দিনযাপন । ১৬০২২০১৮

গতকালকে মা বোধহয় সন্ধ্যায় ৮টার দিকে এক মগ চা রেখে গিয়েছিলো টেবিলে … সেই চায়ে এক চুমুক দিয়ে রেখে দিলাম যে মিনিট পাঁচেক পরে খাবো … অনেক গরম … সাড়ে ৯টা বাজে হঠাৎ খেয়াল হলো … ততক্ষণে চা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে … ইদানীং এটা খুব হয় … চা নিয়ে বসি … সেই চা জুড়িয়ে যায় … আমার খেয়াল থাকে না … স্কুলেও তাই করি … চা নিয়ে বসি, খাতা দেখতে দেখতে, কিংবা কোনো একটা কাজ করতে করতে আর মনেই থাকে না চায়ের কথা … অগত্যা ঠাণ্ডা চা-ই এক চুমুকে শেষ করি … কি বাজে একটা অভ্যাস বানিয়েছি!

অথচ একটা সময় ছিলো গরম চা ছাড়া খেতেই পারতাম না …

ধুর! … এটা নিয়ে ভাবতে গিয়েই কেমন মন খারাপ হয়ে গেলো! …

সবকিছুতেই ইদানীং মন খারাপ হয়ে যায় খুব … সকালে উঠতে দেরি হয়ে গেলে … সিএনজিওয়ালা না আসলে … কোন কাপড়টা পরবো সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে … চোখে কাজল দিতে গিয়ে দুই চোখের কাজল সমান না হলে … স্কুলে যেতে দেরি হয়ে গেলে … এটা হলে … সেটা হলে … ছোটোখাটো সবকিছুতেই খুব মন খারাপ করে ফেলি …

মাঝে মাঝে ভাবি, কি করলে এই মনটার ভালো লাগবে? … ভেবে পাই না …

মাঝে মাঝে মনে হয় কোথাও দলবেঁধে খাওয়া-দাওয়া করতে গেলে বোধহয় মন ভালো হবে … কিন্তু সময়-সুযোগ-সাধ্য কি আর সবসময় সবার মিলে? তাই যাওয়া হয় না কারো সাথে …

কখনো মনে হয় সব কাজ বাদ দিয়ে একদিন খালি আড্ডাবাজি করলে হয়তো মন ভালো হবে … সেটাও কি আদৌ সম্ভব? … প্রত্যেকেরই নিজের একটা জগত থাকে, নিজের অনেক ব্যস্ততা থাকে … তাই স্কুলের কলিগ হোক, আলিয়ঁসের কেউ হোক আর গ্রুপের কেউই হোক, আর কেউ … বেহুদা আড্ডাবাজির কারো সময় হয় না …

কখনো কখনো মনে হয় সিনেমা দেখতে গেলে মন ভালো হয়ে যাবে … সিনেপ্লেক্সে কত ভালো ভালো সিনেমা আসে … আবার নেমেও যায় … কারো সময় হয় না তো কারো ইচ্ছা হয় না … আবার কেউ কেউ সিনেমা দেখতে যায়, আমাকে এখন আর বলেও না … তাই আমার আর সিনেমাও দেখতে যাওয়া হয় না … ফার্দিনান্দ দেখার খুব ইচ্ছা ছিলো … কাশফিয়া আপুর সাথে প্ল্যান করতে করতে সিনেমা নেমেই গেলো … জুমানজি দেখার ইচ্ছা ছিলো … যাকেই অ্যাপ্রোচ করলাম সে-ই বললো ‘ভালো হয় নাই নাকি … পয়সা নষ্ট করবো না’ … তাই জুমানজি দেখা হলো না … জাস্টিস লিগ এতদিন ধরে রইলো … সঙ্গি-সাথি নাই দেখে দেখাই হলো না … একটা একটা করে মুভি আসছে আর চলে যাচ্ছে … আমি ‘না-বোধক’ উত্তরটা শোনার ভয়ে কাউকে আর বলিও না … আর কেউ তো নিজে থেকে কখনো আমাকে অ্যাপ্রোচও করে না … মনে হয় আমি খুব বোরিং সঙ্গী … কিংবা খুব বিরক্তিকর … তাই কেউই আমাকে নিজে থেকে গরজ করে কখনো সাথে নিতে চায় না …

এই কেউ আমাকে কখনো নিজে থেকে বলে না যে ‘চলো, এখানে যাই’, এইটা নিয়ে খুব মন খারাপ করেছিলাম কয়েকদিন আগে … তখন আর্ট সামিট চলছিলো … কেবলমাত্র সঙ্গে যাবে এমন কাউকে পেলাম না বলে যাওয়া হলো না আমার আর্ট সামিটে … আর তখন খুব মন খারাপ করে ভাবছিলাম যে একদিনে নাকি প্রায় ৩০/৩৫ হাজার মানুষও ওখানে গিয়েছে … তা ওই ৩০/৩৫ হাজার মানুষের মধ্যেও একজনও নাই যে ভেবেছে যে প্রজ্ঞাকেও বলি যাবে কি না? … আমি নিজে থেকে দুই/তিন জনকে খুব ইতি-উতি করে কনভিন্স করার চেষ্টা করেছিলাম … তারা বিভিন্ন কারণে ‘না’ করে দিলো … আর আমিও একটা বিশাল মন খারাপের মেঘ ফাটিয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুই/তিন নিজেকে খুব শাপ-শাপান্ত করে কাটিয়ে দিলাম …

কখনো কখনো মনে হয় কারো সাথে একনাগাড়ে অনেকটা সময় কথা বললে হয়তো মন ভালো হবে … একদম মন খুলে কথা বলা যাকে বলে … কিন্তু কার সাথে কথা বলবো তাও বুঝে পাই না … কাজ ছাড়া এমনিতে কারো সাথে কথা বলার ব্যাপারে আমি পটু নই, যদি না কেউ নিজে থেকে কিছু জানতে চায় … কিন্তু আমাকে কেউ কখনো খুব একটা হাই-হ্যালো বলেও নক করে না … আমিই উল্টা যেচে পড়ে কখনো কখনো কারো কারো সাথে কথা বলতে যাই … কখনো তারা কথার উত্তর-টুত্তর দেয় … আবার কখনো পাত্তাই দেয় না … আবার আমারই মাঝে মাঝে মনে হয় আমি যে যেচে পড়ে কারো কারো সাথে ‘কি খবর’ ‘কেমন আছেন’ করি, তারা না আবার ভাবে যে আমি খুব গায়ে পড়ে যাচ্ছি! তখন আমিও কথা বলা কমিয়ে দেই … ৩২ বছর বয়সের একটা মানুষের চিহ্নিত করার মতো কোনো বন্ধু নেই, সব জায়গাতেই কমন থাকবে এমন কোনো সঙ্গী নেই, এমনকি ফেসবুকে, ম্যাসেঞ্জারে কথা বলার মতোও কেউ নেই … এটাকে নিশ্চয়ই কোনো এক ধরণের মানসিক বৈকল্যই বলা যায় … 

এই কয়েকদিন আগেও মাঝে মাঝে মসিঁয়ু সুমাদ্রি অন্তত খুব এনকারেজ করার চেষ্টা করতেন, যখন ফেসবুকে, ইন্সটাগ্রামে কিংবা দিনযাপনে একটু মন খারাপ করা কথা লিখতাম … আলিয়ঁসে দেখা হলেই জিজ্ঞেস করতেন, ‘কি? মন ভালো? এত মন খারাপ করে থেকো না… ইত্যাদি ইত্যাদি’ …  তো, আমিও একটু লাই পেয়ে গেলাম … আর আমার একটু কুকুরের স্বভাব আছে … কুকুরকে যেমন একটু আদর করে দিলে পায়ে পায়ে ঘুরতে থাকে, আমিও তেমন কারো কাছে একটু পাত্তা পেলেই আরও পাবার জন্য লোভী হয়ে যাই… তো, মসিঁয়ু মাঝে মাঝে খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলেন … খুব ইন্সপায়ারিং লাগে … সেইসব কথা শোনার লোভেই আমার যাবতীয় মন খারাপের কথা উনাকে ঢেলে বলতে থাকলাম … তাতে হিতে বিপরীতই হলো … এত ভাল্লাগে না, ভাল্লাগে না বলে ঘ্যান ঘ্যান করলে কারোরই হয়তো ভালো লাগার কথা না! … আর সেখানে কেউ যদি সম্পর্কে এমনকি বন্ধুও না হন, কেবল একটু সহানুভূতির জায়গা থেকে কিছু ভালো ভালো কথা বলেন, তাতেই আমার আশা করা উচিৎ না যে সবসময়ই উনি তাই-ই করবেন, একটুও ধৈর্য হারাবেন না,বলবেন না যে আমার সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং দরকার …

তবে হ্যাঁ, একজন হতাশ মানুষ যখন আরেকজন হতাশ মানুষের সাথে কথা বলে, তখন বোধহয় নেতিবাচক প্রভাবটাই বেশি পড়ে … আর এর চেয়ে ভয়াবহ বোধহয় আর কিছু হয়না! … মাঝে মাঝে মসিঁয়ু সুমাদ্রির সাথে কথা বলতে গিয়ে এটা খুব টের পাই … আমি যেমন উনাকে খুব হতাশার কথা বলি, উনিও মাঝে মাঝে আমাকে বুঝ দিতে গিয়ে নিজেই আমার চেয়ে বেশি হতাশার কথা বলেন … একসময় দেখা যায় কেউই আসলে কারো হতাশাকে প্যাম্পারিং করার চেষ্টা করছি না, বরং নিজের কথাগুলোই এমনভাবে বলছি যে পরস্পরের হতাশাই কেবল বাড়ছে … তখন আবার নিজেরই নিজের ওপর খুব রাগ উঠে … মনে হয় যে কি দরকার আমার উনার সাথে এত হতাশার কথা বলার? … ক্যাজুয়াল হাই-হ্যালো, কেমন আছেন তাই-ই তো ভালো ছিলো … কারো সাথে সরাসরি নিজেকে নিয়ে কথা বলতে গেলেই তো একটা এক্সপেকটেশন তৈরি হয় যে শ্রোতা পক্ষ থেকে কিছু সহানুভূতিমূলক উত্তর আসবে, কিছু এনকারেজমেন্ট আসবে … সেটা না হয়ে উল্টা কেউ যখন নিজেকেই বেশি হতাশ প্রতিপন্ন করতে চায়, তখন কেউ না পারে তার জন্য সহানুভূতিশীল হতে, না নিজের হতাশাকে এড়াতে … আর যখনি আমার এরকম হয়, তখনি নিজের ওপর নিজেরই কেমন আরও রাগ উঠতে থাকে … মনে হয় যে সবসময়ই সবকিছু নিয়ে একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলি … আমার আসলে কারো সাথে কথা বলাই ঠিক না … এমনকি হাই-হ্যালোও না …  

কখনো মনে হয় কেউ স্রেফ মাথায় হাত রেখে ‘মন খারাপ করে থেকো না’ বললেই মন ভালো হয়ে যাবে … কিন্তু আসলে সেটা হয় না … উল্টা খুব কান্না পায় … আর আমি গলায় ঠেকে আসা কান্নাকে আটকে রাখার জন্য আপ্রাণ যুদ্ধে নামি …গতকাল অ্যাসেম্বলির সময় শম্পা আপা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন … কাছে টেনে নিয়ে মাথায় হাত রেখে বললেন, ‘এত ফ্রাস্ট্রেটেড কেন তুই? … তোর লেখাগুলো পড়লে আমারই মন খারাপ লাগে! ‘ … চারদিকে সব বাচ্চাকাচ্চা দাঁড়িয়ে … কীভাবে কাঁদি? …

আবার কখনো কখনো মনে হয় এইসব স্বল্পমেয়াদী কিছুতে আমার মন ভালো হবে না … কারণ এই মনটাই হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে … একেবারে আউট অভ্‌ অর্ডার হবার সময় এসেছে বোধহয় … তখন মনে হয় এমন কিছু যদি হতো যা একটা দীর্ঘমেয়াদি ইমপ্যাক্ট রাখবে, তাহলে হয়তো মন ভালো হয়ে যেতো! … আর মন ভালো হবার মহৌষধ হিসেবে যা যা ভাবি, সেগুলো সবই জাস্ট ‘উইশফুল থিংকিং’ … ‘আই উইশ আই কুড … ইত্যাদি ইত্যাদি … যেমন ভাবি, কেউ এসে হাত ধরে বলতো, ‘কি হবে এই বাল-ছাল জীবন নিয়ে মন খারাপ করে? চলো, নিরুদ্দেশ হই!’ … আমিও সাথে সাথে নিরুদ্দেশের উদ্দেশে যাত্রা করতাম, আর আমার মন ভালো হয়ে যেতো! … কিংবা, কেউ এসে খুব গম্ভীর গলায় বলতো, ‘ধুর বাল! তোমার যাবতীয় মানসিক শারীরিক ডিস-অ্যাবিলিটির খ্যাতা পুড়ি! চলো উড়ি!’ … আমিও তখন অদৃশ্য পাখা মেলে উড়াল দিতাম! আর কে পেতো আমাকে?  … কিংবা, বলা নাই কওয়া নাই, আমি কোনো একটা স্বপ্নের দেশে চলে যাবার প্রস্তাব পেতাম … ইউরোপের কোথাও! … এই মরার দেশে আর থাকতে হবে না ভেবেই বোধহয় মন ভালো হয়ে যেতো … এইসব ভাবি আর নিজেই মনে মনে হাসি! … অ্যাজ ইফ, চাইলেই এইসব খুব হয়! …

তারপর আবার এটাও ভাবি, কিছুই যখন হয় না, তখন মরে টরে গেলেও হয়তো হইতো! ধরা যাক একদি সকালে ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করলাম আমি আসলে আমি না, মরে টরে গেছি … মরে গেলে নিশ্চয়ই আর মন ভালো কি খারাপ এইসবের অনুভূতি কাজ করতো না! …

কি করলে, কি হলে মন ভালো থাকতো এইটা ভাবতে গিয়েই আরও যেন মন খারাপ হয়ে যায়! …

আজকে ফ্রেঞ্চ ক্লাসের শুরুতে মসিঁয়ু ইফতেখার-এর সাথে কথা হচ্ছিলো পহেলা ফাল্গুন কেমন কাটলো, ভালবাসা দিবসে কে কি করলো এসব নিয়ে … তো আমি বললাম ‘কিছুই করি নাই … স্কুলে গেছি, কাজ করেছি’ … আর পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস দুইদিনই আমি খুব স্যাড ছিলাম … তো মসিঁয়ু জিজ্ঞেস করলেন, ‘পু কোয়া?’ … তো আমি উত্তর দিলাম যে  ‘জ্য সুই ত্রিস্ত তুজুখ্‌’ … তো মসিঁয়ু খুব অবাক হবার এক্সপ্রেশন দিয়ে উল্টা বললেন, ‘কই, আপনাকে দেখে তো এমনিতে তা মনে হয় না’ … তো তখন একটু আলোচনা হলো যে আসলে ক্লাসে অ্যাকটিভিটির মধ্যে যখন থাকি, অন্য কিছু চিন্তা করার অবকাশ থাকে না … তাই হয়তো মন খারাপের ব্যাপারটা বোঝা  যায় না … তো ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকেই আজকে মনে মনে ভাবছিলাম যে আসলেই সারাদিন যদি খুব ব্যস্ততার মধ্যে কাটে, তখন অনেককিছুই ভুলে থাকা যায় … যেহেতু ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের কোর্সটা এখনও পর্যন্ত ভালো লাগছে, তাই যখন ক্লাসে থাকি, পূর্ণ মনোযোগ পড়ালেখাতেই থাকে … যেকোনো পড়ালেখাই অবশ্য আমার পছন্দ … নতুন নতুন কিছু শেখা যায় বলেই হয়তো সারাক্ষণ পড়ালেখা নিয়েই থাকতে পারলে ভালো লাগে … তো যাই হোক, বাসায় ফেরার পথে ভাবছিলাম যে স্কুলেও তো অনেক কাজের ব্যস্ততা, তাহলে সেখানে আমার ভালো লাগে না কেন? … চিন্তা করে দেখলাম, যখন ক্লাসে যাই, তখন তো বাচ্চাদের সাথে ইন্টার‌্যাকশন ছাপিয়ে নিজের মন খারাপের কথা মন পড়েনা … টিচার্স রুমে যখন আসি, তখন খুব হাঁসফাঁস লাগে … চারপাশে এত রকমের কথা, এত রকমের হতাশা … অন্যদের হতাশার গল্প শুনতে শুনতেই যেন নিজেই আরও বেশি হতাশ হয়ে যাই …

মাঝে মাঝে মনে হয় বাসার বাইরে যতক্ষণ থাকি, যতক্ষণ মানুষজনের মধ্যে থাকি ততক্ষণ অন্তত প্রচণ্ড মন খারাপ করা চেহারা নিয়ে থাকি না … হাসির কথায় হাসি … আড্ডাবাজি করি … কথাবার্তা বলি … যেই সময়গুলোতে একা হয়ে যাই সেই সময়গুলোতে খুব অসহায় লাগে … মন খারাপের সব অনুভূতিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে … প্রতিদিনের একটা লম্বা সময় আমার রাস্তায় কাটে … সেসময়টা খুব কষ্টদায়ক হয়ে যায় মাঝে মাঝে, কারণ একা একাই সিএন জি-তে হোক আর গাড়িতে হোক, বসে বসে এটা সেটা ভাবি … আর তখন খুব মন খারাপ লাগতে থাকে … তখন মনে হয়, কথা বলার মতোও কেউ নাই আমার ! যার সাথে অন্তত কথা বলতে বলতে ১২ কিলোমিটার জার্নির বোরডমটা কাটিয়ে দেয়া যেতো! … বাসায়ও একা একাই থাকি … চুপচাপ … আব্বুর সাথে তো কথাই হয় না … মা’র সাথেও প্রয়োজন ছাড়া কথাই বলি না … কারণ সব কথার শেষেই তখন মা তার যাবতীয় আক্ষেপ টেনে আনা শুরু করবে … অমিত কিছু করে না … আমি বিয়ে করি না … জীবনে তাইলে সে কি পেলো না পেলো … এসব শুনলে তখন আমার বাসা থেকে বের হয়ে যেতে ইচ্ছা করে … তাই সবচেয়ে ভালো বাসায় কোন কথাই না বলা … কথা শুরু করলেই বিপদ …

আজকে মা, টিয়াম, লালাম, কামতারা সবাই মিলে ফ্যামিলি পিকনিক-এ গেছে … গাজিপুর সাফারি পার্ক-এ … আমার যাওয়ার আগ্রহই হলো না … একে তো সাফারি পার্ক … ওইখানে বাঘ-ভাল্লুক দেখার সাথে সাথে প্রজাপতি উড়তে দেখলেই তো পালানোরও জায়গা খুঁজে পাবো না … তারওপর দেখা যাবে একদিকে কামতা, একদিকে কটু মামা আর একদিকে টিয়াম মিলে এমন পরিকল্পনা শুরু করবে যে মাঝখান দিয়ে সব জট পাকাবে, আর আমার তখন মেজাজ খারাপ হতে থাকবে … কক্সবাজারের ট্যুরের পর থেকেই তো কানে ধরেছিলাম যে পারিবারিক গ্যাদারিং-এ আর নাহ! … কয়েকদিন আগে সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করতে গিয়ে আরও একবার বিরক্ত হলাম … এবার আগেই ‘না’ …

আজকে প্রাচ্যনাটের গ্রুপমেট জুঁই-এর বিয়ে … জুঁই ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের শেষে একটা বড় অ্যাক্সিডেন্ট করে … গলার ওড়না পেঁচিয়ে গিয়েছিলো ইজি বাইকে করে আসার সময় … সেই অ্যাক্সিডেন্টে ওর ঘাড় আর গলার নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় … ওর কথা বলাই বন্ধ হয়ে যায় … এতদিন পরেও ও বোধহয় পুরোপুরি সুস্থও হয়নি … এর মধ্যেই বিয়ে হচ্ছে মেয়েটার … ওর বিয়েতে যাওয়াটা হয়তো গ্রুপমেট হিসেবে আমার একটা কর্তব্য ছিলো … কিন্তু ওই প্রোগ্রামেও যেতে ইচ্ছা করলো না … গ্রুপেই যাই না কতদিন … লাস্ট যে স্কুলের নাটকের শো হলো, ওইটার ছবি রেডি করে রেখেছি, কিন্তু দেবো দেবো করে আর আলসেমির চোটে দেয়া হয়না … মনেই থাকে না … মাঝখানে মিতুল ভাই ফেসবুকে কয়েকবার নক করেছিলো, উত্তরও দেই নাই … নিশ্চয়ই বিরক্ত হয়েছে … [ আমি নিশ্চিত এরপর থেকে আর স্কুলের শো হলে আমাকে ছবি তুলতে বলবে না … তাতে ভালোই হবে … আমার ‘ফটোগ্রাফার’ পরিচয়টা যেন সবাই ভুলে যায়, সেটাই চাই … কেউ আর না-ই জানুক যে আমি কখনো ছবি-টবি তোলা নিয়ে খুব প্যাশনেট ছিলাম ] … তো গ্রুপের অনেকেই যাবে … আর তাদের সামনে পড়তে চাই না দেখেই যাবো না … তবে আমার নিশ্চয়ই এটা ভেবে খুশি হওয়া উচিৎ যে নোবেল ভাই অন্তত আমাকে নক করে জিজ্ঞেস করেছে জুঁই এর বিয়েতে যাবো কি না! খুশি হওয়া উচিৎ এটা ভেবেই যে কেউ তো আমাকে মনে করলো! …

আমার উবারের অ্যাকাউন্ট -টার এখনও কিছু করতে পারলাম না … উবার-এর হেল্পলাইনে জানালাম, তারা বিভিন্ন দায়সারা অটোমেটেড মেসেজ পাঠিয়ে গেলো … জিদের চোটে ওই অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিতে চাইলাম … বলে ওই ক্যান্সেলেশন ফি না দেয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টও ডিলিট হবে না! … কিসের মধ্যে পড়লাম এইটা? … এখন একটাই উপায় আছে, সেটা হলো ফোনে আরেকটা সিম-এর যে স্লট আছে, সেখানে নতুন একটা সিম ভরে, ওই নাম্বার থেকে আরেকটা অ্যাকাউন্ট খোলা … সম্ভবত আমার উইন্ডোজ ফোন হবার কারণে অনেক ফিচার আমি দেখতে পাচ্ছি না উবারের … কিংবা হয়তো কপালে খারাপি যাচ্ছে বলে উবারেও গিট্টু লেগেছে … গত ৩/৪ দিন ধরে সিএনজি-তে ফিরতে হচ্ছে বলে দুপুর থাকতেই বাসায় চলে আসছি … আর সেটা করতে গিয়ে দুপুরের বাতাসে উড়তে থাকা ধুলাও খাচ্ছি … ফলে ঠাণ্ডা আর ভালো হচ্ছে না … মা কি একটা কফ সিরাপ আর একটা ট্যাবলেট নিয়ে এসেছে … সেগুলো নিয়মিত খাচ্ছি … তাতে একটু উন্নতি হয়েছে, কিন্তু ধুলাবালির কারণে পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছি না …

আজকে আর লিখতে ভালো লাগছে না … অনেক তো মন খারাপের ফিরিস্তি দিলাম … আজকাল ফেসবুকেও খুব হতাশামূলক পোস্ট দেই … ইন্সটাগ্রামেও তাই … আর দিনযাপন যখন লিখতে বসি, তা তো আগাগোড়াই হতাশার কথা! … যে বা যারাই দিনযাপন পড়ে তারা নিশ্চয়ই বিরক্ত হয় … আমি অবশ্য কারো পড়ার জন্য দিনযাপন লিখি না … নিজের আর্কাইভের জন্যই লিখি … কেউ পড়ে বলে ‘বিরক্তিকর’ … কেউ খুব শ্লেষের সুরে জিজ্ঞেস করে,’ তুমি যে দিনযাপন লেখো, কেউ পড়ে?’ … আবার কেউ দিনযাপন পড়ে আমাকে কাছে এসে জড়িয়ে ধরে বলে যায়, ;কি হয়েছে আপনার? এত মন খারাপ কেন? এরকম দেখতে ভালো লাগে না’ … আবার কেউ কেউ দিনযাপনের প্রথম যেই অংশটুকু ফেসবুকে শেয়ার হয়, ওইটুকু পড়েই ছবি-টবিগুলোতে বেশ লাইক-টাইক দেয় … হয়তো বোঝেই না যে লিঙ্কটাতে গেলে পুরো একটা লেখা পাওয়া যাবে … একেকজনের একেক প্রতিক্রিয়া … আমার তো ঢালাওভাবে শত শত মানুষকে পড়ানোর উদ্দেশ্য নাই … এই যে আশেপাশের নিত্যদিনের দেখা হওয়া মানুষদের মধ্যে ৪/৫ জন্য পড়ে, এরাই আমার কাছে অনেককিছু! …

যাই হোক, শেষ করি … খুব মাথা ধরেছে … সন্ধ্যায় চা খাওয়া হয়নি আজকে … অবশ্য তাতেও কিছু করার নেই … এখন আমাকে হয় স্কুলের কাজ, নয়তো অনুবাদের কাজ, যেকোনো একটা নিয়ে বসতেই হবে …

Advertisements

দিনযাপন । ১৩০৫২০১৭

আহা! কতদিন পর আজকে একটা সন্ধ্যা যেখানে পরবর্তী দিনের জন্য কপি চেকিং-এর টেনশন নাই, ওয়ার্কশিট তৈরির চিন্তা নাই, ক্লাসে কোন টপিকটা কিভাবে পড়াবো সে ব্যাপারে মাথাব্যথা নাই! … যেকোনো টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবার আগে আগে এই সময়টা বেশ ভালো লাগে, যখন মাত্র পরীক্ষা শুরু হয় আর হাতে তখনও খাতা এসে হাজির হয় না! … এই যেমন, এইবার আমার ১৭ তারিখ পর্যন্ত খাতা দেখা-দেখির ঝামেলা নাই … ১৭ আর ১৮ তারিখ মিলিয়ে ৫ সেট খাতা আসবে, তারপর মোটামুটি জুনের ১ তারিখ পর্যন্ত নাভিশ্বাস উঠার মতো অবস্থায় খাতা দেখবো আর মার্কস কাউন্ট করবো …

যাই হোক, আজকে আবার সন্ধ্যায় গ্রুপে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এত মাথা ব্যথা করছিলো আর ক্লান্ত লাগছিলো যে দুপুরে খেয়ে দেয়ে ঘুম দিলাম … গত ৪/৫ দিন হলো দীর্ঘদিন পরে আবার টানা গ্রুপে যাওয়া হচ্ছে। বনমানুষ-এর শো হবে ১৬ তারিখ। তো নতুন কিছু সাবস্টিটিউট লাগবে, তাদের আবার নাচ-গান এইসব ওঠানোর বিষয় আছে। তাই একটা ছোটোখাটো ওয়ার্কশপের মতোই হয়ে গেলো। আমি আবার অনেকদিন থেকেই ‘খালা’ ক্যারেক্টারটা উঠাবো বলে ভাবছিলাম। সেকারণে আমিও এই সুযোগে এই ওয়ার্কশপের ভেতরে সেই ক্যারেক্টারটা নিয়ে কাজ করলাম। সে কারণেই গত ৮ তারিখ থেকে রেগুলারই গ্রুপে সময় দিচ্ছি। আজকে স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয় গেছে, আর যেহেতু কপি চেকিং-টেকিং এর ঝামেলা নাই তাই টিচাররা কেউ থাকেও নাই বেশিক্ষণ। ফলে আমিই বা খালি স্কুলে বসে থেকে কি করবো চিন্তা করে বাসায় চলে আসলাম। ভাবলাম যে বাসায় এসে খেয়েদেয়ে, গোসল করে তারপর আবার বিকালে ৫টার দিকে বের হবো। কিন্তু গতকালকে রাতে ভালো ঘুমও হয়নাই, আবার আজকের প্রচণ্ড রোদের কারণেই কি না জানি না, প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হলো … ফলে সাড়ে ৪টার দিকে রেডি হবার বদলে ঘুমিয়ে গেলাম।

17361854_1852826441623711_1519773914481962798_n

স্কুল খোলা থাকলে গ্রুপে যাওয়ার ব্যাপারটা এত হেক্টিক হয়ে যায়! এই যে গত কয়েকদিন ধরে গ্রুপে যাচ্ছি, তাতে ভালো যা যা কিছু হচ্ছে তার সাথে সাথে খরচটাও হচ্ছে ডাবল! সকালে স্কুলে যাচ্ছি, তখন ভাড়া লাগছে না। বিল্লাল নামে যেই সিএনজিওয়ালা প্রতিদিন আমাকে নিয়ে যায়, উনি প্রতিদিনের ভাড়া প্রতিদিন নেয় না, একবারে ২/৩ হাজার টাকা করে নেয়। ফলে দৈনিক খরচ হিসেবে আমার আসলে ফেরার পথের ২৫০/৩০০টাকাই খরচ হয়। গ্রুপ থেকে ফেরার সময় রাত হয়ে যায়, সিএনজি পাবো কি পাবো না, কিরকম সিএনজি হবে না হবে চিন্তা করে উবার ডেকে ফেলি। উবারে খরচ পড়ে যায় প্রায় ৪০০/৫০০ টাকা। অবশ্য যত রাত করে আসি, ততই ভাড়াও কম উঠে। তারপরও, ৩৫০/৪০০ টাকা মানেও তো প্রায় ১৫০/২০০ টাকা বেশি খরচ! … হয়তো এভাবে ভাবা যায় যে বিল্লাল ভাই প্রতিদিন ভাড়া নিলে তো তাকেও আমার ২৫০ টাকা ডেইলি-ই দিতে হতো … কিন্তু, ঝামেলা যেটা হয় যে, স্কুল শেষ হয় ২টার দিকে, আর তারপর ৬টা/সাড়ে ৬টা সময় গ্রুপে আসতে হলে মাঝখানের ওই ৪টা ঘণ্টা কোথায় কাটাবো সেটাই ক্রাইসিস হয়ে দাঁড়ায়। স্কুল করার পর একটু শান্তিতে গোসল করে ড্রেসটা চেঞ্জ না করে গ্রুপে গেলে নিজেকে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগতে থাকে। যেহেতু প্রতিদিন মানুষের বাসায় গিয়ে গিয়ে সেটা করা সম্ভব না, তাই বেস্ট অপশন বাসায় চলে আসা। আর তা যদি করি, এবং এভাবে যদি প্রতিদিন গ্রুপে যাই তাহলে আমার ডেইলি খরচই দাঁড়াবে প্রায় ১০০০টাকায়!

এম্নিতেই ২২হাজার টাকা বেতনের ১৫ হাজার টাকাই সিএনজি ভাড়ার পেছনেই যায়। তখন তো বেতনের টাকা একটা ফুটা পয়সাও থাকবেই না, উল্টা আরও টাকা লাগবে! …

এই স্কুল আর গ্রুপ টাইমের মাঝখানের সময়টার যে কি সমাধান করতে পারবো, বা আদৌ কবে পারবো জানি না! অন্তত মাঝখানে কোনো কাজ করতে চাই না … একেবারে গোসল, খাওয়া, ঘণ্টাখানেক রেস্ট, তারপর এককাপ চা খেয়ে রেডি হয়ে গ্রুপ … এইটাই হিটে হবে, কিন্তু সেটা অন্তত আমার নিজের বাসায় এসে করাটা যতটা আরামদায়ক, ততটাই ব্যয়বহুল! …

স্কুলটা মিরপুরের কোথাও হতো, তাও পোষাতো!

কিন্তু, এই কয়েকদিন গ্রুপে গিয়ে আসলে রেগুলার গ্রুপে যেতে না পারার খামচি মারা দুঃখটা আরও বেশি করে ভেতরে মোচড় দিচ্ছে … এই যে গ্রুপে যাই, কাজ হোক বা না হোক, কিছু মানুষের সাথে একটা সুন্দর সময় কাটে, হাহা-হিহি আড্ডাবাজি হয়, অন্তত এটা তো প্রচণ্ড ভালো বোধ করায়! … নিজেকে কিংবা অনেক কিছুকে ভুলে থাকতে পারার এই টনিকটা শুধুমাত্র বাড়ির দূরত্বের কারণে কিভাবে দূরে দূরে সরে যাচ্ছে! …

যাই হোক, আজকে অন্তত ‘কাজ নাই’ সন্ধ্যার অবকাশে দিনযাপন লিখতে বসলাম … দিনযাপনও প্রতিদিনই লিখতে মন চায়, কিন্তু মনে হয় যে দিনযাপন লিখতে বসলেই যে ঘণ্টা খানেক/ দেড়েক সময় ব্যয় হবে ওইটুকু সময়ে মনে হয় অনেককিছু করে ফেলা যাবে! … ফলে আর দিনযাপন লিখতে বসা হয়না … আগামী কয়েকদিন হয়তো একটু লেখালেখির ফুরসৎ হবে।

আজকে এতদিন পড়ে লিখতে বসেছি, তাও এমন একটা ইভেন্টলেস দিনে যে আদৌ কি নিয়ে লিখবো বুঝতে পারছি না … মানে, পারটিকুলারলি মেনশন করার মতো কোনো ইভেন্ট আজকে নাই আর কি …

তাইলে আর কি! আজকের মতো লেখায় ইস্তফা দেই … দেখি একটু ফাইল-পত্র গুছানো যায় কি না … এইবারের টার্মটা খুব গুছিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু শেষের দিকে, মানে এই মাস-টাতে এসে কিঞ্চিত আউলা-ঝাউলা হয়ে গেছে সব … এখন যেহেতু একটু সুযোগ পেয়েছিই, গুছিয়েই নেই কাগজপত্রগুলো …

শেষ করি আজকে …  টিল নেক্সট টাইম … চাঁও! 

দিনযাপন । ০৭০২২০১৭

একগাদা ওয়ার্কশিট তৈরির কাজ মাথায় নিয়ে বাসায় ফিরেছি আজকে … তারপর সন্ধ্যা থেকে সব কাজ কর্ম বাদ দিয়ে নতুন কেনা শেলফ গুছিয়েছি … আর এখন বসেছি দিনযাপন দেখতে … কখন করবো আমি ওয়ার্কশিটের কাজ? … কালকে রেডি করে না নিয়ে গেলে প্রিন্ট করায় ফটোকপিতে দিতে পারবো না … পরশুদিনই লাগবে ওয়ার্কশিটগুলা … কিন্তু মনে হচ্ছে যে আগে দিনযাপন লিখি, তারপর কি হয় দেখা যাবে …

গতকালকে একটা শেলফ কিনেছি … রিগ্যাল ফার্নিচার থেকে … কয়েকদিন আগে বাসার উল্টা পাশের মেইন রাস্তার ওপরে রিগ্যাল ফার্নিচারের যেই শো-রুমটা আছে সেখানে গিয়েছিলাম … উদ্দেশ্য ছিলো কেবিনেট দেখবো, গিয়ে এই শেলফ দেখে মনে হলো যে এরকম একটা শেলফই তো দরকার … তো কালকে বেতন পেয়ে সাথে সাথে ওই দোকানে গিয়ে শেলফ কিনে তারপরে বাসায় ফিরেছি … এখন আর আমাকে টেবিলের ওপর দুনিয়ার জিনিসপত্র রেখে কাজ করতে হবে না … আর স্কুলের জিনিসপত্র, জাপানিজ স্টাডিজের জিনিসপত্র আর ফ্রেঞ্চ ক্লাসের জিনিসপত্রও আর বিভিন্ন জায়গায় ছড়ায় ছিটায় থাকবে না … তো, সেই শেলফ গুছাতে বসে অনেকটা সময় চলে গেলো … যদিও জিনিসপত্র অর্ধেকও গুছাইনাই …

15319280_948447218624448_7510205024019363872_n

যাই হোক, এখন দিনযাপন লিখে শেষ করে যত দ্রুত পারা যায় অন্তত একটা ওয়ার্কশিট হলেও শেষ করতে হবে … ক্লাস সেভেনের টেস্টের ওয়ার্কশিট না হয় কালকে বানিয়ে পরে বাইরে থেকে প্রিন্ট নিয়ে নিলাম … কিন্তু ক্লাস ফাইভের যেই হ্যান্ডআউটটা যাবে সেটা বানাতেও তো একটু সময় লাগবে … ম্যাপ যাবে, এক্সট্রা ইনফরমেশন যাবে … কিন্তু একই সাথে আমার ঘুমও আসতেসে প্রচণ্ড … আজকে ৫টা পর্যন্ত তো স্কুলে বসেই কাজ করসি … স্কুলে বেশিক্ষ্ণ থাকবো না ছুটির পরে এরকমটাই ঠিক করসিলাম এইবার সেশনের শুরুতে, কিন্তু সেটা হচ্ছেই না … আর ২টা পর্যন্ত স্কুল করে তারপর আবার ৫টা ণাগাড কাজ করার ব্যাপারটা শরীরকে অনেক বেশি কাবু করে ফেলে …

আজকের দিনটা তবু কালকের চেয়ে কিছুটা ভালো গেলো … আমার খালি মনে হচ্ছিলো স্কুলে গিয়ে আরিফিন স্যারের সাথে না কথায় কথায় এক প্রস্থ ঝগড়াঝাঁটি করে ফেলি বা আবার মেজাজ দেখায় ফেলি … গতকালকে দেখলাম রাতে দেড়টার দিকে উনি মেসেজ দেখেছে, কিন্তু রিপ্লাই বা কোনোধরনের রেসপন্স করেনাই … আজকে সারাদিনে কাজের প্রসঙ্গেই টুকটাক কথাবার্তা হয়েছে কিন্তু খুব আরামদায়ক লাগেনাই আমার কাছে কনভারসেশনগুলা … আমি নিজেই প্রচণ্ড অস্বস্তি নিয়ে কথা বলছিলাম, আর আরিফিন স্যার আদৌ কি নর্মালিই কথা বলছিলো নাকি ভেতরে বিরক্তি নিয়ে বাইরে নর্মাল অ্যাক্ট করছিলো সেটা আমি স্বভাবসুল্ভভাবেই বুঝতে পারি নাই…আরিফিন হয়তো মেজাজ খারাপ থাকলেও সেটা প্রকাশ না করে থাকতে পারে … তাকে আমার যেধরণের মানুষ বলে মনে হয় তাতে করে তারপক্ষে এটা সম্ভব যে মনে মনে হয়তো একজনকে সে খুবই অপছন্দ করবে কিন্তু তার সাথেও খুব নর্মালিই কথা চালায় যেতে পারবে … আমি সেটা পারি না … আমার কোনো টাইপের আবেগই আমি লুকিয়ে রাখতে পারি না … আমার চেহারায় সেটা ধরা পড়েই যায় … দুইদিন ধরে কান্নাকাটি করতে করতে চেহারার যেই অবস্থা হয়েছে, আজকে স্কুলে প্রত্যেকেই চেহারা দেখে জিজ্ঞেস করছিলো কি হয়েছে, অসুস্থ কি না … এখানেও আমি স্বভাবসুলভ ভাবে বলে চললাম যে ‘শরীর, মন, মেজাজ, মাথা সবই খারাপ’ … স্কুলের কলিগদের মধ্যে কেউ দিনযাপন পড়ে বলে মনে হয়না … ফলে তারা মনে হয় জানেও না যে গতকালকের দিনযাপনে আমার দুইদিনের মানসিক অবস্থা নিয়ে আমি কি লিখেছি … ইভেন আরিফিন স্যারের কথাও তো কিছু বাদ রাখি নাই …

সে যাই হোক, আজকে সারাদিনে অন্তত সোহেলেড় চেহারা কেন দেখতে হল সেটা নিয়ে খুব একটা মেজাজ খারাপ হয়নাই … প্রথমদিকের ক্লাসগুলা খুব দায়সারাভাবে নিয়েছি … সেভেন্থ পিরিয়ডে ক্লাস এইটের সাথে ক্লাস নিতে গিয়ে হঠাৎ মন কিছুটা ভালো হয়ে গেলো … ক্লাসের শেষের দিকে বেশ একটু হাসাহাসি আর মজা হলো … ক্লাস থেকে বের হয়ে হঠাৎ মনে হলো মুড চেঞ্জ হয়ে গেছে কিছুটা … থম মেরে ছিলাম যে সারাদিন সেই ভাবটা মনে হলো কেটে গেছে …

আচ্ছা, আমার না আসলে খুব ঘুমই পাচ্ছে … আর মনে হচ্ছে যে ঘুমিয়ে যাওয়াটাই ভালো … জেগে থাকলেই আবার মনের মধ্যে কি খচখচ করতে থাকে … এর চেয়ে ঘুমিয়ে থাকি, সকালে উঠে স্কুলে চলে যাবো, তাই-ই ভালো … কালকে অনেকটা সময় ফ্রি আছি, না হয় তখন বসে ওয়ার্কশিটগুলা রেডি করে ফেলবো …  

দিনযাপন । ০৩০১২০১৭

পরশুদিন দিনযাপন লিখতে বসে ঘাড়ের রগে টান পড়ার কথা লিখেছিলাম … গতকালকে ভোররাত থেকেই সেই রগে টান পড়া ঘাড় পুরাই লক হয়ে গেলো একদিকে … ডানদিকে তা-ও একটু ঘাড় ঘোরাতে পারছিলাম, বাম দিকে একদমই না … ঘুমের সময় আমি বাম কাত হয়ে শুয়েছিলাম, সম্ভবত সে কারণেই অবস্থার এই শোচনীয় পরিণতি হয়েছে … তো ভোরবেলা যখন মা উঠলো তখন থেকে মুভ স্প্রে, ভিক্স মালিশ এইসব শুরু হলো … তাতে করে অসহ্য ব্যথাটা একটু কমলো, কিছুটা আরাম করে শুতেও পারলাম … অনেকটা কষ্ট করেই সকালে ১১টা পর্যন্ত একটা ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে থাকলাম … ব্যথার কারণেই মনে হয় পুরোপুরি ঘুম আসলো না … তো ১১টার দিকে উঠে নাস্তা করে নাপা খেলাম দুইটা … তারপর একটা পাতলা ফোমের কুশনে কিছুক্ষণ মাথা রেখে আবার একটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা পার করে মনে হলো যে কিছুটা উন্নতি হয়েছে ঘাড়ের ফ্রোজেন অবস্থার … গোসল করলাম গরম পানি দিয়ে, তাতে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসলো ঘাড়ের অবস্থা …

যেহেতু জন্মদিন, তাই সকাল থেকেই ফেসবুকে, মোবাইলে সারাদিনই বিভিন্ন উইশ আসতেই থাকলো … ফেসবুকের ওয়াল অনেকদিন ধরেই ক্লোজ করা, ফলে যারাই উইশ করলো তাদের ইনবক্সে মেসেজ করতে হলো … এর মধ্যে তৃষা ফোন দিলো, দেখা করবো কি না … এটা-ওটা আলাপ করে পরে ঠিক হলো যে বিকালে বের হবো … মিরপুর ২ নাম্বারের মাথায় পিৎজা ইন-এর একটা আউটলেট খুলেছে, ওইখানে বসে দুইজনে কতক্ষণ গল্প-গুজব করলাম, তারপর আড়ং-এ ঘুরলাম, তারপর তৃষা আবার আড়ং-এর নিচেই একটা সুপার শপ আছে, জি-মার্ট, ওখান থেকে কিছু কেনাকাটা করলো … এর মধ্যে যোহা ভাই-ও চলে আসলো … তিনজনে রাস্তায় মোড়ে দাঁড়ায় চা খেতে খেতে আবার গল্প করা হলো কিছুক্ষণ … মোটের ওপর একটা ভালো সময়ই কেটে গেলো …

আজকে সারাদিন বেশ একটা ব্যস্ত দিন কাটলো … সকালে স্কুলে গেলাম … কাশফিয়া আপু, আমার আর তাসলিমা আপার আগে থেকেই প্ল্যান ছিলো যে আমরা আজকে স্কুলে যাবো, খাতায় ‘এন্ড অভ ফার্স্ট টার্ম’ সিল দিবো, ফাইনাল টার্ম লিখবো … এই কাজগুলো ১৪ তারিখে গিয়ে করতে গেলে অনেক হুড়োহুড়ি লেগে যাবে … তখন এমনিতেই সবাই মিলে সিল নিয়ে টানাটানি পড়বে, আবার অন্যান্য কাজও থাকবে … তো আজকে গিয়ে কিছু কাজ আগিয়ে রাখলাম, আবার হয়তো পরশুদিন যাবো …

15390696_954603658008804_6382375631151772012_n

স্কুল থেকে বের হয়ে আমি আর কাশফিয়া আপু কতক্ষণ ২৭ নাম্বারে গিয়ে ক্রিমসন কাপ-এ বসে কথাবার্তা বললাম … এর মধ্যে আবার ভূমিকম্পও হইলো … আমরা কেউই টের পাই নাই … কাশফিয়া আপুর ফোন আসলো, তখন উনি শুনলেন যে ভূমিকম্প নাকি হইসে! … তাও নাকি আবার কাপাকাপি টাইপের ভূমিকম্প ! … পরে দেখলাম যে ইন্ডিয়াতে ত্রিপুরার আম্বাসা নামের কোনো একটা জায়গায় সেন্টার ছিলো … সেকারণেই ঝাঁকির ইফেক্টটা বেশি ছিলো … সিলেটের নাকি বেশ খারাপ অবস্থা … একদম কাছেই তো! …

গতবছরও ৩ জানুয়ারি রাতে, না ৪ জানুয়ারি রাতে ভূমিকম্প হয়েছিলো … ঐটাও ইন্ডিয়াতেই সেন্টার ছিলো … বেশ কাঁপাকাঁপি টাইপের ভূমিকম্প … গতকাল্কেই রাতের বেলা ভাবছিলাম যে আবার যদি ওইরকম ভূমিকম্প হয় … আমি আবার ব্যাগটাও কালকে মাথার কাছে নিয়েই ঘুমিয়েছি যে যদি রাস্তায় নামতেই হয় তাইলে যাতে এবার প্রস্তুত হয়েই নামতে পারি! তো ভূমিকম্প ঠিকই হলো আজকে দুপুরে!

যাই হোক, ক্রিমসন কাপ থেকে বের হয়ে ফৌজিয়া আপার বাসায় গেলাম। উনি অসুস্থ। ঠাণ্ডা লেগেছে, ব্রঙ্কাইটিস সম্ভবতঃ … তো ফৌজিয়া আপার সাথে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডাবাজি হলো। পৌনে ৬টার দিকে বের হলাম। এদিকে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার আলিয়াস ফ্রঁসেস-এ যেতে হবে। আরেকটু হলে বাসাতেই চলে আসতাম … হঠাৎ মনে পড়ে গেলো যে ওখানে তো যাওয়া লাগবে। তো গেলাম। গিয়ে শুনি অ্যাডমিশন নাকি অলরেডি ক্লোজড। অথচ আমরা তো রেজাল্ট-ই জানলাম গতকাল। তো এগুলা বলে টলে অনেক কিছু বোঝানোর পর অ্যাডমিশন নিলো। পরশুর মধ্যে টাকা জমা দিতে হবে। সম্ভবত এই শুক্রবার থেকেই ক্লাস শুরু। পরীক্ষার রেজাল্টটাও এই ফাঁকে বলে রাখি। ৮৪% নাম্বার পেয়েছি। সেকন্ড হায়েস্ট। ইন ফ্যাক্ট, হায়েস্ট পেয়েছে যে নাজিফা, ও তো আগেও ওর ভার্সিটিতে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের কোর্স করেছে, কানাডাতেও ছিলো বেশ অনেকদিন, ফলে ওর জন্য এইগুলা অনেক সহজই ছিলো … তো সেভাবে দেখলে বিগিনারদের মধ্যে আমিই হায়েস্ট।

এইসব হায়েস্ট পাওয়া, ভালো রেজাল্ট করা বিষয়গুলো এখন আর জীবনের প্রতি উপহাস ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। এমন না যে এই ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজে আমি খুব আহামরি পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিয়েছি, অথচ প্রায় বিনা কষ্টেই আমি ৮৪% মার্কস পেয়ে বসে আছি। এইটার মানে আসলে কি? অন্যেরা এতই খারাপ যে আমার চেয়ে ভালো করতে পারে নাই? নাকি আমি এতই এক্সট্রাঅর্ডিনারি মেধাবী যে যেখানেই যাবো হেসে-খেলে পরীক্ষা দিলেও ফার্স্ট-সেকন্ড টাইপ হয়ে যাবো! … পুরাই উপহাস এগুলা …

যাই হোক, পরশুদিন স্কুলের দিকে যাবো আবার। তখন টাকাও দিয়ে আসতে হবে ফ্রেঞ্চ কোর্সের। নায়ীমী নাকি কালকে ভর্তি হতে যেতে পারবে না, কি প্রোগ্রাম আছে ফ্যামিলির। এখন পরশু যদি দুপুরে একদম অফিস খোলার সময় গিয়ে ভর্তি হয়ে টাকা জমা দিতে পারে তো ভালো। নইলে তো আমি আবার একা হয়ে যাবো! …

বাই দ্য ওয়ে, এই দিনযাপন লিখতে লিখতেই আরেক দফা ভূমিকম্প হয়ে গেলো … ১২টা ৫৪ বাজে মনে হয় তখন … এবারেরটার সোর্স মায়ানমার … কেমন জানি একটা ঝাঁকুনির মতো লাগলো হঠাৎ … বোঝার চেষ্টা করলাম আসলেই কি একটা ওয়েভের মতো কিছু যাচ্ছে, নাকি আমার কাছে মনে হচ্ছে? … পরে দেখলাম যে আসলেই ভূমিকম্প হয়েছে … দুপুরেরটার রিখটার স্কেল আর এইবারেরটাও প্রায় একই … ৫ এর ওপরে! … রাতে আবার অন্য কোথাও ভূমিকম্প হয় কি না কে জানে! …

যাই হোক   … আজকে আর লিখবো না … একটা বিষয় নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম … কিন্তু সেটা অনেকটা সময় নিয়ে নেবে … আর আমার এখন খুব ঘুম পাচ্ছে … গতকালকে সারারাত ঘুম হয়নি … আজকেও সারাদিন বাইরে বাইরেই থেকেছি … ফলে এখন মনে হচ্ছে না ঘুমালে মরেই যাবো …

আজকের মতো অফ যাই তাইলে … একটা ছোটো-খাটো বোম ফুটতো হয়তো আজকে … কিন্তু সেটা না হয় একটুর জন্য পিছিয়ে গেলো … এখন ঘুমাতে যাই … কালকে দেখা যাবে না হয় কীভাবে বোমাটা ফোটানো যায় …  

দিনযাপন | ১০১২২০১৫

নতুন ফোন কেনার সাথে সাথেই ফেসবুক ওপেন করে দেবে এটা যদি জানতাম, তাহলে তো যেদিন ফেসবুক বন্ধ করেছে সেদিনই নতুন ফোন কিনে আনতাম! … এরকম একটা ভাবসাব এখন দেখানোই যায়! আজকে বিকালে অবশেষে আমি একটা ‘স্মার্ট’ ফোন কিনে আবারো ‘স্মার্ট’ দুনিয়ায় পদার্পণ করলাম আর তারপর সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতে না ফিরতেই আবিষ্কার করলাম যে ফেসুকও চালু হয়ে গেছে! তো, এইবার ওয়াল্টনের সেটটা হাত থেকে পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আর সিম্ফনি/ওয়াল্টনের ফোন কেনার কথা ভাবি নাই। ফোন কিনবোই যখন ভালোটাই কিনবো – এইরকম ভাবসাব নিয়ে মাইক্রোসফট-এর উইন্ডোজ ফোন কিনে ফেলেছি! তাও প্রায় হাজার দশেক টাকা খরচ করে! আবার ফোনের সাথে বিশাল একটা স্টুডিও হেডফোন গিফট-ও পেয়েছি। এত দাম দিয়ে জীবনে এর আগে একবারই ফোন কিনেছিলাম, মটোরোলা এল সেভেন। প্রায় ৪ বছর টানা ওই সেটটা ব্যবহার করার পর খুবই আনফরচুনেটভাবে ফোনটা পকেট থেকে পড়ে গিয়েছিলো! তাও সেই ঝিনাইদহতে! তো যাই হোক, এবার আবার বহুবছর পর একটা ফোন কিনলাম প্রায় ১০ হাজার টাকা দিয়ে। ফ্লুরোসেন্ট অরেঞ্জ রঙের ব্যাক এই ফোনটার! কেঊ কেঊ যে দেখামাত্রই চরম ‘খ্যাত’ বলবে এটা যেমন সত্য, আবার কেউ কেউ বলবে ‘ওয়াও সো কুল’ এটাও সত্য! যে যেটাই বলুক, আমার কালারফুল জিনিস পছন্দ তাই আমি এটা কিনেছি! খ্যাতই হোক আর কুলই হোক!

ফেসবুক যেহেতু ওপেন, তারমানে আজকে থেকে আমার দিনযাপনের যাবতীয় লেখা সবাই পড়তে পারবে। গতকয়েকদিন তো বেশ ঠোঁটকাটা লেখা লিখেছি। আজকে থেকে আবার ঠোঁট-এর কাটা অংশটা সেলাই করে তারপর লিখতে হবে, সো দ্যাট আমার মনের গভীরের আপ্ত বাক্যে কেউ আবার অফেন্ডেড ফিল না করে! ইদানীং চারপাশে এই ‘অফেন্ডেড’ ফিল করা বিষয়টা অনেক বেশি চোখে পড়ছে! এর কথায় ও অফেন্ডেড ফিল করে, ওর কথায় এ অফেন্ডেড ফিল করে! আমার কথাতেও অমুকে তমুকে অফেন্ডেড ফিল করে সেটা তো বলাই বাহুল্য! সৃষ্টিকর্তা আর যাই দিক বা না দিক, ঠাস ঠাস করে মুখের ওপর সত্যিকারের মনোভাব প্রচণ্ড সরলভাবে প্রকাশ করার জন্য একটা মুখ আমাকে দিয়েছেন! যেহেতু প্রাচ্যনাটেই আমার সারাদিনের ব্যস্ততার একটা বড় অংশ দেয়া হয়, তাই এই অফেন্ডেড হবার তালিকাটাও প্রাচ্যনাটেই বেশি। এগুলার গল্পগুলাও অনেক অনেক অদ্ভুত আর অনেক বড় বড়। যতসই প্রসঙ্গ না আসলে সেগুলো নিয়ে লেখা হবেও না।

তো যাই হোক, গত কয়েকদিন ব্যস্ততা, ক্লান্তি, আলসেমি সব মিলিয়ে আর দিনযাপন লিখতে বসা হয়নি। একদিন একটা লেখা অর্ধেক লিখে ঘুমিয়ে গেছি, কিন্তু তারপর আর পোস্ট করি নাই। তাতে খারাপ কিছু হয় নাই। ওই পোস্টে যা নিয়ে বা যাদের নিয়ে লিখেছিলাম, তাদেরকে ওইসব কথার মর্মার্থ বোঝার বা হজম করার ক্ষমতা এখনো সৃষ্টিকর্তা দেন নাই। দেখা যেতো ওইসব কথার অর্ধেক বুঝেই তারা মোটামুটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে! সো, হোয়্যাটএভার হ্যাপেনড, ইট হ্যাপেন্ড ফর আ গুড!

এবার আমার নিজের সম্পর্কে একটু আপডেট দেই। হঠাৎ করে ফিল করছি যে আমার ওজন বেড়েই চলছে। এই মাসখানেক আগেও যেই জামা আরাম করে পরেছি, সেটা এখন আর গায়ে লাগে না! পেটটা বিশেষ করে মনে হচ্ছে একটু বেশিই বড় হয়ে গেছে আগের চেয়ে। কি জানি! টিউমারটা আরেকটু বেড়েছে বোধহয়! নিজের চেহারা দেখলে এখন নিজেরই মেজাজ খারাপ হয়। হরমোনাল ইফেক্টগুলাও টের পাচ্ছি। মাথা ভার হয়ে থাকছে, সারাদিনই মেজাজও প্রচণ্ড খিটখিটে হয়ে থাকছে। কেমন জানি একটা ‘সব অসহ্য’ টাইপের ফিলিংস কাজ করে ভেতরে। রাস্তাঘটে রিকশাওয়ালা-সিএঞ্জিওয়ালাদের সাথে তো ঝগড়া-ঝাটি হয়ই, এমনকি একটু ধুলা থাকলেও মনে হয় ‘ধুর বাল! এত ধুলা ক্যান’, আবার একটু জ্যাম থাকলেও মনে হয় যে ধুর বাল, এত জ্যাম কেন? স্কুলের পরে আমার কোথাও যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ডেসটিনেশন নাই। একটা বিশেষ কারণে নায়ীমী’র বাসায় এভাবে যাবো না বলে ঠিক করেছি, তাই এখন কোথায় সময় কাটাবো সেটা একটা বড় যন্ত্রণাদায়ক ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছে। এখন কিন্তু আমার তেমন আর কাজই নাই স্কুলে! তারপর আমি আবার পার্ট টাইম টিচার। প্রতিদিন স্কুলে না যাওয়া লাগলে কি হতো? এইটা ভাবলেও আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আবার বেশিরভাগ দিনই দেখা যায় যে গ্রুপে গিয়ে ৫টা/ সাড়ে ৫টার দিকে একা একা বসে আছি, সেইটাও অসহ্য! আর গ্রুপে তো ইদানীং কতিপয় ব্যক্তির সাথে আমার ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে, ফলে তাদের বিভিন্ন আচরণ আর কথাতেও মেজাজ খারাপ হয়। কিছু কথার উত্তরও দিয়ে বসি। হয়তো ওভারঅল মন মেজাজ ভালো থাকলে এইসব মানুষদের আচরণ বা কর্মকান্ডগুলো আমার চোখেই পড়তো না! কিন্তু মন মেজাজ খারাপ থাকলে যেটা হয় যে আমি প্রচণ্ড ঠান্ডা হয়ে যাই, আর খুব বেশি অব্জার্ভেন্ট হয়ে যাই। তখন আশেপাশের মানুষগুলোর খুঁতগুলোই চোখে পড়ে বেশি। ফলে তাদের প্রতি মনোভাবটাও চেঞ্জ হয়ে যায় আর ভাবতে থাকি, ‘ এরা এরকম করে কথা বলে কেন?’ কিংবা ‘ এরকম করে ভাবে কেন?’ … তারপর দেখা যায় যে তাদের সাথে আমি আর স্বাভাবিক হতে পারি না … বারবার আমার মনে হয় তাদের যেই চেহারা দেখছি তার নিচে আরেকটা মুখ আছে, যেটা ‘আসল’ তারা, কিন্তু সেটা হয়তো তারা নিজেরাও জানে না! যাই হোক, আসল কথা হচ্ছে এখন আমার ঘরে, বাইরে, জাগরণে, স্বপ্নে সবকিছুই অসহ্য লাগে! লিটেরেলি অসহ্য লাগে! মাঝে মাঝেই মনে হয় যে একেবারে সবকিছু বাদ দিয়ে সারাদিন ঘরে থেকে ঘুমাতাম, তাও বোধহয় ভালো লাগতো। কিংবা কে জানে! সেটা হয়তো আরো অসহ্য লাগতো! আর ম্যাকবুকটা চুরি হয়ে যাবার পর থেকে বেসিক্যালি আমার এই হতাশাবাদ আরো বেড়েছে। হতাশার অতল গহ্বরে পড়ে যাবার জন্য ওইটা আসলে অনেক বড় একটা ধাক্কা ছিলো। ওই ২৬ অক্টোবর থেকে আজকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার প্রতিটা দিনের হতাশাবাদিতার কথা নিয়েই হয়তো একটা বিশাল দিনযাপন লিখে ফেলা যাবে!

যাই হোক, আজকে আর কি লিখবো? অ্যাকর্ডিং টু ‘ অন দিস ডে’, আজকে সিজার ভাই আর সাজিয়া আপু’র ম্যারেজ ডে। তাদের বিয়ের ছবি তুলেছিলাম আমি। কিন্তু ছবিগুলা গুছিয়ে দেয়ার আগেই ভাইরাসের কল্যাণে মেমোরি কার্ডটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। ফলে, হলুদের ছবিগুলা একটাও রাখতে পারি নাই। বিয়ের ছবিগুলাই যা থাকার আছে। একটা কারণে সিজার ভাইয়ের ওপর প্রথমে রাগ, তারপর বিরক্ত তারপর অভিমান করেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। মাসখানেক হলো তাদের মেয়ে হয়েছে, দেখতেও যাইনি। সিজার ভাই এর মধ্যে দুইদিন ফোন করেছে, মেসেজ পাঠিয়েছে সেটারও রিপ্লাই দেই নাই … ইচ্ছাই করে নাই … সাজিয়া আপু নিশ্চয়ই আমার ওপরে অনেক রাগ করেছে। কিন্তু আমার কিছুই করার নাই। …

আজকে আর লিখবো না। ভালো লাগছে না লিখতে …

দিনযাপন | ১০০৫২০১৫

গতকালকে লেখার মতো অনেককিছু থাকা সত্ত্বেও দিনযাপন লিখবো বলে বসবার কোনো সুযোগই পাইনি … একই সাথে একই সময়ের মধ্যে যদি তিনটা ডেডলাইনের কাজ নিয়ে বসতে হয়, এবং তিনটা কাজেরই যদি শেষ সময়সীমা একই দিনে থাকে তাহলে আর কিছু করার কি সুযোগ থাকে? … প্রচণ্ড রকমের হেকটিক একটা রাত গেলো কালকে … কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা আগে করবো টাইপ অবস্থার মধ্যে ছিলাম লিটেরেলি …

যাই হোক, কালকে সন্ধ্যা সময়টা কাজে লাগাতে পারলে হয়তো কাজের চাপ অনেকটাই কমতো … কিন্তু সন্ধ্যায় হঠাৎ পরিকল্পনায় সিনেমা দেখতে গেলাম বসুন্ধরা সিটিতে … তিন্নি আপু আর আমার প্ল্যান হলো যে সিন্ডারেলা দেখবো … গতকালকেই সেটার লাস্ট শো ছিলো … আমি একবার দোনমনো করেও শেষে রাজি হয়ে গেলাম … কারণ এই মুভিটা বড় পর্দায় দেখার একটা ইচ্ছা আমার ছিলো … তো ঠিক হলো যে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার শো দেখবো … এর আগে বাটা সিগন্যালে একটা কাজ ছিলো, সেটা শেষ করে আধাঘণ্টার জন্য গ্রুপে গেলাম … সেখানে গিয়ে কথায় কথায় সিনেমা দেখতে যাবো শুনে মেবিন-ও আগ্রহ প্রকাশ করলো যে ও- ও যাবে … যেহেতু ওখানে গিয়ে টিকিট কাটা হয়েছে তাই কারো যুক্ত হওয়াটাই সমস্যা ছিলো না … ফলে তিন্নি আপু আর আমার সাথে মেবিনও যুক্ত হয়ে গেলো …

এরকম হুটহাট প্ল্যান করে একটা কিছু করে ফেলা বিষয়টা আমার বেশ ভালো লাগে … তিন্নি আপু’র চরিত্রের একটা মজার বিষয় হচ্ছে সেও এরকম হুটহাট প্ল্যান করে একটা কিছু করে ফেলা টাইপ মানুষ … অন্তত আমার চাইতে কয়েকগুণ বেশি সে এই ব্যাপারে অ্যাক্টিভ … ফলে সিনেমা দেখা, খেতে যাওয়া কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার ‘উঠলো বাই তো মক্কা যাই’ টাইপ প্ল্যানগুলা তার সাথে অনেক স্বচ্ছন্দে্য করা যায় …

তো, কালকের প্ল্যানটাও সেরকমই ছিলো …

গতকালকে মুভি দেখার সময় একটা মজার ঘটনা ঘটেছে … যদিও ঘটনার এই মজাটা একপাক্ষিক … কারণ আমাদের জন্য এটা মজা হতে গিয়ে আরেকজনের জন্য এটা বিরক্তিকর একটা ঘটনা হতে হয়েছে … ইন্টারভ্যাল-এর সময় তিন্নি আপু বের হলো আমার আর মেবিনের জন্য ড্রিঙ্কস আর তার নিজের জন্য হাল্কা কিছু খাবার আনতে … সে অর্ডার দিয়েছিলো পেস্ট্রি, কিন্তু ভিড়ের মধ্যে কাউন্টারের লোক তাকে ভুল করে চিকেন স্যান্ডউইচ দিয়ে দিয়েছে … পেস্ট্রির দাম ৭০টাকা, আর চিকেন স্যান্ডউইচ এ দাম খুব সম্ভবত ১৫০ টাকা বা তার বেশিও হতে পারে! আমাদের ধারণা অন্য কেউ চিকেন স্যান্ডউইচ অর্ডার দিয়েছিলো, কিন্তু তার সাথে তিন্নি আপুর কুপন মিক্সড আপ হয়ে গিয়ে তাদের অর্ডারও ইন্টারচেঞ্জড হয়ে গেছে! …

আমি ভাবছিলাম যে যার চিকেন স্যান্ডউইচ পাবার কথা, কিন্তু পেস্ট্রি পেয়েছে তার রিঅ্যাকশনটা কি ছিলো! … তিন্নি আপু না হয় ৭০ টাকা খরচ করে দ্বিগুণ দামের জিনিস পেলো, তার তাতে লস হয় নাই, কিন্তু যে প্রায় ১৫০ টাকা খরচ করে অর্ধেক দামের একটা খাবার পেলো তার কেমন লাগছিলো ? ! … সে তখন কাউন্টারের লোকজনকে কিরকম ভাবে মনে মনে গালি দিচ্ছিলো? সে কি বিরক্ত হয়ে আর সিনেমার বাকি অংশ মনোযোগ দিয়ে দেখতেই পারেনাই? নাকি তারও এই ঘটনায় কিছু আসে যায় নাই এবং আমাদের মতোই সেও ‘ আরে ইন্টেরেস্টিং তো’ ভেবে নিয়ে ব্যাপারটা এঞ্জয় করেছে?

এইসব টুকরো ঘটনাগুলো আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহুর্তকে কীভাবে প্রভাবিত করে সেটা নিয়ে ভাবতে আমার বেশ ভালো লাগে …

যেমন ধরা যাক, আমি কোনো একটা রিকশায় উঠলাম এবং সেই রিকশাওয়ালার সাথে আমার ব্যাপক তর্কাতর্কি হইলো … তারপর আমি ভাড়া না দিয়েই সেই রিকশা থেকে নেমে গেলাম … তারপর সে যখন পরের প্যাসেঞ্জার ওঠাবে তখন কিংবা দিনের বাকি অংশে এই ঘটনার প্রভাবে সে কেমন আচরণ করবে? …

হিউম্যান বিহেভিয়র বিষয়টা যেমনটাই জটিল, তেমনটাই ইন্টেরেস্টিং …

যাই হোক, মুভি দেখে বের হবার পর তিন্নি আপু চলে গেলো কারওয়ানবাজারের দিকে, আমি আর মেবিন রওনা দিলাম পান্থপথের দিকে … পান্থপথের মোড়ে এসে আমার মহা অস্বস্তি শুরু হয়ে গেলো … এই জায়গাটায় একটা সময় এতবার এসেছি, কখনো ‘তাকে’ টাকা দেয়ার জন্য, নয়তো দেখা করার জন্য … আর এখন ওই এলাকার আশপাশ দিয়ে গেলেই মনে হয় যে যদি হঠাৎ দেখা হয়ে যায় তাইলে আমি কি করবো? তো আমি ভাবছিলাম যে বাসার উদ্দেশ্যে রিকশা নিয়ে নেই, কিন্তু মেবিন হঠাৎ প্রায় জোর করে আমাকে রাস্তা পার করায় একেবারে ওই ‘ডেঞ্জার জোন’ -এই নিয়ে ফেললো … আমি ভাবলাম ও হয়তো একা একা রিকশা ঠিক করতে চায় না বা এরকম কিছু … সে বললো সামনের ক্লাউড ব্রিস্তো -তে বসে এক কাপ কফি খেয়ে তারপর যাও … ক্লাউড ব্রিস্তো! মানে ঠিক যেখানে দাঁড়িয়ে সে ওই রাত ৯টা/১০টার দিকে সাধারণত চা খায়, নয়তো এলাকার দুই ফ্রেন্ড-এর সাথে গল্প করে সেখানে! … সাথে সাথে ঘড়িতে সময় দেখলাম … মনে হলো যে হার্টবিট বাড়তে শুরু করেছে … নার্ভ সচল হয়ে গেলো কয়েকগুণ … ভাবতে লাগলাম এখন যদি ওর সাথে দেখা হয়ে যায় তাইলে কেমনে কি করবো? মেজাজ ঠিক রাখবো কিভাবে তারপর? শান্ত থাকতে পারবো তো? … রাতটা কেমন যাবে? … প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ থাকবে নাকি কান্নাকাটি করবো? … এইসব ভাবতে ভাবতে সামনে আগালাম … ক্লাউড ব্রিস্তোতে ঢুকবার সময় তাকে দেখলাম না … মনে মনে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম, কিন্তু তারপর মনে হলো বের হবার সময় যদি দেখা হয় তখন? তারপর কেন জানি মনে মনে ইচ্ছাই হলো যে ‘ দেখা হোক’! নিজের সাথে নিজের একটা পরীক্ষা হয়ে যাক! … ক্লাউড ব্রিস্তোতে বসেও জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলাম … যদি তাকে দেখা যায়! … দেখলে কি হতো জানি না! … সেটা জানার জন্যই হয়তো দেখতে চাচ্ছিলাম! …

যাই হোক, গতকালকে আর দেখা হলো না … কিন্তু সত্যি সত্যিই এটা এখন ‘তার’ ব্যাপারে আমার একটা ‘গ্রেটেস্ট ফিয়ার’ যে তার সাথে যদি রাস্তায় চলতে ফিরতে হঠাৎ দেখা হয়ে যায়, তাহলে আমি কি ফিল করবো! তার সাথে হয়তো বা কথা বলবো না, চিনি না জানি না ভাব নিয়ে অন্য দিকে ফিরে চলে যাবো … কিন্তু মনের ভেতর কি চলবে? … ‘তাকে’ নিয়ে ভাবলেই তো আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, আর চেহারা দেখলে তাহলে কি হবে? … এই কয়েকদিন আগেই তারা ‘ফটো মেকার’ গ্রুপের সবাই মিলে মাওয়া-তে ফটোওয়াকে গিয়েছিলো … ওই গ্রুপে কিছু কিছু ফটোগ্রাফারের ছবিতে তাকে দেখলাম … তখন আবারো মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো কোনো কারণ ছাড়াই … এখন মনে হচ্ছে যে তার যেসব বন্ধুবান্ধবের সাথে আমার ফেসবুকে অ্যাড করা আছে তাদেরকেও আনফ্রেন্ড কিংবা ব্লক করে দেয়াই ভালো … সে কি করে, না করে সেগুলো না জানি, সেটাই ভালো …

হয়তো কোনো একদিন তাকে রাস্তায় কোনো একটা মেয়ের সাথেও দেখতে পারি … ওর মতো ছেলেরা যতই মুখে বড় বড় কথা বলুক না কেন, আসলে মেয়েদের সাথে কোনো না কোনো সম্পর্ক ছাড়া থাকতে পারে না … সো, আজ হোক কাল হোক সে নিশ্চয়ই আবারো কারো সাথে ইনভল্ভড হবে আর তারপর বিভিন্ন সময় কথাপ্রসঙ্গে সেই মেয়েকে বলবে আমি কত খারাপ যে তার সাথে এই করেছি, ওই করেছি, টাকা দিয়েছি, তারপর আবার সেই টাকা নিয়ে তাকে ‘খোঁটা’ দিয়েছি, আমি প্রচণ্ড অ্যাগ্রেসিভ ব্লা ব্লা ব্লা … সে মাঝে মাঝে আমার কাছে তার কোনো একজন ‘এক্স গার্লফ্রেন্ড’ এর গল্প করতো ঠিক এরকম করে … আমি তার গার্লফ্রেন্ড ছিলাম না, কিন্তু তার সাথে আমার যে সম্পর্কই থাকুক না কেন, আমার ব্যাপারেও সে হয়তো এরকম করে অন্যকে বলবে, কারণ তার মতে আমি তো ‘তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছি’ !

কিংবা … হয়তো অলরেডিই তার কারো সাথে এখন ইনভল্ভমেন্ট আছে! … কে জানে! …

ধুর! কেন যে আমি এখনো ‘তাকে’ নিয়ে এত কিছু ভাবি! … সত্যি সত্যি যদি এমন কোনো উপায় পাওয়া যেতো যে তার ব্যাপারে সবকিছু আমি ভুলে যাবো, তাহলেই আসলে সবচেয়ে ভালো হতো! … তার কথা এত বেশি বেশি ভাবি দেখে মাঝে মাঝে নিজের ওপরেই আমার প্রচণ্ড বিরক্তি আর ঘৃণা কাজ করে …

ইন ফ্যাক্ট, তার কথা না, আমার সাথে তার যাবতীয় আচরণের কথা …

সব ভুলতে হবে … সব …

কিছুই মনে রাখতে চাই না … কিছুই না … সে, আমি, আমরা … কিছুই না …

আজকে সারাদিনের তেমন কোনো বিশেষত্ব নেই … রাতে প্রচণ্ড চাপ নিয়ে কাজ করেছি বলেই কি না জানি না, সকাল থেকে মাথা ব্যথার চোটে অস্থির হয়ে গেলাম … যেখানে সকালে ১১টার দিকে মিরপুর যাওয়ার কথা, সেখানে বাসা থেকেই বের হলাম ১২টার পর … মিরপুর যাওয়া আসাও একটা হেকটিক ব্যাপার … ফলে আরও কাবু হয়ে গেলাম … বিকেলে বাসায় ফিরে আবার ঘুম দিলাম ঘন্টাখানেকের জন্য … সন্ধির সাথে চারুকলায় একটা এক্সিবিশন দেখতে যাবো বলে প্ল্যান ছিলো, কিন্তু আজকেই আবার স্ক্লাস্টিকার ছবিগুলো দিতে হতো বলে ওইগুলা প্রিন্ট করানোর জন্য বের হলাম… ফলে এক্সিবিশনটায় আর যাওয়া হলো না … গ্রুপের রিহার্সাল শেষে শাহবাগ … তারপর বাসা … আর এখন একটা কাজ নিয়ে বসে সেটা শেষ না করে উল্টো দিনযাপন লিখছি … আজকে আর কাজ করতেও ভালো লাগছে না … এখন ঘুমিয়ে গিয়ে কালকে সকাল সকাল উঠে করবো তাও ভালো …

শরীরের ওপর এখন আর বেশি চাপ দিতে পারি না … লুথা হয়ে যাচ্ছি দিন দিন …

‘বিন্দাস লাইফ’ না হোক, একটা মোটামুটি রকমের মন ভালো করা ‘লাইফ’ হইলেই তো আমি খুশি থাকি … সেইটার কোনো অধিকার সম্ভবত আমার নাই … এখন শুধু দুঃখ – কষ্ট গিলে থাকার লাইফ … হাসিখুশি থাকার মুখোশটা খুব দ্রুতবেগে জীর্ণ হয়ে যাচ্ছে …

গতকাল থেকে প্রমা আর লালাম আমাদের বাসায় … প্রমার পরীক্ষা শেষ বলে সে বেড়াতে এসেছে … যেই আমি কোনোদিন আমার এই পিচ্চি বোনটাকে একটা কিছুতে না পর্যন্ত বলি নাই, সেই আমি আজকে বিকালে হঠাৎ প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ওকে কড়া গলায় বকা দিয়েছি … সাথে সাথে দেখলাম মুখ কালো করে বসে রইলো … আমি তারপর বের হয়ে গিয়েছিলাম কাজে … রাতে বাসায় ফিরে দেখলাম সে অলরেডি ঘুমিয়ে গেছে … কয়েকদিন আগে ওদের বাসায় গিয়েও কি একটা কারণে ওর ওপর মেজাজ ঠিক রাখতে না পেরে সেদিনও বেশ কড়াভাবে রিঅ্যাক্ট করেছি! আমি ওকে বকা দিতে পারি সেটা সে কখনো কি কল্পনাও করতে পারতো? … আমিও কি পারতাম? … কিন্তু এখন পারি! … এখন আমি অল্পতেই প্রচণ্ড অধৈর্য হয়ে যাই … মেজাজ খারাপ হয়ে যায় … সেটা যে শুধু প্রমার ক্ষেত্রে তা না, প্রতিদিনের চলাফেরার অনেক টুকরো টুকরো ঘটনার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে চলছে …

ফ্যাক্ট হচ্ছে, আই ফিল নো ফান ইন মাই লাইফ নাও …

এভাবে জীবনযাপনের বিষয়টা আর যাই হোক, কোনোভাবেই ভালো লাগার মতো কিছু না …

কিন্তু এটাই এখন আমার জীবনযাপন … নিজের সাথে নিজের ক্রমাগত মানসিক যুদ্ধ করে যাওয়া জীবন …

এবং আমি এটা প্রচণ্ডরকমের ঘৃণা করি …

দিনযাপন | ০৮০৫২০১৫

রাতের খাবার নিয়ে একটা বদভ্যাস হয়ে যাচ্ছে … ইদানীং রাত সাড়ে বারোটা / একটা ‘র আগে খাওয়াই হয় না … বাসায় ফিরি ১১টা কি সাড়ে ১১টার দিকে, তারপর একটু ফ্রেশ হয়েই ল্যাপটপ নিয়ে বসি … কিছুক্ষণ ফেসবুকিং করি, নয়তো অর্ধেক দেখে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া কোনো মুভি শেষ করতে বসে যাই, কিংবা হয়তো মোবাইল নিয়ে বসে গেম খেলতে থাকি … এর আগে খেলতাম ক্যান্ডি ক্রাশ, নয়তো ফার্ম হিরোজ এইসব … গতকালকে থেকে শুরু করেছি ২০৪৮ … গেম আর টিভি সিরিজ বস্তু দুইটা ব্যাপক বাজে নেশা … যেমন, গত দুইদিন যাবৎ দেখতে দেখতে আজকে দুপুর বেলা ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম’ এর লেটেস্ট পর্ব পর্যন্ত দেখে শেষ করলাম … [ নেক্সট এপিসোড ১০ তারিখ টিভিতে দেখাবে, তারপর পাওয়া যাবে অনলাইনে …আপাতত সে পর্যন্তই অপেক্ষা করি ] … তো, যাই হোক, এইসব কাহিনী করতে করতে কখন যে রাত ১টা বেজে যায় সেটা খেয়ালই থাকে না … প্রতিদিনই রাত ১০টা/ ১১টার দিকে বেশ ক্ষুধা পায় … তখন গ্রুপ থেকে বের হয়ে কাঁটাবনে অথবা শাহবাগে দাঁড়ায় টুকটাক চা-বিস্কিট খেতে খেতে ক্ষুধাটা মরে যায় … তারপর যখন আবার ক্ষুধা পায় ততক্ষণে রাত ১টা কি দেড়টা …

আরেকটা বাজে অভ্যাস আমাকে বেশ ভোগাচ্ছে … বহুদিন যাবৎ-ই ঘরে জায়গার স্বল্পতার কারণে টেবিল সরিয়ে সেখানে একটা ওয়্যারড্রব-কে জায়গা দেয়া হয়েছে … তার ফলে যাবতীয় কাজকর্ম এখন করা হয় বিছানায় শুয়ে বসে … এখন আমার লেখালেখির কাজ অনেক অনেক বেশি … আগে তাও ছবি এডিট জাতীয় কাজগুলো বিছানায় বসে কিংবা উবু হয়ে শুয়ে করে নেয়া যেতো … কিন্তু এই লেখালেখির কাজ কিছুতেই একটানা অনেকটা সময় ধরে বিছানায় বসে করা যায় না … শরীরের অবস্থার কারণে তো এখন সেটা আরও অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে … তার ফলে, কাজের গতি তো কমছেই, কাজ করার আগ্রহও কমে যাচ্ছে … টেবিলে বসে কাজ করার একটা উদ্যোগ মাঝখানে নিয়েছিলাম … ড্রয়িং রুমে যে টেবিলটা আছে সেখানে … কিন্তু নিজের ঘরে নিজের মতো থেকে কাজ করার আরামটা পাওয়া যায় না বলে সেই উদ্যোগটা কয়েকদিন পর মাঠে মারা গেলো … এখন একমাত্র মিরপুর যাবার পর আবার টেবিল চেয়ারে বসে কাজ করার যাবতীয় সংস্থান সম্ভব হবে … কিন্তু তার আগেই যে কাজগুলো শেষ করতে হবে, সেগুলোর কীভাবে কি হবে তাই নিয়েই চিন্তিত আমি …

আগে যখন পাঠশালায় নিয়মিত যাওয়া হতো ক্লাসের জন্য, তখন ল্যাপটপ নিয়ে সকাল সকাল চলে যেতাম আর সারাদিন এসি রুমে টেবিল চেয়ারে বসে বসে কাজ করতাম …আর এখন নিয়মিতই গ্রুপে যাই সন্ধ্যাবেলা, কিন্তু যেহেতু আমি ল্যাপটপ নিয়ে বাইরে বের হইনা সবসময়, ফলে গ্রুপে গিয়ে টেবিলে বসে কাজ করার সুবিধাটা নিতে পারি না …

যাই হোক, টেবিল থাকুক আর না থাকুক, শরীরের অবস্থা খারাপ হোক আর না হোক, কাজগুলো যে আমাকে যে কোনো উপায়ে শেষ করতে হবে সেটাই আসল কথা …

মনে মনে পরিকল্পনা ছিলো যে এই সপ্তাহটা মিরপুরে কাটাবো … টিয়ামের বাসায় চলে গেলে টেবিল-চেয়ারে বসে কাজ করার আরামও পেতাম, আর ওইখানে নেট নাই বলে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া মোবাইলের হটস্পটও ব্যবহার করা হতো না, আর কাজগুলোও তখন মনোযোগের সাথে আগাতো … কিন্তু ১২ তারিখ ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো, সুতরাং আমাকে ওইসময় পর্যন্ত এই এলাকাতেই থাকতে হবে … মহা ফাঁপর হয়ে গেলো আমার জন্য … যতই ভাবছি যে এক নিঃশ্বাসে কাজ শেষ করে অন্তত ৪/৫টা দিন সবকিছু থেকে নিজেকে ছুটি দিয়ে গোছগাছের কাজটা ৮০% আগায় রাখবো, ততই একটার পর একটা ব্যস্ততা এসে জুটছে …

আজকে অনেক অনেক বছর পর সাইমন ভাইদের বাসায় যাওয়া হইলো … ইথারের সাথে একটা কাজে দেখা করার জন্য … ওই বাসায় শেষ গিয়েছি মনে হয় প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে … আন্টির সাথে দেখা হলেই আন্টি খালি জিজ্ঞেস করতো আমি কি কোনো কারণে রাগ নাকি, নইলে যাই না কেন … আসলে কেন জানি যাওয়ার মতো ছুতো তৈরি হয়নি … শেষ যেবার গিয়েছিলাম, তখন কামরঙ্গির চরে প্রায়ই একটা কাজের জন্য যাওয়া হতো … ওখান থেকে সাইমন ভাইদের বাসা বেশ কাছে … একদিন বেশ ক্লান্ত লাগছিলো, কি মনে করে ওই বাসায় চলে গিয়েছিলাম রেস্ট নেয়ার জন্য … সেটাও মনে হয় ২০১০ সালেরই কোনো একটা সময়ে হবে … তারপর এই আজকে ইথারের সাথে একটা কাজের ছুতায় যাওয়া হলো …

আজকে সন্ধ্যার একটা ছোটো ঘটনা অনেকদিন আগের একটা পরিকল্পনাকে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠিয়েছে … গ্রুপে বসে জেবা হঠাৎ করে আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ হবার ঘটনাটার প্রসঙ্গ তুললো … ঘটনাটা আমার সচেতন মনে ছিলো না … ও প্রসঙ্গটা তোলার সাথে সাথে পুরো ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো … রিট্রিভ্যাল কিউ বলে যেটাকে, সেরকম বিষয় কাজ করলো আর কি! … তো, অনেকদিন আগে আমি একটা পরিকল্পনা করেছিলাম মনে মনে … সেটা হলো যে একটা ডাইরি অথবা অ্যালবামের মতো বানাবো, যেখানে আমার আশেপাশের পরিচিত মানুষদের একটা করে ছবি থাকবে, আর সাথে লেখা থাকবে তার সাথে আমার কবে কোথায় কিভাবে পরিচয় … কিন্তু সেই কাজটা কখনো করা হয়নি … টুকটাক ছবি জমানো হয়েছিলো, কিন্তু হাতেকলমে কাজটা শুরু করা হয়নি … তখন এসব ফেসবুক, ব্লগ এসব জিনিসের চল ছিলো না, ফলে ওসব মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে কি না সেই চিন্তাও মাথায় আসে নি … তবে ওয়েব-এর চাইতে এসব বিষয়ে আমি সবসময়ই অস্তিত্বমান বস্তুই প্রেফার করি … কারণ প্রিজার্ভ করা গেলে সেটা সময়ের চিহ্ন হিসেবে থেকে যাবে …

যেমন, যখনি কোথাও ঘুরতে যাই, আমার মনে মনে প্ল্যান থাকে যে একটা ডাইরি নিয়ে যাবো আর পুরো ট্যুর-এর যাবতীয় স্মৃতি লেখা, ছবি বা সংগৃহীত কোনো বস্তু দিয়ে সেই ডাইরিতে লিপিবদ্ধ করে রাখবো … ওই ডাইরিটা তখন ওই ট্যুর-এর স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে তো থাকবেই, একটা ভ্রমণকাহিনীর-ও মর্যাদা পাবে …

কিন্তু, সেই কাজটাও আমার কখনো করা হয় না …

তারপরও, টুকটাক ছোটোখাটো স্মৃতি আমার জমানো হয় … সময়ে – অসময়ে … একটা ছোটো বাক্সতে আমার অনেক টুকটাক স্মৃতিচিহ্ন জমানো আছে … কোনোকিছুই ফেলে দেবার অভ্যাস করতে পারি নাই কখনো … যে ঘটনার সাথেই কোনো না কোনো আবেগ জড়িত, তার সাথে সম্পর্কিত যে কোনো কিছুই স্মৃতিচিহ্ন হয়ে যায় … হোক সেটা একটা শুকনো পাতা, কিংবা একটা খাবারের বিল …

মিরপুরে চলে গেলে জীবনযাপনের অনেককিছুই আবার নতুন করে শুরু হবে … তখন থেকে হয়তো ডাইরি মেইন্টেইনের কাজটা যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে শুরু করতে হবে …

ওই যে, ছোটোবেলায় অদ্ভুত চিন্তা ছিলো যে আমার সব জিনিস নিয়ে একটা মিউজিয়াম হবে! … সেটার জন্য তো সব প্রস্তুত রাখতে হবে …

ওইদিন বই গোছাতে গিয়ে একটা স্কেচবুক পেলাম … প্রায় দশ বছর আগে ওই স্কেচ বুকটাতে আমি আমার জন্মের পর থেকে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন ছবি, বিভিন্ন স্মৃতি জমিয়ে রাখতে শুরু করেছিলাম … অটোবায়োগ্রাফিক্যাল একটা স্ক্র্যাপবুক -এর মতো আর কি! … ওইটার কথা আমি ভুলেও গিয়েছিলাম … ওইদিন খুঁজে পেয়ে বেশ মজা পেলাম … ওখানে অনেক অনেক কিছু যোগ করার আছে এখন … গত দশ বছরের অনেক অনেক স্মৃতি … আরো অনেক অনেক ছবি … অনেক অনেক গল্প … অনেক অনেক মানুষ … অনেক অনেক ঘটনা …

আপাতত আমি এখানেই লেখা শেষ করবো … কারণ এখন আমাকে একটা কাজ শেষ করে তবেই ঘুমাতে হবে … কালকে এমনিতেই সারাদিন অনেকগুলা কাজ করতে হবে … সুতরাং সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই …