডোনাটের দোকান গ্লেজড-এ ঢোকা হলো … আমরা ডোনাট খেয়ে উঠবো উঠবো করছি এমন সময় হঠাৎ খেয়াল করলাম কোথা থেকে এক প্রজাপতি উড়ে উড়ে আমাদের দিকেই আসতেসে … কাশফিয়া আপুই প্রথম খেয়াল করলো জিনিসটা … উড়ন্ত জিনিস দেখে প্রথমে বোধহয় ভাবসিলো তেলাপোকা। কারণ এম্নিতেই ওইখানে অনেক মশা ছিলো, আর কাশফিয়া আপুরা বসে বসে ব্যাট দিয়ে মশাও মারতেসিলো। তো ‘ওমা! এইটা কি?’ বলেই সাথে সাথে বললো … আরেহ প্রজাপতি! … আমার কি আর তখন  জানে পানি থাকে? এইরকম গরমকালে এভাবে দোকানের ভেতর কথা না বার্তা নাই প্রজাপতির সাথে এনকাউন্টার! আমি এখন কি করবো, কই যাবো চিন্তা করে দুই হাত দিয়ে মাথা-টাথা ঢেকে চিৎকার দিতে থাকলাম। ওইটা বোধহয় ওই জায়গায় একটু উড়াউড়ি করে আবার দোকানের ভেতরের ডিকে চলে গেলো। আমি মোটামুটি ব্যাগ-ট্যাগ সব রেখেই দৌড়ে বের হয়ে আসলাম … দোকানের লোকজনের মাথার উপর দিয়ে গেলো পূরা ব্যাপারটাই … কাশফিয়া আপুরা শুনলাম বের হতে হতে দোকানের লোকজনকে ব্যাখ্যা করতেসে যে ‘ ও আসলে এইটা ভয় পায় … ফোবিয়া আর কি! … এইটা একটা অসুখ … ও প্রজাপতি দেখলে এরকমই করে … ইত্যাদি ইত্যাদি … ‘ … ওই দোকানের লোকজন কি বুঝছে কে জানে! তবে আমি যে আর অদূর ভবিষ্যতে ওই দোকানে যাবো না, এই ব্যাপারে আমি শিওর!

এইবার জেবু আপা সম্পর্কে একটু বলি … আসার পথে যথারীতি জেবু আপা ফ্রি রাইড নিয়ে আমার সাথে ২ নাম্বার পর্যন্ত এসে তারপর রিকশায় করে ১০ মিনিটের দূরত্বে বাসায় চলে গেলো … আমি একবার ভাবতেসিলাম যে একটা কিছু বলে উনাকে কাটায় দিবো … বলবো যে এখন তো বাসায় যাবো না, আরেক জায়গায় যাবো … এইসব বলে টলে রিকশা নিয়ে কিছুদূর গিয়ে কিংবা উনি বাসের জন্য চলে গেলে পরে ওইখান থেকেই সিএনজি করে চলে আসবো … কিন্তু সেটা আর করলাম না … স্কুলে এম্নিতেই উনার কাজকর্ম আমার খুব একটা পছন্দ না, তারমধ্যে উনার সাথে আমার কিছু ক্যাচালও হয়েছে … সবকিছুই হয়তো আমি স্বাভাবিকভাবে মাথা থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারি, কিন্তু মাঝখানে উনি এমন একটা কাজ করেছে আমার সাথে যে উনার ব্যাপারে যাবতীয় পজিটিভ ইম্প্রেশন আমার উঠে গেছে! জেবু আপাকে যারা আগে থেকে চেনে তাঁরা খুব জাস্টিফাই করার চেষ্টা করে যে উনি বেসিক্যালি বোকা-সোকা মহিলা, তাই যা খুশি তাই করে ফেলে বা বলে ফেলে … কিন্তু আমি এই যুক্তিতে খুশি থাকার মানুষ না … আমি নিজেও মানি যে উনার চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, শিক্ষাদীক্ষা সবকিছুতেই প্রচণ্ড রকমের টিপিক্যালিটি আছে, এবং ঠিক সেই টাইপের টিপিক্যালিটি যেইটা নাকি আমি একদমই সবসময় অ্যাভয়েড করে আসছি। তো এই গত মার্চ মাসেই, স্কুলের জুনিয়র ক্লাসের ইনচার্জ ফৌজিয়া হক আপার জন্মদিন পালন করা হবে, তো জেবু আপা ওইটার আরেঞ্জমেন্ট করতেসে। ফুল আনানোর কাউকে পায় না, শেষে আমি এক শর্তে রাজি হলাম যে উনার বাসা থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে যে একটা ফুলের দোকান আছে, সেখান থেকে আমি ফুলের অর্ডার দেবো, কিন্তু আসার সময় তাইলে উনাকেও সাথে আসতে হবে। কারণ একজন একা সিএনজি-তে ফুলের তোড়া নিয়ে আসাটা খুব সহজ না … তো উনি রাজি হইলো, প্ল্যান হইলো যে আমি বের হবার সময় উনাকে ফোন দিবো, উনি ওইখানে ফুলের দোকানে চলে আসবে, আমি তারপর উনাকে ‘ফ্রি রাইড’ দিয়ে নিয়ে আসবো … তো যেদিন ফুল আনবো, ওইদিন সকাল থেকে উনাকে ফোন দিয়েই গেলাম, উনি ফোন তো ধরলোই না, পরে আর কলব্যাকও করলো না! … তো আমার আবার এইসব ‘কথা দিয়ে কথা না রাখা’ বিষয়গুলো একদমই নেয়ার ক্ষমতা নাই! … আমার চিন্তাধারা খুব সিম্পল। আমি যদি একবার মুখ দিয়ে বের করি যে ‘ওকে, আমি এইটা করবো’, আমার যত কষ্টই হোক, আমি সেটা করবো। আর একান্তই না পারলে সেটাও নিজেই গরজ করে জানায় দিবো … সেক্ষেত্রে এভাবে ফোন না ধরা, বা ফোন ব্যাক না করাটা তো পুরাই ইগ্নোর করে যাওয়ার শামিল! … উনার ওপর এম্নিতেই তো জিদ উঠতেসিলো, তারমধ্যে উনি স্কুলে যাওয়ার পর উনার ফোন না ধরা বা আমাকে কল ব্যাক না করার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র স্যরি তো বললেনই না, বরং যখন দেখলেন যে আমি ক্ষেপে আছি তখন আমার সাথে আজাইরা ফাইজলামি করতে শুরু করলেন। এম্নিতেই মেজাজ গরম, তারমধ্যে ওইসব আচরণ দেখে আরও মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো… উনি এক পর্যায়ে খুব ফাজলামি মুডে, ‘আহারে! বাচ্চাটা রাগ কর্ষে! আসো আদর করে দেই’ বলে আমাকে হাগ দিতে গেলো, আর আমি ‘সরেন! যত্তসব!’ বলে চিৎকার দিয়ে উনাকে ঝটকা মেরে সরায় দিলাম। চিৎকারের ইন্টেন্সিটিটা ‘সরেন … আরে! সরেন তো! … সরেন! ‘… এভাবে ক্রমেই বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে এত জোরে দিলাম যে পাশের টিচার্স রুম, মাদলেন আপার রুম, পাশের ক্লাস রুম পর্যন্তও মনে হয় শোনা গেলো … তাতে নাকি জেবূ আপা খুব অফেন্ডেড হইসিলো! কাশফিয়া আপু আবার আমাকে কি কি সব বুঝাইলো যে ওয়ার্ক প্লেসে অনেক কিছু মাথায় রেখে চলতে হয়, এই সেই!…

আমি হয়তো জেবু আপার ওপর এত বিরক্ত হইতাম না, যদি না উনার পাস্ট হিস্ট্রি ক্লিয়ার থাকতো! উনি স্কুলে খাওয়াবে, সেই খাবারের ডেকচি নিয়ে যেতে হবে দেখে উনি আমার সাথে ‘ফ্রি রাইড’ নিলো ওই ঘটনার কয়েকদিন আগে…বাসা থেকে বের হবার টাইমে উনাকে ফোন দিবো বলার পরেও ভোর থেকে মোটামুটি ৩/৪ বার ফোন করে কনফার্ম হইসে আমি আদৌ উনাকে ফেলে চলে যাই কি না! … শিল্পকলায় নাটক দেখতে যাবে, তাতেও যাওয়াআসার পথে আমার ওপর দিয়েই গেলো! নিজের স্বার্থ যখন থাকে, তখন ঠিকই সেখানে ষোলো আনা ! এইসব স্বার্থপরতাই আমি নিতে পারি না! একেবারেই জিরো টলারেন্স!

তো, ওই ঘটনার পরে জেবু আপার নিজেরই লজ্জা হবার কথা আমার কাছে লিফট নেয়ার কথা ভাবতে! সেই লজ্জা অবশ্য উনার একদমই নাই! ওই ঘটনার এক সপ্তাহের মাথাতেই উনি বাসায় যাওয়ার পথে আমার সাথে যেতে চাইসে! কি অদ্ভুত মেন্টালিটি মানুষের! আমি হইলে তো জীবনেও পারতাম না! … তো যাই হোক, উনার এইসব কাহিনী-কীর্তি আর আচার-আচরণের কারণে উনাকে আমার আর ভাল্লাগে না এখন। যতই উনি বোকা-সোকা হোক, আর ‘টু টিপিক্যাল টু ইগ্নোর’ হোক … জিরো টলারেন্স মানে জিরো টলারেন্স! … এইবার পরীক্ষার আগেও ফাইনাল প্রিন্ট বের করা নিয়ে উনার সাথে আমার গ্যাঞ্জাম হইসে উনার আচরণের সূত্র ধরেই … তারপরেও উনি আবার খুব হাসি হাসি, অ্যাজ ইফ কিছুই হয় নাই! কি জানি! আসলেই কি উনি এতই বোকা যে যখন যা মাথায় আসে তাই বলে ফেলে, নাকি ইচ্ছা করে এতটা বোকা থাকার ভান করে বুঝি না আমি! … এগুলা আমার মাথার উপর দিয়েই যায়! … মানুষ যত রিয়েল হয়, তত আমার জন্য বোঝা সহজ! … মানুষের এইসব জটিল মানসিকতা বুঝি না আমি! …

আজকে একটা গিফট পেয়েছি, একটা ড্রিমক্যাচার। আমার এক স্টুডেন্ট, গুনগুন, ও নেপাল গিয়েছিলো একটা টেনিস টুর্নামেন্টে পারটিসিপেট করতে, তো আসার সময় আমার জন্য সে একটা ড্রিমক্যাচার নিয়ে এসেছে। এত কিছু থাকতে যে ও আমার জন্য একটা ড্রিমক্যাচার এনেছে, মজাটা এখানেই। আমার ড্রিমক্যাচার প্রীতির ব্যাপারে আমার স্টুডেন্টরা অনেকেই বেশ ভালোই অবগত। একবার এই গুনগুনরাই ক্লাসে একটা প্রজেক্ট-এর কাজ করেছিলো, ওইখানে একটা ড্রিমক্যাচার বানিয়ে লাগিয়েছিল ওরা। আমি মাঝেমাঝেই বলতাম যে কোনদিন দেখবা ড্রিমক্যাচারটা নাই! তারপর খুঁজতে খুঁজতে আমার বাসায় গিয়ে পাবা! … তো গুনগুনের হয়তো ওইটাই মাথায় ছিলো যে আমার ড্রিমক্যাচার অনেক পছন্দ, আর সেকারণে নেপালে গিয়ে ড্রিমক্যাচার দেখে মনে হইসে যে মিসের জন্য এইটা নিয়ে যাওয়া যেতে পারে! … এইরকম একটা গিফট পেয়ে আমি যারপরনাই খুশি! … সাধারণত আমি স্টুডেন্টদের কাছ থেকে গিফট না নেয়ারই চেষ্টা করি, কিন্তু কিছু কিছু সময় স্টুডেন্টরা যখন এরকম কিছু নিয়ে আসে সেটা নেয়াই যায়! …

আচ্ছা, আজকে এই পর্যন্তই … এখন একটু গায়ে পানি দিয়ে ঠাণ্ডা হবো … তারপর শুয়ে পড়বো … কালকে তো সকালে উঠেই স্কুল …   

দিনযাপন । ১৯০৫২০১৭

পরীক্ষার খাতা হাতে আসার সাথে সাথে কেমন জানি একটা বাচ্চাসুলভ উত্তেজনা কাজ করতে থাকে। মনে হয় যে কতক্ষণে খাতা দেখে শেষ করবো, আর তারপর হিসাব করে বের করবো কে কত পেলো, কে পাশ করলো, কে ফেইল করলো, আবার যে ফেইল করলো তাকে এক-দুই নাম্বার কোথাও বাড়ায় দিয়ে পাশ করিয়ে দেয়া যায় কি না … কিন্তু খাতা নিয়ে যখন বসি, তখন আবার মনে হতে থাকে যে ধুর! এত খাতা! ভাল্লাগেনা খাতা দেখা! … তখন ৫/৬ টা খাতা দেখার পরেই আবার সব গুছিয়ে রেখে অন্য কাজ করতে থাকি …

অন্যদিন বিকালে ঘুমালে সন্ধ্যা পার হয়ে রাত প্রায় ৮টা বেজে যায় তারপর উঠি … আর আজকে ৪টা কি সাড়ে ৪টার দিকে মনে হয় ঘুমালাম, ঘুম ভেঙ্গে গেলো ৬টার দিকেই … সারা সন্ধ্যা কি করবো ভাবতে ভাবতে খাতা নিয়ে বসলাম, তারপর আবার কিছুক্ষণ আগামী টার্মের সিলেবাস রেডি করা যায় কি না সেটা নিয়ে গবেষণা করলাম … শেষমেশ কিছুই করতে ভালো লাগছে না দেখে দিনযাপন লিখতে বসেছি …

কয়েকদিন ধরে এত গরম! গোসল করে বাথরুম থেকে বের হবার আগেই মনে হয় যে আবার ঘেমে আঠা-আঠা হয়ে গেছে শরীর! ফ্যানের বাতাস গায়ে লাগে না মোটেই! … স্কুল থেকে দুপুরবেলা যখন ফিরি, সিএনজির মধ্যে মনে হয় যেন সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছি … আরাম পাওয়ার জন্য দুপুরবেলায় উবার সার্ভিস নেয়া যেতে পারে, কিন্তু তাতে করে যে এক্সট্রা টাকাটা খরচ হবে সেটাকে মনে হয় বিলাসিতা! রাতের বেলা কাঁটাবন থেকে উবার-এর গাড়ি দিয়ে ফিরি,সেটার তো তাও একটা যুক্তি আছে যে রাতের বেলা সিএনজি’র চেয়ে উবার-এর গাড়িতে একা আসা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ! কিন্তু দুপুরবেলা শুধুমাত্র গরম থেকে আরাম পাওয়ার জন্য এসি’রলোভে উবারে চড়াটা একটু বেশি বেশিই হয়ে যায়! …

যাই হোক, গরমে অসহ্য দিন তো কাটছেই … এর মধ্যে এখন আবার কি এক চিকুনগুনিয়া রোগ হচ্ছে সবার … তাতে নাকি খুব জ্বর আসে, আর শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যথা করে। স্কুলে টিচারদের কয়েকজনের হয়েছে, স্টুডেন্টরাও অনেকেই এতে এফেক্টেড, বুয়াদেরও কার কার নাকি হয়েছে বা হবে হবে করছে … আমি খালি মনে মনে আশা করে যাচ্ছি যে আমার যাতে এই ছাতা-মাথা’র অসুখ না হয় … এম্নিতেই শরীরের হাড্ডি-গুড্ডি ব্যথা করে, রিউমেটিক ফিভারের ধাঁচ আছে, আর সাথে যদি এই চিকুনগুনিয়া হয়, তাইলে সব কাজ-কর্ম গুটায় বাসায় বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এই চিকুনগুনিয়ার ব্যথা নাকি প্রায় ছয় মাস, এমনকি এক বছর পর্যন্তও থাকে!

17353213_1027317814070721_1979846623714086168_n

ভাবছি, আবারো একটা ঘর গোছানো প্রজেক্ট হাতে নিতে হবে। এক্টা-দুইটা জিনিস আবার এদিক-সেদিক করবো, শেলফটা গোছাবো … এবারের ঈদে একটা কেবিনেট বানাবো প্ল্যান করেছিলাম, শাড়ি রাখার জন্য … তবে, একটু মাল্টিপারপাস ডিজাইন হবে আর কি … একই সাথে আয়না থাকবে, আবার আয়রন করার মতো একটা অপশন-ও থাকবে … এইসব এইসব ভেবে মনে মনে একটা ডিজাইন করে রেখেছিলাম … কাঠ দিয়ে বানালে হয়তো খরচ বেশি পড়বে, সেক্ষেত্রে আপাতত ভাবছি বোর্ড দিয়েই বানিয়ে ফেলবো … আমার যে কত শাড়ি হয়েছে, হিসাবও নাই … এমনকি অনেকদিন পর পর শাড়ি পড়তে গিয়ে নিজেই নতুন করে আবিষ্কার করি যে ‘আমার এই শাড়ি আবার কবে কিনলাম’! এই তো আজকেই একটু আগে অনলাইন একটা গ্রুপে একটা শাড়ি দেখে দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে অর্ডার দিয়ে দিয়েছি! আরেকটা শাড়িও পছন্দ হয়েছে, ভাবছি ওইটাও দিয়ে দিবো … শাড়ি খালি বেড়েই যাচ্ছে, অথচ পরা হচ্ছে না … স্কুলে রেগুলার শাড়ি পরতে ইচ্ছা করে না … একে তো সারাদিন দৌড়াদৌড়ি, তাছাড়াথেকে স্কুলে যাওয়া-আসাতেই আমি অর্ধেক টায়ার্ড হয়ে যাই, শাড়ি পরে গেলে শাড়ি আর শাড়ির জায়গায় থাকে না! আর এরকম গরম হইলে তো কথাই নাই! … হইতো যে গাড়ি দিয়ে যাই আসি, এসির বাতাসে ঠাণ্ডা হয়ে থাকতে পারি, স্কুলেও এসি আছে, তাইলে শাড়ি পরে থাকাটা গায়েই লাগতো না! …

এদিকে, ইদানীং আরেক যন্ত্রণা শুরু হয়েছে … চূল বড় করার ইরাদা নিয়েছি, তাই এই গরমে চুল কাটছি না … আর এখন চুল প্রায় ঘাড় ছাড়িয়ে পিঠের কাছাকাছি নেমে এসেছে … এম্নিতেই চুল শুকায় না, আবার চুল খোলাও রাখতে পারি না … চুল খুলে রাখলেই পিঠ ঘেমে গিয়ে চুলকাতে শুরু করে, আবার চুল বেঁধে রাখলে কিছুক্ষণ পরে মাথা ব্যথা শুরু হয় … আজিব সব যন্ত্রণার মধ্যে আছি! … অন্যসময় হোলে হয়তো রেগে-মেগে এদ্দিনে নিজেই নিজের চুল কেটে ছোটো করে ফেলতাম … কিন্তু এবার পাক্কা প্রমিজ করেছি মনে মনে যে চুল বড় করবো, তো করবোই! … একটা হেয়ার ড্রায়ার কেনা যেতে পারে সেক্ষেত্রে! … দুর্দিনে অন্তত চুল শুকানোর জন্য কাজে দেবে … আড় ভাবছি যে টেবিল ফ্যানটাও প্যাকেট থেকে নামিয়ে আবার কানেকশন দেবো … চুল শুকানোর জন্য ওটাও বেশ ভালো সার্ভিস দেয় …

তবে, জুনের ১১/১২ তারিখের আগে এইসব করার সময় পাবো বলে মনে হয় না… এম্নিতেই ১০ তারিখে স্কুলে রিপোর্ট কার্ড ডে, তার মধ্যে আবার ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও পরীক্ষা জুনের ৯ তারিখেই পড়েছে! … এর মধ্যেই আবার কিনু কাহারের থেটার-এর ইংলিশ সাবটাইটেল-এর একটা কাজও শেষ করতে হবে … ফলে মোটামুটি জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত সেই ব্যস্ত থাকবো … তারপরে স্কুল ছুটি হয়ে যাবে … ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও ব্রেক আছে … তখন এইসব ঘর গোছানো, ফ্যান সেট করা, হেয়ার ড্রায়ার কেনা টাইপ কাজকর্ম করে ফেলতে হবে …

এবার তো আবার ঈদের সময়ও লম্বা টাইমের জন্য থাকবো না … টিয়ামরা কক্সবাজারে ঈদ করার প্ল্যান করেছে, হোটেল-টোটেলও বুকিং দিয়ে দিয়েছে … তো মোটামুটি ২৪ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত মনে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার এইসব জায়গাতেই থাকবো … তারপর ঢাকায় ফিরে পরের দুই সপ্তাহের জন্য খালি স্কুলের নতুন সেশনের কাজ করবো …

যাই হোক, আজকে আর লেখার মতো কিছু নাই … আপাতত অফ যাই …